ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সংখ্যা বাড়লেও সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জে


সংখ্যা বাড়লেও সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জে

বাংলাদেশে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একমাত্র আবাস সুন্দরবন হিসেবে পরিচিত।

এটি বন ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই শীর্ষ শিকারি। সম্প্রতি পূর্ব সুন্দরবনের আন্দারমানিক ফরেস্ট অফিসের সামনে বাঘের অবাধ বিচরণ ঘটছে এবং দুই দিনের ব্যবধানে নদী সাঁতরে পার হওয়ার দৃশ্য ফুটে উঠেছে। যেমন, কখনো নদীর তীরে দেখা যাচ্ছে, আবার কখনো ক্যামেরা ট্র্যাপের মাধ্যমে ধরা পড়ছে তার অবাধ বিচরণ।

এসব দৃশ্যগুলি সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণে আশার বার্তা দিচ্ছে। সরকারি জরিপ অনুযায়ী সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫ টিতে, যা সংরক্ষণ কার্যক্রমের ইতিবাচক ফল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তবে সংকটও রয়েছে। ছয় মাস আগে হরিণ ধরার ফাঁদে আটকা পড়া একটি বাঘ চিকিৎসার পর আবার বনে ফিরে এসেছে। তবে চোরা শিকারিদের ফাঁদ এখনও বড় হুমকি হয়ে রয়েছে। হরিণ শিকারের কারণে বাঘের খাদ্য কমছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপদ আবাস ও প্রজননের সংকট, মানুষ-বাঘ সংঘাত এবং গবেষণার সীমাবদ্ধতা সংরক্ষণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

বাঘ জরিপ কারিগরি কমিটির সদস্য মফিজুর রহমান মন্তব্য করেছেন, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি অবশ্যই ইতিবাচক। তবে, শুধু সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; তাদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল, পর্যাপ্ত খাদ্য এবং নির্বিঘ্ন প্রজননের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনসহ নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিয়মিত গবেষণা ও নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের কথায়, শুধু বন বিভাগের উদ্যোগে হবে না; বরং জলবায়ু অভিযোজন, খাদ্য প্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা, নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি।

সুন্দরবন একাডেমির ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য রফিকুল ইসলাম খোকন জানিয়েছেন, বাঘ রক্ষা করতে হলে পুরো সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করা ক্ষতি নয়। খাদ্য, প্রাণী, হরিণ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষকে সচেতন এবং সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

বন বিভাগ জানিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তি, স্মার্ট পেট্রোলিং, ক্যামেরা ট্র্যাপ এবং উদ্ধার-পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও জোরদার করা হচ্ছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম আগামী জরিপে বাঘের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

তিনি যোগ করেছেন, বাঘ সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার, বন রক্ষায় নজরদারি বাড়ানো এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে সুন্দরবনের বাঘকে নিরাপদ রাখার প্রচেষ্টা চলছে। আগামী জরিপে বাঘের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেও আমাদের আশাবাদ রয়েছে।

‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’ এই প্রতিপাদ্যে বিশ্ব বাঘ দিবস পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশসহ বাঘের আবাস থাকা বিশ্বের ১৩টি দেশে দিবসটি পালন হয়ে আসছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে না ফেরার কারণ জানালেন সাকিব, বললেন ‘অনেকে ভয় পায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৪ এম


দেশে না ফেরার কারণ জানালেন সাকিব, বললেন ‘অনেকে ভয় পায়

বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বিশ্বাস করেন, তার দেশে ফেরার সময়টা অনেকের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই কারণে কিছু মানুষ তাকে দেশে ফিরতে দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সম্প্রতি ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকফ্রেঞ্জিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, সাকিব দেশের ফিরতে চাওয়া, নিজের ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবার ফিরতে চাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে পারলে সেটিই তার জন্য সবচেয়ে ভাল হবে।

বর্তমানে বিভিন্ন বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সাকিব। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক শিগগিরই নেপালের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সের হয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু দীর্ঘ এক সময় ধরে তিনি দেশে ফিরতে পারেননি, যদিও পার্শ্ববর্তী কিছু দেশের লিগে তিনি নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন।

সাকিব ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফেরার চেষ্টা করেন, একবার দুবাই পর্যন্তও পৌঁছান, কিন্তু প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে হয়।

কবে দেশে ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোন সময়সীমা জানাননি, কিন্তু আগে দ্রুত ফেরার আশা প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন মহলে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ দিকে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোন নিশ্চয়তা তিনি দেননি।

সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, "জানি না, আমি নিউজ অত শুনি না। সুতরাং আমার পক্ষে বলা মুশকিল। তবে আশা করি তাড়াতাড়ি। তাড়াতাড়ি হলে পরের মাসও হতে পারে, তারপরের মাসেও হতে পারে, ডিসেম্বরে হতে পারে, নভেম্বরে হতে পারে! (হাসি) কিন্তু যত তাড়াতাড়ি হয়, ততই আমার জন্য ভাল।"

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার পর, টেস্ট এবং ওয়ানডে থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক অবসর নেননি সাকিব। বাংলাদেশের জার্সিতে তার শেষ টেস্ট খেলার পরিকল্পনা ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে সেই ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরার অনুমতি পাননি সাকিব।

দেশে ফিরতে না পারলেও, মিরপুরে নিজের শেষ ম্যাচ খেলার স্বপ্ন এখনও দেখতে থাকেন সাকিব। তার বিদায়ী ম্যাচ আয়োজন করা গেলে সেটি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে উঠবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

দেশে ফিরলে পুরো ঢাকা ব্ল্যাকআউট হয়ে যাবে কিনা এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, "যদি আমার এরকম হয়, তাহলে অবশ্যই সেটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে বাংলাদেশের স্পোর্টসের ইতিহাসে, এটা আমি জানি। এতে কোন সন্দেহ নাই। হয়তো এগুলো নিয়ে অনেকে ভয় পায়। এই কারণেই আমার এই সুযোগটা হচ্ছে না। যে আমি গেলে এরকম হবে কিছু। আমার ধারণা, এরকম ভয়গুলো মানুষ পাচ্ছে এবং এই কারণে আমাকে যেতে দিচ্ছে না।"

জাতীয় দলের হয়ে দুই বছরের বেশি সময় ধরে মাঠে দেখা যাচ্ছে না সাকিবকে। তবে ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন এখনও রয়েছে তার।

তবে সাকিব মনে করেন, নিজের খেলার ইচ্ছার চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো বাংলাদেশ দলে তার প্রয়োজন রয়েছে কিনা। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব অধিনায়ক ও নির্বাচকদের বলে জানান তিনি।

সাকিব বলেন, "আমি খেলতে চাওয়ার থেকে গুরুত্বপূর্ণ বেশি বাংলাদেশ দলে আমার দরকার আছে কিনা। এটা নির্বাচক, অধিনায়ক ভালো বুঝবে। তারা যদি মনে করেন (প্রয়োজন আছে) তাহলে তারা চিন্তা করতে পারেন। কিন্তু এগুলো অনেক পরের বিষয়।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাকের ধাক্কায় এক্সপ্রেসওয়েতে দুই বাইকার আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৭ এম


ট্রাকের ধাক্কায় এক্সপ্রেসওয়েতে দুই বাইকার আহত

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে একটি অজ্ঞাতনামা ট্রাকের আঘাতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন।

এই দুর্ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার সমষপুর ব্রিজের ওপরে।

আহত দুইজনের নাম আতুল গাজী (২৭) এবং ইফরাত হোসেন (২৬)। তাদের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, তারা মাওয়া ঘাটে ঘুরতে যাওয়ার সময় এই দুর্ঘটনার শিকার হন।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, ভোর ৪টার দিকে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনে খবর আসে যে, শ্রীনগর উপজেলার সমষপুর ব্রিজের ওপর মাওয়ামুখী লেনে একটি মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে একটি অজ্ঞাত ট্রাক সজোরে আঘাত করে।

এই কারণে মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে যায়।

খবর পাওয়ার পর শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলতে হবে এবং গাড়ি চালানোর সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যমুনা সেতু মহাসড়কে গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত, ভোগান্তিতে চালক-যাত্রীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৩ এম


যমুনা সেতু মহাসড়কে গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত, ভোগান্তিতে চালক-যাত্রীরা

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের চার লেনের কাজের সময় গ্যাস লাইনের প্রধান পাইপ ফেটে যাওয়ার কারণে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে আন্ডারপাসের পাইলিং করতে গিয়ে এই পাইপ ফেটে যায়।

টাঙ্গাইল ট্র্যাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) হারুন জানান, বিকেলে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে আন্ডারপাসের পাইলিংয়ের কাজের সময় উল্লেখযোগ্য শব্দে গ্যাসের মেইন পাইপ ফেটে যায়। এরপর পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে উত্তরবঙ্গগামী যান চলাচল ধীরগতি হয়ে যায়। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অতিবৃষ্টির ক্ষতি, মানিকগঞ্জে বিপাকে প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৮ এম


অতিবৃষ্টির ক্ষতি, মানিকগঞ্জে বিপাকে প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক

মানিকগঞ্জে অতিবৃষ্টির ফলে তৈরি হওয়া বন্যার কারণে জেলার ৪ হাজার ৮৮৫ জন কৃষক ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। শত শত হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা এখন গভীর সংকটে রয়েছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ গণমাধ্যমকে জানান, কৃষি মন্ত্রণালয় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এবং স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য পর্যালোচনা করার পর, মানিকগঞ্জসহ সারাদেশে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রণোদনার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

কৃষি বিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত মাত্র এই সপ্তাহে মানিকগঞ্জ জেলায় ৩০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত হয়ে যায়। এর ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এ ব্যাপারে সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে মানিকগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য জরুরি সহায়তা প্রদানের অনুরোধ করেছেন।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, যদি কৃষকদের দ্রুত সহায়তা না দেওয়া হয়, তাহলে আগামী মৌসুমের উৎপাদনও ব্যাহত হতে পারে এবং জেলার কৃষি অর্থনীতি আরো বিপর্যস্ত হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে জানান, মানিকগঞ্জে সম্প্রতিক অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যায় কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের পক্ষে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা খুবই কঠিন। তিনি বলেন, কৃষকরা যেন দ্রুত আবার চাষাবাদে ফিরতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই জরুরিভিত্তিতে পুনর্বাসন সহায়তা ও কৃষি প্রণোদনা দেওয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মানিকগঞ্জ রাজধানীর সন্নিকটে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উৎপাদনকারী জেলা। এখানকার কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সময়মতো সহায়তা প্রদান অপরিহার্য। যদি প্রয়োজনীয় বীজ, সার, কৃষি উপকরণ ও অন্যান্য সহায়তা দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হয়, তাহলে তারা আগামী মৌসুমে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারবেন।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, কৃষকদের এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করবে। কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। যদি তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা যায়, তবে জেলার কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকতে পারে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, মানিকগঞ্জ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উৎপাদনকারী জেলা। এই জেলার প্রায় ২৩৯ শতাংশ শস্য নিবিড়তার কারণে ধান, পাট, সরিষা, ভুট্টা, মরিচ, পেঁপে এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদনে পরিচিত। রাজধানীর নিকটবর্তী হওয়ায় এখানকার উৎপাদিত সবজি ঢাকার বাজারের উল্লেখযোগ্য চাহিদা পরিপূরণ করে। তাই, জেলার কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি রাজধানীর কৃষিপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।

চলতি মৌসুমে জেলায় ৯০০ হেক্টর জমিতে পেঁপে, ১০ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা, ২২১ হেক্টর পাট, ৪ হাজার ৫২১ হেক্টর বিভিন্ন ধরনের সবজি এবং ৪৩০ হেক্টর মরিচের আবাদ হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে এসব ফসলের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ১৪৪ হেক্টর সবজি, ৫৫ হেক্টর পেঁপে, ১৬ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা, ৬ হেক্টর পাট ও ১ হেক্টর মরিচসহ মোট ২২২ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়েছে ১৭ হেক্টর সবজি, ১৯ দশমিক ২৫ হেক্টর পেঁপে, ৪ দশমিক ৬ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা, ১ দশমিক ২ হেক্টর পাট এবং ১০ হেক্টর মরিচের আবাদ।

কৃষি বিভাগের মূলায়নে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত এসব জমি থেকে প্রায় ১ হাজার ৪৭১ দশমিক ৫ মেট্রিক টন কৃষিপণ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ১৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। এই ক্ষতি সরাসরি প্রভাব ফেলে ৪ হাজার ৮৮৫ জন কৃষকের ওপর, যাদের অধিকাংশই ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অধিকাংশই ঋণ নিয়ে আবাদ করেছিলেন। কিন্তু ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে তারা এখন আর্থিক সংকটে পড়েছেন। যদি দ্রুত সরকারি সহায়তা না আসে, তবে আগামী মৌসুমে নতুন করে চাষাবাদ শুরু করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে।

এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য জরুরিভিত্তিতে বীজ, সার, কৃষি উপকরণ এবং আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা দ্রুত চূড়ান্ত করে স্বচ্ছতার সঙ্গে সহায়তা বিতরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর পাঠানো চিঠিটি তারা পেয়েছেন। সেখানে মানিকগঞ্জ জেলায় অতিবৃষ্টি এবং এর ফলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সচিব বলেন, তাদের লক্ষ্য হলো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যাতে দ্রুত চাষাবাদে ফিরে আসতে পারেন। এজন্য বীজ, সার, চারা এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকার কৃষকদের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণে আন্তরিক রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%