মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৫১ পি.এম
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পূর্বশত্রুতার কারণে এক কারাবন্দি কৃষকের পরিবারের দুই বিঘা জমির ফলন্ত লাউক্ষেত কেটে নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার ফলে পরিবারটির কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং তারা বর্তমানে আরও ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কায় ভুগছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ গণকপাড়া গ্রামের ফসলি জমির মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কৃষক শাহানুর মিয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে চলমান মামলা ও বিরোধের কারণে প্রায় এক মাস ধরে কারাবন্দি রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে পরিবারটি যখন চরম দুর্দিন পার করছে, ঠিক তখনই তাদের বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত নষ্ট করা হলো।
ক্ষতিগ্রস্ত লাউক্ষেতে দাঁড়িয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন কৃষানি লাবনী বেগম (৩০)। তিনি বলেন, "আমার স্বামী প্রতিপক্ষের করা মিথ্যা মামলায় এক মাস যাবৎ জেলে। অনেক কষ্ট ও স্বপ্ন নিয়ে দুই বিঘা জমিতে আমরা লাউ চাষ করেছিলাম। প্রতি সপ্তাহে পাঁচ শতাধিক লাউ মিলছিল। আজ ভোরে প্রতিপক্ষরা আমাদের স্বপ্নের লাউক্ষেত উপড়ে ফেলেছে। ফলে পরিবার নিয়ে আমি সর্বস্বান্ত। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।"
লাবনীর ১০ বছর বয়সী ছেলে, স্থানীয় বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র হাবিব হাসান জানায়, সকালে মায়ের সাথে সে জমিতে লাউ তুলতে যায়। সে সময় প্রতিপক্ষ সুখটু, আসমা, বেলাল, তারা ও রফিকুলকে কাস্তে হাতে লাউগাছের সুতা ও গাছ কাটতে দেখে। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী কৃষক শাহানুর মিয়ার পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী রফিকুল গংদের প্রায় ২০ বছর ধরে জমিজমা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জেরে বিভিন্ন সময় মামলা-মোকদ্দমা ও জেল-জুলুমের শিকার হতে হয়েছে তাদের। বর্তমানে প্রতিবেশীদের করা মিথ্যা মামলায় শাহানুর মিয়া প্রায় দেড় মাস ধরে জেলহাজতে রয়েছেন বলে দাবি তাদের। তার অবর্তমানে দুই বিঘা জমির লাউগাছ কেটে নষ্ট করার ঘটনাটিকে স্থানীয়রা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক উল্লেখ করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহল জানান, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। তিনি ভুক্তভোগী কৃষক পরিবারকে সম্ভাব্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আশ্বাসও দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারটি জানিয়েছে, এ ঘটনায় থানায় মামলা বা অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানানোর পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার জন্য দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিবন্ধন শুরু হওয়ার মাত্র ১২ দিনের মধ্যে ১৪২টি দেশ থেকে দেড় কোটির বেশি টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে। টিকিটের জন্য নিবন্ধনের শেষ সময় ২১ নভেম্বর।
এখনো প্রায় এক বছর বাকি রয়েছে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু হতে। তবে এর মধ্যেই টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো মাঠে বসে দেখার জন্য দর্শকদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) তথ্য অনুযায়ী, টিকিটের জন্য নিবন্ধন শুরুর ১২ দিনের মধ্যে মোট ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫২টি আবেদনের বিপরীতে নিবন্ধন করেছেন ৪৪ লাখ ২৩ হাজার ৪১৭ জন।
আইসিসি জানায়, বিশ্বের ১৪২টি দেশ থেকে এসব আবেদন জমা পড়েছে। টিকিটের চাহিদার দিক থেকে যুক্তরাজ্য শীর্ষে রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে।
আগামী বছরের ২ অক্টোবর শুরু হয়ে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১৪তম আসর। এবারের টুর্নামেন্ট দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। গত ১ অক্টোবর বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ করেছে আইসিসি।
আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্ত দর্শকদের এ ব্যাপক আগ্রহে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বিপুলসংখ্যক আবেদন ক্রিকেট বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তা ও আকর্ষণের পাশাপাশি আফ্রিকার পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আবেদনকে তুলে ধরছে।
আইসিসির বিবৃতিতে সংযোগ গুপ্ত বলেন, "টিকিটের অভূতপূর্ব চাহিদা ক্রিকেট বিশ্বকাপের মর্যাদা ও আকর্ষণের প্রমাণ।" একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আইসিসি ও এর অংশীদারদের প্রচারণা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
বিশ্বকাপ শুরু হতে প্রায় এক বছর বাকি থাকায় দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়াতে আইসিসির বিভিন্ন কার্যক্রম, একাধিক প্ল্যাটফর্মে প্রচারাভিযান এবং নানা ধরনের কনটেন্ট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য আইসিসির ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করা যাবে আগামী ২১ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, নিবন্ধনের শেষ সময় ২২ নভেম্বর ভোর ৩টা ৫৯ মিনিট।
টিকিটের জন্য নিবন্ধন করতে কোনো অর্থ দিতে হবে না। একজন দর্শক একটি ম্যাচের জন্য একবার আবেদন করতে পারবেন। তবে একাধিক ম্যাচের টিকিট পেতে চাইলে প্রতিটি ম্যাচের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করা যাবে।
টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে আগে আবেদন করলেই বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা প্রত্যেকের সুযোগ সমান থাকবে। কোনো ম্যাচের টিকিটের তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে লটারির মাধ্যমে টিকিট কেনার সুযোগ পাওয়া দর্শকদের নির্বাচন করা হবে।
লটারিতে নির্বাচিত ব্যক্তিদের ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে টিকিট কেনার পরবর্তী প্রক্রিয়া। নির্বাচিত না হলেও নিবন্ধনের সময় দেওয়া ইমেইল ঠিকানায় ফলাফল জানানো হবে।
অর্থাৎ, এখন পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়লেও আবেদনকারীরা এখনই টিকিট নিশ্চিত পাননি। বরং তাঁরা অংশ নিচ্ছেন টিকিট কেনার সুযোগ পাওয়ার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম রনির বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা এসব দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, ২০২০ সালের একটি ভিডিওতে চাকসু ভিপি ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম রনি পবিত্র কোরআনের আয়াত ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং বেগম খালেদা জিয়ার বাচনভঙ্গিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করেছেন। বিষয়টিকে ধর্মীয় মূল্যবোধের অবমাননা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করে সংগঠনটি।
এ সময় ছাত্রদল ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রশিবিরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। সংগঠনটির অভিযোগ, আন্দোলনের সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কমিটিতে অবস্থান করেছেন। এছাড়া ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে চাকসু ভিপির বিরুদ্ধে হল দখল, ক্যাম্পাস অবরুদ্ধ রাখা ও শিক্ষার্থী দাউদ সালমানকে কেন্দ্র করে মব সৃষ্টির অভিযোগও তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের ছয় দফা দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।
১. চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনির ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, তদন্তের ফলাফল প্রকাশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও চাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. পবিত্র কোরআনের আয়াত ও বেগম খালেদা জিয়ার বাচনভঙ্গিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপনের জন্য ইব্রাহিম রনিকে দেশ, দেশের জনগণ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
৩. ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ছাত্রশিবিরের ভূমিকা ও গুপ্ত রাজনীতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সামনে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
৪. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি বন্ধ করে স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য ছাত্ররাজনীতির পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. আবরার ফাহাদ হত্যার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ছাত্রশিবিরের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা, গুপ্ত ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং সন্দেহের রাজনীতি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
৬. ক্যাম্পাসের নারী শিক্ষার্থীদের চরিত্রহনন ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বিভিন্ন পেজের অ্যাডমিনদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং পেজগুলো বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানুষের সম্মান নিয়ে উপহাস গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দাবিগুলো বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন। অন্যথায়, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় ছাত্রদল নেবে না বলেও জানান তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্যস্ত জীবনে পর্যাপ্ত ঘুম যেন অনেকের কাছে বিলাসিতার সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজের চাপ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং যাতায়াতের ক্লান্তির কারণে ঘুমের সময় ক্রমাগত কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে জাপানে ঘুমের অভাব একটি পরিচিত সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটিতে আয়োজন করা হয়েছে একটি ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতা, যেখানে মাত্র ৯০ মিনিট ঘুমিয়ে ২০ লাখ ইয়েনের বেশি পুরস্কার জেতার সুযোগ রয়েছে, যা প্রায় ১৪ হাজার মার্কিন ডলার সমান।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার টোকিওতে গদি প্রস্তুতকারী একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ‘ম্যাট রেস’ নামের এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন কয়েক ডজন প্রতিযোগী। প্রতিযোগীদের আরামদায়ক গদি, মৃদু আলো এবং শান্ত পরিবেশে ঘুমানোর সুযোগ দেওয়া হয়। তবে, প্রতিযোগিতায় শুধু ঘুমিয়ে পড়া যথেষ্ট ছিল না; ঘুমের গভীরতা এবং প্রশান্তিও বিজয়ী নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রতিযোগীদের মাথায় বিশেষ পর্যবেক্ষণযন্ত্র পরানো হয়। এরপর তাদের আরামদায়ক গদিতে শুয়ে পড়তে বলা হয়। সর্বোচ্চ ৯০ মিনিট ঘুমানোর সুযোগ পান তারা। কে কত দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ছেন এবং কার ঘুম কতটা গভীর ও প্রশান্ত, তা পর্যবেক্ষণ করে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়।
মৃদু আলোয় সাজানো ঘরে কেউ কেউ ঘুমানোর সময় বুকে নরম খেলনা জড়িয়ে নেন। বাইরে থেকে দৃশ্যটি সাধারণ ঘুমের মতো মনে হলেও এর মধ্যেই চলছিল পুরস্কার জয়ের প্রতিযোগিতা।
আয়োজনটির পরিকল্পনা তত্ত্বাবধানকারী ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর রিইচিরো নাকামা বলেন, ‘জাপানকে প্রায়ই ঘুমের অভাবে ভোগা একটি দেশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এখানকার মানুষও অত্যন্ত কর্মঠ।’
ঘুমকে কেন্দ্র করে এমন আয়োজনের মাধ্যমে মানুষকে একসঙ্গে ঘুমানোর সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আশা করছেন আয়োজকেরা।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের মানুষ দিনে গড়ে ৭ ঘণ্টা ২৪ মিনিট ঘুমান। সংস্থাটির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এই সময় ছিল সবচেয়ে কম। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, যাতায়াতে বেশি সময় ব্যয় এবং রাতের ব্যস্ত বিনোদনজীবনকে জাপানিদের কম ঘুমানোর অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন ৩২ বছর বয়সী চিসাতো হোন্ডা। তিনি বলেন, ‘মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল। ইশ্, যদি আরেকটু বেশি সময় ঘুমাতে পারতাম!’
হোন্ডার ভাষায়, এটি ছিল আনন্দের একটি প্রতিযোগিতা।
এদিকে, প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন সুইমি। পুরস্কারের অর্থ দিয়ে নিজের বাসা বদলের খরচ মেটানোর পরিকল্পনা করেছেন তিনি। সুইমি বলেন, ‘আমি নিজের মতো করে থাকতে চাই। তাই পুরস্কারের অর্থ দিয়ে বাসা বদলের খরচ মেটানোর কথা ভাবছি।’
শুধু বাসা বদল নয়, নিজের জন্য রাজকুমারীর মতো একটি বিছানা কেনারও ইচ্ছা রয়েছে তার। সুইমির কথায়, ‘আমি রাজকুমারীর মতো একটি বিছানাও চাই। তাই সেই বিছানাটি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।’
ঘুম নিয়ে এমন ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতা একদিকে যেমন আনন্দের উপলক্ষ, অন্যদিকে তেমনি জাপানের কর্মব্যস্ত জীবনে পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তাও সামনে নিয়ে এসেছে। যে ঘুমের জন্য প্রতিদিন সময় বের করাই অনেকের কাছে কঠিন, সেই ঘুমই এবার হয়ে উঠেছে পুরস্কার জয়ের মাধ্যম।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, তরুণদের অবদানই দেশকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে ভয়াবহ দুঃশাসনের মধ্যেও তরুণরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের বিষয়ে চিন্তা করেছেন এবং সাহসের সঙ্গে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন। তাদের এই প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত ‘দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি: রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, দীর্ঘ সময়ের ভয়াবহ দুঃশাসনের পর ছাত্র-জনতার উত্থান ঘটে। এরপর প্রায় দেড় বছরের মধ্যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার ক্ষমতায় আসে। তবে নতুন সরকারকে উত্তরাধিকার সূত্রে ব্যাংক লুটপাট, অর্থ পাচার, আর্থিক খাতের চরম অব্যবস্থাপনা ও লুটপাটের মতো বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের ব্যাংক, বীমা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছিল। দেশে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছাই ছিল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। সরকারি প্লট থেকে শুরু করে কৃষিজমি ও গৃহস্থের গবাদিপশু পর্যন্ত প্রভাবশালীদের পছন্দ অনুযায়ী দখল করা হতো। দেশ তখন ভয়াবহ অন্ধকারে ছিল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত এই মহাসচিব উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৬ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বোঝা বর্তমানে সরকারের ওপর পড়েছে। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা ঋণের নামে লুটপাট করেছেন। এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার দায় বর্তমান বিএনপি সরকারের নয়, বরং অতীতের লুটপাটনির্ভর অর্থনীতি থেকে দেশকে পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ