মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৪ পি.এম
কুষ্টিয়ার মিরপুরের ঘটনা অনুযায়ী, টিকটকের মাধ্যমে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার ফলস্বরূপ তিন কিশোরী বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে যায়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের অন্য একটি কিশোরীর সাথে তারা মিলিত হয়ে ঢাকার হেমায়েতপুরে একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান নেয়। সেখানে দুই কিশোরী পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে ‘বিয়ের’ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ চার কিশোরীকে উদ্ধার করে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর মিরপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার তিন কিশোরী পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। তাদের সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়। এরপর মিরপুর থানা পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, টিকটকের মাধ্যমে মিরপুরের এক কিশোরীর সাথে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের এক কিশোরীর পরিচয় ঘটে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একইভাবে মিরপুরের আরও দুই কিশোরীর মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে চারজন একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মিরপুরের তিন কিশোরী বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে আসে। সেখানে চারজন হেমায়েতপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে গণমাধ্যমকে জানান, নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কিশোরীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।
ওসি আরও জানান, টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে কিশোরীদের পরিচয় ও সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে চারজনকে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার বরুড়ায় একটি বাস খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় আতিকুল্লাহ সবুজ (২২) নামের এক হেলপার নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় বাসের পাঁচ যাত্রীও আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার দেওড়া ফকিরা মোকাম এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সবুজ বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের হাজারপাড় গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
বাসটির চালক মনিরের বক্তব্য অনুযায়ী, স্টিয়ারিং লক হয়ে যাওয়ার কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। উল্লেখ্য, চালক মনিরই বাসটির মালিক। দুর্ঘটনার সময় তিনি বাসটি চালাচ্ছিলেন।
এদিকে, নিহত হেলপারের পরিবারকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শ্রমিক নেতা আবদুল জলিল। তিনি আরও জানান, বলাকা বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও আর্থিক সহযোগিতা করা হবে। আহত যাত্রীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ ও বাসটি থানায় নিয়ে আসা হবে। দুর্ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের একটি খুঁটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মুলতানের শের শাহ সেতুর নিকটে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রেহমান বাবা এক্সপ্রেস ট্রেনের ১৪টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন, যা পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীদের দ্বারা নিশ্চিত করা হয়েছে।
জিও টিভি মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য মুলতানের নিশতার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ১৩টি বগি থেকে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বাকি একটি বগিতে উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।
এক যাত্রীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রেনটি করাচি থেকে পেশোয়ারের দিকে যাচ্ছিল।
এক যাত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার আগে রোহরির কাছে ট্রেনের নয় নম্বর বগির নাট-বল্টু মেরামত করা হয়েছিল। তবে ওই মেরামতের সঙ্গে দুর্ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এদিকে, দুর্ঘটনার বিষয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ খোঁজ নিয়েছেন। তিনি আহত যাত্রীদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি একইসঙ্গে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আহত ব্যক্তিদের যেন বিলম্ব ছাড়াই সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। এ সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৪৯ জনের। সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা ১০৭৪ জন পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ২৯৫, সিলেটে ১৪২, চট্টগ্রামে ২৪৬, রাজশাহীতে ৩৭, ময়মনসিংহে ৭২, বরিশালে ১৩২, খুলনায় ১২৬ এবং রংপুরে ২৪ জন আক্রান্ত হয়েছে।
নিশ্চিত হামে আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় ৬৩ জন, চট্টগ্রামে ৬৭ জন এবং খুলনায় ৯ জন রয়েছে।
হামের উপসর্গে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকায় তিনজন, সিলেটে একজন এবং চট্টগ্রামে দুইজনের।
গত মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ১০৬৬ জন মারা গেছেন।
এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ২২ হাজার ৭১২ জন। হাম রোগের উপসর্গ পাওয়া গেছে দুই লাখ ৭ হাজার ৩৭১ জনের মধ্যে।
হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৬৯ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭২ জন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পূর্বশত্রুতার কারণে এক কারাবন্দি কৃষকের পরিবারের দুই বিঘা জমির ফলন্ত লাউক্ষেত কেটে নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার ফলে পরিবারটির কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং তারা বর্তমানে আরও ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কায় ভুগছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ গণকপাড়া গ্রামের ফসলি জমির মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কৃষক শাহানুর মিয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে চলমান মামলা ও বিরোধের কারণে প্রায় এক মাস ধরে কারাবন্দি রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে পরিবারটি যখন চরম দুর্দিন পার করছে, ঠিক তখনই তাদের বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত নষ্ট করা হলো।
ক্ষতিগ্রস্ত লাউক্ষেতে দাঁড়িয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন কৃষানি লাবনী বেগম (৩০)। তিনি বলেন, "আমার স্বামী প্রতিপক্ষের করা মিথ্যা মামলায় এক মাস যাবৎ জেলে। অনেক কষ্ট ও স্বপ্ন নিয়ে দুই বিঘা জমিতে আমরা লাউ চাষ করেছিলাম। প্রতি সপ্তাহে পাঁচ শতাধিক লাউ মিলছিল। আজ ভোরে প্রতিপক্ষরা আমাদের স্বপ্নের লাউক্ষেত উপড়ে ফেলেছে। ফলে পরিবার নিয়ে আমি সর্বস্বান্ত। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।"
লাবনীর ১০ বছর বয়সী ছেলে, স্থানীয় বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র হাবিব হাসান জানায়, সকালে মায়ের সাথে সে জমিতে লাউ তুলতে যায়। সে সময় প্রতিপক্ষ সুখটু, আসমা, বেলাল, তারা ও রফিকুলকে কাস্তে হাতে লাউগাছের সুতা ও গাছ কাটতে দেখে। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী কৃষক শাহানুর মিয়ার পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী রফিকুল গংদের প্রায় ২০ বছর ধরে জমিজমা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জেরে বিভিন্ন সময় মামলা-মোকদ্দমা ও জেল-জুলুমের শিকার হতে হয়েছে তাদের। বর্তমানে প্রতিবেশীদের করা মিথ্যা মামলায় শাহানুর মিয়া প্রায় দেড় মাস ধরে জেলহাজতে রয়েছেন বলে দাবি তাদের। তার অবর্তমানে দুই বিঘা জমির লাউগাছ কেটে নষ্ট করার ঘটনাটিকে স্থানীয়রা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক উল্লেখ করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহল জানান, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। তিনি ভুক্তভোগী কৃষক পরিবারকে সম্ভাব্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আশ্বাসও দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারটি জানিয়েছে, এ ঘটনায় থানায় মামলা বা অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানানোর পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ