মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৩৩ পি.এম
প্রায় ২৮০ দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন প্রথমবারের মতো কোনো বন্দরে থামতে যাচ্ছে। গত বছরের নভেম্বরের পর এটি জাহাজটির প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও ক্রু সদস্যদের জন্য প্রথম যাত্রাবিরতি।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থাইল্যান্ডের পর্যটন শহর পাতায়ায় রণতরীটির পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় থেকেই পাতায়া মার্কিন সেনাদের বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, যাতে প্রায় ৫ হাজার নাবিককে স্বাগত জানানো যায়।
পারমাণবিক শক্তিচালিত এই রণতরীটি ২০২৫ সালের নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে দক্ষিণ চীন সাগরের দায়িত্বে যাত্রা শুরু করে। পরে এটি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। প্রায় ছয় মাস আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর আগে জাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছিল।
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের কারণে জাহাজটির ভেতরের জীবনযাত্রার অবনতি এবং ক্রুদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এমনকি আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনাও উঠে এসেছে। এসব কারণে ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
পাতায়ার মেয়র পোরামাসে এনগামপিচেস জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় মধ্যরাতের পর লায়েম চাবাং বন্দরে বিশাল এই রণতরীটি ভিড়বে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, "প্রায় ২৮০ দিন পর নাবিকেরা প্রথমবারের মতো জাহাজ থেকে তীরে নামার সুযোগ পাচ্ছেন।" তিনি জানান, তাদের বিশ্রাম ও বিনোদনের কথা বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং ব্যবসায়ীরা যেন অতিরিক্ত দাম না নেন, সেদিকেও নজর দেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লিওনেল মেসি আনুষ্ঠানিকভাবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণার পর থেকেই নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। মেসির অনুপস্থিতিতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ডটি এখন কার হাতে যাবে, এই প্রশ্ন সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
মেসি যখন আর্জেন্টিনা থেকে অবসরের কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন, তখন খুব বেশি মানুষ এই আর্মব্যান্ড নিয়ে ভাবেননি। কারণ, এটি কয়েক দশক ধরে মেসির হাতে ছিল। কিন্তু এখন সেই আলোচনার সময় এসেছে। আর্জেন্টিনাকে তাদের পরবর্তী অধিনায়ক নির্বাচন করতে হবে।
ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে আর্জেন্টিনার নতুন প্রধান অধিনায়ক হিসেবে দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে রোমেরোকে অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়াটা যুক্তিসঙ্গত মনে হচ্ছে। আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ডিফেন্ডারের বয়স মাত্র ২৮ বছর, যা নির্দেশ করে যে তিনি আগামী অনেক বছর ধরে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
এছাড়া, মাঠে সবচেয়ে সক্রিয় নেতা হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। টটেনহ্যামের অধিনায়ক হিসেবেও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত একটি ড্রেসিংরুম যদি তিনি সামলাতে পারেন, তাহলে নিজের দেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
তবে, আরও কয়েকজন খেলোয়াড়ের নামও আলোচনায় রয়েছে। রোমেরোকে প্রধান অধিনায়ক করা হলেও, তিনি যদি মাঠে না থাকেন তবে অন্য কেউ সেই দায়িত্ব নিতে পারেন।
মেসি–পরবর্তী যুগে অধিনায়কের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ সমর্থকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। মাঠে ও মাঠের বাইরে তিনি একজন নেতা। আর্জেন্টিনার হয়ে তার বীরত্বগাথা সবার জানা। একজন সেরা অধিনায়ক হওয়ার সব গুণ তার মধ্যে রয়েছে। তবে সমস্যা হলো, তিনি গোলরক্ষক। গোলরক্ষককে খেলার মূল জায়গা থেকে এবং রেফারির থেকে অনেক দূরে থাকতে হয়। আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের খেলোয়াড়রা প্রতি ম্যাচেই রেফারির সঙ্গে কথা বলেন। এই কারণে গোলরক্ষক অধিনায়ক হওয়া খুব সুবিধাজনক নয়।
রদ্রিগো দে পলও অধিনায়ক হওয়ার সম্ভাব্য নাম। তিনি অনেক কথা বলতে পারেন এবং দীর্ঘদিন মেসির পাশে থেকে নেতৃত্বের গুণ শিখেছেন। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। তার একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাই যিনি প্রায়ই বেঞ্চ থেকে খেলা শুরু করেন, তাকে অধিনায়ক করা বুদ্ধিমানের কাজ নাও হতে পারে।
চমক দিতে পারেন যারা
লাউতারো মার্তিনেজ ইন্টারের অধিনায়ক। হুলিয়ান আলভারেজও দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তবে আর্জেন্টিনা তাদের পরবর্তী অধিনায়কের মধ্যে যে গুণগুলি খুঁজছে, তা এই দুজনের মধ্যে নেই বলেই মনে হচ্ছে। এছাড়া, এই দুজন প্রায়ই একাদশে পালাক্রমে সুযোগ পান। তাই তাদের অধিনায়ক হওয়ার সম্ভাবনাও কম।
এনজো ফের্নান্দেজকে নিয়ে আলোচনা কম হলেও, অধিনায়কত্বের দৌড়ে তিনিও একজন শক্তিশালী প্রার্থী। একজন আর্জেন্টাইন নেতার সব গুণ তার মধ্যে বিদ্যমান। চেলসিতে অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতাও তার রয়েছে। এছাড়া, তার বয়স মাত্র ২৫। দেশের জন্য দেওয়ার মতো অনেক কিছু তার বাকি আছে।
সবচেয়ে যৌক্তিক উত্তর এখনো রোমেরো
অধিনায়ক প্রশ্নের সবচেয়ে যৌক্তিক উত্তর এখনও রোমেরোই হতে পারেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির পর আর্জেন্টিনার সেরা খেলোয়াড় তিনিই ছিলেন। ক্লাব ও জাতীয় দল, দুই জায়গাতেই এখন তিনি নিজের সেরা সময়ের দিকে এগোচ্ছেন।
তবে রোমেরোর হলুদ ও লাল কার্ড পাওয়ার রেকর্ডও কম নয়। তাই আর্জেন্টিনাকে বিকল্প পরিকল্পনা এবং একজন বিকল্প অধিনায়কও ঠিক রাখতে হবে। আর দেখা যাচ্ছে, প্রার্থীর অভাব নেই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগদানের বিষয়ে কোনো প্রস্তাব আসলে জাতীয় স্বার্থ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির আলোকে যেকোনো বহুপাক্ষিক উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের জনগণের কী লাভ হবে, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সফররত ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব আন্দা ফিলিপের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আমন্ত্রণ বাংলাদেশ পায়নি। তবে ভবিষ্যতে কোনো প্রস্তাব এলে সেটি পর্যালোচনা করা হবে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনা করেই।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে যে পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, তার আলোকে কোনো বহুপাক্ষিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের আগে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে বাংলাদেশের মানুষের কী উপকার হবে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কিছু সময় লাগবে এবং পর্যালোচনার পরই বাংলাদেশ তার অবস্থান জানাবে।
আইপিইউ মহাসচিব আন্দা ফিলিপের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ জানান, বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। আইপিইউ একটি আন্তর্জাতিক সংসদীয় সংস্থা, যা বিশ্বের ৯৩টি দেশ এর সদস্য। বাংলাদেশও এই আন্তর্জাতিক সংসদীয় ফোরামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আবারও সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি আইপিইউ মহাসচিব পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গেও তিনি মতবিনিময় করেছেন। এর আগে তিনি জুলাই জাদুঘরও পরিদর্শন করেছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে এসেছে এবং সংসদীয় গণতন্ত্র বর্তমানে সচল ও শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। এ বিষয়টিকে আইপিইউ মহাসচিব ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বিশেষ করে বর্তমান সংসদে নতুন ও তুলনামূলকভাবে তরুণ সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের আরও দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আইপিইউর বিভিন্ন কার্যক্রম, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রয়েছে। জেনেভাতেও আইপিইউর বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা কীভাবে আরও বেশি অংশগ্রহণ করতে পারেন এবং আন্তর্জাতিক সংসদীয় কার্যক্রমের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে পারেন, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে আইপিইউর সঙ্গে সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা আন্তর্জাতিক সংসদীয় ফোরামে আরও বেশি অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাড়বে এবং এর মাধ্যমে দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি জানান।
শামা ওবায়েদ বলেন, আইপিইউ শুধু গণতন্ত্র নিয়ে কাজ করে না; মানবাধিকার, শান্তি, স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), নারী ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সমতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও কাজ করে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এসব ক্ষেত্রে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, আগামী মাসে তানজানিয়ায় আইপিইউর একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বাংলাদেশের স্পিকার অংশগ্রহণ করবেন এবং বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরাও অংশ নেবেন। ওই সম্মেলনসহ আইপিইউর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর বিষয়ে সরকার আগ্রহী। বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক এই সংসদীয় সংস্থার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন, দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা দীর্ঘ সংগ্রামের পর সম্ভব হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রের জন্য চলমান আন্দোলন-সংগ্রামে দলের অনেক নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন আন্দা ফিলিপ। তিনি মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তার দৃঢ় অঙ্গীকারের শক্তিশালী বার্তা বহন করে।
এ সময় তারেক রহমান বলেন, বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, বরং সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে। বর্তমান সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, "আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছি।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করতে পেরেছি।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে। আমাদের সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী এবং গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্র নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক।"
তিনি বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।" তার সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
আইপিইউ সেক্রেটারি জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পর্যালোচনা করেছেন। ইশতেহারে শিক্ষা খাতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে আন্দা ফিলিপ বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
আন্দা ফিলিপ আরও বলেন, আইপিইউ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার অংশ নিচ্ছেন। তার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইপিইউ সেক্রেটারি।
সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দা ফিলিপ বলেন, তারা অত্যন্ত উদ্যমী ও আগ্রহী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের জন্য অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এ ছাড়া তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো। সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মন্তব্য করেছেন যে, রাজনৈতিক চাপ তৈরির জন্য পানি কোনোভাবেই ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, পানি এই অঞ্চলের মানুষের জীবন ও ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
এটি তিনি কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় বলেন।
শাহবাজ শরিফ আরও বলেন, আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোকে অবশ্যই তাদের মূল উদ্দেশ্য ও শর্ত অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা চাপ প্রয়োগের জন্য পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা অগ্রহণযোগ্য।” পানি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শাহবাজ শরিফ এই মন্তব্য করেছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই শান্তি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা ছাড়া দক্ষিণ এশিয়া তার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারবে না। তিনি বলেন, “পানি আমাদের অঞ্চলের জীবনধারা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনের নিশ্চয়তা।”
আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোকে সম্মান করা এবং নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী সেগুলো বাস্তবায়নের ওপরও তিনি জোর দেন। তার মতে, অভিন্ন পানিসম্পদ নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত ব্যবস্থার মাধ্যমে তার সমাধান করা উচিত।
এ সময় তিনি তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও আলোচনা করেন। শাহবাজ শরিফ স্পষ্ট করেন যে, মক্কা চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়।
তিনি বলেন, পাকিস্তান বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ মীমাংসার পক্ষে। সম্প্রতি আঞ্চলিক সংকটের সময় উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে ইসলামাবাদে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
শাহবাজ বলেন, পাকিস্তান সব বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলায় বিশ্বাসী। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত চুক্তি ও প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংকট দেখিয়েছে যে নিরাপদ জ্বালানি করিডোর এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা জরুরি।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ