প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চোরা শিকারির ফাঁদে আটকে পড়া মারাত্মক আহত রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারটি পূর্ব সুন্দরবনে দীর্ঘ ৬ মাসের চিকিৎসা শেষে এখন আবার ফিরে যাচ্ছে তার আবাসস্থল সুন্দরবনে। ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া মারাত্মক আহত বাঘিনীটি বন বিভাগের প্রচেষ্টায় দীর্ঘ চিকিৎসার পর এখন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির প্রহরী সেই বাঘিনীকে আজ ১২ জুলাই রবিবার সুন্দরবনের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের বনে ছেড়ে দেওয়া হবে। এ সময় বনের সঙ্গে বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এটি বাংলাদেশে প্রথম যে সুন্দরবনের অসুস্থ বাঘকে সুস্থ করে পুনরায় বনে অবমুক্ত করা হচ্ছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি দুপুরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খালের অদূরে সুন্দরবনে শিকারিদের পেতে রাখা হরিণ ধরার ছিটকা ফাঁদে আটকে যায় বাঘিনীটি। খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ দল ৪ জানুয়ারি গুরুতর আহত বাঘটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত বাঘটির চিকিৎসার জন্য গঠন করা হয় পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। সেই মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানেই চলে দীর্ঘ চিকিৎসা।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী জানিয়েছেন, উদ্ধার করার সময় দেখা যায়, বাঘিনীটির সামনে বাঁ পায়ে ৩ ইঞ্চির মতো জায়গায় চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফাঁদের রশিতে টানাটানির কারণে সেই জায়গায় ক্ষত হয়ে পচন ধরে গিয়েছিল। ছয় মাসের চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যায় এখন বাঘিনীটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ এম এ আজিজ বলেন, একটি বাঘ ১২-১৪ বছর বেঁচে থাকে। সেক্ষেত্রে তাকে তার অধিকারী পরিবেশ সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া উচিত। তিনি মতামত দিয়েছেন যে, ছেড়ে দেওয়ার পরে বাঘিনীটির গতিবিধি দেখার জন্য তার গলায় স্যাটেলাইট কলার লাগানো উচিত। এম এ আজিজ জানিয়েছেন, ভারতের সুন্দরবন অংশে এমন ছয়টি বাঘকে স্যাটেলাইট কলার দেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ বলেন, সুস্থ হয়ে বাঘিনীটি আগের চেহারায় ফিরেছে। ৯ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঘিণীর ওজন বেড়ে এখন ৯০ কেজি হয়েছে। তার ক্ষিপ্রতা বেড়েছে; ফলে এখন সে শিকার ধরে খেতে পারবে। সুন্দরবনে বাঘের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য বাঘিনীটির গলায় একটি কলার পরানোর পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু নানা জটিলতার কারণে বিদেশ থেকে সেটি আনা সম্ভব হয়নি। তবে, বনে ছাড়ার পরে বাঘিনীটির নিরাপত্তা এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করার জন্য এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য বনের ৮ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে বিচরণ ক্ষেত্রের ২০টি পয়েন্টে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ট্র্যাপ স্থাপন করা হচ্ছে। বাঘিনীকে সুন্দরবনে নিরাপদে অবমুক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বাঘ বিশেষজ্ঞ, অভিজ্ঞ বন্যপ্রাণী চিকিৎসক এবং বন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চারটি দল গঠন করা হয়েছে। তারা এক বছর ধরে অবমুক্তকরণ এলাকায় বাঘের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে। সুন্দরবনের এই বাঘকে ছেড়ে দেওয়ার সময় বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীসহ বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে সিএফ জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন