প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশের আবাসন এবং নির্মাণ খাতে গতি আসলেও কমে গেছে। গত এক বছরে রড, বালু, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার মারাত্মকভাবে কমেছে। একই সময়ে, পরিবহন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে ২ দশমিক ৮৫ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস প্রাইস ইনডেক্সের (বিএমপিআই) তথ্য এমন চিত্র তুলে ধরেছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, প্রকৃতপক্ষে ব্যয় বেড়েছে সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং শুল্কের চাপ আবাসন খাতকে ক্রমশ ক্রয় ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে আবাসনবান্ধব নীতিসহায়তা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে।
গত কিছু বছর ধরে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ধীর গতি দেখা যাচ্ছে। সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের নীতির কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নও কমে গেছে। অর্থবছরের শুরু থেকে প্রথম ১১ মাস পর্যন্ত মে মাস পর্যন্ত বরাদ্দের অর্ধেকও ব্যয় হয়নি। এই মুহূর্তে সরাসরি প্রভাব পড়েছে আবাসন ও নির্মাণ খাতে।
এই পরিস্থিতির প্রতিফলন বিবিএসের বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস প্রাইস ইনডেক্সে (বিএমপিআই) দেখা যাচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে সূচকের প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ০৭ শতাংশ, সেখানে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ২ দশমিক ০২ শতাংশে। এটি নির্দেশ করে যে, রড, বালু, সিমেন্টসহ নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শুধুমাত্র কর বৃদ্ধির কারণে ২৫ লাখ টাকার একটি লিফটের দাম বর্তমানে ৩৫ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। বালু, সিমেন্ট, তারকাঁটা, বাঁশের চাটাই, টাইলস, রড- প্রায় সকল নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে গেছে। ফলে পুরো খাতই চরম সংকটে রয়েছে।
এদিকে, নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার কমলেও খরচ বেড়েছে পরিবহন এবং শ্রমিকের মজুরিতে। বিএমপিআইর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
রিহ্যাবের সভাপতি আলী আফজাল বলেন, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধির ফলে শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। আগে যে ফ্ল্যাট প্রতি বর্গফুট ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা যেত, এখন তার নির্মাণ ব্যয়ই প্রায় ১৩ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।
তবে ব্যবসায়ীদের হিসাব বলছে, গত পাঁচ বছরে আবাসন এবং নির্মাণ খাতে প্রবৃদ্ধি ৬০ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সময়ে নির্মাণ সামগ্রীর কাঁচামালের দাম বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ। এর ফলে, আবাসন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৬৯টি লিংকেজ শিল্পও ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থায় ব্যবসাবান্ধব কর কাঠামো এবং আবাসনবান্ধব নীতিসহায়তা প্রয়োজন।
রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, শুধু আবাসন খাতই নয়, এই খাতের সঙ্গে যুক্ত ২৬৯টি লিংকেজ শিল্পও ধ্বংস হওয়ার পথে আছে। আবাসন খাত যদি ঘুরে দাঁড়ায়, তাহলে এসব শিল্পও পুনরায় সক্রিয় হবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করবে।
রিহ্যাবের সভাপতি আলী আফজাল বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে নির্মাণ সামগ্রীর দাম প্রায় ৩১ শতাংশ বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে নতুন করে আরও ১১ শতাংশ ব্যয় যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ মোট ব্যয় বেড়ে গেছে প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ শতাংশ। এই অবস্থায় এই খাতে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) নির্মাণ ও আবাসনসহ সংশ্লিষ্ট খাতের অবদান প্রায় ১৬ শতাংশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন