১১:১০ এম
বাংলাদেশে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একমাত্র আবাস সুন্দরবন হিসেবে পরিচিত।
এটি বন ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই শীর্ষ শিকারি। সম্প্রতি পূর্ব সুন্দরবনের আন্দারমানিক ফরেস্ট অফিসের সামনে বাঘের অবাধ বিচরণ ঘটছে এবং দুই দিনের ব্যবধানে নদী সাঁতরে পার হওয়ার দৃশ্য ফুটে উঠেছে। যেমন, কখনো নদীর তীরে দেখা যাচ্ছে, আবার কখনো ক্যামেরা ট্র্যাপের মাধ্যমে ধরা পড়ছে তার অবাধ বিচরণ।
এসব দৃশ্যগুলি সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণে আশার বার্তা দিচ্ছে। সরকারি জরিপ অনুযায়ী সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫ টিতে, যা সংরক্ষণ কার্যক্রমের ইতিবাচক ফল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
তবে সংকটও রয়েছে। ছয় মাস আগে হরিণ ধরার ফাঁদে আটকা পড়া একটি বাঘ চিকিৎসার পর আবার বনে ফিরে এসেছে। তবে চোরা শিকারিদের ফাঁদ এখনও বড় হুমকি হয়ে রয়েছে। হরিণ শিকারের কারণে বাঘের খাদ্য কমছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপদ আবাস ও প্রজননের সংকট, মানুষ-বাঘ সংঘাত এবং গবেষণার সীমাবদ্ধতা সংরক্ষণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।
বাঘ জরিপ কারিগরি কমিটির সদস্য মফিজুর রহমান মন্তব্য করেছেন, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি অবশ্যই ইতিবাচক। তবে, শুধু সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; তাদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল, পর্যাপ্ত খাদ্য এবং নির্বিঘ্ন প্রজননের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনসহ নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিয়মিত গবেষণা ও নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের কথায়, শুধু বন বিভাগের উদ্যোগে হবে না; বরং জলবায়ু অভিযোজন, খাদ্য প্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা, নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি।
সুন্দরবন একাডেমির ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য রফিকুল ইসলাম খোকন জানিয়েছেন, বাঘ রক্ষা করতে হলে পুরো সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করা ক্ষতি নয়। খাদ্য, প্রাণী, হরিণ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষকে সচেতন এবং সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
বন বিভাগ জানিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তি, স্মার্ট পেট্রোলিং, ক্যামেরা ট্র্যাপ এবং উদ্ধার-পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও জোরদার করা হচ্ছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম আগামী জরিপে বাঘের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
তিনি যোগ করেছেন, বাঘ সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার, বন রক্ষায় নজরদারি বাড়ানো এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে সুন্দরবনের বাঘকে নিরাপদ রাখার প্রচেষ্টা চলছে। আগামী জরিপে বাঘের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেও আমাদের আশাবাদ রয়েছে।
‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’ এই প্রতিপাদ্যে বিশ্ব বাঘ দিবস পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশসহ বাঘের আবাস থাকা বিশ্বের ১৩টি দেশে দিবসটি পালন হয়ে আসছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন