ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাস্তায় যৌন হয়রানির শিকার হলে নারীরা যে ৭টি পদক্ষেপ নেবেন


রাস্তায় যৌন হয়রানির শিকার হলে নারীরা যে ৭টি পদক্ষেপ নেবেন

রাস্তাঘাট, গণপরিবহন কিংবা জনসমাগমস্থলে যৌন হয়রানি আজকাল অনেকের জন্য প্রতিদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে অনেকেই দ্রুত হেঁটে চলে যান, চোখের যোগাযোগ এড়িয়ে চলেন অথবা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখান না। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী কিছু পদক্ষেপ নিলে শুধু নিজেকে নয়, অন্যান্যদেরকেও নিরাপদ রাখতে ভূমিকা রাখা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসমক্ষে যৌন হয়রানির ঘটনা সমাজে একটি স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মেনে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তবে সচেতনতা, প্রতিবাদ এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।

যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে নেয়া যেতে পারে যেসব পদক্ষেপ:

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

প্রয়োজনে প্রতিবাদ করুন।

যদি পরিস্থিতিটি নিরাপদ মনে হয়, তাহলে শান্ত ও দৃঢ়কণ্ঠে হয়রানিকারীকে তার আচরণ বন্ধ করতে বলুন। অশালীন ভাষা ব্যবহার না করে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন যে, এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।

দর্শক হয়ে থাকবেন না।

কাউকে যদি হয়রানির শিকার হতে দেখেন, তাহলে নিরাপদ উপায়ে পাশে দাঁড়ান। সরাসরি বাধা দিতে না পারলে অন্যভাবে পরিস্থিতি পাল্টানোর চেষ্টা করুন অথবা ভুক্তভোগীকে সহায়তা করুন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন।

বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি, পরিবার অথবা পরিচিতদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিন। এতে মানসিক চাপের পাশাপাশি অন্যরাও সচেতন হতে পারেন।

অভিযোগ করুন।

যদি ঘটনাটি আইনগত অপরাধের আওতাভুক্ত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানান। এতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

সচেতনতা তৈরি করুন।

নিজের এলাকায় অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানিবিরোধী সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। এতে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটবে।

নিরাপদ পরিবেশের দাবি তুলুন।

যেসব স্থানে নিয়মিত হয়রানির ঘটনা ঘটে, সেখানে পর্যাপ্ত আলো, নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি জানাতে হবে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

সহায়তার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন।

স্থানীয় সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী দল অথবা কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিরাপদ জনপরিসর গড়ে তুলতে কাজ করা যেতে পারে। সম্মিলিত উদ্যোগগুলো হয়রানি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হলো, যৌন হয়রানির শিকার হলে নীরব থাকা বাধ্যতামূলক নয়, আবার প্রতিবাদ করাও সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, যৌন হয়রানির দায় কখনোই ভুক্তভোগীর নয়; দায় সম্পূর্ণরূপে হয়রানিকারীর।

সূত্র: এভরি ডে ফেমিনিজম

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানিকগঞ্জে বাস খাদে পড়ে নিহত ১, আহত ৪০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৩৮ পি.এম


মানিকগঞ্জে বাস খাদে পড়ে নিহত ১, আহত ৪০

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বরংগাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সেলফি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে উল্টে যায়। এতে বর্তমানে একজনের মৃত্যু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।

আজ রোববার সকালে আনুমানিক ৯ টায় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৮৮৪৩ নম্বরের সেলফি পরিবহনের বাসটি প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। বরংগাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তা দুর্ঘটনার শিকার হয়।

ছালে বাসটির ব্রেক বিকল হয়ে যায়। তখন চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি রাস্তার পাশের দুই সেতুর মাঝখানের খালে পড়ে যায়।

এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মো. দেলোয়ার হোসেন (৫০) নামে এক যাত্রীর মৃত্যু ঘটে। তিনি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ফুলহারা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

এ ঘটনায় অন্তত ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় লোকজন ও উদ্ধারকারীরা আহতদের উদ্ধার করে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

খবর পেয়ে শিবালয় থানা পুলিশ, বরংগাইল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি এবং শিবালয় ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর জন্য পৌঁছে যায়।

এ বিষয়ে শিবালয় থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, “দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।”

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধে ৪৪৬ মার্কিন সেনা হতাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৪১ পি.এম


ইরান যুদ্ধে ৪৪৬ মার্কিন সেনা হতাহত

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একসঙ্গে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। ইরানও পৃথকভাবে পাল্টা জবাব দিতে থাকে। এরপরে Pakistan-এর মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

যুদ্ধবিরতি ভেঙে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে ইরানের ওপর হামলা পরিচালনা করতে থাকে। এই সংঘাতে শুরু থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪৪৬ জন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জন সেনা নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, জর্ডানে দু’জন সেনার প্রাণহানি ঘটেছে। আর আহত হয়েছে ৪৩০ এর বেশি সেনা।

এছাড়া, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত একজন সেনা নিখোঁজ রয়েছে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন হামলা ও দুর্ঘটনার ফলে মার্কিন সেনাদের হতাহতের বিভিন্ন বিষয় সম্বন্ধে পাওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর অল্প সময় পর, ১ মার্চ প্রথম প্রাণহানির ঘটনাটি ঘটে। ওই দিন ইরানের একটি ড্রোন কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে হামলা চালায়। এতে ছয়জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারান।

একই দিনে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের আরেকটি হামলায় গুরুতর আহত হন আরও একজন মার্কিন সেনা। চিকিৎসাধীন অবস্থায়, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে তিনি মারা যান। ফলে নিহতের সংখ্যা পৌঁছায় সাতজনে।

এরপর ১২ মার্চ, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত একটি কেসি-১৩৫ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হলে ছয়জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারান।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, দুর্ঘটনার আগে আরেকটি বিমানের সঙ্গে একটি অনির্দিষ্ট ঘটনা ঘটেছিল। তবে তদন্তে শত্রুপক্ষের হামলা অথবা নিজেদের বাহিনীর ভুলবশত গুলিবর্ষণের (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সবশেষ, ১ জুলাই, আরব সাগরে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হলে মার্কিন নৌবাহিনীর একজন পাইলট নিহত হন। নৌবাহিনী জানিয়েছে যে, দুর্ঘটনাটি শত্রুপক্ষের কোনও হামলার কারণে ঘটেছে-এমন তথ্য বা প্রমাণ তাদের কাছে নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলায় আরও দু’জন সেনা নিহত হওয়ায়, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, যুদ্ধ চলাকালীন আহতের সংখ্যা ৪৩০ জন ছাড়িয়ে গেছে। আহতদের মধ্যে অনেকেই ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযানে আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এছাড়া একজন মার্কিন সেনা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, যার সন্ধানে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হতাহতের এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যা ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ও মানবিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। একই সঙ্গে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও বৃদ্ধি পেতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধিতে আবাসন খাত এখন নাগালের বাইরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫১ পি.এম


নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধিতে আবাসন খাত এখন নাগালের বাইরে

দেশের আবাসন এবং নির্মাণ খাতে গতি আসলেও কমে গেছে। গত এক বছরে রড, বালু, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার মারাত্মকভাবে কমেছে। একই সময়ে, পরিবহন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে ২ দশমিক ৮৫ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস প্রাইস ইনডেক্সের (বিএমপিআই) তথ্য এমন চিত্র তুলে ধরেছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, প্রকৃতপক্ষে ব্যয় বেড়েছে সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং শুল্কের চাপ আবাসন খাতকে ক্রমশ ক্রয় ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে আবাসনবান্ধব নীতিসহায়তা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে।

 

গত কিছু বছর ধরে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ধীর গতি দেখা যাচ্ছে। সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের নীতির কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নও কমে গেছে। অর্থবছরের শুরু থেকে প্রথম ১১ মাস পর্যন্ত মে মাস পর্যন্ত বরাদ্দের অর্ধেকও ব্যয় হয়নি। এই মুহূর্তে সরাসরি প্রভাব পড়েছে আবাসন ও নির্মাণ খাতে।

 

এই পরিস্থিতির প্রতিফলন বিবিএসের বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস প্রাইস ইনডেক্সে (বিএমপিআই) দেখা যাচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে সূচকের প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ০৭ শতাংশ, সেখানে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ২ দশমিক ০২ শতাংশে। এটি নির্দেশ করে যে, রড, বালু, সিমেন্টসহ নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

 

রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শুধুমাত্র কর বৃদ্ধির কারণে ২৫ লাখ টাকার একটি লিফটের দাম বর্তমানে ৩৫ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। বালু, সিমেন্ট, তারকাঁটা, বাঁশের চাটাই, টাইলস, রড- প্রায় সকল নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে গেছে। ফলে পুরো খাতই চরম সংকটে রয়েছে।

 

এদিকে, নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার কমলেও খরচ বেড়েছে পরিবহন এবং শ্রমিকের মজুরিতে। বিএমপিআইর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

 

রিহ্যাবের সভাপতি আলী আফজাল বলেন, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধির ফলে শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। আগে যে ফ্ল্যাট প্রতি বর্গফুট ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা যেত, এখন তার নির্মাণ ব্যয়ই প্রায় ১৩ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।

 

তবে ব্যবসায়ীদের হিসাব বলছে, গত পাঁচ বছরে আবাসন এবং নির্মাণ খাতে প্রবৃদ্ধি ৬০ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সময়ে নির্মাণ সামগ্রীর কাঁচামালের দাম বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ। এর ফলে, আবাসন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৬৯টি লিংকেজ শিল্পও ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থায় ব্যবসাবান্ধব কর কাঠামো এবং আবাসনবান্ধব নীতিসহায়তা প্রয়োজন।

 

রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, শুধু আবাসন খাতই নয়, এই খাতের সঙ্গে যুক্ত ২৬৯টি লিংকেজ শিল্পও ধ্বংস হওয়ার পথে আছে। আবাসন খাত যদি ঘুরে দাঁড়ায়, তাহলে এসব শিল্পও পুনরায় সক্রিয় হবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করবে।

 

রিহ্যাবের সভাপতি আলী আফজাল বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে নির্মাণ সামগ্রীর দাম প্রায় ৩১ শতাংশ বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে নতুন করে আরও ১১ শতাংশ ব্যয় যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ মোট ব্যয় বেড়ে গেছে প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ শতাংশ। এই অবস্থায় এই খাতে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) নির্মাণ ও আবাসনসহ সংশ্লিষ্ট খাতের অবদান প্রায় ১৬ শতাংশ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়েতে উচ্ছেদ অভিযানের ফলে হাজারো প্রবাসী গৃহহীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫৯ পি.এম


কুয়েতে উচ্ছেদ অভিযানের ফলে হাজারো প্রবাসী গৃহহীন

একদিকে তীব্র গ্রীষ্মের দাবদাহ, অন্যদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা উত্তেজনার কারণে মাঝে মাঝে বেজে উঠছে সতর্কতামূলক সাইরেন। এর মধ্যেই কুয়েতের জেলিব আল-শুয়ুখ এলাকায় পরিচালিত বৃহৎ নিরাপত্তা অভিযান এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন খালি করার সরকারি পদক্ষেপে হঠাৎ করেই গৃহহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো প্রবাসী। ফলে দেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মানবিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন বিভিন্ন দেশের অভিবাসী শ্রমিকরা।

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড, কুয়েত ফায়ার ফোর্স, বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয়, পৌরসভাসহ মোট ১১টি সরকারি সংস্থার অংশগ্রহণের মাধ্যমে জেলিব এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিধিবহির্ভূত ভবন নিরীক্ষণ, খালি করা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, আবাসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা অভিযোগ করেছেন যে, গভীর রাতে কার্যকর কোন পূর্বঘোষণা ছাড়াই ভবনগুলোর বাসিন্দাদের দ্রুত বের হয়ে যেতে বলা হয়। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগও তাৎক্ষণিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। ফলে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অসংখ্য পরিবারকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হতে হয়েছে।

প্রবাসীদের অভিযোগ, চলতি জুলাই মাসের ১০ তারিখেই বাড়ির মালিকরা পুরো মাসের ভাড়া আদায় করেছেন। কিন্তু ভবনগুলো উচ্ছেদ বা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে—এ বিষয়ে ভাড়াটিয়াদের আগে থেকে কোন তথ্য প্রদান করা হয়নি। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত সময় দেয়া হলে তারা বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে পারতেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় অনলাইন ফোরামেও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে। অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, রাত দুই থেকে তিনটার মধ্যে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এসে পরিচয়পত্র যাচাই করে দ্রুত ভবন ছাড়ার নির্দেশনা দেন। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর ছোট শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকেই রাস্তায় অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন।

কুয়েত সরকার বলছে, এটি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়। দীর্ঘদিন ধরে জেলিব আল-শুয়ুখ এলাকার অনেক ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে ৬৭টি ভবন খালি করে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়। পরে ২০২৬ সালেও ধাপে ধাপে আরও ৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের কার্যক্রম শুরু হয়। সরকারের দাবি, উচ্ছেদ নোটিশ প্রদান, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

হঠাৎ উচ্ছেদের ফলে হাজারো শ্রমিক কর্মস্থল, পরিবার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন। অনেকের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও ভবনের ভেতরেই রয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কুয়েত টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রবাসীদের জন্য সরকার অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে। তবে এসব আশ্রয়কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা এবং সেখানে পৌঁছানোর ব্যাপারে অনেক প্রবাসী প্রশ্ন তুলেছেন।

এদিকে শুক্রবার (১৭ জুলাই) কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল। দূতাবাসের কাউন্সেলর ও মিশন প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং শ্রম কল্যাণ শাখার কাউন্সেলর শোয়াইব-উল-ইসলাম তরফদারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজ-খবর নেয়। পাশাপাশি স্থানীয় কুয়েতি কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তারা।

কুয়েতি কর্মকর্তারা প্রতিনিধি দলকে জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ এবং অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই ধরনের অভিযান দেশটির অন্যান্য এলাকায়ও চালানোর প্রস্তুতি চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%