প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সুনামগঞ্জ, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ : মেঘ পাহাড়ের দেশ সুনামগঞ্জ জেলা। এই জেলায় সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য প্রধান উৎসব হিসেবে পরিচিত।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের হাসাউড়া গ্রামে গতকাল মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হাসাউড়া সার্বজনীন দেব মন্দিরে দুর্গাপূজার নবমী তিথিতে সুনামগঞ্জ সদর পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই সম্প্রীতি সমাবেশে একত্রিত হন হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা।
ধর্মীয় ভিন্নতা ভুলে তিন ধর্মের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পূজামণ্ডপটি পরিণত হয় সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবিক বন্ধনের মিলন মেলায়। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টায় হাসাউড়া সার্বজনীন দেব মন্দির পূজা কমিটির উদ্যোগে এবং পিএফজি’র সহযোগিতায় হাসাউড়া গ্রামে এই মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পূজা কমিটির সভাপতি মিলন তালুকদার। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন পিএফজি সদস্য ও পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কর্ণবাবু দাস। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ‘দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট’ বাংলাদেশের কুদরত পাশা।
এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই, সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম, পিস অ্যাম্বাসেডর মাহবুবুল হাসান শাহীন ও সালেহিন চৌধুরী শুভ, পিএফজি সদস্য আবুল হোসেন, নুরুল হাসান তাহের, সেলিনা আবেদীন, রিনা আক্তার, গারো সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি প্রহর আড়েং, হাসাউড়া সার্বজনীন দেবমন্দির পূজা কমিটির সাবেক সভাপতি হারাধন নন্দী ও প্রফুল্ল পাল।
বক্তারা অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, মিলন মেলায় স্থানীয় জনগণের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান গুরুত্ব পেয়েছে। তিন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবের আনন্দ আরও অর্থবহ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের পাশাপাশি বসবাস এবং সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর ঐতিহ্য দীর্ঘকাল ধরে বিদ্যমান।
নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত :
ধর্মীয় সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মান শান্তিপূর্ণ সমাজের অন্যতম ভিত্তি। হাসাউড়ার দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই মিলনমেলা নতুন প্রজন্মের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
হাসাউড়ার এই দৃষ্টান্ত হোক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি, যেখানে ধর্মীয় ভিন্নতা বিভেদের কারণ নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানের শক্তি।
উল্লেখ্য, ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উপস্থিতি সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল খ্রিস্টান শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় প্রাচীন গারো নৃত্য। ঐতিহ্যবাহী এই নৃত্য দেখতে পূজামণ্ডপে মানুষের ভিড় জমে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন