ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিকলীতে এমপি ইকবাল: সবাই বাংলাদেশি, কেউ সংখ্যালঘু নয়


নিকলীতে এমপি ইকবাল: সবাই বাংলাদেশি, কেউ সংখ্যালঘু নয়

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে কোনো ব্যক্তি সংখ্যালঘু পরিচয়ে থাকতে পারবেন না। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধসহ সকল গোত্রের মানুষের একমাত্র পরিচয় হচ্ছে বাংলাদেশি নাগরিক। এই মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল।

তিনি আরও বলেন, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং অধিকারবঞ্চিত অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিকলী উপজেলার দামপাড়া, মোহরকোনা, নিকলী সদর, গুরুই ও জারুইতলাসহ ১৯টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ভেসে যাচ্ছিলেন একজন, উদ্ধারে একে অপরের হাত ধরে শেকল তৈরি করেও রক্ষা হয়নি

পরিদর্শনের সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে নগদ অর্থ ও শাড়ি বিতরণ করেন। এমপি ইকবাল শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দিয়ে বলেন, সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে রয়েছে এবং তাঁদের কল্যাণে সহযোগিতার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ অন্যান্য সমস্যাগুলোর গুরুত্বের সাথে সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে।

পরে এমপি ইকবাল হিন্দু সম্প্রদায়ের সকলের সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আরা এবং কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট শিল্পপতি হাজী মাসুক মিয়াসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।

আরও পড়ুন: সাইবার সিকিউরিটি আইন সংশোধনে কাজ করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোদির বাসভবনের পাশে রেসকোর্স মসজিদ খালি করার নির্দেশ, বন্ধ পানি-বিদ্যুৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ পি.এম


মোদির বাসভবনের পাশে রেসকোর্স মসজিদ খালি করার নির্দেশ, বন্ধ পানি-বিদ্যুৎ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের নিকটবর্তী শতবর্ষী রেসকোর্স মসজিদকে ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর (এলঅ্যান্ডডিও) ।

গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) মসজিদটিকে অনুমোদনহীন স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করে এ নোটিশ জারি করা হয়। ইতোমধ্যে মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মুসলিম সংগঠনগুলো ঐতিহাসিক স্থাপনাটি রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।

দ্য ওয়্যার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লির ৭, লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের পাশে রেসকোর্স মসজিদটির অবস্থান। নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের (এনডিএমসি) ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় মসজিদটির নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এলঅ্যান্ডডিওর দাবি, মসজিদটি সরকারি জমিতে নির্মিত হওয়ায় এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গত ৭ অক্টোবর থেকে মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মুসল্লিদের নামাজ আদায় এবং মসজিদে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে ঐতিহাসিক মসজিদ ও এর সংলগ্ন কবরস্থান রক্ষার জন্য। সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে মসজিদটি রক্ষা এবং আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ বা ধ্বংসের মতো কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রতিনিধি দলের সদস্য মোহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমি জানিয়েছেন, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেট এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় মসজিদটির উল্লেখ রয়েছে। সংগঠনটি মনে করে, এর ঐতিহাসিক মর্যাদা ও আইনি অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড ও এনডিএমসির কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। জমিয়তের প্রতিনিধিদের বক্তব্য অনুযায়ী, মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন এবং সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হিন্দুস্তান গেজেটের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এক ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, গত ছয় মাস ধরে বোর্ডের কাছে আবেদন জানিয়ে কার্যকর কোনো সহায়তা পাননি। বিদ্যুৎ ও পানি বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় এনডিএমসিকে চিঠি দেওয়ার বাইরে বোর্ড আর কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

ইমাম হারুন আরও জানান, মসজিদে যাওয়ার পথ বন্ধ থাকায় মুসল্লিদের যাতায়াত এবং খাবার পানি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি ওয়াকফ বোর্ডকে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। এমনকি নিজে মামলা করার অনুমতি চাইলেও তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

তিনি দাবি করেন, ২০২১ সালের একটি সরকারি জরিপেও মসজিদটিকে অনুমোদনহীন স্থাপনা বা জবরদখল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি মসজিদটি রক্ষায় কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। কাশ্মীরের প্রধান ধর্মীয় নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুকও মসজিদটির উচ্ছেদ নোটিশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্যে মসজিদটির ঐতিহাসিক মর্যাদা এবং ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

মসজিদটির উচ্ছেদের নোটিশকে রেসকোর্স রোড এলাকায় চলমান বৃহত্তর উচ্ছেদ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দেখা হচ্ছে। হিন্দুস্তান গেজেটের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিরাপত্তা ও সৌন্দর্যবর্ধনের যুক্তিতে ওই এলাকার বস্তিবাসীদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগেও আদালতের নির্দেশ রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানকার বাসিন্দাদের প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে সাভদা ঘেভরা পুনর্বাসন এলাকায় স্থানান্তর করা হবে। পুনর্বাসিতদের শিক্ষা, পরিবহন ও পয়োনিষ্কাশন সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টিও নির্দেশনায় রয়েছে।

রেসকোর্স মসজিদটির জমির মালিকানা, সরকারি নথিতে এর অবস্থান এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতির বিষয়গুলো নিয়ে এখন বিরোধ তৈরি হয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও মুসলিম সংগঠনগুলো আইনি নিষ্পত্তির আগে উচ্ছেদ না করার দাবি জানালেও কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে স্থাপনাটির ভবিষ্যৎ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কে-পপ তারকা ইজে শুরু করলেন নতুন অধ্যায়, বিয়ে সিউলে সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ পি.এম


কে-পপ তারকা ইজে শুরু করলেন নতুন অধ্যায়, বিয়ে সিউলে সম্পন্ন

বিশ্বজুড়ে পরিচিতি, অস্কারজয়ী গান এবং সংগীতের সাফল্যের পর, কে-পপ তারকা ইজে এবার ব্যক্তিজীবনে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন।

দীর্ঘদিনের প্রেমিক স্যাম কিমের সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে গত ১৭ অক্টোবর তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

ইজে ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’–এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন। অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের ‘গোল্ডেন’ গানের জন্য অস্কার জয়ের পরও তিনি আলোচনায় ছিলেন। এবার বিয়ের খবর দিয়ে ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করেছেন এই তারকা।

সংবাদমাধ্যম ভোগ-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইজের বিয়ের স্থানটি তার কাছে বিশেষ স্মৃতিবিজড়িত। ছোটবেলায় যেখানে তার দাদা-দাদি থাকতেন, সেই জায়গাতেই বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। শৈশবের অনেকটা সময় তিনি সেখানে কাটিয়েছেন।

বাড়ির বাগানে ঘুরে বেড়ানো কিংবা পেছনের পাহাড়ে দাদুর সঙ্গে হাঁটাহাঁটির স্মৃতিও ওই স্থানটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এজন্য এমন একটি জায়গা বিয়ের জন্য বেছে নেওয়া তার কাছে আবেগের বিষয় ছিল।

বিয়ের সাজেও কোরীয় ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন ইজে ও স্যাম কিম। দুজনেই পরেছিলেন কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী বিয়ের পোশাক ‘হানবক’। কনের সাজে ইজের পরনে ছিল সবুজ ও সোনালি রঙের সূক্ষ্ম কারুকাজ করা হানবক, যার সঙ্গে ছিল গাঢ় লাল রঙের দীর্ঘ ও ঘেরওয়ালা স্কার্ট।

পোশাকটির উপরের অংশটি ‘ডাঙ্গুই’ নামে পরিচিত, যা ঐতিহ্যবাহী জ্যাকেটধর্মী পোশাক। অন্যদিকে, নিচের দীর্ঘ স্কার্টটির নাম ‘চিমা’। ঐতিহ্যবাহী পোশাকের রং ও নকশায় বিয়ের সাজে ফুটে উঠেছিল কোরীয় সংস্কৃতির স্বতন্ত্র সৌন্দর্য।

আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে সাফল্যের মধ্যেই ইজের জীবনে যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়। শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে ঐতিহ্যবাহী সাজে বিয়ে—সব মিলিয়ে তার বিশেষ দিনটি হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত আবেগ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুশাররাত জেবীনের মানবিকতার গল্পে কোকোর মরদেহ ফেরানোর উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ পি.এম


মুশাররাত জেবীনের মানবিকতার গল্পে কোকোর মরদেহ ফেরানোর উদ্যোগ

‘ম্যাডাম, আপনার এই সহযোগিতার কথা আমরা মনে রাখব। আমাদের চেয়ারপারসনও মনে রাখবেন।’ এই কথাগুলো মালয়েশিয়া বিএনপির কিছু নেতার মুখ থেকে বেরিয়েছিল। তাদের কৃতজ্ঞতার জবাব মুশাররাত জেবীনের কাছে এসেছিল মাত্র তিনটি শব্দে–‘এটা আমার দায়িত্ব।’

ঘটনাটি ঘটে ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি। রবিবার, মালয়েশিয়ায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন। ছুটির দিনেও কুয়ালালামপুরের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে বিষণ্নতা, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে হৃদয়বিদারক খবর আসে—বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো আর নেই।

আরো পড়ুন

ঢাকা বোর্ডে এসএসসিতে বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ।

এক দিন আগে কোকো তার বাসায় বুকে ব্যথা অনুভব করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৪৫ বছর। কোকোর মৃত্যুর খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর মালয়েশিয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। কিন্তু প্রথম বাধা ছিল—সেদিন সরকারি ছুটি। বাংলাদেশ হাইকমিশন বন্ধ ছিল, গেটে ঝুলছিল তালা। স্বাভাবিক নিয়মে পরবর্তী কর্মদিবস পর্যন্ত অপেক্ষা করলে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া পিছিয়ে যেতে পারত। শোকাহত বিএনপি নেতাকর্মীরা তখন মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের তৎকালীন প্রথম সচিব (শ্রম) মুশাররাত জেবীনের কাছে ছুটে যান।

বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পেরে তিনি তৎক্ষণাৎ বাংলাদেশ হাইকমিশনারের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করেন। হাইকমিশনার তখন কুয়ালালামপুরের বাইরে অবস্থান করছিলেন। হেড অব চ্যান্সারি রইস হাসান সারওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সেখান থেকেও সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ‘যা ভালো মনে হয় তা-ই করুন’ বলা হয় তাকে। মুশাররাত জেবীনের সামনে তখন একটি কঠিন বাস্তবতা ছিল।

আরো পড়ুন

দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়লেন জাওয়াদ

ছুটির দিনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া হাইকমিশনের তালা খুলে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা কঠিন, তা সেদিনই বুঝেছিলেন ২০তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের এই নারী কর্মকর্তা। তার সামনে তখন দুটি পথ খোলা ছিল—এক, পরবর্তী কর্মদিবস পর্যন্ত অপেক্ষা করা, অথবা পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিজের দায়িত্ববোধ থেকে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া।

একদিকে সরকারি বিধিবিধান, অন্যদিকে দেশে অপেক্ষমাণ একটি শোকাহত পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীরা। সেই পরিবারের একজন মা, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তার সন্তানের মৃত্যুশোকে মুহ্যমান। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে খালেদা জিয়া তখন গুলশানের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন এবং বিএনপির ডাকা অবরোধ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। এমন এক কঠিন সময়ে মুশাররাত জেবীন চাকরির বিধিবিধানের কথা না ভেবেই নিজের দায়িত্ববোধের পথটি বেছে নেন। তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করেননি।

আরো পড়ুন

সতর্ক বিএনপির নেতাকর্মীরা

সকাল আনুমানিক ১০টা। দুজন স্টাফকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে হাইকমিশনে পৌঁছান। ছুটির দিনে ফোন করে অফিসের কক্ষ খোলার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর শুরু হয় মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা। ক্যাসকেড কম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও হাসপাতালের রিলিজ লেটার দ্রুত নিয়ে আসতে বলা হয়। একে একে সংগ্রহ করা হয় প্রয়োজনীয় নথি। তিনি নিজেই কম্পিউটারের সামনে বসে পড়েন। সম্পন্ন হয় মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা। খুলে যায় কোকোর মরদেহ দেশে পাঠানোর জটিল প্রক্রিয়া। শোকার্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে ফিরে আসে স্বস্তি।

তারা কৃতজ্ঞতা জানান মুশাররাত জেবীনকে। নেতাকর্মীরা তখন এই কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘ম্যাডাম, আপনার এই সহযোগিতার কথা আমরা মনে রাখব। আমাদের চেয়ারপারসনও মনে রাখবেন।’ পরবর্তীতে তারা জানান, চেয়ারপারসন আপনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। মুশাররাত জেবীনের উত্তর ছিল একটাই—‘এটা আমার দায়িত্ব।’

আরো পড়ুন

ইনফ্লুয়েন্সারের আত্মহনন, টেক সিইওকে দুষলেন বাবা।

মালয়েশিয়া বিএনপির তৎকালীন নেতা মোশাররফ হোসেন সেদিনের ঘটনা স্মরণ করে বলেন, আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসেন তৎকালীন প্রথম সচিব (শ্রম) মুশাররাত জেবীন। ছুটির দিন, বন্ধ হাইকমিশন—কোনো কিছুই তার দায়িত্ববোধের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। প্রয়োজনীয় অনুমতির অপেক্ষা না করে তিনি বন্ধ হাইকমিশনের তালা খুলে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন। তার এই তাৎক্ষণিক উদ্যোগের ফলে দ্রুত মরদেহ দেশে পাঠানো সম্ভব হয়েছিল।

তিনি আরো জানান, মুশাররাত জেবীনের এই মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য তৎকালীন বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।

আরো পড়ুন

কৈলাশে স্বামীগৃহে ফিরবেন দেবী দুর্গা

মৃত্যুর পর একজন মানুষের রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সামাজিক অবস্থান নয়, সবার আগে সামনে আসে তার পরিবার, তার স্বজনদের শোক এবং শেষ বিদায়ের অধিকার। মুশাররাত জেবীনের কাছে সেদিন কাজটি হয়তো ছিল একটি সরকারি দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের ঘটনাটিই তাকে মানবিক করে তুলেছিল।

কোকোর মরদেহ পরবর্তীতে দেশে আসে। ঢাকায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। হাজার হাজার মানুষ শেষ বিদায় জানাতে এসেছিল।

কোকোর মরদেহ দেশে ফেরানোর সেই ঘটনা মুশাররাত জেবীনের কর্মজীবনের একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকলেও তার পেশাগত জীবনের পথটি ছিল অনেকটাই ভিন্ন। প্রশাসন ক্যাডারের এই মেধাবী কর্মকর্তা বর্তমানে যুগ্ম সচিব। চাকরিজীবনে তিনি ফেনী জেলায় এসি ল্যান্ডসহ বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার পর খাদ্য অধিদপ্তর, আইসিটি দপ্তর, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের পুনঃএকত্রীকরণ-সংক্রান্ত প্রকল্প এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি ট্যারিফ কমিশনের সদস্য হিসেবে কর্মরত আছেন।

এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয় যে সরকারি দায়িত্ব কখনো কখনো শুধু বিধিবিধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। মানবিকতা ও সময়ের তাগিদও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কিন্তু কোকোর লাশ ফেরত আনার বিষয়ে ভূমিকা রাখায় মুশাররাত জেবীনের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হতে হয় দীর্ঘদিন। বিগত সরকারের সময়ে তাকে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়।

আরাফাত রহমান কোকো (জন্ম ১২ আগস্ট ১৯৬৯) ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র এবং তারেক রহমানের ছোট ভাই। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নিলেও তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যাননি। তার আগ্রহ ছিল ক্রীড়া, বিশেষ করে ক্রিকেট। ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দেশের ক্রিকেটের অবকাঠামো উন্নয়ন, যুব পর্যায়ের ক্রিকেট সম্প্রসারণ এবং পেশাদারি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অনেকের মতে, তিনি আধুনিক বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক নীরব স্থপতি ছিলেন।

তবে ২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড যান এবং সেখান থেকে মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে অবস্থান শুরু করেন। ২০১১ সালে অনুপস্থিতিতেই তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়। এরপর তিনি আর দেশে ফিরে আসেননি। স্ত্রী শর্মিলা রহমান এবং দুই কন্যা জাহিয়া ও জাফিয়ার সঙ্গে কুয়ালালামপুরে থাকতেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জে দুর্গাপূজায় তিন ধর্মের মানুষের মিলন মেলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৩ পি.এম


সুনামগঞ্জে দুর্গাপূজায় তিন ধর্মের মানুষের মিলন মেলা

সুনামগঞ্জ, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ : মেঘ পাহাড়ের দেশ সুনামগঞ্জ জেলা। এই জেলায় সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য প্রধান উৎসব হিসেবে পরিচিত।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের হাসাউড়া গ্রামে গতকাল মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হাসাউড়া সার্বজনীন দেব মন্দিরে দুর্গাপূজার নবমী তিথিতে সুনামগঞ্জ সদর পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই সম্প্রীতি সমাবেশে একত্রিত হন হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা।

ধর্মীয় ভিন্নতা ভুলে তিন ধর্মের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পূজামণ্ডপটি পরিণত হয় সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবিক বন্ধনের মিলন মেলায়। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টায় হাসাউড়া সার্বজনীন দেব মন্দির পূজা কমিটির উদ্যোগে এবং পিএফজি’র সহযোগিতায় হাসাউড়া গ্রামে এই মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পূজা কমিটির সভাপতি মিলন তালুকদার। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন পিএফজি সদস্য ও পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কর্ণবাবু দাস। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ‘দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট’ বাংলাদেশের কুদরত পাশা।

এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই, সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম, পিস অ্যাম্বাসেডর মাহবুবুল হাসান শাহীন ও সালেহিন চৌধুরী শুভ, পিএফজি সদস্য আবুল হোসেন, নুরুল হাসান তাহের, সেলিনা আবেদীন, রিনা আক্তার, গারো সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি প্রহর আড়েং, হাসাউড়া সার্বজনীন দেবমন্দির পূজা কমিটির সাবেক সভাপতি হারাধন নন্দী ও প্রফুল্ল পাল।

বক্তারা অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, মিলন মেলায় স্থানীয় জনগণের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান গুরুত্ব পেয়েছে। তিন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবের আনন্দ আরও অর্থবহ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের পাশাপাশি বসবাস এবং সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর ঐতিহ্য দীর্ঘকাল ধরে বিদ্যমান।

নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত :

ধর্মীয় সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মান শান্তিপূর্ণ সমাজের অন্যতম ভিত্তি। হাসাউড়ার দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই মিলনমেলা নতুন প্রজন্মের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

হাসাউড়ার এই দৃষ্টান্ত হোক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি, যেখানে ধর্মীয় ভিন্নতা বিভেদের কারণ নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানের শক্তি।

উল্লেখ্য, ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উপস্থিতি সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল খ্রিস্টান শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় প্রাচীন গারো নৃত্য। ঐতিহ্যবাহী এই নৃত্য দেখতে পূজামণ্ডপে মানুষের ভিড় জমে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%