০৯:২৩ এম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম হ্রাস পেয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বর্ণের দাম তিন মাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। জুনের পর এটি সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতনের পথে রয়েছে। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি নির্ধারণী বৈঠকের আগে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়ায় স্বর্ণের বাজারেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৯৮ দশমিক ৩৫ ডলারে নেমেছে। মধ্য জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমেছে। লেনদেনের এক পর্যায়ে দাম কমে ৩ হাজার ৯৭৫ দশমিক ২৩ ডলারে পৌঁছায়।
চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে জুনের পর সবচেয়ে খারাপ সপ্তাহের মুখোমুখি হয়েছে বাজারটি। ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭০ দশমিক ৯০ ডলারে স্থির হয়েছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বন্দরে সৌরবিদ্যুতের উদ্যোগ, চাহিদা মিটিয়ে যাবে জাতীয় গ্রিডেও
সৌদি আরবে হুথি গোষ্ঠীর হামলার পর জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম উইকফ মন্তব্য করেছেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের অর্থ হলো, বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রুত মুদ্রানীতি শিথিল করতে পারবে না। বর্তমানে এসব বিষয়ই স্বর্ণ ও রুপার বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার বিপরীতে কাজ করছে। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে বিক্রির চাপের কারণে শেয়ারবাজারের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মার্জিন কলের মুখে পড়তে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দিতে তাদের স্বর্ণ ও রুপার মতো সম্পদ বিক্রি করতে হচ্ছে।’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির পর বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এর প্রভাবে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক সূচক গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
এদিকে, আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের বৈঠকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে বলে আশা করছেন অধিকাংশ ব্যবসায়ী। তবে গত সপ্তাহে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা ও উৎপাদক পর্যায়ের মুদ্রাস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী হওয়ায় বছরের শেষ দিকে আরও কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণের পক্ষে যুক্তি জোরালো হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে দরপতন, এশিয়ার পুঁজিবাজার সপ্তাহ শেষে নিম্নমুখী
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে ফেডের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৯২ শতাংশ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন ৭৮ শতাংশ ব্যবসায়ী।
আগামী ২৯ অক্টোবর প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় (পিসিই) প্রতিবেদন থেকেও মুদ্রাস্ফীতির গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ফেডের পছন্দের মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপক হিসেবে বিবেচিত এই সূচকের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম কমানোর ফলে চলতি সপ্তাহে ভারতে কেনাকাটা বেড়েছে। দেশটির প্রধান ধর্মীয় উৎসব দশেরাকে কেন্দ্র করে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে এবং প্রিমিয়ামও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিশ্বের শীর্ষ স্বর্ণ ভোক্তা চীনে ভৌত স্বর্ণের চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে। সতর্ক অবস্থানে থাকা ক্রেতারা সেখানে গয়না কেনার ব্যয় কমিয়ে চলেছেন।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৩ দশমিক ৯৭ ডলারে নেমেছে। এটি ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৪৮ দশমিক ৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৫ সালের জুনের পর সর্বনিম্ন।
আরও পড়ুন: দেশের বাজারে সোনার দাম কমে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা
এ ছাড়া প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫৫৫ দশমিক ৮৪ ডলারে নেমেছে। জুলাইয়ের পর এটিই ধাতুটির সর্বনিম্ন দাম। স্বর্ণ, রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম- চারটি ধাতুই চলতি সপ্তাহে দরপতনের পথে রয়েছে।
এদিকে, গত ২৩ অক্টোবর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ওই দিন ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই দাম অনুযায়ী দেশে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।
স্বর্ণের দাম কমানোর সঙ্গে গত ২৩ অক্টোবর দেশের বাজারে কমানো হয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ১৭৫ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৩৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই দাম অনুযায়ী দেশে রুপা বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রুপার দাম আবার কমলো, নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন