০২:৩৯ পি.এম
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : নাইরোবির নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে সাতজন আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবারের এই দুর্ঘটনার পর তাদের উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে, জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ১৬ তলা ভবনটি বিকট শব্দে ধসে পড়ছে এবং চারপাশে ধুলার বিশাল মেঘ ছড়িয়ে পড়ছে।
আরও পড়ুন: এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের আরও অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা
ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকা ইস্টলেইয়ে এটি ঘটেছে। ভবনটি ধসে পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আশপাশে উঁচু ভবন থাকায় ধ্বংসস্তূপের কাছে পৌঁছাতে তাদের বেগ পেতে হয়।
শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিপচুম্বা মুরকোমেন জানান, ভবনটির নিচতলা ও বেসমেন্টে থাকা ১১টি দোকান দুর্ঘটনার সময় খোলা ছিল। তিনি আরও জানান, সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, ভবন নির্মাণের কাজে নিয়োজিত ৬৭ জনের মধ্যে ৬৬ জন অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে পেরেছেন এবং একজন আহত হয়েছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে একজন নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা আরও জানায়, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে একজনের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছিল।
আরও পড়ুন: ইতালির রোম ও মিলানে বিক্ষোভের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
কেনিয়ার ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজির সভাপতি বিবিয়ে মাহমুদ এএফপিকে বলেন, ‘নির্মাণকাজ যথাযথভাবে হচ্ছে কি না— তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা করা হয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণে আমরা এ ধরনের বিপর্যয় দেখছি। এখানে জবাবদিহির অভাব রয়েছে।’
কেনিয়ার ন্যাশনাল বিল্ডিং ইনস্পেক্টরেটের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছর দেশজুড়ে পরিদর্শন করা ভবনগুলোর ৮৭ শতাংশই নির্ধারিত মান পূরণ করতে পারেনি অথবা এতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না।
নাইরোবির গভর্নর জনসন সাকাজা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য মানুষের জীবন রক্ষা করা।’ তিনি আরও জানান, ধসে পড়া ভবনটির ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র ছিল না।
আরও পড়ুন: ওলেশকিতে মঙ্গলবার রাত ১টা থেকে যুদ্ধবিরতি পালন করবে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী
সাকাজার ভাষায়, ‘এর কারণে মানুষের প্রাণহানি ঘটে থাকতে পারে।’ ভবনের ব্যবহার-অনুমতিপত্র হলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র, যা নিশ্চিত করে যে ভবনটি নিরাপদ এবং আইনগতভাবে ব্যবহারের উপযোগী।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেনিয়ার ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট জন ওগালো সাংবাদিকদের জানান, ভবনটি ধসে পড়ার আগেই কিছু সতর্কসংকেত দেখা গিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এখানকার লোকজন বলছেন, ভবনটিতে ফাটলের মতো সমস্যার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল।’
নির্মাণে ভুল উপকরণ ব্যবহার করা হলে ভবনটি ‘একটি টাইম বোমায়’ পরিণত হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
নাইরোবিতে দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ চলছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে ব্যস্ত বাজার ও সোমালি সম্প্রদায়ের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ইস্টলেইয়ে, একের পর এক বহুতল ভবন গড়ে উঠছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতি আশা টোকিওর
পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, নাইরোবিতে বছরে সম্পন্ন হওয়া ভবনের সংখ্যা ২০২২ সালের ২০ হাজার ২৫ থেকে বেড়ে গত বছর ২৫ হাজার ৯০টিতে দাঁড়িয়েছে। পূর্ব আফ্রিকার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় গ্রামাঞ্চল ও প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বহু মানুষ এখানে আসছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দুপুরের দিকে ভবনটি ধসে পড়ার পরপরই সেখানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলের কাছে জড়ো হওয়া জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
কেনিয়া ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নাইরোবিতে ৮৬টি ভবন ধসের ঘটনা ঘটে। এতে আনুমানিক ২০০ জনের প্রাণহানি ঘটে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দুর্নীতির কারণে ঠিকাদারদের অনেকে নির্মাণকাজে নিয়মকানুন এড়িয়ে চলার কিংবা নিম্নমানের কাজ করার সুযোগ পান। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে নাইরোবির উপকণ্ঠের একটি শহরে ছয়তলা ভবন ধসে পাঁচজন মারা যায়। এর আগে ২০১৬ সালের এপ্রিলে রাজধানীর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ছয়তলা একটি আবাসিক ভবন ধসে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যা ও ভূমিধসের পর ওই দুর্ঘটনা ঘটেছিল।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে মেলানিয়ার মধ্যস্থতা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন