প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং তার ডানপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো শুক্রবার দ্বিতীয় এবং শেষবারের মতো টেলিভিশন বিতর্কে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।
রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চূড়ান্ত দফার ভোটের আগে, দুই প্রার্থীই সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের সমর্থন অর্জনের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় সাবেক কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো লুলার চেয়ে দুই শতাংশ পয়েন্ট বেশি ভোট পেয়ে মোট ভোটের ৪৭ শতাংশ অর্জন করেন।
ফ্লাভিওর এই অপ্রত্যাশিত অগ্রগতি বামপন্থিদের মধ্যে সক্রিয়তা বৃদ্ধি করেছে। রোববারের রান-অফ বা দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে দেশজুড়ে বড় বড় নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এদিকে, ৮১ বছর বয়সের কাছাকাছি পৌঁছানো বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলাও শেষ মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার বাড়িয়েছেন। তিনি নিজের হাতে মোবাইল ধরে ভিডিও প্রকাশ করছেন এবং জীবনে প্রথমবারের মতো একটি মুঠোফোন কিনেছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত ডেটাফোলহা ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা গেছে, দুই প্রার্থীর ভোটারদের সমর্থন ৫০ শতাংশ করে। অথচ দুই সপ্তাহ আগে প্রকাশিত জরিপে ফ্লাভিও বলসোনারো চার শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন।
রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডোমিনিয়ামের পরিচালক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক লিয়ান্দ্রো গাবিয়াতি এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘লুলার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার গতিপথ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে—এমন কোনো নির্ণায়ক আঘাত তিনি এখনো হানতে পারেননি। এই বিতর্কই হতে পারে তার শেষ সুযোগ।’
শুক্রবার রাতে রিও ডি জেনেইরোতে দেশটির বৃহত্তম টেলিভিশন নেটওয়ার্ক টিভি গ্লোবো আয়োজিত বিতর্কের দিকে তাকিয়ে আছেন ব্রাজিলের ভোটাররা।
রোববার অনুষ্ঠিত প্রথম বিতর্ক দ্রুতই পাল্টাপাল্টি অপমান ও কটাক্ষে রূপ নেয়, ফলে সেখানে নীতিগত প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ খুব কম ছিল।
রিওর দন্তচিকিৎসক লিজি মোরেইরা এএফপিকে বলেন, ‘বিতর্কগুলো আবারও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মতো পর্যায়ে নেমে গেছে, যা একেবারেই অযৌক্তিক।’
৬০ বছর বয়সী মোরেইরা বলসোনারোকে ভোট দেবেন। তার মতে, লুলার নীতিগুলো ‘জনতুষ্টিবাদী’ বলে মনে হচ্ছে।
‘ভুয়া খবর’ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
বিতর্কে দুই প্রার্থীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করার ব্যবস্থা চালুর দাবিতে অনলাইনে একটি আবেদন করা হয়েছে। এতে ১০ লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। আবেদনকারীরা টিভি গ্লোবোকে সরাসরি তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারে ব্যাপক হারে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে তুলেছে।
বুধবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ফোর্তালেজায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ফ্লাভিও বলসোনারো বলেন, তাকে ‘অনেক ভুয়া খবরের’ জবাব দিতে হয়েছে। বিশেষ করে ব্যয় কমানোর জন্য তিনি সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচি বন্ধ করে দেবেন—এমন অভিযোগের প্রতিবাদ জানান তিনি।
লাতিন আমেরিকার অন্যান্য ডানপন্থি নেতার মতো ফ্লাভিওও কঠোর নিরাপত্তানীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং লুলাকে রাজনীতি থেকে ‘অবসর নেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
জবাবে লুলা বলেছেন, ‘পরিবর্তন মানে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া নয়।’
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেলো হরিজন্তেতে এক বামপন্থি সমাবেশে ২২ বছর বয়সী গ্যাব্রিয়েলা ফেরেইরা বলেন, ‘লুলা আমার সবকিছুর প্রতিনিধিত্ব করেন। আমি দরিদ্র। আমি একজন শিক্ষার্থী। পড়াশোনা শেষ করতে আমি বৃত্তির ওপর নির্ভরশীল।’
সাবেক শ্রমিকনেতা লুলা নিজেকে গণতন্ত্রের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরছেন। বলসোনারো পরিবারের আবার ক্ষমতায় ফেরার বিরোধিতার ওপরও তিনি অনেকাংশে নির্ভর করছেন।
২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের চেষ্টা করার দায়ে জাইর বলসোনারো ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন