ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বুকের দুধ খাওয়ালে মায়েদের কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমতে পারে


বুকের দুধ খাওয়ালে মায়েদের কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমতে পারে

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকা মায়েদের জন্য সন্তান জন্মের পরের সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সন্তান জন্মের পর রক্তে শর্করা স্বাভাবিক হয়ে গেলেও ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির অস্বাভাবিকতা ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি থেকে যেতে পারে। সম্প্রতি একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের নারীদের মধ্যে বেশি মাত্রায় বুকের দুধ খাওয়ানোর সঙ্গে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর রক্তের চর্বির মাত্রার সম্পর্ক বিদ্যমান।

জাপানের ৪৭০ জন নারীকে নিয়ে পরিচালিত এই গবেষণায় প্রত্যেকেরই গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ইতিহাস ছিল। সন্তান জন্মের প্রায় ছয় থেকে নয় সপ্তাহ পর তাদের বিপাকীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। গবেষকেরা বিশ্লেষণ করেন, শিশুর খাবারের কতটা অংশ বুকের দুধ থেকে আসছে এবং মায়ের রক্তে কোলেস্টেরল ও অন্যান্য চর্বির মাত্রার মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না।

বেশি বুকের দুধে ট্রাইগ্লিসারাইড কম

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর মোট দুধের অন্তত ৮০ শতাংশ বুকের দুধ থেকে পাওয়া গেলে তাকে বেশি মাত্রায় বুকের দুধ খাওয়ানো হিসেবে ধরা হয়েছে। এই শ্রেণিতে ছিলেন ৩৬৯ জন নারী। তাদের রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের গড় মাত্রা ছিল প্রতি ডেসিলিটারে ৬৭ দশমিক ২ মিলিগ্রাম। অন্যদিকে, যারা এভাবে বেশি মাত্রায় বুকের দুধ খাওয়াননি, তাদের ক্ষেত্রে এই মাত্রা ছিল প্রতি ডেসিলিটারে ১১৬ দশমিক ১ মিলিগ্রাম।

বেশি মাত্রায় বুকের দুধ খাওয়ানো নারীদের মধ্যে এইচডিএল বা উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রাও বেশি ছিল। তাদের এইচডিএল কোলেস্টেরলের গড় মাত্রা ছিল প্রতি ডেসিলিটারে ৭৩ দশমিক ৯ মিলিগ্রাম। অন্যদের ক্ষেত্রে এই মাত্রা ছিল ৬৩ দশমিক ০ মিলিগ্রাম।

এছাড়া, ক্ষতিকর এলডিএল ও উপকারী এইচডিএল কোলেস্টেরলের অনুপাতও তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল বেশি মাত্রায় বুকের দুধ খাওয়ানো নারীদের ক্ষেত্রে।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের প্রভাব সন্তান জন্মের পর পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। এ ধরনের নারীদের ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকতে পারে। গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের প্রায় ৭৪ শতাংশের সন্তান জন্মের পর কোনো না কোনো ধরনের রক্তে চর্বির অস্বাভাবিকতা দেখা গিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া, ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যাওয়া কিংবা ক্ষতিকর ও উপকারী কোলেস্টেরলের অনুপাত অনুকূল না থাকা।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

সুতরাং, সন্তান জন্মের পরের সময়টিতে রক্তে শর্করা ও চর্বির মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মায়ের শরীর দুধ তৈরির জন্য শক্তি ও পুষ্টি ব্যবহার করে। এ সময় শরীরে শর্করা ও চর্বির বিপাকেও পরিবর্তন ঘটে। ফলে রক্তে থাকা চর্বি এবং শরীরে সঞ্চিত শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পর বেশি মাত্রায় বুকের দুধ খাওয়ানো নারীদের রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ১৫০ মিলিগ্রাম বা তার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৭৫ শতাংশ কম ছিল। তবে মোট কোলেস্টেরলের মাত্রার সঙ্গে বুকের দুধ খাওয়ানোর পরিমাণের কোনো উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিক সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, সব ধরনের কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি।

গবেষণাটি বুকের দুধ খাওয়ানো এবং স্বাস্থ্যকর রক্তের চর্বির মাত্রার মধ্যে সম্পর্ক দেখিয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে বুকের দুধ খাওয়ানোর কারণেই ট্রাইগ্লিসারাইড কমেছে। গবেষকেরা ইনসুলিনের প্রতি শরীরের সংবেদনশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই সম্পর্ক দেখতে পেয়েছেন। তবে আরও কিছু বিষয় এই ফলাফলে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এটিকে সরাসরি কারণ ও ফলের সম্পর্ক হিসেবে দেখা যাবে না।

আরও পড়ুন: ক্যানসার হাসপাতালগুলোতে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সন্তান জন্মের পর রক্তে শর্করা স্বাভাবিক হয়ে গেলেও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল, রক্তচাপ, ওজন ও হৃদ্‌রোগের অন্যান্য ঝুঁকি পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। বুকের দুধ খাওয়ানো সম্ভব হলে এর শিশুর জন্য সুপরিচিত উপকারের পাশাপাশি মায়ের বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্যও কিছু সম্ভাব্য সুবিধা থাকতে পারে—নতুন গবেষণার ফল এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

তবে সব মায়ের পক্ষে বুকের দুধ খাওয়ানো সম্ভব বা উপযুক্ত নাও হতে পারে। দুধ উৎপাদনে সমস্যা, শারীরিক অসুস্থতা, ওষুধ সেবন কিংবা ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণে সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারে। তাই কোনো মাকে বুকের দুধ খাওয়াতে না পারার জন্য দায়ী করা উচিত নয়।

সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যখাতের বাজেটের বড় অংশ ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যয় হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিশেষ অভিযান ও জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিশেষ অভিযান ও জরিমানা

জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে এডিস মশার লার্ভা নিধনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্বে ২৪টি দলে বিভক্ত হয়ে দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে করপোরেশনের ১ হাজার ৫০০ কর্মী অংশগ্রহণ করে।

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, বিমানবন্দর এলাকা, মনিপুরীপাড়া, রাজাবাজার, লালমাটিয়া, ইকবাল রোড, হুমায়ুন রোড, মোহাম্মদপুর ও আগারগাঁওসহ ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে বিমানবন্দর এলাকার একটি দোকানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলের ৫৪টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় মশক সুপারভাইজার, মশক কর্মী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি সোর্স রিডাকশন, লার্ভিসাইডিং, ছাদবাগান পরিদর্শন, জনসচেতনতামূলক মাইকিং, নোবেলিউরন ট্যাবলেট প্রয়োগ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের চাঁদের মালিকানা দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের চাঁদের মালিকানা দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের নেতা, সম্প্রতি চাঁদের মালিকানা নিজেদের দাবি করেছেন। তার এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ট্রাম্প সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’–এ চাঁদের একটি ছবি প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘চাঁদ আমাদের।’ ছবিটির একপাশে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা দেখা যাচ্ছে। এই পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গন ও নেটিজেনদের মধ্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

চাঁদের ছবিটি পোস্ট করার কিছুক্ষণ আগে, ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন ‘স্পেস ফোর্স’–এর নতুন কালো পোশাকের (ইউনিফর্ম) একটি ছবি শেয়ার করেন। এই দুই পোস্ট নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে রসিকতা শুরু হয়েছে। অনেকেই ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে বিখ্যাত চলচ্চিত্র সিরিজ ‘স্টার ওয়ার্স’–এর কাল্পনিক সাম্রাজ্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কেউ কেউ মজা করে চলচ্চিত্রটির আবহসংগীত বাজানোর পরামর্শও দিয়েছেন।

এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, ‘মঙ্গলের পর কি এবার ট্রাম্পের সূর্য দখলের পালা?’ অপর একজন মজা করে জানতে চান, ‘মঙ্গল গ্রহের বাসিন্দাদের কীভাবে সতর্ক করা হবে?’ এর পাশাপাশি ডিসি কমিকসের সুপারহিরো ‘গ্রিন ল্যান্টার্ন’ রূপে ট্রাম্পের একটি ছবি ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তার হাতে সবুজ ক্ষমতার বলয় (পাওয়ার রিং) দেখা যাচ্ছে।

তবে ট্রাম্পের এই অদ্ভুত দাবি আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ১৯৬৭ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘মহাশূন্য চুক্তি’ (আউটার স্পেস ট্রিটি) অনুযায়ী, চাঁদ বা মহাশূন্যের কোনো উপাদান কোনো একক রাষ্ট্র নিজেদের সার্বভৌম সম্পত্তি হিসেবে দাবি বা দখল করতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

ট্রাম্পের এই দাবির পাশাপাশি স্পেস ফোর্সের সামরিক পোশাক প্রদর্শনের বিষয়টি অনলাইনে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও মহাকাশ কূটনীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হুতির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হুতির

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি দাবি করেছে যে, তারা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সফল হামলা চালিয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে এই সামরিক অভিযানের দাবি করা হয়। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

হুতি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানান, সৌদি জোটের অব্যাহত বিমান ও সামরিক হামলার জবাবে তারা এই পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি রিয়াদ তাদের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ না করে, তাহলে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ সীমানার আরও গভীরে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে।

তবে, হুতিদের এই সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি সম্পর্কে সৌদি সরকারি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স দপ্তর জানায়, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জাজান অঞ্চলের আল-তুওয়াল গভর্নরেটে সীমান্ত পেরিয়ে আসা একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এই হামলায় দুজন সাধারণ নাগরিক আহত হন। এছাড়া, বিস্ফোরণের ফলে স্থানীয় একটি মসজিদ, একাধিক আবাসন ভবন ও বেশ কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাকরির কথা বলে ২০ হাজারে বিক্রি, থাইল্যান্ডের পর মালয়েশিয়ায় পাচার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


চাকরির কথা বলে ২০ হাজারে বিক্রি, থাইল্যান্ডের পর মালয়েশিয়ায় পাচার

পরিবারের অভাব-অনটন দূর করার উদ্দেশ্যে এবং স্বজনদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য কাজের সন্ধানে নড়াইলের কালিয়া থেকে ঢাকায় পাড়ি দিয়েছিলেন জনি খান, যিনি রিকশাচালক ফোরকান খানের বড় ছেলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে ঠেলে দেওয়া হয় এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের দিকে।

মানবপাচার চক্রের সদস্যরা জনিকে ভালো কাজের আশ্বাস দিয়ে ঢাকা থেকে টেকনাফে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মাত্র ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পরে, মাছ ধরার ট্রলারে করে অবৈধ পথে তাকে থাইল্যান্ডে পাচার করা হয়। সেখানে শুরু হয় তার ওপর অমানবিক নির্যাতন।

প্রায় চার মাস ধরে থাইল্যান্ডের একটি জঙ্গলে আটকে রেখে জনিকে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তার পরিবারের কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অভাবের সংসারে এত টাকা জোগাড় করতে না পারায়, একপর্যায়ে ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন স্বজনেরা।

মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে জনিকে অন্য একটি পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে অবৈধ পথে তাকে পাঠানো হয় মালয়েশিয়ায়। সেখানে প্রায় দুই মাস ধরে কঠোর নির্যাতনের শিকার হন তিনি। একপর্যায়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে, একটি ক্লিনিকের সামনে অচেতন অবস্থায় জনিকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় চক্রটির সদস্যরা।

দীর্ঘ সাত মাসের দুঃস্বপ্ন শেষে দেশে ফিরেছেন জনি, যিনি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের বাগুডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তবে দেশে ফিরেও তার জন্য স্বস্তি নেই। শরীরজুড়ে নির্যাতনের ক্ষত রয়েছে। এখন পরিবারের চিন্তা, কীভাবে হবে তার উন্নত চিকিৎসা।

জনির বাবা ফোরকান খানের পরিবারের আর্থিক অবস্থা নাজুক। জরাজীর্ণ টিনের ঘর এবং দুই শতক জমিই তাদের শেষ সম্বল। রিকশা চালিয়ে কোনোভাবে সংসার চালান ফোরকান। পরিবারের হাল ধরতে কাজের সন্ধানে ঢাকায় পাড়ি দিয়েছিলেন বড় ছেলে জনি। তার স্বপ্ন ছিল কাজ করে পরিবারের অভাব ঘোচানো। কিন্তু সেই স্বপ্নই তাকে নিয়ে যায় ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের পথে।

ফোরকান খান বলেন, "কাজ দেওয়ার কথা বলে প্রথমে জনিকে টেকনাফে নেওয়া হয়। সেখানে একটি দালালচক্রের হাতে তুলে দেওয়ার পর মাছ ধরার নৌকায় করে জোরপূর্বক তাকে থাইল্যান্ডে পাচার করা হয়। সেখানে পরিবারের কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় জনির ওপর নির্যাতন চালানো হয়।"

ফোরকান বলেন, "আমরা গরিব মানুষ। চার লাখ টাকা কোথা থেকে দেব? টাকা দিতে না পারায় ছেলেটাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে। প্রায় চার মাস পর তাকে আবার মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।"

জনি জানান, "পরিবারের অভাব কিছুটা দূর করার আশায় আমি ঢাকায় গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে কাজ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ি। এর মধ্যে এক ব্যক্তির মাধ্যমে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। ভালো কাজের কথা বলে আমাকে টেকনাফে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরই শুরু হয় একের পর এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।"

জনির স্বজনেরা বলেন, "ভালো জীবনের আশায় ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন জনি। কিন্তু মানবপাচারকারীদের কারণে তাকে সাত মাস ধরে সীমাহীন নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে।" তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতারের দাবি জানান। একই সঙ্গে জনির উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা চান তারা।

এ বিষয়ে কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, "বাংলাদেশ হাইকমিশনের কার্যালয় থেকে তথ্য পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। পরে জনি তার পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন। নিয়মের মধ্যে থেকে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার খরচ বহনের ব্যবস্থা করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%