প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পরপরই বিজয়ীদের নামের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে কিছু ব্যতিক্রমী পোর্ট্রেট দেখা যায়। এই পোর্ট্রেটগুলো কালো রেখায় আঁকা মুখাবয়ব, যার ওপর ঝকঝকে সোনালি পাতের ছোঁয়া থাকে। প্রশ্ন উঠছে—ক্যামেরা ও আধুনিক প্রযুক্তির যুগে কেন এমন হাতে আঁকা ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে?
এই বিশেষ পোর্ট্রেটের সঙ্গে পুরস্কারের একটি স্বতন্ত্র সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞান, চিকিৎসা কিংবা সাহিত্যের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিজয়ীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কালো রেখা ও সোনালি অলংকরণে তাদের প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়। এর পেছনে একসময়কার বাস্তব প্রয়োজন রয়েছে।
অনেক নোবেলজয়ীর মানসম্মত বা উপযুক্ত ছবি অনলাইনে পাওয়া যেত না, যা তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদমাধ্যমে ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে ঝাপসা বা নিম্নমানের ছবি খুঁজে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। আবার উপযুক্ত ছবি না পাওয়া পর্যন্ত বিজয়ীর নাম প্রকাশও পিছিয়ে দেওয়া যেত না। কারণ বিশ্ব মিডিয়ায় এটি ব্রেকিং সংবাদ হিসেবে প্রচারিত হয়। এই সমস্যার দ্রুত সমাধানে শিল্পী নিকলাস এলমেহেড (Niklas Elmehed) ২০১২ সালে ‘নোবেল মিডিয়া’র আর্ট ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দেন এবং তিনি বিজয়ীদের পোর্ট্রেট আঁকা শুরু করেন।
এখন সময়ের সঙ্গে এই তাৎক্ষণিক সমাধানটি নোবেল পুরস্কারের নিজস্ব ভিজ্যুয়াল পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে। একই ধরনের চিত্রশৈলীতে বিজয়ীদের উপস্থাপন করার ফলে বিজ্ঞানী থেকে সাহিত্যিক—সবাই যেন একই ‘নোবেল পরিবারের’ অংশ হিসেবে দৃশ্যমান হন।
এলমেহেডের পোর্ট্রেটগুলোর একটি বৈশিষ্ট্য হলো মোটা ও স্পষ্ট কালো রেখা। অতিরিক্ত শেডিং বা নানা রঙের ব্যবহার না থাকায় ছবিগুলো সংবাদমাধ্যমের গ্রাফিক্সের মতো সহজেই নজর কাড়ে। বড় সংবাদপত্রের পাতার পাশাপাশি মোবাইল ফোনের ছোট থাম্বনেলেও এগুলো পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। তবে শুরু থেকেই এসব ছবিতে সোনালি রঙের ব্যবহার ছিল না। ২০১৭ সালে নোবেল ফাউন্ডেশন তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্র্যান্ড আইডেন্টিটিতে পরিবর্তন আনে। নোবেল মেডেলের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে সোনালি রঙকে প্রধান ভিজ্যুয়াল রং হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এরপর ২০১৮ সাল থেকে এলমেহেড তার পোর্ট্রেটে ‘গোল্ড ফয়েল’ ব্যবহার শুরু করেন।
অনেকের ধারণা হতে পারে, ছবিগুলো হয়তো কম্পিউটার সফটওয়্যার বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি। কিন্তু বাস্তবে এগুলো পুরোপুরি হাতে আঁকা শিল্পকর্ম। সুতি বা মোটা কাগজে কালো অ্যাক্রিলিক রং ও মার্কার দিয়ে পোর্ট্রেটের আউটলাইন তৈরি করা হয়। এরপর বিশেষ আঠার সাহায্যে বসানো হয় আসল ধাতব সোনার পাত বা ‘গোল্ড ফয়েল’।
নোবেল বিজয়ীদের উপযুক্ত ছবি না পাওয়ার সমস্যা সমাধানে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, এখন সেটিই নোবেল পুরস্কারের একটি পরিচিত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কালো রেখা ও সোনালি পাতের এই পোর্ট্রেট বিশ্বজুড়ে বিশেষ এক ভিজ্যুয়াল সিগনেচার হিসেবে রূপ পেয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন