প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চোখের উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চীনে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে একটি বিশেষ ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশি রোগীরা চীন সফরের পূর্বে চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ এবং নথি পর্যালোচনার সুযোগ পাবেন। এছাড়া, হাসপাতালে অগ্রাধিকার ভিত্তিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট, পৃথক আন্তর্জাতিক ডেস্ক, দোভাষী সহায়তা এবং দেশে ফেরার পর ফলো-আপ চিকিৎসাসেবার সুবিধাও গ্রহণ করতে পারবেন। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাংলাদেশি চক্ষু রোগীদের জন্য এটি প্রথমবারের মতো বিশেষায়িত সেবাব্যবস্থা চালু হলো।
আজ শনিবার, চীনের কুনমিংয়ে অবস্থিত কুনমিং হুয়াশিয়া আই হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবার উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল শাহনাজ রানু ‘গ্রিন চ্যানেল’-এর ফলক উন্মোচন করেন। একই দিনে তিনি ‘হুয়াশিয়া অপথ্যালমোলজি ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ২০২৬’-এর উদ্বোধনও করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমান এবং হুয়াশিয়া চক্ষু হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝাং ঝিইয়ং উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশি রোগীরা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চীনে যাওয়ার পূর্বে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনার সুবিধা পাবেন। হাসপাতালের পৌঁছানোর পর তাদের জন্য পৃথক আন্তর্জাতিক ডেস্ক এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিক অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা থাকবে। ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে দোভাষী সহায়তা প্রদান করা হবে এবং চিকিৎসা শেষে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরও ফলো-আপ সেবা দেওয়া হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল শাহনাজ রানু বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি এবং চক্ষু চিকিৎসায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্জন তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশি রোগীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগীর নিরাপত্তা, সেবার স্বচ্ছতা, ন্যায্য মূল্য এবং মর্যাদা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
শাহনাজ রানু বলেন, "বাংলাদেশি রোগীদের জন্য মানসম্মত ও নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, চিকিৎসা ব্যয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং রোগীর মর্যাদা সমুন্নত রাখাই বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রধান প্রত্যাশা।"
এ সময় তিনি শুধু বাংলাদেশি রোগীদের চীনে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণ নয়, বরং বাংলাদেশের চক্ষু চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও হুয়াশিয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বিশেষ করে বাংলাদেশি চক্ষু চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ, টেলি-কনসালটেশন এবং বাংলাদেশের চক্ষু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশেই উন্নত চক্ষু চিকিৎসাসেবা প্রদানের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নতুন ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালুর মাধ্যমে চীনে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি চক্ষু রোগীদের জন্য পরামর্শ গ্রহণ থেকে শুরু করে চিকিৎসা পরবর্তী ফলো-আপ পর্যন্ত একটি সমন্বিত সেবা ব্যবস্থার সুযোগ তৈরি হলো। একইসাথে চক্ষু চিকিৎসায় বাংলাদেশ ও চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন