শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:২৪ পি.এম
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : সারাদেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া, আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে যে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
আজ শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, পূর্ব-মধ্য এবং তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই লঘুচাপের ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সন্দ্বীপে ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। তাছাড়া, তেঁতুলিয়ায় আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
আজ ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত থাকতে পারে। সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৭০ শতাংশ।
ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ২৬ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৫৯ মিনিটে ঘটবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : শুক্রবার এশিয়ার পুঁজিবাজারে আবারও বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে, কারণ প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ অব্যাহত রয়েছে। এ খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জাপানি ইয়েন ও সরকারি বন্ডের চাহিদা বেড়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত জুনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর থেকেই এসব শেয়ারে দরপতন শুরু হয়।
কোম্পানিগুলোর প্রকৃত মূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগ, অবকাঠামো ও হার্ডওয়্যারে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে পর্যাপ্ত মুনাফা অর্জনের অনিশ্চয়তা এবং সাম্প্রতিক সময়ে ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এসব শেয়ার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
এছাড়া, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ওঠায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকারের ঋণ নেওয়ার ব্যয়ও কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
গত কয়েক প্রান্তিকে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল কিছুটা উদ্বেগ কমিয়েছিল।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা এখন আগের চেয়ে আরও ভালো ফলাফল আশা করছেন। ফলে কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর ধরে রাখতে প্রত্যাশার চেয়েও শক্তিশালী আয় ও প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস প্রয়োজন হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা এবং সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন সরঞ্জাম নির্মাতা ল্যাম রিসার্চ প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। কিন্তু এরপরও কোম্পানি দুটির শেয়ারের দাম কমেছে।
ফরেক্স ডটকমের বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, ‘ইতিবাচক খবরও এখন উপেক্ষা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শেয়ারের মূল্যায়ন আগে থেকেই অনেক বেশি থাকলে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সেই প্রত্যাশার সঙ্গে না মিললে শুধু ভালো আর্থিক ফলাফল যথেষ্ট নয়। বিনিয়োগকারীরা এখন অনেক কম ছাড় দিচ্ছেন।’
প্রযুক্তি খাত থেকে বিনিয়োগকারীদের অর্থ সরিয়ে নেওয়ার ফলে শিল্প খাতের কিছু কোম্পানি লাভবান হচ্ছে।
এআইকেন্দ্রিক বিনিয়োগের উত্থানের সময় যেসব কোম্পানি তুলনামূলকভাবে উপেক্ষিত ছিল, সেগুলোর শেয়ারে এখন আগ্রহ বাড়ছে। এ কারণে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ডাও জোন্স সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও নাসডাক ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমেছে।
নিউইয়র্কের বাজারে দরপতনের প্রভাব এশিয়ার বাজারগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
এআই বিনিয়োগের উত্থানে সামনের সারিতে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার পুঁজিবাজারে এবার সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা গেছে। শুক্রবার দেশটির শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক কোস্পি দুই শতাংশের বেশি কমেছে। কঠিন একটি সপ্তাহের শেষে এ দরপতন বাজারের দুর্বলতা আরও স্পষ্ট করেছে।
চিপ নির্মাতা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারের অন্যতম বড় কোম্পানি এসকে হাইনিক্সের যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া শেয়ারের দাম আট শতাংশের বেশি কমেছে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, ‘বাজার পরিস্থিতি ও শেয়ারদরের প্রবণতা’ বিবেচনায় তাদের মার্কিন সহযোগী প্রতিষ্ঠান সলিডাইমের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে।
প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের আধিক্য থাকায় টোকিওর নিক্কেই ২২৫ সূচকেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। একই সঙ্গে হংকং, সাংহাই, সিডনি, সিঙ্গাপুর, ওয়েলিংটন, জাকার্তা ও ম্যানিলার শেয়ারবাজারেও দরপতন দেখা গেছে। টাইফুন চ্যাম্পি এগিয়ে আসায় তাইপের পুঁজিবাজার শুক্রবার বন্ধ ছিল।
শেয়ারবাজারে দরপতনের বিপরীতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত সম্পদের চাহিদা বেড়েছে। জাপানে মূল্যস্ফীতির হার বাড়ার সরকারি তথ্য প্রকাশের পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশায় ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দাম বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সুদের হারের বড় ব্যবধান এবং জাপানের সরকারি আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডলারের বিপরীতে ইয়েন দুর্বল ছিল।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের চাহিদাও বেড়েছে। ফলে এসব বন্ডের মুনাফার হার (ইল্ড) দুই দশকের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে নেমে এসেছে।
ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের বিশ্লেষক গ্যাভিন ফ্রেন্ড বলেন, ‘এআই ও প্রযুক্তি খাত নিয়ে পরিচিত উদ্বেগের পাশাপাশি তেল ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম বিনিয়োগকারীদের আবারও বন্ডের দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে।’
তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়তে থাকলেও বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের সন্ধান করছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার কমে আসার প্রবণতা এতে আরও গতি পেয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই বছর ও ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ ব্যাংকের বিশ্লেষক ক্যারল কং বলেন, প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে দরপতন অব্যাহত থাকলে জাপানি ইয়েন আরও শক্তিশালী হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের নতুন করে সৃষ্ট উদ্বেগ বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। মে মাসের পর প্রথমবারের মতো ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী নিরাপত্তা দিতে থাকলে ওই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। এ হুমকির পর তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : সেপ্টেম্বর মাসে জাপানে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান শুক্রবার প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতির হার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। ফলে সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে।
জাপানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, তাজা খাদ্যপণ্যের অস্থিতিশীল মূল্য বাদ দিলে সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ২ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। আগের মাস আগস্টে এই হার ছিল ১ দশমিক ৭ শতাংশ।
সেপ্টেম্বরের এই মূল্যস্ফীতির হার বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশের চেয়ে বেশি। এই কারণে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ সূর্য মন্তব্য করেছেন, ‘মূল্যস্ফীতির অন্তর্নিহিত প্রবণতা আবারও জাপান ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে উঠে আসায় মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার পক্ষে জোরালো ভিত্তি রয়েছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরের বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়াতে পারে। এতে ডিসেম্বরে আবারও সুদের হার বাড়ানোর পথ তৈরি হতে পারে।’
মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় জাপান ব্যাংক গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সুদের হার বাড়িয়েছিল। বিশ্বের অন্যান্য প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো জাপানও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিজনিত মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে এই চাপ আরও তীব্র হয়েছে।
এদিকে, জাপানি মুদ্রা ইয়েনের দুর্বলতার কারণে আমদানি করা পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাড়িভাড়া এবং মোটরযান-সংশ্লিষ্ট ব্যয়ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ সূর্যের মতে, বাড়িভাড়ার মূল্যস্ফীতি প্রায় ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে পেট্রল ও বিদ্যুতের বিলে সরকারি সহায়তা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা কমিয়েছে বলে অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
খাদ্য ও জ্বালানি—উভয় খাতের মূল্য বাদ দিয়ে হিসাব করলেও সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ২ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগের মাস আগস্টে এই হার ছিল ১ দশমিক ৯ শতাংশ। সেপ্টেম্বরের এই হার বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
মূল্যস্ফীতির কারণে পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের শেষ দিকে গৃহীত বড় ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ এবং জ্বালানির ওপর ব্যাপক করছাড়।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির পূর্বসূরিরা মূল্যস্ফীতি নিয়ে জনঅসন্তোষের কারণে রাজনৈতিকভাবে বিপাকে পড়েছিলেন।
সরকার জানিয়েছে, আগামী এপ্রিল থেকে দুই বছরের জন্য খাদ্যপণ্যের ওপর ভোগকর ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হবে।
তবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের কর রাজস্ব প্রায় ১০ লাখ কোটি ইয়েন (৬ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার) কমতে পারে।
এতে জাপানের সরকারি অর্থব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। দেশটির মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের দ্বিগুণেরও বেশি, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ ঋণ-জিডিপি অনুপাতগুলোর একটি।
প্রাকৃতিক সম্পদে সীমিত জাপান জ্বালানির চাহিদা মেটাতে আমদানি করা তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : রাশিয়া ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে মস্কো স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির আওতায় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলার সময় পুতিন উল্লেখ করেন, ‘এই আলোচনার লক্ষ্য হবে চূড়ান্ত চুক্তির কাঠামোর মধ্যে ইউক্রেন ও রাশিয়া—উভয় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা। যুদ্ধের মধ্যে স্বল্প সময়ের কোনো বিরতির পর নয়, বরং চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবেই এ বিষয়ে আলোচনা করতে হবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং তার ডানপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো শুক্রবার দ্বিতীয় এবং শেষবারের মতো টেলিভিশন বিতর্কে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।
রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চূড়ান্ত দফার ভোটের আগে, দুই প্রার্থীই সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের সমর্থন অর্জনের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় সাবেক কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো লুলার চেয়ে দুই শতাংশ পয়েন্ট বেশি ভোট পেয়ে মোট ভোটের ৪৭ শতাংশ অর্জন করেন।
ফ্লাভিওর এই অপ্রত্যাশিত অগ্রগতি বামপন্থিদের মধ্যে সক্রিয়তা বৃদ্ধি করেছে। রোববারের রান-অফ বা দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে দেশজুড়ে বড় বড় নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এদিকে, ৮১ বছর বয়সের কাছাকাছি পৌঁছানো বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলাও শেষ মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার বাড়িয়েছেন। তিনি নিজের হাতে মোবাইল ধরে ভিডিও প্রকাশ করছেন এবং জীবনে প্রথমবারের মতো একটি মুঠোফোন কিনেছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত ডেটাফোলহা ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা গেছে, দুই প্রার্থীর ভোটারদের সমর্থন ৫০ শতাংশ করে। অথচ দুই সপ্তাহ আগে প্রকাশিত জরিপে ফ্লাভিও বলসোনারো চার শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন।
রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডোমিনিয়ামের পরিচালক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক লিয়ান্দ্রো গাবিয়াতি এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘লুলার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার গতিপথ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে—এমন কোনো নির্ণায়ক আঘাত তিনি এখনো হানতে পারেননি। এই বিতর্কই হতে পারে তার শেষ সুযোগ।’
শুক্রবার রাতে রিও ডি জেনেইরোতে দেশটির বৃহত্তম টেলিভিশন নেটওয়ার্ক টিভি গ্লোবো আয়োজিত বিতর্কের দিকে তাকিয়ে আছেন ব্রাজিলের ভোটাররা।
রোববার অনুষ্ঠিত প্রথম বিতর্ক দ্রুতই পাল্টাপাল্টি অপমান ও কটাক্ষে রূপ নেয়, ফলে সেখানে নীতিগত প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ খুব কম ছিল।
রিওর দন্তচিকিৎসক লিজি মোরেইরা এএফপিকে বলেন, ‘বিতর্কগুলো আবারও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মতো পর্যায়ে নেমে গেছে, যা একেবারেই অযৌক্তিক।’
৬০ বছর বয়সী মোরেইরা বলসোনারোকে ভোট দেবেন। তার মতে, লুলার নীতিগুলো ‘জনতুষ্টিবাদী’ বলে মনে হচ্ছে।
‘ভুয়া খবর’ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
বিতর্কে দুই প্রার্থীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করার ব্যবস্থা চালুর দাবিতে অনলাইনে একটি আবেদন করা হয়েছে। এতে ১০ লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। আবেদনকারীরা টিভি গ্লোবোকে সরাসরি তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারে ব্যাপক হারে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে তুলেছে।
বুধবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ফোর্তালেজায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ফ্লাভিও বলসোনারো বলেন, তাকে ‘অনেক ভুয়া খবরের’ জবাব দিতে হয়েছে। বিশেষ করে ব্যয় কমানোর জন্য তিনি সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচি বন্ধ করে দেবেন—এমন অভিযোগের প্রতিবাদ জানান তিনি।
লাতিন আমেরিকার অন্যান্য ডানপন্থি নেতার মতো ফ্লাভিওও কঠোর নিরাপত্তানীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং লুলাকে রাজনীতি থেকে ‘অবসর নেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
জবাবে লুলা বলেছেন, ‘পরিবর্তন মানে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া নয়।’
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেলো হরিজন্তেতে এক বামপন্থি সমাবেশে ২২ বছর বয়সী গ্যাব্রিয়েলা ফেরেইরা বলেন, ‘লুলা আমার সবকিছুর প্রতিনিধিত্ব করেন। আমি দরিদ্র। আমি একজন শিক্ষার্থী। পড়াশোনা শেষ করতে আমি বৃত্তির ওপর নির্ভরশীল।’
সাবেক শ্রমিকনেতা লুলা নিজেকে গণতন্ত্রের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরছেন। বলসোনারো পরিবারের আবার ক্ষমতায় ফেরার বিরোধিতার ওপরও তিনি অনেকাংশে নির্ভর করছেন।
২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের চেষ্টা করার দায়ে জাইর বলসোনারো ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ