ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাপানে মার্কিন সেনাদের ওপর এক মাসের কারফিউ জারি


জাপানে মার্কিন সেনাদের ওপর এক মাসের কারফিউ জারি

জাপানের ওকিনাওয়ায় মোতায়েন মার্কিন সেনাদের জন্য এক মাসের সান্ধ্য আইন বা কারফিউ জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের মদ্যপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, সেখানকার সকল সেনা সদস্যের জন্য শৃঙ্খলাবিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স -এর প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহা শহরের একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী জাপানি নারী অ্যানা ইয়াগিকে হত্যা করে তার মানিব্যাগ ও ব্যাকপ্যাক ছিনতাইয়ের অভিযোগে থার্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্সের এক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই ল্যান্স কর্পোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ডকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জাপানের ওকিনাওয়া প্রদেশে মোতায়েন থার্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্স কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে থার্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্সের কমান্ডিং জেনারেল বেনজামিন ওয়াটসন বলেন, "প্রতিবেশীদের সঙ্গে মেলামেশার ধরন আমাদের ওপর যেমন তাদের আস্থা বাড়ায়, তেমনি সেই আস্থাকে ক্ষুণ্নও করে। যখন সেই বিশ্বাস ভেঙে পড়ে, তখন তা আমাদের সামরিক জোটের শক্তি এবং এই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে।"

ওয়াটসন আরও জানান, সেনাসদস্যরা তাদের মানদণ্ড ও শৃঙ্খলাবিষয়ক পুনঃপ্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার কারণে ওকিনাওয়ায় মার্কিন বাহিনীর সব সামরিক কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত থাকবে।

এদিকে, শনিবারের ওই হত্যাকাণ্ডকে ‘অত্যন্ত নির্মম ও নৃশংস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তিনি জানান, এ ঘটনায় মার্কিন সরকারের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

বিশ্বের যেকোনও দেশের তুলনায় জাপানে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রয়েছে। জাপানে ১৮ হাজার মেরিন সেনার বড় অংশই ওকিনাওয়ায় অবস্থান করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত এই দ্বীপপুঞ্জটি যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অধীনে ছিল।

শব্দদূষণ, বিমান দুর্ঘটনা এবং সেনাসদস্যদের বিতর্কিত আচরণের কারণে ওকিনাওয়ায় মার্কিন উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে বহু সময় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে, ১৯৯৫ সালে তিন মার্কিন সেনাসদস্য কর্তৃক ১২ বছর বয়সী এক ওকিনাওয়ান কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা গণবিক্ষোভেরও জন্ম দিয়েছিল।

সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুজরাটে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে নারীর গণধর্ষণ, ৯ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:০৯ পি.এম


গুজরাটে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে নারীর গণধর্ষণ, ৯ জন গ্রেপ্তার

ভারতের গুজরাটে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে এক নারীকে শিকল দিয়ে বেঁধে আটকে রাখা, গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন এবং পরে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানায়, কথিত ‘পবিত্রকরণ আচার’-এর নামে ওই নারীর ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনায় দুই নারীসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গুজরাটের সুরেন্দ্রনগর জেলায় ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। ওই নারী স্বামী ও আত্মীয়দের ছেড়ে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস করছিলেন, যার কারণে তার ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

প্রাথমিকভাবে ওই নারীকে শিকল দিয়ে বেঁধে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। তিনি পালানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। এরপর দড়ি দিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ওই নারী অন্য এক পুরুষের সঙ্গে বসবাস করায় তাকে ‘পবিত্রকরণ’-এর নামে নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে তার ওপর দলবদ্ধ ধর্ষণও চালানো হয়। অভিযোগ করা হয়েছে যে, ওই পুরুষকেও মারধর করা হয়।

পুরো নির্যাতনের ঘটনা ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে অন্যদের ভয় দেখানো ও সতর্ক করা হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।

সুরেন্দ্রনগরের পুলিশ সুপার প্রেমসুখ দেলু জানান, ভিডিওর সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করা হয় এবং তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। অপরাধে প্ররোচনা ও সহায়তার অভিযোগে দুই নারীসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্ত অব্যাহত রয়েছে, যাতে ঘটনার পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না এবং অভিযুক্তদের অতীত অপরাধের কোনো ইতিহাস রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা যায়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শান্তিতে নোবেল: শেষ মুহূর্তের আলোচনায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১০ পি.এম


শান্তিতে নোবেল: শেষ মুহূর্তের আলোচনায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা

এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার কাকে প্রদান করা হবে, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবেন। এবারের পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মনোনীত হয়েছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এবারের পুরস্কারের জন্য ২৮৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংগঠন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে নোবেল কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করে না। নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়ন সংক্রান্ত নথি ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। ফলে পুরস্কার ঘোষণার আগে যেসব নাম সামনে আসে, সেগুলো সাধারণত মনোনয়নদাতা, বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভর করে।

আলোচনায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন

এবারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সম্ভাবনার মধ্যে একটি হলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএস। বার্তা সংস্থা এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নোবেল শান্তি পুরস্কারের পূর্বাভাসদাতাদের মধ্যে কেউ কেউ আইএসএসকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে বিবেচনা করছেন।

শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট অসলোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন গেরলভ এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বিভিন্ন দেশের মানুষ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর একসঙ্গে কাজ করার বিরল প্রতীক।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন মহাকাশ স্টেশন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নোবেল কমিটি সাধারণত এমন উদ্যোগগুলোকে মূল্যায়ন করে, যা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করে, দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নত করে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে।

পোপ লিও, আন্তর্জাতিক আদালত ও ফ্রান্সেসকা আলবানিজও আলোচনায় রয়েছে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে এ বছরের আলোচিত নামগুলোর মধ্যে পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোপ লিও যুদ্ধ বন্ধ, সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তার শান্তির আহ্বান তাকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় এনেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ভূমিকার কারণে আইসিসি ও আইসিজির নামও আলোচনায় রয়েছে। নোবেল শান্তি পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান- এ কারণে দুই আন্তর্জাতিক আদালতকে স্বীকৃতি দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কিছু বিশ্লেষক আলোচনা করছেন।

অন্যদিকে গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানের কারণে আলবানিজের নামও আলোচনায় এসেছে। তবে তার প্রার্থিতা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।

ট্রাম্পের নামও আলোচনায়

এবারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও রয়েছে। ট্রাম্প নিজেই একাধিকবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা তাকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন। তবে নোবেল কমিটি কোনো নির্দিষ্ট মনোনয়ন নিশ্চিত করে না। এপি বলছে, ট্রাম্পের প্রার্থিতা বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিষয়ক চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তার শান্তি পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উপসালা কনফ্লিক্ট ডেটা প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক শন ডেভিসও ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

সুদানের স্বেচ্ছাসেবকেরাও আলোচনায়

আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের ‘ইমারজেন্সি রেসপন্স রোমসে’র নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে। কারণ ২০২৩ সালে সুদানে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের গড়ে তোলা এই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন এলাকায় মানুষের জন্য খাবার, চিকিৎসা, নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার পরিস্থিতিতে স্থানীয় নাগরিকদের এসব উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো (পিআরআইও)-এর পরিচালক হাকন গ্যেরলভের ২০২৬ সালের আলোচিত তালিকাতেও সুদানের ইমারজেন্সি রেসপন্স রোমস’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইউক্রেনের মাইকোলা কুলেবা

ইউক্রেনের শিশু অধিকারকর্মী মাইকোলা কুলেবা এবং তার সংগঠন ‘সেইভ ইউক্রেনে’র নামও আলোচনায় রয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের উদ্ধারে ও পরিবারগুলোর সঙ্গে পুনর্মিলনে তার সংগঠন কাজ করছে।

পিআরআইও-এর তালিকায় কুলেবা ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক ‘সংস্থা সেভ দ্যা চিলড্রেনকে’ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যুদ্ধের সময় শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকারকে সামনে নিয়ে আসার মাধ্যমে শান্তি ও মানবিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার পক্ষে এটি একটি সম্ভাব্য বার্তা হতে পারে বলে পিআইআইও জানিয়েছে।

সাংবাদিকদের সুরক্ষায় সিপিজে

বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনাও এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের আলোচনায় এসেছে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছে কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিজম (সিপিজে)।

পিআরআইও-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৩২ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন- যা রেকর্ড রাখা শুরুর পর সবচেয়ে ভয়াবহ বছরগুলোর মধ্যে একটি। বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের প্রেক্ষাপটে সিপিজে-এর নাম আলোচনায় এসেছে।

আলোচনায় রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও শুল্কসংক্রান্ত নানা বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের বিরুদ্ধে তুলনামূলক দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্নি আলোচনায় এসেছেন। তবে কানাডার সাবেক অধ্যাপক নেলসন ওয়াইজম্যান মনে করেন, কার্নি পুরস্কার পেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে। তার মতে, পুরস্কার যেই পান না কেন, ট্রাম্প তাতে খুশি নাও হতে পারেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘামের গন্ধ দূর করতে কোনটি সেরা: বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট নাকি পারফিউম?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১০ পি.এম


ঘামের গন্ধ দূর করতে কোনটি সেরা: বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট নাকি পারফিউম?

সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় দামি পারফিউম স্প্রে করার পর, অফিসে পৌঁছানোর সময় দেখা যায় শরীরের সুগন্ধ উধাও হয়ে গেছে। বরং ঘামের দুর্গন্ধে নিজেকে অস্বস্তিতে পড়তে হয়। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়ে থাকে।

অনেকে এই পরিস্থিতির জন্য সুগন্ধির ব্র্যান্ড বা মানকে দায়ী করেন। কিন্তু বাস্তবে সমস্যাটি অনেক সময় সুগন্ধির নয়, বরং ভুল ধরনের পণ্য ব্যবহারের কারণে হয়ে থাকে।

বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট ও পারফিউম তিনটি সুগন্ধি পণ্য হলেও, তাদের কার্যকারিতা এক নয়। ঘামের দুর্গন্ধ দূর করা, ঘাম নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা শরীরে দীর্ঘস্থায়ী সুবাস ধরে রাখার জন্য আলাদা ধরনের পণ্য প্রয়োজন। তাই কখন কোনটি ব্যবহার করা উচিত, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডিওডোরেন্ট

যারা প্রতিদিন বাইরে বের হন, গণপরিবহনে যাতায়াত করেন কিংবা দীর্ঘ সময় গরমের মধ্যে থাকেন, তাদের জন্য ডিওডোরেন্ট বেশ কার্যকর।

সাধারণভাবে ঘামের নিজস্ব গন্ধ থাকে না। ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ঘামের বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে ক্রিয়া করে দুর্গন্ধ তৈরি করে। ডিওডোরেন্টের মূল কাজ হলো সেই দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করা। এতে সুগন্ধি উপাদানের পাশাপাশি দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমাতে সহায়ক উপাদান থাকতে পারে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, সব ডিওডোরেন্ট ঘাম বন্ধ করে না। ঘাম কমানোর জন্য ব্যবহৃত পণ্যকে সাধারণত ‘অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট’ বলা হয়। এতে ঘামগ্রন্থির কার্যক্রম সাময়িকভাবে কমাতে অ্যালুমিনিয়াম-ভিত্তিক উপাদান থাকতে পারে।

অতএব, ঘামের গন্ধ নিয়ে অস্বস্তিতে থাকলে ডিওডোরেন্ট উপকারী, আর অতিরিক্ত ঘাম কমাতে চাইলে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট বেছে নেওয়া যেতে পারে।

পারফিউম

বিয়ে, পার্টি, করপোরেট মিটিং কিংবা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে দীর্ঘস্থায়ী ও আকর্ষণীয় সুবাসের জন্য পারফিউমের তুলনা নেই।

পারফিউমে সুগন্ধি তেলের ঘনত্ব সাধারণত বডি মিস্টের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এর সুবাস তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। তবে পারফিউমের মূল কাজ ঘামের দুর্গন্ধ দূর করা নয়; এটি মূলত শরীর বা পোশাকে কাঙ্ক্ষিত সুবাস যোগ করে।

তাহলে প্রচণ্ড ঘামে ভেজা শরীরে সরাসরি পারফিউম স্প্রে করলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও পাওয়া যেতে পারে। বরং ঘামের গন্ধের সঙ্গে পারফিউমের তীব্র সুবাস মিশে অস্বস্তিকর গন্ধ তৈরি করতে পারে।

বডি মিস্ট

বডি মিস্ট হলো তুলনামূলকভাবে হালকা ধরনের সুগন্ধি। এতে সুগন্ধি উপাদানের ঘনত্ব পারফিউমের চেয়ে কম থাকায় এর সুবাসও সাধারণত কোমল ও স্নিগ্ধ হয়।

যারা তীব্র সুগন্ধি পছন্দ করেন না কিংবা হালকা সতেজ অনুভূতি চান, তাদের জন্য বডি মিস্ট একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। গোসলের পর, বাসায় থাকার সময় কিংবা বিকেলে হাঁটতে বের হওয়ার আগে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে বডি মিস্টের সুবাস সাধারণত পারফিউমের মতো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে একাধিকবার ব্যবহার করতে হতে পারে।

তাহলে কোনটি আপনার জন্য?

ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে শুধু পারফিউমের ওপর নির্ভর না করে ডিওডোরেন্ট বা প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ব্যবহার করাই বেশি কার্যকর।

আর দীর্ঘ সময় শরীরে সুন্দর সুবাস ধরে রাখতে চাইলে ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের পর পছন্দের পারফিউম ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পরিষ্কার ও শুকনো শরীরে এগুলো ব্যবহার করাই ভালো।

অন্যদিকে, যারা হালকা ও স্নিগ্ধ সুবাস পছন্দ করেন, তাদের জন্য বডি মিস্ট হতে পারে আদর্শ।

অর্থাৎ, তিনটি পণ্যের কাজ তিন রকম। ঘামের গন্ধ নিয়ন্ত্রণে ডিওডোরেন্ট, ঘাম কমাতে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট, দীর্ঘস্থায়ী সুবাসের জন্য পারফিউম আর হালকা সতেজ অনুভূতির জন্য বডি মিস্ট—ব্যবহারটা হওয়া উচিত প্রয়োজন বুঝে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোবেলজয়ীদের কালো-সোনালি ছবি আঁকার কারণ কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১১ পি.এম


নোবেলজয়ীদের কালো-সোনালি ছবি আঁকার কারণ কী?

নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পরপরই বিজয়ীদের নামের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে কিছু ব্যতিক্রমী পোর্ট্রেট দেখা যায়। এই পোর্ট্রেটগুলো কালো রেখায় আঁকা মুখাবয়ব, যার ওপর ঝকঝকে সোনালি পাতের ছোঁয়া থাকে। প্রশ্ন উঠছে—ক্যামেরা ও আধুনিক প্রযুক্তির যুগে কেন এমন হাতে আঁকা ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে?

এই বিশেষ পোর্ট্রেটের সঙ্গে পুরস্কারের একটি স্বতন্ত্র সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞান, চিকিৎসা কিংবা সাহিত্যের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিজয়ীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কালো রেখা ও সোনালি অলংকরণে তাদের প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়। এর পেছনে একসময়কার বাস্তব প্রয়োজন রয়েছে।

অনেক নোবেলজয়ীর মানসম্মত বা উপযুক্ত ছবি অনলাইনে পাওয়া যেত না, যা তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদমাধ্যমে ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে ঝাপসা বা নিম্নমানের ছবি খুঁজে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। আবার উপযুক্ত ছবি না পাওয়া পর্যন্ত বিজয়ীর নাম প্রকাশও পিছিয়ে দেওয়া যেত না। কারণ বিশ্ব মিডিয়ায় এটি ব্রেকিং সংবাদ হিসেবে প্রচারিত হয়। এই সমস্যার দ্রুত সমাধানে শিল্পী নিকলাস এলমেহেড (Niklas Elmehed) ২০১২ সালে ‘নোবেল মিডিয়া’র আর্ট ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দেন এবং তিনি বিজয়ীদের পোর্ট্রেট আঁকা শুরু করেন।

এখন সময়ের সঙ্গে এই তাৎক্ষণিক সমাধানটি নোবেল পুরস্কারের নিজস্ব ভিজ্যুয়াল পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে। একই ধরনের চিত্রশৈলীতে বিজয়ীদের উপস্থাপন করার ফলে বিজ্ঞানী থেকে সাহিত্যিক—সবাই যেন একই ‘নোবেল পরিবারের’ অংশ হিসেবে দৃশ্যমান হন।

এলমেহেডের পোর্ট্রেটগুলোর একটি বৈশিষ্ট্য হলো মোটা ও স্পষ্ট কালো রেখা। অতিরিক্ত শেডিং বা নানা রঙের ব্যবহার না থাকায় ছবিগুলো সংবাদমাধ্যমের গ্রাফিক্সের মতো সহজেই নজর কাড়ে। বড় সংবাদপত্রের পাতার পাশাপাশি মোবাইল ফোনের ছোট থাম্বনেলেও এগুলো পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। তবে শুরু থেকেই এসব ছবিতে সোনালি রঙের ব্যবহার ছিল না। ২০১৭ সালে নোবেল ফাউন্ডেশন তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্র্যান্ড আইডেন্টিটিতে পরিবর্তন আনে। নোবেল মেডেলের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে সোনালি রঙকে প্রধান ভিজ্যুয়াল রং হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এরপর ২০১৮ সাল থেকে এলমেহেড তার পোর্ট্রেটে ‘গোল্ড ফয়েল’ ব্যবহার শুরু করেন।

অনেকের ধারণা হতে পারে, ছবিগুলো হয়তো কম্পিউটার সফটওয়্যার বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি। কিন্তু বাস্তবে এগুলো পুরোপুরি হাতে আঁকা শিল্পকর্ম। সুতি বা মোটা কাগজে কালো অ্যাক্রিলিক রং ও মার্কার দিয়ে পোর্ট্রেটের আউটলাইন তৈরি করা হয়। এরপর বিশেষ আঠার সাহায্যে বসানো হয় আসল ধাতব সোনার পাত বা ‘গোল্ড ফয়েল’।

নোবেল বিজয়ীদের উপযুক্ত ছবি না পাওয়ার সমস্যা সমাধানে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, এখন সেটিই নোবেল পুরস্কারের একটি পরিচিত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কালো রেখা ও সোনালি পাতের এই পোর্ট্রেট বিশ্বজুড়ে বিশেষ এক ভিজ্যুয়াল সিগনেচার হিসেবে রূপ পেয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%