প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বাতরোগে আক্রান্তের হার ৩০.৪ শতাংশ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে প্রফেসর নজরুল রিউমাটোলজি ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ (পিএনআরএফআর) ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত ‘১০ম রোগী শিক্ষা কার্যক্রম ও ১ম বৈজ্ঞানিক সম্মেলন’-এ বিশেষজ্ঞরা এই তথ্য উপস্থাপন করেন।
সম্মেলনে বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা জানান, ২০১৫ সালের জাতীয় পর্যায়ের মাসকুলোস্কেলিটাল (এমএসকে) গবেষণা অনুযায়ী, দেশের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৩০.৪ শতাংশ বাতরোগে আক্রান্ত। এই রোগীদের মধ্যে ২৪.৮ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগছেন এবং ২৪.৪ শতাংশ বছরের কোনো না কোনো সময় কাজের ক্ষমতা হারান। এর আগে আঞ্চলিক কোপকর্ড সার্ভেতে ২৬.৩ শতাংশ মানুষের হাড় ও পেশীর ব্যথার শিকার হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।
এছাড়া, এশীয় জনমিতি ও আন্তর্জাতিক অস্টিওপোরোসিস ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব ১৬.৭ শতাংশ, যা প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করে। ২০২৬ সালের মধ্যে ৫০ বছর বা তদূর্ধ্ব নারীদের ৪০ শতাংশ, যা প্রায় ৬৫.৬ লাখ, অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাত ব্যথা সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিএনআরএফআর ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নীরা ফেরদৌস।
দেশে বাতরোগের প্রকোপ ও করণীয় নিয়ে পিএনআরএফআর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এবং বাতব্যথা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে বহু বাতের রোগী স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। এই পরিস্থিতি কর্মক্ষম মানুষের কাজের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তিনি আরও বলেন, রোগীদের অসচেতনতা, চিকিৎসা ব্যয়ের সামর্থ্যের অভাব এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সুসংগঠিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের অভাবই বাত রোগের সুচিকিৎসার প্রধান বাধা।
দিনব্যাপী রোগী সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারে অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের (বিএমইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের কাউন্সিলর ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. মাহমুদ হোসেন, বিসিবির মেডিকেল কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, মেজর জেনারেল কাজী ইফতেখার-উল-আলম, পিএনআরএফআর-এর সেক্রেটারি জেনারেল ড. পিযুষ কান্তি বিশ্বাস, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন