প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
থাইল্যান্ডের পর্যটননগরী পাতায়ায় বাংলাদেশি খাবারের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে, সেখানে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না বাংলাদেশি কর্মীরা। হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ, আসিয়ানভুক্ত দেশের নাগরিকেরা অধিক সুবিধা পাওয়ায় বাংলাদেশিরা কর্মসংস্থানে পিছিয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে, ঢাকা-ব্যাংককের মধ্যে শ্রমবিষয়ক চুক্তির মাধ্যমে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন প্রবাসীরা।
পাতায়া, রাতভর পর্যটকদের জন্য অপেক্ষা করে। রাজধানী ব্যাংকক থেকে সড়কপথে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরের এই পর্যটননগরীতে সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করা, হাঁটা বা কেনাকাটা—সব মিলিয়ে অবসর কাটানোর নানা আয়োজন রয়েছে। তাই, থাইল্যান্ডের এই শহর পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।
স্থানীয়দের ও পর্যটকদের বাংলাদেশি ও ভারতীয় খাবারের স্বাদ দিতে বেশ কিছু রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে পাতায়ায়। এর মধ্যে বাংলাদেশিদের পরিচালিত বিভিন্ন খাবারের প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
পাতায়ার কারি হেভেন রেস্তোরাঁর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মানসুরা আলম সনি জানান, ‘বাংলাদেশ থেকে অনেকে থাইল্যান্ডে এসে পাতায়ায় ঘুরতে আসেন। তাদের খাবার নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে সব জায়গায় হালাল খাবার পাওয়া যায় না। তাদের কথা ভেবেই এখানে ১০ বছর আগে রেস্তোরাঁটি গড়ে তুলেছি। আগে আমার তিনজন কর্মী ছিলেন, এখন আছেন আটজন।’
শখের বশে গড়ে তোলা এসব রেস্তোরাঁর খাবার ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ অতিথিরাও। আগে থেকে জানালে পর্যটক ও অতিথিদের চাহিদা অনুযায়ী খাবার পরিবেশনের সুযোগও রয়েছে বাংলাদেশিদের পরিচালিত এসব হোটেল-রেস্তোরাঁয়। একজন পর্যটক মন্তব্য করেন, ‘এখানে খেতে এলে মনে হয়, রেস্তোরাঁয় নয়, নিজের বাসায় খাচ্ছি। খাবার খুব ভালো।’
তবে, বাংলাদেশ থেকে কর্মী আনার প্রক্রিয়া কঠিন হওয়ায় রেস্তোরাঁগুলোতে অন্য দেশের নাগরিকদের নিয়োগ দিতে হচ্ছে বলে উদ্যোক্তারা জানান। কারি হেভেন রেস্তোরাঁর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা নেপালি ও বার্মিজ কর্মী রাখি। কারণ, তারা এলে থাইল্যান্ডে অনেক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটসহ তাদের পেছনে বছরে মাত্র চার থেকে পাঁচ হাজার বাত খরচ হয়। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে কর্মী আনতে পারি না, কারণ কর দিতে হয় অনেক বেশি। একটি ওয়ার্ক পারমিটের জন্য সারা বছর চার ধরনের কর দিতে হয়। এতে আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। এ কারণে বাংলাদেশ থেকে কোনো কর্মী আনি না।’
এই পরিস্থিতিতে, ঢাকা ও ব্যাংককের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সহজে কাজের সুযোগ তৈরির তাগিদ দিচ্ছেন প্রবাসীরা। তাদের মতে, এতে একদিকে যেমন বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে দেশে প্রবাসী আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
পাতায়ার প্রাণো কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে থাইল্যান্ডের শ্রমবিষয়ক কোনো চুক্তি নেই। এ ধরনের চুক্তি হলে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক পর্যায়ের কর্মীরাও এখানে আসতে পারতেন। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে যারা আসেন, তাদের বেশিরভাগই ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে কাজ করেন। তারা নিচের স্তরের কাজ করতে পারেন না। বাংলাদেশে শ্রমিকের অভাব নেই, অন্যদিকে এখানে শ্রমিকের সংকট রয়েছে। আমরা এই ব্যবধানকে কাজে লাগাতে পারি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন