প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একসঙ্গে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। ইরানও পৃথকভাবে পাল্টা জবাব দিতে থাকে। এরপরে Pakistan-এর মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
যুদ্ধবিরতি ভেঙে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে ইরানের ওপর হামলা পরিচালনা করতে থাকে। এই সংঘাতে শুরু থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪৪৬ জন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জন সেনা নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, জর্ডানে দু’জন সেনার প্রাণহানি ঘটেছে। আর আহত হয়েছে ৪৩০ এর বেশি সেনা।
এছাড়া, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত একজন সেনা নিখোঁজ রয়েছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন হামলা ও দুর্ঘটনার ফলে মার্কিন সেনাদের হতাহতের বিভিন্ন বিষয় সম্বন্ধে পাওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর অল্প সময় পর, ১ মার্চ প্রথম প্রাণহানির ঘটনাটি ঘটে। ওই দিন ইরানের একটি ড্রোন কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে হামলা চালায়। এতে ছয়জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারান।
একই দিনে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের আরেকটি হামলায় গুরুতর আহত হন আরও একজন মার্কিন সেনা। চিকিৎসাধীন অবস্থায়, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে তিনি মারা যান। ফলে নিহতের সংখ্যা পৌঁছায় সাতজনে।
এরপর ১২ মার্চ, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত একটি কেসি-১৩৫ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হলে ছয়জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারান।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, দুর্ঘটনার আগে আরেকটি বিমানের সঙ্গে একটি অনির্দিষ্ট ঘটনা ঘটেছিল। তবে তদন্তে শত্রুপক্ষের হামলা অথবা নিজেদের বাহিনীর ভুলবশত গুলিবর্ষণের (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সবশেষ, ১ জুলাই, আরব সাগরে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হলে মার্কিন নৌবাহিনীর একজন পাইলট নিহত হন। নৌবাহিনী জানিয়েছে যে, দুর্ঘটনাটি শত্রুপক্ষের কোনও হামলার কারণে ঘটেছে-এমন তথ্য বা প্রমাণ তাদের কাছে নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলায় আরও দু’জন সেনা নিহত হওয়ায়, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, যুদ্ধ চলাকালীন আহতের সংখ্যা ৪৩০ জন ছাড়িয়ে গেছে। আহতদের মধ্যে অনেকেই ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযানে আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এছাড়া একজন মার্কিন সেনা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, যার সন্ধানে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হতাহতের এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যা ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ও মানবিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। একই সঙ্গে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও বৃদ্ধি পেতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন