মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৫৪ পি.এম
ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযান চালিয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) ৭৩৩ গ্রাম স্বর্ণালংকার ও সোনারবার এবং একটি আইফোন জব্দ করেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) এই অভিযানগুলো অনুষ্ঠিত হয়।
অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দকৃত সোনা ও আইফোনের শুল্ককরসহ আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৩৯ লাখ ৪১ হাজার ১৬৭ টাকা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রী ফাতেমা তুজ জোহরার ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার ও একটি আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স উদ্ধার করা হয়। এগুলো জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটে দুই যাত্রীর কাছ থেকে ৪৩৪ গ্রাম সোনা জব্দ করা হয়েছে।
অধিদপ্তর জানায়, চট্টগ্রামে আসা ফ্লাইটের যাত্রী তানবীর হাসানের জুতার ভেতরে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়। তার দেহ তল্লাশি করে ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। একই ফ্লাইটে আসা অপর যাত্রী মো. হাবিবুর রহমানের ব্যাগেজ ও দেহ তল্লাশি করে ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি সোনার বার ও ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়। এগুলোও জব্দ করা হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিমানবন্দরগুলোতে স্বর্ণ ও উচ্চমূল্যের পণ্যের অবৈধ প্রবেশ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, ঝুঁকিভিত্তিক যাত্রী শনাক্তকরণ এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাজস্ব সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধের জন্য এ ধরনের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রোমানিয়ায় একটি ব্যতিক্রমী বিনোদনকেন্দ্র রয়েছে, যেখানে মাটির প্রায় ৪০০ ফুট গভীরে নাগরদোলা, মিনি-গলফ, বোলিং এবং ভূগর্ভস্থ হ্রদে নৌকাবিহার করা সম্ভব। এই কেন্দ্রটির নাম স্যালিনা তুরদা। একসময় যেখানে লবণ উত্তোলনের কাজ চলত, সেই স্থান এখন পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
ট্রান্সিলভানিয়া অঞ্চলে অবস্থিত স্যালিনা তুরদা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন লবণ খনি হিসেবে পরিচিত। দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে এই খনি থেকে লবণ উত্তোলন করা হয়েছে। খননকাজের ফলে মাটির গভীরে বিশাল গুহা তৈরি হয়েছে, যা পরবর্তীতে আধুনিক বিনোদনকেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে।
খনির ভেতরে প্রবেশ করার সাথে সাথে দর্শনার্থীরা বিশাল লবণের দেয়াল এবং বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ স্থান দেখতে পান। চারপাশের ব্যতিক্রমী পরিবেশ দর্শকদের একটি ভিন্ন জগতের অনুভূতি প্রদান করে। এই বিনোদনকেন্দ্রতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণ, যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০০ ফুট নিচে অবস্থিত।
এখানে দর্শকদের জন্য ফেরিস হুইল বা নাগরদোলা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি, মিনি-গলফ এবং বোলিং খেলার সুযোগও রয়েছে। ভূগর্ভস্থ হ্রদে নৌকায় চড়ে ঘুরে দেখার সুযোগও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। ফলে ইতিহাস এবং প্রাকৃতিক ভূগর্ভস্থ পরিবেশের সঙ্গে বিনোদনের বিভিন্ন আয়োজন উপভোগ করতে পারেন তারা।
স্যালিনা তুরদায় পৌঁছাতে লিফট ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। দর্শনার্থীরা সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামার সুযোগও পান। খনির বিশাল গুহা, লবণের দেয়াল এবং ভূগর্ভস্থ হ্রদ মিলিয়ে পুরো স্থানটি এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।
একসময় শ্রমিকদের ঘামঝরা পরিশ্রমে মুখর থাকা এই লবণ খনি এখন পর্যটনশিল্পের অন্যতম আকর্ষণ। পরিত্যক্ত শিল্পস্থাপনাকে কীভাবে নতুনভাবে ব্যবহার করে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে রূপ দেওয়া যায়, স্যালিনা তুরদা তার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ইতিহাস, প্রকৃতি এবং আধুনিক বিনোদনের সমন্বয়ে রোমানিয়ার এই ভূগর্ভস্থ থিম পার্ক প্রতিনিয়ত ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করছে।
সূত্র: রিপলিস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক নূরুল হককে ‘সার্ক–ফোসওয়াল আজীবন সম্মাননা পুরস্কার ২০২৬’ (SAARC–FOSWAL Lifetime Achievement Award 2026) প্রদান করা হয়েছে, যা কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
২০২৬ সালের ১৫ নভেম্বর ‘ফাউন্ডেশন অফ সার্ক রাইটার্স অ্যান্ড লিটারেচার’ (FOSWAL)-এর উদ্যোগে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সার্ক সাহিত্য উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা নূরুল হকের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্য ও সংস্কৃতির বন্ধনকে সুদৃঢ় করার জন্য নির্বাচিত ছয়জন বিশিষ্ট সাহিত্যিকের মধ্যে নূরুল হক অন্যতম। অন্যান্য সম্মানিত সাহিত্যিকদের মধ্যে রয়েছেন— ভুটানের কুঞ্জাং চোডেন; ভারতের আলোক ভল্লা, অমরেন্দ্র খাটুয়া ও সুরেশ গোয়েল এবং নেপালের কেশব সিগদেল। এই পুরস্কার তাদের নিরলস প্রচেষ্টাকে সম্মানিত করে, যা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও শৈল্পিক সম্পর্ক জোরদারে সহায়ক।
এ পুরস্কারের জন্য আরও মনোনীত হয়েছেন— ভারতের দেও প্রকাশ চৌধুরী, শেহপার রসুল, রাওয়েল সিং, কবিতা সিঙ্ঘল, অনামিকা ও বনিতা; শ্রীলঙ্কার কুমার হেত্তিআরাচ্চি এবং নেপালের রাম দয়াল রাকেশ।
১৯৬৫ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণকারী নূরুল হক তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই তিনি লেখালেখি করেন। তার লেখায় মানবতা, শান্তি, প্রেম, প্রকৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং মানুষের অস্তিত্বের জটিল সমীকরণ ফুটে উঠেছে। কবিতার শক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতিকে একত্রিত করার চেষ্টা তার সাহিত্যজীবনের মূল প্রতিপাদ্য।
তার উল্লেখযোগ্য বাংলা কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— ঝরা পাতার শোকগাথা, নিশীথের পদাবলী এবং দগ্ধবতী জলের নদী। আন্তর্জাতিক পাঠকদের জন্য ইংরেজিতে প্রকাশিত তার কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে— পেইন অব ইনোসেন্স (Pain of Innocence), হোয়াট ডু ইউ নিড (What Do You Need) এবং অ্যান এলিজি অব ফলেন লিভস (An Elegy of Fallen Leaves)। এই রচনাগুলোর মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন।
নূরুল হক আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিভিন্ন দেশের কবিদের নিয়ে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সাময়িকী ও সংকলন সম্পাদনায় তার অবদান উল্লেখযোগ্য। ২০২০ সালে তিনি ‘ওডিসি ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্থলজি অব ওয়ার্ল্ড পোয়েটস’ সম্পাদনা করেন, যা বিশ্ব সাহিত্যের বৈচিত্র্যময় কণ্ঠস্বরগুলোকে একত্রিত করে। ‘ওডিসি এশিয়া’-র সম্পাদক হিসেবে তিনি বাংলাদেশ ও বিদেশের লেখকদের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সাহিত্যভিত্তিক আলোচনা প্রসারে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাধিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। ২০১৮ সালে কাজাখস্তানের ‘ওয়ার্ল্ড নেশনস রাইটার্স ইউনিয়ন’ তাকে ‘ওয়ার্ল্ড লরিয়েট ইন লিটারেচার’ হিসেবে ভূষিত করে, যা তার সাহিত্য যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সার্ক–ফোসওয়াল আজীবন সম্মাননা পুরস্কার ২০২৬ নূরুল হকের দীর্ঘ সাহিত্য চর্চা ও সাংস্কৃতিক পরিক্রমার একটি উজ্জ্বল স্বীকৃতি। এই অর্জন বাংলাদেশের সাহিত্য সমাজের জন্য গৌরব বয়ে আনার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধ সাহিত্য ঐতিহ্যে বাংলাদেশের শক্তিশালী উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করে। কবি নূরুল হকের আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও সাধনা সীমান্ত ও ভাষার বাধা পেরিয়ে সাহিত্যকে সেতু হিসেবে ব্যবহার করার একটি অনন্য উদাহরণ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে সরকারি হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি একটি শ্রেণিকক্ষকে বেডরুমে পরিণত করেছেন। কক্ষে খাট, তোষক, বালিশ, আলনা, টেবিল-চেয়ারসহ ঘুমানোর ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিভিন্ন সামগ্রী রয়েছে। অধ্যক্ষের দাবি, কক্ষটি অতিথিদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, তবে মাঝে মাঝে তিনি সেখানে অবস্থান করেন।
রুমে প্রবেশ করলে পরিপাটি খাট, তোষক, বালিশ ও বেডশিট চোখে পড়ে। পাশে রয়েছে পোশাক রাখার আলনা, টেবিল-চেয়ার এবং রিচার্জেবল টেবিল ফ্যান। সব মিলিয়ে এটি আবাসিক কক্ষের মতো পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এটি কোনো হোটেল কিংবা বাসাবাড়ির শয়নকক্ষ নয়, বরং সরকারি একটি কলেজের শ্রেণিকক্ষ।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার সরকারি হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজের আইসিটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ চিত্র দেখা গেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম ওই কক্ষে অবস্থান করছেন। কলেজের এক শিক্ষকের অভিযোগ, কক্ষটি আগে শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে সারি সারি বেঞ্চ ছিল এবং বিভিন্ন সময়ে পরীক্ষা নেওয়া হতো। কিন্তু অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর থেকে তিনি কক্ষটিতে অবস্থান করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের এক শিক্ষক জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিলে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর থেকেই জাহাঙ্গীর আলম ওই কক্ষে অবস্থান করছেন। আগে এটি শ্রেণিকক্ষ ছিল, যেখানে রুমভর্তি বেঞ্চ ছিল এবং অনেক সময় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো।
শিক্ষকটি আরও বলেন, অধ্যক্ষ সরকারি বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়ার টাকাও পাচ্ছেন। তবুও শ্রেণিকক্ষে থাকার বিষয়টি নিয়মবহির্ভূত। কলেজের পাশেই কলেজের জায়গায় অধ্যক্ষের জন্য একটি কোয়ার্টার রয়েছে। সেটি কিছুটা সংস্কার করলেই সেখানে থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "রুমটি গেস্টদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। আমি মাঝেমধ্যে একটু থাকি। আশপাশে ভালো ভাড়া বাসা না পাওয়ায় আমাকে এখানেই থাকতে হয়। তাছাড়া আমার ফ্যামিলি বগুড়ায় থাকায় সেখান থেকে যাতায়াত করি।"
এদিকে শ্রেণিকক্ষকে শয়নকক্ষ হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক নাজমুল হক জানান, "সরকারি হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজে শ্রেণিকক্ষে অধ্যক্ষের নিজের বেডরুম বানানোর বিষয়টি তার জানা নেই।"
তিনি বলেন, "এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য তার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বের ১০৯টি দেশে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গত ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ লাখ ৪৩ হাজার ২১ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধা বিদেশে গেছেন। একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৫ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা সৌদি আরবে গেছেন। সেখানে ২ লাখ ১৮ হাজার ৫০৮ জন বাংলাদেশি কর্মী গেছেন। এছাড়া সিঙ্গাপুরে ৫৩ হাজার ২৯৭ জন, কাতারে ৪২ হাজার ৫১৬ জন, মালদ্বীপে ২৪ হাজার ৭০ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০ হাজার ৬৬১ জন এবং কুয়েতে ২০ হাজার ২৫৪ জন কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গেছেন।
এছাড়া, জর্ডানে ১০ হাজার ১০ জন, ইতালিতে ৭ হাজার ৭৭ জন, পর্তুগালে ৫ হাজার ৩৮৬ জন এবং ইরাকে ২ হাজার ৮৭৮ জন বাংলাদেশি কর্মী গেছেন। মরিশাসে ২ হাজার ৭১৪ জন, সার্বিয়ায় ২ হাজার ৫৫০ জন, ফিজিতে ২ হাজার ৪৪৩ জন, বেলারুশে ২ হাজার ২২২ জন এবং রাশিয়ায় ২ হাজার ২০৬ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধা গেছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানিয়েছেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যেসব বাংলাদেশি কর্মী অবৈধ হয়ে পড়েছিলেন, তাদের বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কর্মী গেছেন।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান শ্রমবাজারে যুদ্ধের কারণে সংকট সৃষ্টি হওয়ায় সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান শুরু করেছে। বর্তমানে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন দেশে সফর করে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করছেন।
রেমিট্যান্সে জোয়ার
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৫৭৩ কোটি ৯১ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
ফেব্রুয়ারিতে ৩০১ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ১০ হাজার, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার, মে মাসে ৩৪৪ কোটি ২৫ লাখ ৮০ হাজার, জুনে ২৮১ কোটি ৯০ লাখ ৩০ হাজার, জুলাইয়ে ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার, আগস্টে ২৯৬ কোটি ৭৫ লাখ ৩০ হাজার এবং সেপ্টেম্বরে ২৭৬ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে এসেছে ৯৯ কোটি মার্কিন ডলার।
নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এছাড়া, কলিং ভিসায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতাও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রমবাজার-সংক্রান্ত পাঁচ বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। এরপর নতুন চুক্তির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় আরও বেশি কর্মী পাঠানোর আশা করছে বাংলাদেশ।
এছাড়া বিভিন্ন খাতে ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান। ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রতিবছর প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে পরিবারসহ ইতালিতে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
গত মে মাসে প্রবাসী ভবনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডিং, এসি টেকনিশিয়ান ও প্লাম্বিং— এই চারটি খাতে দক্ষ কর্মী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে কাতার। দেশটির শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররির সঙ্গে ওই বৈঠকে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়। এই আগ্রহের ভিত্তিতে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তারা সে সেক্টরগুলোতে প্রশিক্ষণ দিয়ে উপযুক্ত কর্মী নিয়োগ করবে। বাংলাদেশ কাতারের কাছে টিটিসির তালিকা দিয়েছে। এখন কাতার তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত ভিত্তিতে কর্মী নেবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এছাড়া দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানি ৬ হাজার দক্ষ চালক নিয়োগের কথা জানিয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদল। এ সময় প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বাংলাদেশি কর্মীদের দুবাই যাওয়ার খরচ কমানোর কথা বলেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমরা একটি জটিল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। এ পরিস্থিতিতেও প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। একইসঙ্গে নতুন করে কর্মী পাঠানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়বে।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড দ্রুত তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে। প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি করতে মন্ত্রণালয় ও সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ