প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক নূরুল হককে ‘সার্ক–ফোসওয়াল আজীবন সম্মাননা পুরস্কার ২০২৬’ (SAARC–FOSWAL Lifetime Achievement Award 2026) প্রদান করা হয়েছে, যা কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
২০২৬ সালের ১৫ নভেম্বর ‘ফাউন্ডেশন অফ সার্ক রাইটার্স অ্যান্ড লিটারেচার’ (FOSWAL)-এর উদ্যোগে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সার্ক সাহিত্য উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা নূরুল হকের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্য ও সংস্কৃতির বন্ধনকে সুদৃঢ় করার জন্য নির্বাচিত ছয়জন বিশিষ্ট সাহিত্যিকের মধ্যে নূরুল হক অন্যতম। অন্যান্য সম্মানিত সাহিত্যিকদের মধ্যে রয়েছেন— ভুটানের কুঞ্জাং চোডেন; ভারতের আলোক ভল্লা, অমরেন্দ্র খাটুয়া ও সুরেশ গোয়েল এবং নেপালের কেশব সিগদেল। এই পুরস্কার তাদের নিরলস প্রচেষ্টাকে সম্মানিত করে, যা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও শৈল্পিক সম্পর্ক জোরদারে সহায়ক।
এ পুরস্কারের জন্য আরও মনোনীত হয়েছেন— ভারতের দেও প্রকাশ চৌধুরী, শেহপার রসুল, রাওয়েল সিং, কবিতা সিঙ্ঘল, অনামিকা ও বনিতা; শ্রীলঙ্কার কুমার হেত্তিআরাচ্চি এবং নেপালের রাম দয়াল রাকেশ।
১৯৬৫ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণকারী নূরুল হক তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই তিনি লেখালেখি করেন। তার লেখায় মানবতা, শান্তি, প্রেম, প্রকৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং মানুষের অস্তিত্বের জটিল সমীকরণ ফুটে উঠেছে। কবিতার শক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতিকে একত্রিত করার চেষ্টা তার সাহিত্যজীবনের মূল প্রতিপাদ্য।
তার উল্লেখযোগ্য বাংলা কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— ঝরা পাতার শোকগাথা, নিশীথের পদাবলী এবং দগ্ধবতী জলের নদী। আন্তর্জাতিক পাঠকদের জন্য ইংরেজিতে প্রকাশিত তার কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে— পেইন অব ইনোসেন্স (Pain of Innocence), হোয়াট ডু ইউ নিড (What Do You Need) এবং অ্যান এলিজি অব ফলেন লিভস (An Elegy of Fallen Leaves)। এই রচনাগুলোর মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন।
নূরুল হক আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিভিন্ন দেশের কবিদের নিয়ে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সাময়িকী ও সংকলন সম্পাদনায় তার অবদান উল্লেখযোগ্য। ২০২০ সালে তিনি ‘ওডিসি ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্থলজি অব ওয়ার্ল্ড পোয়েটস’ সম্পাদনা করেন, যা বিশ্ব সাহিত্যের বৈচিত্র্যময় কণ্ঠস্বরগুলোকে একত্রিত করে। ‘ওডিসি এশিয়া’-র সম্পাদক হিসেবে তিনি বাংলাদেশ ও বিদেশের লেখকদের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সাহিত্যভিত্তিক আলোচনা প্রসারে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাধিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। ২০১৮ সালে কাজাখস্তানের ‘ওয়ার্ল্ড নেশনস রাইটার্স ইউনিয়ন’ তাকে ‘ওয়ার্ল্ড লরিয়েট ইন লিটারেচার’ হিসেবে ভূষিত করে, যা তার সাহিত্য যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সার্ক–ফোসওয়াল আজীবন সম্মাননা পুরস্কার ২০২৬ নূরুল হকের দীর্ঘ সাহিত্য চর্চা ও সাংস্কৃতিক পরিক্রমার একটি উজ্জ্বল স্বীকৃতি। এই অর্জন বাংলাদেশের সাহিত্য সমাজের জন্য গৌরব বয়ে আনার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধ সাহিত্য ঐতিহ্যে বাংলাদেশের শক্তিশালী উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করে। কবি নূরুল হকের আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও সাধনা সীমান্ত ও ভাষার বাধা পেরিয়ে সাহিত্যকে সেতু হিসেবে ব্যবহার করার একটি অনন্য উদাহরণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন