প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের নিকটবর্তী শতবর্ষী রেসকোর্স মসজিদকে ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর (এলঅ্যান্ডডিও) ।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) মসজিদটিকে অনুমোদনহীন স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করে এ নোটিশ জারি করা হয়। ইতোমধ্যে মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মুসলিম সংগঠনগুলো ঐতিহাসিক স্থাপনাটি রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।
দ্য ওয়্যার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লির ৭, লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের পাশে রেসকোর্স মসজিদটির অবস্থান। নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের (এনডিএমসি) ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় মসজিদটির নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এলঅ্যান্ডডিওর দাবি, মসজিদটি সরকারি জমিতে নির্মিত হওয়ায় এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গত ৭ অক্টোবর থেকে মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মুসল্লিদের নামাজ আদায় এবং মসজিদে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে ঐতিহাসিক মসজিদ ও এর সংলগ্ন কবরস্থান রক্ষার জন্য। সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে মসজিদটি রক্ষা এবং আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ বা ধ্বংসের মতো কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রতিনিধি দলের সদস্য মোহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমি জানিয়েছেন, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেট এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় মসজিদটির উল্লেখ রয়েছে। সংগঠনটি মনে করে, এর ঐতিহাসিক মর্যাদা ও আইনি অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড ও এনডিএমসির কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। জমিয়তের প্রতিনিধিদের বক্তব্য অনুযায়ী, মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন এবং সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হিন্দুস্তান গেজেটের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এক ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, গত ছয় মাস ধরে বোর্ডের কাছে আবেদন জানিয়ে কার্যকর কোনো সহায়তা পাননি। বিদ্যুৎ ও পানি বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় এনডিএমসিকে চিঠি দেওয়ার বাইরে বোর্ড আর কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
ইমাম হারুন আরও জানান, মসজিদে যাওয়ার পথ বন্ধ থাকায় মুসল্লিদের যাতায়াত এবং খাবার পানি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি ওয়াকফ বোর্ডকে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। এমনকি নিজে মামলা করার অনুমতি চাইলেও তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
তিনি দাবি করেন, ২০২১ সালের একটি সরকারি জরিপেও মসজিদটিকে অনুমোদনহীন স্থাপনা বা জবরদখল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি মসজিদটি রক্ষায় কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। কাশ্মীরের প্রধান ধর্মীয় নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুকও মসজিদটির উচ্ছেদ নোটিশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্যে মসজিদটির ঐতিহাসিক মর্যাদা এবং ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
মসজিদটির উচ্ছেদের নোটিশকে রেসকোর্স রোড এলাকায় চলমান বৃহত্তর উচ্ছেদ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দেখা হচ্ছে। হিন্দুস্তান গেজেটের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিরাপত্তা ও সৌন্দর্যবর্ধনের যুক্তিতে ওই এলাকার বস্তিবাসীদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগেও আদালতের নির্দেশ রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানকার বাসিন্দাদের প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে সাভদা ঘেভরা পুনর্বাসন এলাকায় স্থানান্তর করা হবে। পুনর্বাসিতদের শিক্ষা, পরিবহন ও পয়োনিষ্কাশন সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টিও নির্দেশনায় রয়েছে।
রেসকোর্স মসজিদটির জমির মালিকানা, সরকারি নথিতে এর অবস্থান এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতির বিষয়গুলো নিয়ে এখন বিরোধ তৈরি হয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও মুসলিম সংগঠনগুলো আইনি নিষ্পত্তির আগে উচ্ছেদ না করার দাবি জানালেও কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে স্থাপনাটির ভবিষ্যৎ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন