বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৫ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই নিয়োগের মধ্যে ৫ হাজার কৃষি শ্রমিক এবং ৫ হাজার মৎস্যজীবী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে এই বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিস্তারিত চূড়ান্ত করার জন্য আগামী মাসে ওমানের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওমানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে ওমানের কৃষি মন্ত্রণালয়ের আলোচনা হয়েছে। আলোচনার ফলস্বরূপ ৫ হাজার কৃষক এবং ৫ হাজার মৎস্যজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, ওমানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ থেকে মোট ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার কৃষক এবং ৫ হাজার মৎস্যজীবী অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই বিষয়ে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগামী মাসে ওমানের আরেকটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসবে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মী নিয়োগের পরবর্তী ধাপগুলো চূড়ান্ত করা হবে।
এদিকে, ওমানে বাংলাদেশি কৃষি শ্রমিক নিয়োগের জন্য ৫ হাজারের একটি অনুমোদিত কোটা ইতিমধ্যে চালু হয়েছে। ওমানের কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের নিবন্ধিত সদস্যদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় এই কোটা বণ্টন করে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।
বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের ভিসা পুনরায় চালুর বিষয়েও সরকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শামা ওবায়েদ। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন কারণে ওমানের ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আগের সরকারের সময়ে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশিরা নিয়মিতভাবে ওমানে যেতে পারেন, সেজন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যে শ্রম খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি চলতি বছরের দ্বিপক্ষীয় আলোচনাতেও গুরুত্ব পেয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা অটো-ক্যান্সেলেশন সমস্যার সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
ব্রিফিংয়ে ইতালিতে শিল্পী বাঁধনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার নিন্দা জানান শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, মিলান কনস্যুলেট ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে ওই শিল্পীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
তিনি বলেন, মামলাসহ ইতালিতে শিল্পী বাঁধনের অবস্থানকালীন প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে।
এদিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বা বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন কি না, সে বিষয়ে তার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য নেই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ার কারণে কিশোরগঞ্জে শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও গতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার সমস্ত কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একইসাথে, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন শিক্ষকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এই ঘোষণা দেন।
সভায় জেলার শিক্ষা পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে কমে যাওয়া উপস্থিতি এবং শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রমে মনোযোগী হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামীকাল নির্ধারিত সময়ে জেলার কোনো কোচিং সেন্টার পরিচালনা করা যাবে না। পাশাপাশি, বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে আসার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকতে হবে।
শিক্ষার আলো জ্বালানোর মূল ঠিকানা শ্রেণিকক্ষ। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে সেই শ্রেণিকক্ষ ধীরে ধীরে তার প্রাণ হারাচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ বাড়াতে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়গুলো আবারও প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে-এমন প্রত্যাশা এখন কিশোরগঞ্জবাসীর।
শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদের হলরুমে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। এতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. কামরুল হাসান মারুফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার। সদর উপজেলার একাডেমিক সুপার ভাইজার এন এম বদরুজ্জামান তালুকদারের পরিচালনায় এতে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মমতাজ বেগম, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুল হক, উপজেলা কৃষি অফিসার মুহাম্মদ জয়নুল আলম তালুকদার, কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল মালেক চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমানোর উদ্দেশ্যে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রকল্পের জন্য ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে, প্রকল্পটির বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা আবশ্যক। অর্থায়ন নিশ্চিত হলে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা এবং সময়সূচি নির্ধারণ করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য প্রদান করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদের বৈঠক বেলা সাড়ে ৩টায় শুরু হয় এবং শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী লিখিত প্রশ্নের জবাব দেন।
মোহাম্মদ এনামুল হক জানতে চেয়েছিলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমাতে সরকারের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, বিশেষ করে ইলেকট্রিক বা বুলেট ট্রেন চালুর বিষয়ে। যদি থাকে, তবে সেটি কবে নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জবাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরকে কেন্দ্র করে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই রুটের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও দ্রুত ও সক্ষম করতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো রেলপথ ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তর, ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত সরাসরি কর্ডলাইন নির্মাণ এবং ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর ব্যবস্থা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার জন্য ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর এর বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা এবং সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। অর্থায়ন পাওয়া সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এতে ট্রেনের গড় গতি বাড়বে এবং যাতায়াতের সময় কমবে।”
অর্থাৎ, ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর জন্য কারিগরি প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো শেষ হলেও নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পরই বাস্তবায়নের সময়সূচি ঠিক করা হবে।
সরকার শুধু ট্রেনের গতি বাড়ানো নয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের রেলপথের দূরত্বও কমাতে চায়। এ জন্য ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত সরাসরি কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই কর্ডলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ বর্তমানে চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে রেলপথের দূরত্ব কমবে। একই সঙ্গে ট্রেনের গড় গতিও বাড়বে। এতে দুই শহরের মধ্যে কম সময়ে যাতায়াত করা সম্ভব হবে।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম অংশে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে।
লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যদিকে, টঙ্গী-আখাউড়া অংশের প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি প্রণয়নের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আশা, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে। একই সঙ্গে রেলপথে ট্রেনের গতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুট দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। এই পথে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প কার্যক্রমও ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। সরকারের নেওয়া সমন্বিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে এই রুটে দ্রুত ও সক্ষম রেল যোগাযোগ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর, নিকলী, কুলিয়ারচরসহ আশেপাশের উপজেলার নদী বেষ্টিত হাওরগুলোতে অসাধু ব্যবসায়ীরা স্টীলবডি নৌকা ব্যবহার করে বালি আনলোড করার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ জেল-জরিমানা করার পরেও এসব ব্যবসায়ীরা আবারও বেপরোয়া ভাবে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালি আনলোড করছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, বাজিতপুর পৌরসভাসহ আশেপাশের নদী বেষ্টিত ইউনিয়নগুলোতে দিনে এবং রাতে একটি প্রভাবশালী মহল নদী থেকে বালি আনলোড করছে। একই উপজেলার পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েক মাস ধরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি আনলোডের কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশাসনের প্রতি অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নিকলী উপজেলার দামপাড়া, শিংপুর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় ধনু নদী ও ঘোড়াউত্রা নদীর মোহনায় রাতের বেলায় ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালি আনলোড করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া দিনের বেলায় বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা অন্য একটি উপজেলা থেকে বালি আনলোড করার ফলে বৃষ্টির সময় ঐসব এলাকায় অস্থায়ীভাবে পানি জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ার উপক্রম হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
অন্যদিকে কুলিয়ারচর উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে বালি স্টীলবডি নৌকা দিয়ে আনলোড করা হচ্ছে। এ উপজেলা সদরের পাশে জিল্লুর রহমান সেতুটি বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা। বাজিতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সিদ্দিকুর রহমান গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, "আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। কিন্তু বালি উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দিচ্ছে না।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশকে ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি ও গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার জন্য অনেক বেশি মূল্য দিতে হয়েছে। তিনি এই মন্তব্যটি করেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনকালে এবং একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র দেখার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে। রাষ্ট্রপতি বলেন, "রাষ্ট্র কখনোই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের ঋণ শোধ করতে পারবে না।"
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে পৌঁছান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম। জাদুঘরে পৌঁছানোর পর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে স্বাগত জানান।
দর্শনার্থীর টিকিট সংগ্রহ করে জাদুঘরে প্রবেশ করার পর রাষ্ট্রপতি ‘লংওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে ঘুরে দেখেন। সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ধাপের ঐতিহাসিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এরপর রাষ্ট্রপতি দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে শহিদদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা আয়নাঘর পরিদর্শন করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারাও রোপণ করেন।
জাদুঘরের বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতনের সামগ্রী এবং জোরপূর্বক গুমের বিভিন্ন সেকশনও ঘুরে দেখেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে শহিদদের চিঠি, স্মারক ও বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি এবং শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলন ও সংগ্রামের বিভিন্ন চিত্র দেখার পর রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র দেখেন। প্রামাণ্যচিত্র চলাকালীন সময়ে তাঁকে অশ্রুসিক্ত ও আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।
পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। সেখানে তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব।”
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, “ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি, কিন্তু এর জন্য মূল্য দিতে হয়েছে অনেক বেশি। রাষ্ট্র কখনোই এই শহিদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না।”
তিনি বলেন, “এ দেশে যেন আর কোনোদিন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে।”
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি তাঁদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
রাষ্ট্রপতি শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন। শহিদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের ত্যাগ ও সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি তাঁদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতিকে জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা ও দলিলপত্র সম্পর্কে ব্রিফ করেন জুলাই জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।
এ সময় জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ