ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রেলওয়ে প্রশাসনে ৩ শীর্ষ পদে পরিবর্তন, জারি হয়েছে প্রজ্ঞাপন


রেলওয়ে প্রশাসনে ৩ শীর্ষ পদে পরিবর্তন, জারি হয়েছে প্রজ্ঞাপন

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শীর্ষ পর্যায়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (উন্নয়ন), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) এবং পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক পদে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যেখানে এই পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কামরুল হাসান প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের (চলতি দায়িত্ব) পদে থাকা মো. সুবক্তগীনকে পদোন্নতি দিয়ে ঢাকার রেলভবনে অতিরিক্ত মহাপরিচালক-অবকাঠামো (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

অন্যদিকে, ঢাকায় অতিরিক্ত মহাপরিচালক-উন্নয়ন (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা মামুনুল ইসলামকে স্থানান্তর করে চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের নতুন মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) বানানো হয়েছে।

এছাড়া, বর্তমানে অতিরিক্ত মহাপরিচালক-অবকাঠামো (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমানকে অতিরিক্ত মহাপরিচালক-উন্নয়ন (চলতি দায়িত্ব) পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মূল পদায়নের পাশাপাশি তিনি পূর্বের ন্যায় মেগা প্রকল্প 'যমুনা সেতু রেল সংযোগ প্রজেক্টের' প্রকল্প পরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনস্বার্থে গৃহীত এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ, উদ্ধার হয়েছে ১৩ হাজার ৬৭৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১০ এম


সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ, উদ্ধার হয়েছে ১৩ হাজার ৬৭৯

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে, এখনো ২ হাজার ৩৮ শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। শিশু নিখোঁজের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর জনমনে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে নিখোঁজ শিশুদের পরবর্তী অবস্থা, কতজন উদ্ধার হয়েছে বা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে, সে বিষয়গুলো উল্লেখ না থাকায় শিশু নিখোঁজের প্রকৃত চিত্র সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

তিনি বলেন, জনমনে বিভ্রান্তি দূর করার জন্য স্থানীয় থানার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। যাচাইয়ের ফলে জানা গেছে, জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশুদের নিখোঁজের ঘটনায় ৪৭৪টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, এবং ৬৮ জন এখনও উদ্ধার হয়নি।

একই সময়ে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৫ হাজার ২৪৩ শিশুর নিখোঁজের জিডি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং ১ হাজার ৯৭০ জন এখনও উদ্ধার হয়নি।

পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, দুই বয়সসীমা মিলিয়ে মোট ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন উদ্ধার হয়েছে। এখনো ২ হাজার ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছে, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।

পুলিশ জানিয়েছে, শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে ঘুরতে গিয়ে পথ হারাচ্ছে, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারা এবং একাকী বাড়ি ফেরার সময় অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হচ্ছে।

অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে লজ্জার ভয়ে পালিয়ে থাকা, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য সুবিধা আদায়ের চেষ্টা, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাবের মতো বিভিন্ন কারণ রয়েছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, বর্তমানে অনলাইন জিডি সুবিধা চালু হওয়ায় নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে তা কমে ১৬ হাজার ৪১৪ হলেও ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫৫০টিতে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানুষের টানে চিকিৎসার মাঝপথে ফিরে এসেছি: মির্জা আব্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১০ এম


মানুষের টানে চিকিৎসার মাঝপথে ফিরে এসেছি: মির্জা আব্বাস

দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর প্রথমবারের মতো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগদান করে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস। ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে সংসদে ফিরে এসে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করার সময় একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে রুদ্ধকণ্ঠে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন মির্জা আব্বাস। সংসদ অধিবেশনে হুইল চেয়ারে বসে বক্তব্য রাখেন বিএনপির এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে মির্জা আব্বাস জানান, তিনি দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। নির্বাচনের পরপরই একটি দলীয় রাজনৈতিক সভায় অংশ নেওয়ার সময় তিনি গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে হয়েছে। চিকিৎসা সম্পূর্ণ না হলেও এবং শরীর পুরোপুরি সুস্থ না থাকা সত্ত্বেও, নিছক ভালোবাসা, আবেগ ও জনগণের প্রতি গভীর মানবিক দায়বদ্ধতার কারণে তিনি আজকের সংসদে উপস্থিত হতে বাধ্য হয়েছেন।

সংসদ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেগে তার কণ্ঠ বারবার বুজে আসছিল এবং তিনি নিজের অশ্রু সংবরণের চেষ্টা করছিলেন।

বক্তব্যের শুরুতে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে মির্জা আব্বাস শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে।

তিনি গভীর আবেগঘন কণ্ঠে জানান, ২০০৬ সালের পর আজ আবার এই পবিত্র কক্ষে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পাওয়া তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আবেগপূর্ণ ও স্মরণীয় মুহূর্ত। এটি তার জন্য পরম আনন্দের ও চরম গর্বের বিষয়।

নিজের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা সফর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক এই উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, তার অসুস্থতার খবর শুনে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার স্বয়ং তাকে দেখতে গিয়েছিলেন। এ ছাড়া মাননীয় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সার্বিকভাবে নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রেখেছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্পিকারের এই মানবিক ও আন্তরিক আচরণ তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, এটি কেবল একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সাধারণ সমবেদনা ছিল না, বরং তা ছিল আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অপূর্ব ও মানবিক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাদের এই আন্তরিকতা ও ভালোবাসা তিনি কোনোদিন ভুলবেন না বলেও উল্লেখ করেন।

সংসদীয় রাজনীতির প্রকৃত দর্শন পুনর্ব্যক্ত করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আজ এই সংসদে ফিরে এসে তার মনে হচ্ছে রাজনীতি কেবল দলীয় পার্থক্য বা রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয় নয়; রাজনীতি মূলতঃ মানুষের সেবা করার জন্য। মহান সংসদ কোনো নেহাত বিতর্কের মঞ্চ নয়, এটি গণমানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর পবিত্রতম স্থান।

তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা যেন তাকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করেন, যাতে নির্বাচনি এলাকা তথা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের জন্য জীবনের বাকি সময়টুকু নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করে যেতে পারেন।

বক্তব্যের শেষভাগে তিনি তাকে দেখতে আসা, খোঁজখবর নেওয়া এবং অসুস্থতার দিনগুলোতে যার যার অবস্থান থেকে দোয়া ও প্রার্থনা করা সব সহকর্মী সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং দেশবাসীর প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালের দীর্ঘ ব্যবধানের পর আজ আবার সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি কেবল একটি কথাই বলতে চান, তিনি মানুষের কাছে, মানুষের সেবায় এবং প্রিয় বাংলাদেশের সমৃদ্ধির স্বার্থে কাজ করতেই আবার ফিরে এসেছেন। দেশ ও জাতির সেবায় যেন বাকি জীবনটুকু আত্মনিয়োগ করতে পারেন, সেজন্য দলমত নির্বিশেষে দেশের সব মানুষের কাছে দোয়া চেয়ে তিনি নিজের বক্তব্য শেষ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারীবাদী অধিকারকর্মী ও সাংবাদিক গ্লোরিয়া স্টেইনেমের মৃত্যু, সমাজে শোকের ছায়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১১ এম


নারীবাদী অধিকারকর্মী ও সাংবাদিক গ্লোরিয়া স্টেইনেমের মৃত্যু, সমাজে শোকের ছায়া

যুক্তরাষ্ট্রের নারীমুক্তি আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও নারীবাদী অধিকারকর্মী গ্লোরিয়া স্টেইনেম আর বেঁচে নেই। তার বয়স ছিল ৯২ বছর মৃত্যুর সময়।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক সিটিতে নিজের বাসভবনে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে স্টেইনেমের প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশন নিশ্চিত করেছে যে, তার জীবনের শেষ মুহূর্তে স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা তার পাশে ছিলেন।

লেখক, সাংবাদিক এবং সাময়িকী সম্পাদক হিসেবে পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের কর্মজীবনে নারীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন। যৌন বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে তিনি গড়ে তুলেছিলেন 'উইমেনস অ্যাকশন অ্যালায়েন্স'। পরবর্তীতে নারী অধিকার এবং বৈষম্যবিরোধী সাংবাদিকতাকে নতুন মাত্রা দিতে তিনি সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে প্রকাশ করেন ঐতিহাসিক 'মিস' ম্যাগাজিন। এই প্রকাশনা প্রচলিত গৃহস্থালি বা রূপচর্চাবিষয়ক আলোচনার বাইরে এসে রাজনীতি, সমাজ এবং নারীর স্বতন্ত্র পরিচয়ের গল্প তুলে ধরার জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়।

বিশেষ করে সত্তর দশকে নারীর প্রজনন স্বাধীনতা ও গর্ভপাতের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে তিনি ছিলেন অগ্রণী কণ্ঠস্বর। ২২ বছর বয়সে লন্ডনে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়ে গর্ভপাত করানোর যে তিক্ত অভিজ্ঞতা তিনি লাভ করেছিলেন, তা তাকে এ বিষয়ে আজীবন সোচ্চার করে রেখেছিল। ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক 'রো বনাম ওয়েড' রায়ে গর্ভপাতের সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাওয়ায় তিনি উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন। তবে ২০২২ সালে সেই রায় বাতিল হওয়ার ঘটনাও নিজের জীবদ্দশায় প্রত্যক্ষ করেন এই বিদগ্ধ নারী।

নারীবাদে সীমাবদ্ধ না থেকে, কর্মক্ষেত্রে সমান মজুরি, সমলিঙ্গের বিয়ের আইনি স্বীকৃতি, মৃত্যুদণ্ড প্রথা বিলোপ এবং নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতি রোধে বিশ্বজুড়ে চলা সচেতনতামূলক আন্দোলনে স্টেইনেম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

সামাজিক সমতা অর্জনে কয়েক দশকের একনিষ্ঠ নিবেদনের মাধ্যমে আমেরিকান সমাজব্যবস্থায় নারী অধিকার আন্দোলনের প্রধান অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন গ্লোরিয়া স্টেইনেম। তার প্রয়াণে বিশ্বজুড়ে নারী অধিকার কর্মীদের মাঝে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের অসহায় আত্মসমর্পণ সিরিয়ার কাছে, উজবেকিস্তানের পর দ্বিতীয় পরাজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১১ এম


বাংলাদেশের অসহায় আত্মসমর্পণ সিরিয়ার কাছে, উজবেকিস্তানের পর দ্বিতীয় পরাজয়

বাংলাদেশ দল সিরিয়ার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে, যা উজবেকিস্তানের পর AFC অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে তাদের দ্বিতীয় পরাজয়। এই পরাজয়ের ফলে লাল-সবুজদের মূল পর্বে খেলার সম্ভাবনা অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) উজবেকিস্তানের তাসখন্দের দোস্তলিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ৩-০ গোলে সিরিয়ার কাছে পরাজিত হয়। এই পরাজয়ের ফলে তারা টানা দুই হারে শূন্য পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তলানিতে অবস্থান করছে।

প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ১-০ গোলে হারের পর সিরিয়া শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ১৭তম মিনিটে তারা প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করে। বাইলাইন থেকে সতীর্থের কাটব্যাক পাসে শট নেন আবদুল্লাহ আলনাজ্জার, কিন্তু বাংলাদেশ গোলরক্ষক রাজ চৌধুরী দারুণ দক্ষতায় বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন।

বাংলাদেশ পাল্টা আক্রমণ শাণাতে ব্যর্থ হওয়ায় সিরিয়া তাদের চাপ ধরে রাখে। ২৩তম মিনিটে আবারও সুযোগ হাতছাড়া করেন আবদুল্লাহ। আধা ঘণ্টার মাথায় বাংলাদেশ সিরিয়ার ডি-বক্সে কিছুটা ভীতি ছড়াতে সক্ষম হয়। জয় আহমেদের আদায় করা ফ্রি-কিক থেকে বক্সে বল ফেলেন শেখ সংগ্রাম, যা হেডের মাধ্যমে কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন সিরিয়ার এক ডিফেন্ডার।

সেই কর্নার থেকে সুবিধাজনক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা অধিনায়ক আবদুল রিয়াদ ফাহিম বল ঠিকমতো হেড করতে ব্যর্থ হন। কিছুক্ষণ পর ফাহিমের একটি কোণাকুণি শট ঠেকিয়ে দেন সিরিয়ার গোলরক্ষক ইসমাইল হাদি। পরবর্তী ক্রসেও দারুণ দক্ষতায় দলকে বিপদমুক্ত রাখেন তিনি।

৪২তম মিনিটে বক্সের ভেতর থ্রু বল পেয়েও ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা এক ফরোয়ার্ড বারের ওপর দিয়ে মেরে সিরিয়াকে হতাশ করেন। তবে ৪৪তম মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ভেঙে যায়। দূরপাল্লার পাস দারুণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আবদুল্লাহ ব্যাকহিলে বল দেন অ্যালান মামোকে।

তার নিচু ও জোরালো শট জালে জড়িয়ে সিরিয়া ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই, বক্সের প্রান্ত থেকে মারিওস আলহেরেকে দুর্দান্ত এক শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ কিছুটা গতিশীল ফুটবল খেললেও সিরিয়ার ওপর চাপ তৈরির জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। উল্টো শেষদিকে সিরিয়া আরও গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ৭৩তম মিনিটে আমের আম্মারের বাঁকানো ফ্রি-কিক এবং ৮৫তম মিনিটে মামোর শট দুর্দান্ত ডাইভে ঠেকিয়ে দিয়ে গোলরক্ষক রাজ চৌধুরী ব্যবধান বাড়তে দেননি।

তবে এরপরই বাংলাদেশ এক অদ্ভুত গোলের শিকার হয়ে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায়। বক্সের বেশ বাইরে পাওয়া এক ফ্রি-কিক থেকে সিরিয়ার এক খেলোয়াড় আলতো টোকায় বল দেন আলনাজ্জারকে। তার নেওয়া ধীরগতির নিচু শটটি সবাইকে বোকা বানিয়ে জালে জড়ালে হতবাক হয়ে যান বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%