ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে যুগোপযোগী শিক্ষায় জোর: শিক্ষামন্ত্রী


ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে যুগোপযোগী শিক্ষায় জোর: শিক্ষামন্ত্রী

দেশের বিদ্যমান বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যার মাধ্যমে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট’ বা জনমিতিক লভ্যাংশের সুবিধা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ শনিবার গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তুলে ধরেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে পরিচালিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (গাজীপুর-২) এম মঞ্জুরুল করিম রনি।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে যে বিপুল পরিমাণ কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, তা বিশ্বের আর কোথাও নেই। এই বিশাল তরুণ প্রজন্মকে যদি আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি, তবে দেশ কোনোভাবেই পিছিয়ে থাকবে না। জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য। সে কারণেই সরকার শিক্ষা খাতকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’

ড. এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার পর ভর্তি জটে শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই বছর সময় নষ্ট হয়ে যায়, যা দেশের জন্য একটি বড় ক্ষতি। এই দীর্ঘ সময় অপচয়ের কারণে আমরা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টকে সফলভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে যেন কোনো সময় নষ্ট না হয়, সেজন্য সরকার ইতোমধ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সেশনজট নিরসনে কঠোর বার্তা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেন কোনো ধরনের সেশনজট না থাকে, তা প্রশাসনকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের কৃষি খাতকে আরও উন্নত ও আধুনিক করতে হবে। এজন্য কৃষি ক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর ব্যবহার বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। এই প্রযুক্তিগত রূপান্তরে দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অগ্রণী ও নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করতে হবে।’

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এর আগে, শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত ‘আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র অংশ হিসেবে গাছের চারা রোপণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং নিজে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগের বিকল্প নেই: প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ পি.এম


ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগের বিকল্প নেই: প্রতিমন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য সরকারি বা সিটি করপোরেশনের একক উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন।

তিনি শনিবার খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ান খেলার মাঠে আয়োজিত ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ঢাকার খিলগাঁও দক্ষিণ গোড়ানে শনিবার থেকে মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান-২০২৬’ শুরু হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, যা সমন্বিত সচেতন সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত।

তিনি বলেছেন, প্রতিটি নাগরিককে তার নিজ বাড়ি এবং আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে, যেন কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে। ‘সমন্বিত সচেতন সমাজ’ উদ্যোগটি প্রশংসনীয় এবং ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এই সচেতনতা ঢাকার প্রতিটি ঘরে ছড়িয়ে দিতে হবে।

তিনি আরও বলেছেন, ডেঙ্গুর পাশাপাশি আমাদের মাদক নির্মূলেও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মাদক সমাজকে ধ্বংস করে ফেলেছে। যদি এটি প্রতিরোধ করা না যায়, তাহলে আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়তে সমস্যা হবে। তবে, মাদক নির্মূলে প্রশাসনেরও ভূমিকা নেওয়া জরুরি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আগামী প্রজন্মের জন্য একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ তৈরির কাজে যুক্ত রয়েছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া এবং সামাজিক বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেছেন, নাগরিকদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার কাজ সরকারের পক্ষ থেকে চলছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সফিউল্লাহ সিদ্দিক ভূইয়া বলেন, ডিএসসিসি গত বেশ কিছুদিন ধরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য জনসচেতনতামূলক প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করে আসছে। কিন্তু এবার স্থানীয় জনগণকে এই সচেতনমূলক প্রোগ্রামে আসার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সবাই চেষ্টা করলে ডেঙ্গু রোগ নির্মূল করা সম্ভব হবে।

উদ্বোধনের পর প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি জনসচেতনতামূলক র‌্যালি খিলগাঁও, দক্ষিণ গোড়ান ও আশপাশের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালিতে স্থানীয় রাজনৈতিক এবং সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সমন্বিত সচেতন সমাজের সমন্বয়কারী ইমরান, মাহমুদ, ফারুক, রবিন, হাসান ও সাইফুল এবং একঝাঁক প্রাণবন্ত স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

এই সময়ে স্থানীয় বিএনপিসহ অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্বেচ্ছাসেবকেরা জনসাধারণের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে লিফলেট বিতরণ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপ খেলে ফেরার পরই প্রাণ হারালেন তারকা ফুটবলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ পি.এম


বিশ্বকাপ খেলে ফেরার পরই প্রাণ হারালেন তারকা ফুটবলার

এবারের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলা মাঝমাঠের তারকা জেইডেন অ্যাডামস মৃত্যুবরণ করেছেন।

শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেলে কেপটাউনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে, তার মৃত্যুর কারণ এখনো জানা যায়নি।

এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা মাঠে নেমেছিল মেক্সিকোর বিপক্ষে। অ্যাডামস ছিলেন শুরুর একাদশে। ওই ম্যাচটি ২-০ গোলে হেরেছিল তার দল। ম্যাচটিতে অ্যাডামস ৬১ মিনিট মাঠে ছিলেন। চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে তিনি আবারও একাদশে ছিলেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তিনি শেষ ১০ মিনিটের জন্য মাঠে নেমেছিলেন, যা ছিল তার জীবনের শেষ ম্যাচ।

প্রথমবারের মতো নক আউট পর্বে সুযোগ পেলেও দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে মাঠে নামা হয়নি তার। দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে ৯ ম্যাচ খেলে তিনি করেছেন ২ গোল।

অ্যাডামসের অকালপ্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছে সাউথ আফ্রিকান ফুটবল প্লেয়ার্স ইউনিয়ন এবং সাউথ আফ্রিকান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

এক শোকবার্তায় তারা জানায়, ‘জেইডেন সম্প্রতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত গর্ব, সাহস ও দক্ষতার সঙ্গে দেশের আশা-আকাঙ্চা বহন করেছিলেন। তার এই চলে যাওয়া তার পরিবার, সতীর্থ, ক্লাব, ফুটবল অঙ্গন এবং পুরো দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্যান্ট-টি-শার্ট পরা তিন তরুণের বিরুদ্ধে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ: পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৪ পি.এম


প্যান্ট-টি-শার্ট পরা তিন তরুণের বিরুদ্ধে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ: পুলিশ

রাজধানীর কলাবাগান থানাধীন সেন্ট্রাল হাসপাতালের সামনে শাহনাজ বেগম নামে এক নারীর কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। কলাবাগান থানা পুলিশের মাধ্যমে ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের শনাক্ত করা হয়। এই তিনজনের পরনে প্যান্ট-টিশার্ট ছিল। তাদের বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের বেশভুষা ছিল স্মার্ট। দেখলে বোঝার উপায় ছিল না যে, তারা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। এ বিষয়ে কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাক আহমেদ তথ্য দেন।

তিনি সমকালকে জানান, সিসি ক্যামেরার একাধিক ফুটেজ বিশ্লেষণ করার পর এ তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। কিন্তু তাদের নাম-পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। আইনের আওতায় দ্রুত তাদের আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের দল বিভিন্ন সোর্স ব্যবহার করে জড়িতদের পরিচয় বের করার কাজ শুরু করেছে।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় যে, ওই নারীকে তিনজন ঘিরে রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন তার পাশে হাঁটছেন এবং অনুসরণ করছেন।

গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার সময় সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেয়ের জন্য ডাব ও অন্যান্য খাবার কিনতে গিয়ে শাহনাজ বিপদে পড়েন। প্রথমে একজন যুবক এসে অশ্রুসিক্ত চোখে তার পরিচয় জানতে চান। শাহনাজের হাসপাতালে থাকার কারণ জানার পর ওই যুবক গল্প ফাঁদেন - তার মা ও একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এরপর তিনি শাহনাজের সঙ্গে নানা আলাপ জমানোর চেষ্টা করেন। এর কিছুক্ষণ পর আরও দুই দুর্বৃত্ত সেখানে আসেন এবং তারা তিনজন ওই নারীর সঙ্গে কথা বের করার চেষ্টা করে। হঠাৎ শাহনাজ বুঝতে পারেন, সেন্ট্রাল হাসপাতালের কাছাকাছি একটি গলির মধ্যে তার অবস্থান। কিছুক্ষণ পর তিনি দেখতে পান যে, তার মোবাইল, নগদ টাকা এবং গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন নেই।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ছয় মাসের চিকিৎসায় পুরোপুরি সুস্থ

আলোচিত বাঘিনীর গন্তব্য আবারও সুন্দরবন, রোববার ফিরবে নিজ আবাসে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৯ পি.এম


আলোচিত বাঘিনীর গন্তব্য আবারও সুন্দরবন, রোববার ফিরবে নিজ আবাসে

চোরা শিকারির ফাঁদে আটকে পড়া মারাত্মক আহত রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারটি পূর্ব সুন্দরবনে দীর্ঘ ৬ মাসের চিকিৎসা শেষে এখন আবার ফিরে যাচ্ছে তার আবাসস্থল সুন্দরবনে। ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া মারাত্মক আহত বাঘিনীটি বন বিভাগের প্রচেষ্টায় দীর্ঘ চিকিৎসার পর এখন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির প্রহরী সেই বাঘিনীকে আজ ১২ জুলাই রবিবার সুন্দরবনের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের বনে ছেড়ে দেওয়া হবে। এ সময় বনের সঙ্গে বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এটি বাংলাদেশে প্রথম যে সুন্দরবনের অসুস্থ বাঘকে সুস্থ করে পুনরায় বনে অবমুক্ত করা হচ্ছে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি দুপুরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খালের অদূরে সুন্দরবনে শিকারিদের পেতে রাখা হরিণ ধরার ছিটকা ফাঁদে আটকে যায় বাঘিনীটি। খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ দল ৪ জানুয়ারি গুরুতর আহত বাঘটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত বাঘটির চিকিৎসার জন্য গঠন করা হয় পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। সেই মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানেই চলে দীর্ঘ চিকিৎসা।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী জানিয়েছেন, উদ্ধার করার সময় দেখা যায়, বাঘিনীটির সামনে বাঁ পায়ে ৩ ইঞ্চির মতো জায়গায় চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফাঁদের রশিতে টানাটানির কারণে সেই জায়গায় ক্ষত হয়ে পচন ধরে গিয়েছিল। ছয় মাসের চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যায় এখন বাঘিনীটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ এম এ আজিজ বলেন, একটি বাঘ ১২-১৪ বছর বেঁচে থাকে। সেক্ষেত্রে তাকে তার অধিকারী পরিবেশ সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া উচিত। তিনি মতামত দিয়েছেন যে, ছেড়ে দেওয়ার পরে বাঘিনীটির গতিবিধি দেখার জন্য তার গলায় স্যাটেলাইট কলার লাগানো উচিত। এম এ আজিজ জানিয়েছেন, ভারতের সুন্দরবন অংশে এমন ছয়টি বাঘকে স্যাটেলাইট কলার দেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ বলেন, সুস্থ হয়ে বাঘিনীটি আগের চেহারায় ফিরেছে। ৯ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঘিণীর ওজন বেড়ে এখন ৯০ কেজি হয়েছে। তার ক্ষিপ্রতা বেড়েছে; ফলে এখন সে শিকার ধরে খেতে পারবে। সুন্দরবনে বাঘের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য বাঘিনীটির গলায় একটি কলার পরানোর পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু নানা জটিলতার কারণে বিদেশ থেকে সেটি আনা সম্ভব হয়নি। তবে, বনে ছাড়ার পরে বাঘিনীটির নিরাপত্তা এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করার জন্য এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য বনের ৮ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে বিচরণ ক্ষেত্রের ২০টি পয়েন্টে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ট্র্যাপ স্থাপন করা হচ্ছে। বাঘিনীকে সুন্দরবনে নিরাপদে অবমুক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বাঘ বিশেষজ্ঞ, অভিজ্ঞ বন্যপ্রাণী চিকিৎসক এবং বন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চারটি দল গঠন করা হয়েছে। তারা এক বছর ধরে অবমুক্তকরণ এলাকায় বাঘের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে। সুন্দরবনের এই বাঘকে ছেড়ে দেওয়ার সময় বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীসহ বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে সিএফ জানিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%