ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আজ ইতিবাচক চিন্তা দিবস, নেতিবাচক ভাবনা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ


আজ ইতিবাচক চিন্তা দিবস, নেতিবাচক ভাবনা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ

আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ইতিবাচক চিন্তা দিবস (Positive Thinking Day)। জীবনের বিভিন্ন চাপ, দুশ্চিন্তা ও ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় নেতিবাচক চিন্তা মনে ভর করে। এর ফলে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়, মন খারাপ হতে পারে এবং দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব পড়তে দেখা যায়। তাই এই দিনটি নেতিবাচক ভাবনা থেকে কিছুটা দূরে সরে ইতিবাচকভাবে জীবনকে দেখার অভ্যাস গড়ে তোলার একটি উপলক্ষ হতে পারে।

ইতিবাচক চিন্তা মানে জীবনের সমস্যাগুলো অস্বীকার করা নয়। বরং কঠিন পরিস্থিতি মেনে নিয়ে তার ভালো দিক খুঁজে দেখা, সমস্যার সমাধানের দিকে মনোযোগ দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী থাকার চেষ্টা করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

ইতিবাচক চিন্তা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আরও পড়ুন: পূজার ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ দ্বীপ চর হেয়ার ঘুরে আসুন

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, ইতিবাচক চিন্তার অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে, বিষণ্নতার ঝুঁকি হ্রাস করতে এবং সামগ্রিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিছু গবেষণায় ইতিবাচক মনোভাবের সঙ্গে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘায়ুর সম্পর্কও পাওয়া গেছে।

তবে সব সময় জোর করে ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করাও সঠিক নয়। কঠিন পরিস্থিতি বা নেতিবাচক অনুভূতিকে স্বীকার করে বাস্তবসম্মতভাবে সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়াই অধিক কার্যকর।

ইতিবাচক চিন্তার অভ্যাস গড়বেন যেভাবে

১. নেতিবাচক ভাবনার কারণ খুঁজুন

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সাধু-গুরু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে আজ

কোন পরিস্থিতিতে আপনার মনে নেতিবাচক চিন্তা বেশি আসে, তা খেয়াল করুন। কারণগুলো বুঝতে পারলে ধীরে ধীরে সেই ভাবনার ধরন পরিবর্তন করা সহজ হয়ে যাবে।

২. নেতিবাচক ভাবনার বিপরীতে ভালো কিছু খুঁজুন।

কোনো পরিস্থিতিতে খারাপ দিক চোখে পড়লে তার পাশাপাশি অন্তত একটি ভালো দিক খুঁজে দেখুন। নিয়মিত চর্চা করলে ধীরে ধীরে ইতিবাচকভাবে ভাবার অভ্যাস তৈরি হতে পারে।

৩. প্রতিদিন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন

আরও পড়ুন: স্বপ্নের নারীকে বিয়ে করতে ১২০০ মাইল পাড়ি, প্রেমিকা এআই জানালেন

আপনার জীবনে যা আছে, সেগুলোর জন্য কৃতজ্ঞ হওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রতিদিন কয়েকটি ছোট বিষয় মনে করুন, যেগুলো আপনাকে আনন্দ দেয় বা যার জন্য আপনি কৃতজ্ঞ।

৪. নেতিবাচক পরিবেশ এড়িয়ে চলুন

সব সময় হতাশা ও অভিযোগ করেন—এমন মানুষের সঙ্গে অতিরিক্ত সময় কাটালে নিজের মনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ইতিবাচক মনোভাবের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করুন।

৫. কিছু সময় নিজের জন্য রাখুন

আরও পড়ুন: আজ নতুন বন্ধু বানানোর দিন, পুরোনো বন্ধুত্বের গুরুত্বও তুলে ধরা হচ্ছে

নিরিবিলি বসে গভীর শ্বাস নেওয়া, ধ্যান করা কিংবা কিছুক্ষণ মনকে শান্ত রাখার অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। নিজের সঙ্গে সদয় আচরণ করাও জরুরি।

৬. সমস্যার বদলে সমাধানে মন দিন

কোনো সমস্যা নিয়ে বারবার ভাবার বদলে কীভাবে তা মোকাবিলা করা যায়, সেদিকে মনোযোগ দিন। এতে নেতিবাচক অনুভূতি সামলানো সহজ হতে পারে।

৭. ছোট সাফল্যও উদযাপন করুন

আরও পড়ুন: পূজায় মিষ্টিমুখ, ঘরেই বানান সুস্বাদু নারকেলের নাড়ু

বড় অর্জনের অপেক্ষা না করে ছোট ছোট সাফল্যকেও গুরুত্ব দিন। নিজের অগ্রগতি স্বীকার করলে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়।

মন খারাপ হলে কী করবেন?

মন খারাপ থাকলে একা সবকিছু সামলানোর চেষ্টা না করে কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। হাসির কোনো অনুষ্ঠান দেখা, পছন্দের বই পড়া, গান শোনা কিংবা নাচের মতো আনন্দদায়ক কাজে সময় কাটানোও মন ভালো করতে সহায়তা করতে পারে।

হাঁটাহাঁটি বা শরীরচর্চাও মেজাজ ভালো করতে এবং ইতিবাচক চিন্তা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। নিজের জন্য কিছু করা কিংবা অন্য কারও উপকার করাও আনন্দ ও আশাবাদ বৃদ্ধি করতে পারে।

আরও পড়ুন: লালন স্মরণোৎসবের দ্বিতীয় দিনে সাধুসঙ্গে নিজেদের ও অজানাকে জানছেন ভক্তরা

কঠিন সময়েও ইতিবাচক থাকার চেষ্টা

জীবনে সব সময় ভালো সময় থাকবে না। ব্যর্থতা, হতাশা কিংবা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি আসতেই পারে। এমন সময়ে শুধুমাত্র সমস্যার দিকে তাকিয়ে না থেকে পরিস্থিতির মধ্যেও কোনো ইতিবাচক দিক আছে কি না, তা খুঁজে দেখা যেতে পারে।

প্রতিদিন অন্তত একটি ভালো বিষয় মনে করা, প্রিয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, নিজের পছন্দের কাজে সময় দেওয়া এবং ভবিষ্যতের ছোট ছোট আনন্দের অপেক্ষা করা মনকে ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে নেতিবাচক চিন্তা, অতিরিক্ত হতাশা বা মানসিক চাপ সামলাতে কষ্ট হলে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষিত পেশাজীবী পরিস্থিতি বুঝে উপযুক্ত পরামর্শ ও সহায়তা দিতে পারেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের ৩০ শতাংশ মানুষ বাতের কষ্টে ভুগছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


দেশের ৩০ শতাংশ মানুষ বাতের কষ্টে ভুগছেন

দেশের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বাতরোগে আক্রান্তের হার ৩০.৪ শতাংশ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে প্রফেসর নজরুল রিউমাটোলজি ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ (পিএনআরএফআর) ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত ‘১০ম রোগী শিক্ষা কার্যক্রম ও ১ম বৈজ্ঞানিক সম্মেলন’-এ বিশেষজ্ঞরা এই তথ্য উপস্থাপন করেন।

সম্মেলনে বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা জানান, ২০১৫ সালের জাতীয় পর্যায়ের মাসকুলোস্কেলিটাল (এমএসকে) গবেষণা অনুযায়ী, দেশের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৩০.৪ শতাংশ বাতরোগে আক্রান্ত। এই রোগীদের মধ্যে ২৪.৮ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগছেন এবং ২৪.৪ শতাংশ বছরের কোনো না কোনো সময় কাজের ক্ষমতা হারান। এর আগে আঞ্চলিক কোপকর্ড সার্ভেতে ২৬.৩ শতাংশ মানুষের হাড় ও পেশীর ব্যথার শিকার হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।

এছাড়া, এশীয় জনমিতি ও আন্তর্জাতিক অস্টিওপোরোসিস ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব ১৬.৭ শতাংশ, যা প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করে। ২০২৬ সালের মধ্যে ৫০ বছর বা তদূর্ধ্ব নারীদের ৪০ শতাংশ, যা প্রায় ৬৫.৬ লাখ, অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাত ব্যথা সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিএনআরএফআর ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নীরা ফেরদৌস।

দেশে বাতরোগের প্রকোপ ও করণীয় নিয়ে পিএনআরএফআর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এবং বাতব্যথা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে বহু বাতের রোগী স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। এই পরিস্থিতি কর্মক্ষম মানুষের কাজের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তিনি আরও বলেন, রোগীদের অসচেতনতা, চিকিৎসা ব্যয়ের সামর্থ্যের অভাব এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সুসংগঠিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের অভাবই বাত রোগের সুচিকিৎসার প্রধান বাধা।

দিনব্যাপী রোগী সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারে অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের (বিএমইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের কাউন্সিলর ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. মাহমুদ হোসেন, বিসিবির মেডিকেল কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, মেজর জেনারেল কাজী ইফতেখার-উল-আলম, পিএনআরএফআর-এর সেক্রেটারি জেনারেল ড. পিযুষ কান্তি বিশ্বাস, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাইকোর্টের রিট খারিজ, নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


হাইকোর্টের রিট খারিজ, নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম

আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনটি হাইকোর্টে উত্থাপিত হয়নি (নট প্রেস) মর্মে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।

হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে রাজনৈতিক দলটির সব কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত আপাতত বহাল রয়েছে।

এর আগে, গত ৭ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা মো. আল আমিন এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন। আদালতে রিট আবেদনটির পক্ষে শুনানিতে আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনূস আলী উপস্থিত ছিলেন।

রিট আবেদনে ২০২৫ সালের ১২ মে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনটিকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—এ বিষয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়। পাশাপাশি রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় ১২ মে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতা স্থগিত করার আবেদনও করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও দলটির সকল অঙ্গ, সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের সকল রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে গত বছরের ১২ মে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ।

ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাদের যেকোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা সম্মেলন আয়োজনসহ সকল কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোপালগঞ্জে নারীদের জন্য অনুষ্ঠিত ব্যতিক্রমী নৌকা বাইচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


গোপালগঞ্জে নারীদের জন্য অনুষ্ঠিত ব্যতিক্রমী নৌকা বাইচ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে নারীদের জন্য একটি ব্যতিক্রমী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই জমকালো আয়োজনের কারণে স্থানীয় জিকাবাড়ি বিলে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের উপচে পড়া ভিড় এবং উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জিকাবাড়ি বিলে অনুষ্ঠিত এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় ১৫টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। নৌকার মাল্লা হিসেবে নারীদের উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে পুরো বিল মুখরিত হয়ে ওঠে।

রংবেরঙের সাজে সজ্জিত নৌকাগুলো পানির ওপর দ্রুত গতিতে চলতে থাকে। এই নৌকা বাইচ দেখতে গোপালগঞ্জসহ আশপাশের জেলার বিভিন্ন বয়সী মানুষ বিলের দুই পাড়ে ভিড় করেন। পুরো এলাকা মিলনমেলায় পরিণত হয়। দর্শনার্থীরা করতালি দিয়ে প্রতিযোগীদের উৎসাহ প্রদান করেন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে এবং বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণত নৌকা বাইচে পুরুষদের প্রাধান্য দেখা যায়, তবে এই প্রতিযোগিতায় নৌকার মাল্লা ও মাঝি হিসেবে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ এবং মাল্লাদের সম্মিলিত কণ্ঠের জারি-সারি গান উপস্থিত দর্শকদের ভীষণভাবে বিমোহিত করেছে।

দীর্ঘদিন পর এমন ব্যতিক্রমী ও রোমাঞ্চকর আয়োজন উপভোগ করতে পেরে দর্শনার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

নৌকা বাইচ উপভোগ করতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাশিয়ানী উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি শেখ শীলা, সাধারণ সম্পাদক ফারজানা পপি এবং মাহমুদপুর ইউনিয়ন মহিলা দলের আহ্বায়ক মোসা. কামরুন নাহার লাভলীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক কামরুন নাহার লাভলী জানিয়েছেন, গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া লোকজ সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বুকের দুধ খাওয়ালে মায়েদের কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


বুকের দুধ খাওয়ালে মায়েদের কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমতে পারে

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকা মায়েদের জন্য সন্তান জন্মের পরের সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সন্তান জন্মের পর রক্তে শর্করা স্বাভাবিক হয়ে গেলেও ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির অস্বাভাবিকতা ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি থেকে যেতে পারে। সম্প্রতি একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের নারীদের মধ্যে বেশি মাত্রায় বুকের দুধ খাওয়ানোর সঙ্গে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর রক্তের চর্বির মাত্রার সম্পর্ক বিদ্যমান।

জাপানের ৪৭০ জন নারীকে নিয়ে পরিচালিত এই গবেষণায় প্রত্যেকেরই গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ইতিহাস ছিল। সন্তান জন্মের প্রায় ছয় থেকে নয় সপ্তাহ পর তাদের বিপাকীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। গবেষকেরা বিশ্লেষণ করেন, শিশুর খাবারের কতটা অংশ বুকের দুধ থেকে আসছে এবং মায়ের রক্তে কোলেস্টেরল ও অন্যান্য চর্বির মাত্রার মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না।

বেশি বুকের দুধে ট্রাইগ্লিসারাইড কম

গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর মোট দুধের অন্তত ৮০ শতাংশ বুকের দুধ থেকে পাওয়া গেলে তাকে বেশি মাত্রায় বুকের দুধ খাওয়ানো হিসেবে ধরা হয়েছে। এই শ্রেণিতে ছিলেন ৩৬৯ জন নারী। তাদের রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের গড় মাত্রা ছিল প্রতি ডেসিলিটারে ৬৭ দশমিক ২ মিলিগ্রাম। অন্যদিকে, যারা এভাবে বেশি মাত্রায় বুকের দুধ খাওয়াননি, তাদের ক্ষেত্রে এই মাত্রা ছিল প্রতি ডেসিলিটারে ১১৬ দশমিক ১ মিলিগ্রাম।

বেশি মাত্রায় বুকের দুধ খাওয়ানো নারীদের মধ্যে এইচডিএল বা উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রাও বেশি ছিল। তাদের এইচডিএল কোলেস্টেরলের গড় মাত্রা ছিল প্রতি ডেসিলিটারে ৭৩ দশমিক ৯ মিলিগ্রাম। অন্যদের ক্ষেত্রে এই মাত্রা ছিল ৬৩ দশমিক ০ মিলিগ্রাম।

এছাড়া, ক্ষতিকর এলডিএল ও উপকারী এইচডিএল কোলেস্টেরলের অনুপাতও তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল বেশি মাত্রায় বুকের দুধ খাওয়ানো নারীদের ক্ষেত্রে।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের প্রভাব সন্তান জন্মের পর পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। এ ধরনের নারীদের ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকতে পারে। গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের প্রায় ৭৪ শতাংশের সন্তান জন্মের পর কোনো না কোনো ধরনের রক্তে চর্বির অস্বাভাবিকতা দেখা গিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া, ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যাওয়া কিংবা ক্ষতিকর ও উপকারী কোলেস্টেরলের অনুপাত অনুকূল না থাকা।

সুতরাং, সন্তান জন্মের পরের সময়টিতে রক্তে শর্করা ও চর্বির মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মায়ের শরীর দুধ তৈরির জন্য শক্তি ও পুষ্টি ব্যবহার করে। এ সময় শরীরে শর্করা ও চর্বির বিপাকেও পরিবর্তন ঘটে। ফলে রক্তে থাকা চর্বি এবং শরীরে সঞ্চিত শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পর বেশি মাত্রায় বুকের দুধ খাওয়ানো নারীদের রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ১৫০ মিলিগ্রাম বা তার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৭৫ শতাংশ কম ছিল। তবে মোট কোলেস্টেরলের মাত্রার সঙ্গে বুকের দুধ খাওয়ানোর পরিমাণের কোনো উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিক সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, সব ধরনের কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি।

গবেষণাটি বুকের দুধ খাওয়ানো এবং স্বাস্থ্যকর রক্তের চর্বির মাত্রার মধ্যে সম্পর্ক দেখিয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে বুকের দুধ খাওয়ানোর কারণেই ট্রাইগ্লিসারাইড কমেছে। গবেষকেরা ইনসুলিনের প্রতি শরীরের সংবেদনশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই সম্পর্ক দেখতে পেয়েছেন। তবে আরও কিছু বিষয় এই ফলাফলে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এটিকে সরাসরি কারণ ও ফলের সম্পর্ক হিসেবে দেখা যাবে না।

সন্তান জন্মের পর রক্তে শর্করা স্বাভাবিক হয়ে গেলেও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল, রক্তচাপ, ওজন ও হৃদ্‌রোগের অন্যান্য ঝুঁকি পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। বুকের দুধ খাওয়ানো সম্ভব হলে এর শিশুর জন্য সুপরিচিত উপকারের পাশাপাশি মায়ের বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্যও কিছু সম্ভাব্য সুবিধা থাকতে পারে—নতুন গবেষণার ফল এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

তবে সব মায়ের পক্ষে বুকের দুধ খাওয়ানো সম্ভব বা উপযুক্ত নাও হতে পারে। দুধ উৎপাদনে সমস্যা, শারীরিক অসুস্থতা, ওষুধ সেবন কিংবা ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণে সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারে। তাই কোনো মাকে বুকের দুধ খাওয়াতে না পারার জন্য দায়ী করা উচিত নয়।

সূত্র: এনডিটিভি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%