০৮:৫২ পি.এম
কালীগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জমে থাকা পানিতে তলিয়ে গেছে বসতঘর, দোকান এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নিয়মিত ড্রেন সংস্কার না করা ও পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে পৌরসভার প্রায় ৪৫ শতাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা বেড়ে গেছে।
কালীগঞ্জ পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও এই পৌর এলাকায় পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকার ড্রেন সংস্কার করা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানিতে ভরিয়ে যায় আবাসিক এলাকার দোকান-পাট, রাস্তা, ফসলি জমি ও বসতঘর। পৌরসভার কয়েকটি মহল্লায় বসতঘর ও দোকানে ঢুকে পড়েছে জমে থাকা বৃষ্টির পানি। বিশেষ করে কলেজপাড়া, আড়পাড়া, বাকুলিয়া, খয়েতেলা, ফয়লামাষ্টারপাড়া, শিবনগর, বাবরা, মথুগঞ্জ বাজারের কাঠাল বাগানের সড়ক, বলিদাপাড়াসহ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও কাদার কারণে চলাচলের ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শুক্রবার ভোর ৪টা থেকে সোমবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় পানি উঠে গেছে। কোথাও কোথাও রাস্তা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নোংরা পানি।
কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রতিটি ড্রেনে ভেঙে বের করা ময়লা আবর্জনা সড়কের ওপরে স্তুপ করে রাখা এবং ড্রেনের মাধ্যমে পানি প্রবাহিত না হওয়া। এসব নোংরা কাদাপানির স্তুপ দীর্ঘদিন ধরে সড়কেই পড়ে থাকে। বৃষ্টি হলে একই ময়লা আবর্জনা ড্রেনে গিয়ে পড়ে। ফলে, ড্রেনের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় কার্যকর কোনো পরিবর্তন আসে না। এসব এলাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পৌরসভা কর্তৃক ড্রেনের পানি উপচে রাস্তায় জমে থাকে, অভিযোগ স্থানীয়দের। কোথাও কোথাও রান্নার স্থান এবং টয়লেটও পানিতে ডুবে গেছে। কয়েকটি এলাকায় আধাপাকা ও টিনসেড বাড়িতে ঢুকে পড়েছে জমে থাকা পানি। এসব পানিতে জমে গেছে নোংরা, ময়লা আবর্জনা। ফলে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা। আড়পাড়া গ্রামের শুকুর আলি বলেন, "আমাদের এই মহল্লায় প্রায় ৩৫টি বাড়ি রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা ডুবে যায়। আমাদের ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। পৌরসভার লোকজনকে বলেও কোনো সমাধান আমরা পাচ্ছি না।" পৌরসভা থেকে বারবার শুধু বলা হয়েছে, "প্রকল্প আসবে, প্রকল্প এলেই কাজ হবে।" কিন্তু প্রকল্প যে কবে আসবে তা কেউ জানে না।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই কালীগঞ্জ শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গীতে পরিণত হয়েছে। সোমবার কালীগঞ্জের সাপ্তাহিক হাটের দিন ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। কালীগঞ্জ পৌরবাসীর দাবি, নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করলেও তারা কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কালীগঞ্জ পৌরসভাটি ১৯৯০ সালের ১৪ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৬.১১ কিলোমিটার নিয়ে পৌরসভাটি। যার আয়তন ১৫.৮৩ বর্গ কিঃ মিঃ। কালীগঞ্জ পৌরসভা শহরের মধ্যে দিয়ে ঢাকা খুলনা মহাসড়ক এবং কুষ্টিয়া, মেহেরপুর খুলনা মহাসড়ক বিদ্যমান। ৯টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভা গঠিত। পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও তেমন একটা পরিবর্তন হয়নি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পৌরসভার প্রশাসক (ইউএনও) রেজওয়ান নাহিদ অবস্থার বিষয়ে বলেন, "পৌর এলাকার পানি নিষ্কাশনের কার্যক্রম সমসময় চলমান থাকে এবং এখনো আমাদের কাজ চলছে। ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের কাজ করা হচ্ছে। জনভোগান্তি কমাতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন