প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশের মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগদানের বিষয়ে কোনো প্রস্তাব আসলে জাতীয় স্বার্থ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির আলোকে যেকোনো বহুপাক্ষিক উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের জনগণের কী লাভ হবে, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সফররত ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব আন্দা ফিলিপের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আমন্ত্রণ বাংলাদেশ পায়নি। তবে ভবিষ্যতে কোনো প্রস্তাব এলে সেটি পর্যালোচনা করা হবে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনা করেই।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে যে পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, তার আলোকে কোনো বহুপাক্ষিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের আগে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে বাংলাদেশের মানুষের কী উপকার হবে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কিছু সময় লাগবে এবং পর্যালোচনার পরই বাংলাদেশ তার অবস্থান জানাবে।
আইপিইউ মহাসচিব আন্দা ফিলিপের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ জানান, বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। আইপিইউ একটি আন্তর্জাতিক সংসদীয় সংস্থা, যা বিশ্বের ৯৩টি দেশ এর সদস্য। বাংলাদেশও এই আন্তর্জাতিক সংসদীয় ফোরামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আবারও সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি আইপিইউ মহাসচিব পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গেও তিনি মতবিনিময় করেছেন। এর আগে তিনি জুলাই জাদুঘরও পরিদর্শন করেছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে এসেছে এবং সংসদীয় গণতন্ত্র বর্তমানে সচল ও শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। এ বিষয়টিকে আইপিইউ মহাসচিব ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বিশেষ করে বর্তমান সংসদে নতুন ও তুলনামূলকভাবে তরুণ সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের আরও দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আইপিইউর বিভিন্ন কার্যক্রম, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রয়েছে। জেনেভাতেও আইপিইউর বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা কীভাবে আরও বেশি অংশগ্রহণ করতে পারেন এবং আন্তর্জাতিক সংসদীয় কার্যক্রমের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে পারেন, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে আইপিইউর সঙ্গে সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা আন্তর্জাতিক সংসদীয় ফোরামে আরও বেশি অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাড়বে এবং এর মাধ্যমে দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি জানান।
শামা ওবায়েদ বলেন, আইপিইউ শুধু গণতন্ত্র নিয়ে কাজ করে না; মানবাধিকার, শান্তি, স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), নারী ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সমতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও কাজ করে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এসব ক্ষেত্রে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, আগামী মাসে তানজানিয়ায় আইপিইউর একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বাংলাদেশের স্পিকার অংশগ্রহণ করবেন এবং বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরাও অংশ নেবেন। ওই সম্মেলনসহ আইপিইউর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর বিষয়ে সরকার আগ্রহী। বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক এই সংসদীয় সংস্থার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন