প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় দামি পারফিউম স্প্রে করার পর, অফিসে পৌঁছানোর সময় দেখা যায় শরীরের সুগন্ধ উধাও হয়ে গেছে। বরং ঘামের দুর্গন্ধে নিজেকে অস্বস্তিতে পড়তে হয়। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়ে থাকে।
অনেকে এই পরিস্থিতির জন্য সুগন্ধির ব্র্যান্ড বা মানকে দায়ী করেন। কিন্তু বাস্তবে সমস্যাটি অনেক সময় সুগন্ধির নয়, বরং ভুল ধরনের পণ্য ব্যবহারের কারণে হয়ে থাকে।
বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট ও পারফিউম তিনটি সুগন্ধি পণ্য হলেও, তাদের কার্যকারিতা এক নয়। ঘামের দুর্গন্ধ দূর করা, ঘাম নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা শরীরে দীর্ঘস্থায়ী সুবাস ধরে রাখার জন্য আলাদা ধরনের পণ্য প্রয়োজন। তাই কখন কোনটি ব্যবহার করা উচিত, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডিওডোরেন্ট
যারা প্রতিদিন বাইরে বের হন, গণপরিবহনে যাতায়াত করেন কিংবা দীর্ঘ সময় গরমের মধ্যে থাকেন, তাদের জন্য ডিওডোরেন্ট বেশ কার্যকর।
সাধারণভাবে ঘামের নিজস্ব গন্ধ থাকে না। ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ঘামের বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে ক্রিয়া করে দুর্গন্ধ তৈরি করে। ডিওডোরেন্টের মূল কাজ হলো সেই দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করা। এতে সুগন্ধি উপাদানের পাশাপাশি দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমাতে সহায়ক উপাদান থাকতে পারে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, সব ডিওডোরেন্ট ঘাম বন্ধ করে না। ঘাম কমানোর জন্য ব্যবহৃত পণ্যকে সাধারণত ‘অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট’ বলা হয়। এতে ঘামগ্রন্থির কার্যক্রম সাময়িকভাবে কমাতে অ্যালুমিনিয়াম-ভিত্তিক উপাদান থাকতে পারে।
অতএব, ঘামের গন্ধ নিয়ে অস্বস্তিতে থাকলে ডিওডোরেন্ট উপকারী, আর অতিরিক্ত ঘাম কমাতে চাইলে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট বেছে নেওয়া যেতে পারে।
পারফিউম
বিয়ে, পার্টি, করপোরেট মিটিং কিংবা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে দীর্ঘস্থায়ী ও আকর্ষণীয় সুবাসের জন্য পারফিউমের তুলনা নেই।
পারফিউমে সুগন্ধি তেলের ঘনত্ব সাধারণত বডি মিস্টের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এর সুবাস তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। তবে পারফিউমের মূল কাজ ঘামের দুর্গন্ধ দূর করা নয়; এটি মূলত শরীর বা পোশাকে কাঙ্ক্ষিত সুবাস যোগ করে।
তাহলে প্রচণ্ড ঘামে ভেজা শরীরে সরাসরি পারফিউম স্প্রে করলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও পাওয়া যেতে পারে। বরং ঘামের গন্ধের সঙ্গে পারফিউমের তীব্র সুবাস মিশে অস্বস্তিকর গন্ধ তৈরি করতে পারে।
বডি মিস্ট
বডি মিস্ট হলো তুলনামূলকভাবে হালকা ধরনের সুগন্ধি। এতে সুগন্ধি উপাদানের ঘনত্ব পারফিউমের চেয়ে কম থাকায় এর সুবাসও সাধারণত কোমল ও স্নিগ্ধ হয়।
যারা তীব্র সুগন্ধি পছন্দ করেন না কিংবা হালকা সতেজ অনুভূতি চান, তাদের জন্য বডি মিস্ট একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। গোসলের পর, বাসায় থাকার সময় কিংবা বিকেলে হাঁটতে বের হওয়ার আগে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে বডি মিস্টের সুবাস সাধারণত পারফিউমের মতো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে একাধিকবার ব্যবহার করতে হতে পারে।
তাহলে কোনটি আপনার জন্য?
ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে শুধু পারফিউমের ওপর নির্ভর না করে ডিওডোরেন্ট বা প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ব্যবহার করাই বেশি কার্যকর।
আর দীর্ঘ সময় শরীরে সুন্দর সুবাস ধরে রাখতে চাইলে ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের পর পছন্দের পারফিউম ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পরিষ্কার ও শুকনো শরীরে এগুলো ব্যবহার করাই ভালো।
অন্যদিকে, যারা হালকা ও স্নিগ্ধ সুবাস পছন্দ করেন, তাদের জন্য বডি মিস্ট হতে পারে আদর্শ।
অর্থাৎ, তিনটি পণ্যের কাজ তিন রকম। ঘামের গন্ধ নিয়ন্ত্রণে ডিওডোরেন্ট, ঘাম কমাতে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট, দীর্ঘস্থায়ী সুবাসের জন্য পারফিউম আর হালকা সতেজ অনুভূতির জন্য বডি মিস্ট—ব্যবহারটা হওয়া উচিত প্রয়োজন বুঝে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন