প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার কাকে প্রদান করা হবে, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবেন। এবারের পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মনোনীত হয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এবারের পুরস্কারের জন্য ২৮৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংগঠন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে নোবেল কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করে না। নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়ন সংক্রান্ত নথি ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। ফলে পুরস্কার ঘোষণার আগে যেসব নাম সামনে আসে, সেগুলো সাধারণত মনোনয়নদাতা, বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভর করে।
আলোচনায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন
এবারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সম্ভাবনার মধ্যে একটি হলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএস। বার্তা সংস্থা এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নোবেল শান্তি পুরস্কারের পূর্বাভাসদাতাদের মধ্যে কেউ কেউ আইএসএসকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে বিবেচনা করছেন।
শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট অসলোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন গেরলভ এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বিভিন্ন দেশের মানুষ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর একসঙ্গে কাজ করার বিরল প্রতীক।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন মহাকাশ স্টেশন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নোবেল কমিটি সাধারণত এমন উদ্যোগগুলোকে মূল্যায়ন করে, যা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করে, দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নত করে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে।
পোপ লিও, আন্তর্জাতিক আদালত ও ফ্রান্সেসকা আলবানিজও আলোচনায় রয়েছে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণে এ বছরের আলোচিত নামগুলোর মধ্যে পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোপ লিও যুদ্ধ বন্ধ, সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তার শান্তির আহ্বান তাকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় এনেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ভূমিকার কারণে আইসিসি ও আইসিজির নামও আলোচনায় রয়েছে। নোবেল শান্তি পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান- এ কারণে দুই আন্তর্জাতিক আদালতকে স্বীকৃতি দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কিছু বিশ্লেষক আলোচনা করছেন।
অন্যদিকে গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানের কারণে আলবানিজের নামও আলোচনায় এসেছে। তবে তার প্রার্থিতা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।
ট্রাম্পের নামও আলোচনায়
এবারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও রয়েছে। ট্রাম্প নিজেই একাধিকবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা তাকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন। তবে নোবেল কমিটি কোনো নির্দিষ্ট মনোনয়ন নিশ্চিত করে না। এপি বলছে, ট্রাম্পের প্রার্থিতা বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিষয়ক চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তার শান্তি পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উপসালা কনফ্লিক্ট ডেটা প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক শন ডেভিসও ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
সুদানের স্বেচ্ছাসেবকেরাও আলোচনায়
আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের ‘ইমারজেন্সি রেসপন্স রোমসে’র নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে। কারণ ২০২৩ সালে সুদানে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের গড়ে তোলা এই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন এলাকায় মানুষের জন্য খাবার, চিকিৎসা, নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার পরিস্থিতিতে স্থানীয় নাগরিকদের এসব উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো (পিআরআইও)-এর পরিচালক হাকন গ্যেরলভের ২০২৬ সালের আলোচিত তালিকাতেও সুদানের ইমারজেন্সি রেসপন্স রোমস’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইউক্রেনের মাইকোলা কুলেবা
ইউক্রেনের শিশু অধিকারকর্মী মাইকোলা কুলেবা এবং তার সংগঠন ‘সেইভ ইউক্রেনে’র নামও আলোচনায় রয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের উদ্ধারে ও পরিবারগুলোর সঙ্গে পুনর্মিলনে তার সংগঠন কাজ করছে।
পিআরআইও-এর তালিকায় কুলেবা ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক ‘সংস্থা সেভ দ্যা চিলড্রেনকে’ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যুদ্ধের সময় শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকারকে সামনে নিয়ে আসার মাধ্যমে শান্তি ও মানবিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার পক্ষে এটি একটি সম্ভাব্য বার্তা হতে পারে বলে পিআইআইও জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের সুরক্ষায় সিপিজে
বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনাও এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের আলোচনায় এসেছে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছে কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিজম (সিপিজে)।
পিআরআইও-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৩২ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন- যা রেকর্ড রাখা শুরুর পর সবচেয়ে ভয়াবহ বছরগুলোর মধ্যে একটি। বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের প্রেক্ষাপটে সিপিজে-এর নাম আলোচনায় এসেছে।
আলোচনায় রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও শুল্কসংক্রান্ত নানা বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের বিরুদ্ধে তুলনামূলক দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্নি আলোচনায় এসেছেন। তবে কানাডার সাবেক অধ্যাপক নেলসন ওয়াইজম্যান মনে করেন, কার্নি পুরস্কার পেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে। তার মতে, পুরস্কার যেই পান না কেন, ট্রাম্প তাতে খুশি নাও হতে পারেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন