প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নতুন একটি মামলা দায়ের করেছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানার বিরুদ্ধে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ ও আত্মসাতের।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে বিভিন্ন ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা ফান্ড (সিএসআর) থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। মামলায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারকেও আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলা দায়ের করেন। দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর জন্য সংগ্রহ করেছেন। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ‘দ্য ট্রাস্টস অ্যাক্ট, ১৮৮২’-এর আওতায় শেখ হাসিনা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি এবং শেখ রেহানা ছিলেন সহ-সভাপতি। ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, বাংলাদেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে তারা দেখতে পায়, তৎকালীন বিএবি সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার তার প্রভাব খাটিয়ে বিএবির নির্বাহী কমিটির সভায় আলোচ্যসূচিতে না থাকা সত্ত্বেও ‘বিবিধ’ আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করেন। পরে নির্বাহী কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ট্রাস্টের অনুকূলে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়। এর ফলস্বরূপ ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।
দুদকের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী ‘পলিসি গাইডলাইন অন করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ফর ব্যাংকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস’-এ সিএসআর অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে নির্দেশনা থাকলেও ট্রাস্টে এ ধরনের অনুদান দেওয়ার কোনো বিধান নেই।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দুদকের সরেজমিন পরিদর্শনে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর ঠিকানায় দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ট্রাস্টটি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাস্টের প্রতিশ্রুত কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রমাণও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ করা হয়েছে যে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ব্যক্তিগত লাভের অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলে বিএবির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ফান্ড থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন।
এজাহারে মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিএবির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রেখেছেন। এই ফান্ডের অর্থ ট্রাস্টে অনুদান দেওয়ার বিধান না থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংকগুলোকে অর্থ প্রদানে বাধ্য করার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতি করে রাজউকের আবাসন প্রকল্পে ১০ কাঠা করে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা করেছে দুদক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন