ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ


শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ

রাতের নির্জন সময়ে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হওয়ার জন্য অন্যতম উত্তম মাধ্যম হলো তাহাজ্জুদ নামাজ। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ঘুম থেকে জেগে আদায় করা এই নফল নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব। একই সঙ্গে গুনাহ মাফ ও আত্মশুদ্ধির সুযোগও রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাহাজ্জুদের প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, "তোমরা কিয়ামুল লাইলের (তাহাজ্জুদ নামাজ) প্রতি যত্নবান হও। কেননা তা তোমাদের আগের নেককারদের অভ্যাস এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ মাধ্যম। আর তা পাপরাশি মোচনকারী এবং গুনাহ থেকে বাধা দানকারী।" (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৫৪৯)

ফরজ নামাজের পর নফল নামাজের মধ্যে তাহাজ্জুদ বিশেষ মর্যাদা রাখে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "ফরজ নামাজের পর সর্বশ্রেষ্ঠ নামাজ হলো রাতের নামাজ।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬৩)

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ: সিস্টার ডেইজির জীবনের গল্প

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগেও রাসুলুল্লাহ (সা.) তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। আল্লাহ তাআলা নবীজি (সা.)-কে রাতের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়ে বলেন, "হে চাদরে আবৃত (ব্যক্তি), রাতে নামাজে দাঁড়াও, তবে (রাতের) কিছু অংশ ছাড়া, রাতের অর্ধেক (সময় দাঁড়াও) কিংবা তার থেকে কিছুটা কম করো, অথবা তার চেয়ে বাড়াও, আর ধীরে ধীরে সুস্পষ্টভাবে কোরআন পাঠ করো।" (সুরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত : ১-৪)

তাহাজ্জুদের নিয়ত

তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য বিশেষ কোনো নিয়ত নেই। আরবিতে নিয়ত করাও আবশ্যক নয়। নামাজে দাঁড়ানোর সময় ব্যক্তি জানেন যে তিনি তাহাজ্জুদ আদায় করছেন, এটাই নিয়ত।

যেভাবে আদায় করবেন

আরও পড়ুন: শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা পুত্রবধূর জন্য বাধ্যতামূলক নয়, জানুন ইসলামের বিধান

তাহাজ্জুদ একটি নফল নামাজ। সাধারণত এশার নামাজের পর ঘুমিয়ে শেষ রাতে, বিশেষ করে সাহরির সময়ের আগে জেগে এটি আদায় করা উত্তম। ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগেই তাহাজ্জুদ আদায় করতে হয়।

তাহাজ্জুদ দুই রাকাত করে আদায় করা হয়। অন্যান্য নফল নামাজের মতোই এর নিয়ম। এ নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সুরা নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ কিরাতসহ তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী দীর্ঘ কিরাত পড়া উত্তম। দুই রাকাত করে যত ইচ্ছা পড়া যায়; নির্দিষ্ট কোনো রাকাতসংখ্যা বাধ্যতামূলক নয়।

তাহাজ্জুদের মাধ্যমে শুধু ইবাদতের সুযোগই নয়, পরিবারকে নিয়ে রাতের ইবাদতে অংশ নেওয়ারও সুযোগ তৈরি হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আল্লাহ ওই ব্যক্তির ওপর রহমত নাজিল করেন, যে রাতে নিদ্রা থেকে জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে এবং তার স্ত্রীকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে দেয়। এরপর সে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৩০৮)

তাহলে রাতের শেষভাগে ঘুম থেকে উঠে কিছু সময় আল্লাহর ইবাদতে কাটানো একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনন্য সুযোগ হতে পারে।

আরও পড়ুন: অন্যের গোপন তথ্য ফাঁসের শাস্তি ঘোষণা করলেন আল্লাহ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লবণ কম খাওয়ার ৬টি সহজ কৌশল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৩ পি.এম


লবণ কম খাওয়ার ৬টি সহজ কৌশল

প্রতিদিন শরীরের জন্য প্রয়োজন অল্প পরিমাণ লবণ। কারণ, লবণে উপস্থিত সোডিয়াম বিভিন্ন শারীরিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্তচাপ বৃদ্ধি করে এবং হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কম সোডিয়ামযুক্ত খাবার গ্রহণের একটি পরিচিত পদ্ধতি হলো ড্যাশ খাদ্যপদ্ধতি। এই খাদ্যপদ্ধতিতে বেশি পরিমাণে ফল, সবজি ও পূর্ণ শস্য থাকে; বাদাম ও কম চর্বিযুক্ত দুধজাত খাবার থাকে পরিমিত পরিমাণে এবং লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংসের পরিমাণ থাকে কম। এই ধরনের খাবার রক্তচাপ কমাতে এবং হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়তা করে।

তবে সোডিয়াম কমানোর জন্য শুধুমাত্র এই খাদ্যপদ্ধতি অনুসরণ করা আবশ্যক নয়। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কিছু সহজ পরিবর্তন এনে লবণের পরিমাণ কমানো সম্ভব।

১. প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান

কৌটাজাত, প্রক্রিয়াজাত এবং হিমায়িত খাবারে অনেক সময় অতিরিক্ত লবণ থাকে। তাই সম্ভব হলে তাজা বা খুব কম প্রক্রিয়াজাত খাবার বেছে নেওয়া উচিত।

ফল, সবজি, পূর্ণ শস্য, বাদাম ও ডালজাতীয় খাবার বেশি রাখলে খাবারে অতিরিক্ত লবণের ওপর নির্ভরতা কমানো সহজ হয়ে যায়।

২. খাবারের গায়ে লেখা তথ্য দেখুন

প্রক্রিয়াজাত খাবার কেনার সময় প্যাকেটের গায়ে থাকা পুষ্টিগুণের তথ্য দেখে নেওয়া উচিত। কম সোডিয়ামযুক্ত পণ্য বেছে নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

বিশেষ করে প্রতি পরিবেশনে সোডিয়ামের পরিমাণ কত, তা দেখে পণ্য নির্বাচন করা ভালো।

৩. কোন খাবারে লুকিয়ে থাকে বেশি লবণ, জানুন

অনেক খাবার স্বাদে খুব বেশি লবণাক্ত মনে না হলেও সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। পিৎজা, সাদা পাউরুটি, প্রক্রিয়াজাত পনির, সসেজ, সসযুক্ত পাস্তা, হ্যাম, টমেটোর সস, রান্না করা ভাত ও ময়দার রুটির মতো খাবারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোডিয়াম থাকতে পারে।

তাহলে এসব খাবার নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে না খেয়ে খাদ্যতালিকায় সীমিত রাখা উচিত।

৪. বাইরে খাওয়ার সময় সতর্ক থাকুন

হোটেল, রেস্তোরাঁ বা দ্রুত খাবারের (Instant Food) দোকানের কিছু খাবারে অত্যধিক সোডিয়াম থাকতে পারে। কিছু খাবারে একবারের পরিবেশনেই ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মিলিগ্রাম পর্যন্ত সোডিয়াম থাকতে পারে, যা স্বাস্থ্যকর দৈনিক সীমার প্রায় চার গুণ।

তাহলে বাইরে খাওয়ার সময় অতিরিক্ত বড় পরিবেশন এড়িয়ে চলা উচিত। চাইলে খাবার ভাগ করে খাওয়া যেতে পারে অথবা কম সোডিয়ামযুক্ত খাবার বেছে নেওয়া উচিত। সম্ভব হলে খাবারে কম লবণ দেওয়ার জন্য আগে থেকেই অনুরোধ করা উচিত।

৫. লবণের হিসাব বুঝে ব্যবহার করুন

দিনের খাবারে যে পরিমাণ লবণ খেতে পারেন, তা অস্বাস্থ্যকর নোনতা খাবার বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে খরচ না করে স্বাস্থ্যকর খাবারের স্বাদ বাড়াতে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত।

ফল, সবজি, পূর্ণ শস্য, বাদাম, ডালসহ স্বাস্থ্যকর খাবারে পরিমিত লবণ ব্যবহার করলে খাবারের স্বাদ বজায় থাকে, আবার অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণের ঝুঁকিও কমে।

৬. জিহ্বাকে কম লবণের স্বাদে অভ্যস্ত করুন

হঠাৎ করে লবণ একেবারে কমিয়ে দিলে খাবার বিস্বাদ মনে হতে পারে। তবে ধীরে ধীরে লবণের পরিমাণ কমালে স্বাদের সঙ্গে জিহ্বাও মানিয়ে নিতে পারে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, কম সোডিয়ামযুক্ত খাবারও মানুষ অনেকটা স্বাভাবিক খাবারের মতো উপভোগ করতে পারে। তাই অল্প অল্প করে লবণ কমানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নিয়মিত এই পরিবর্তন চালিয়ে গেলে একসময় অতিরিক্ত লবণের প্রয়োজনীয়তাও কমে আসবে।

লবণ খাওয়া কমানো কেন জরুরি

শরীরের জন্য সোডিয়াম প্রয়োজন হলেও অতিরিক্ত সোডিয়াম ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হৃদযন্ত্র ও রক্তনালিকে সুস্থ রাখতে খাবারে অতিরিক্ত লবণ কমানো গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে একবারে বড় পরিবর্তন না এনে প্রতিদিনের খাবারে ছোট ছোট পরিবর্তন আনা যেতে পারে। ধীরে ধীরে কম লবণের স্বাদে অভ্যস্ত হওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার সহজ উপায় হতে পারে।

সূত্র: হার্ভার্ড

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় রাবির জিয়া হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৩ পি.এম


সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় রাবির জিয়া হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সাংবাদিকদের দাবির প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রশাসন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে আন্দোলনরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, "সাংবাদিকদের সেন্টিমেন্টের প্রতি আমরা সম্মান জানিয়ে জিয়া হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি দিয়েছি। বাদবাকি বিষয়গুলো তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।"

এ বিষয়ে আন্দোলনরত সাংবাদিকরা জানান, তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ছয়টি দাবি জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি দাবি তারা মেনে নিয়েছে—হল প্রভোস্টকে অব্যাহতি দেওয়ার মাধ্যমে। বাকি পাঁচটি দাবি বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসন তিন দিন সময় চেয়েছে।

তারা আরও বলেন, "আমরা চাই, এই তিন দিনের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।"

হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটার পরও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। হামলার সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হলেও তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকরা। পরে হামলার গুরুত্বপূর্ণ ওই ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগও ওঠে। সাংবাদিকদের দাবি, হামলার সময় ও পরবর্তী পরিস্থিতি হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতেই ঘটলেও তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেননি।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রভোস্টকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। তবে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করে হল প্রভোস্ট দাবি করেছেন, সংস্কারকাজ চলায় সিসিটিভি সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল এবং সেখানে কোনো ফুটেজ সংরক্ষিত ছিল না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোজ এক কাপ চায়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমতে পারে, বলছে গবেষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


রোজ এক কাপ চায়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমতে পারে, বলছে গবেষণা

প্রতিদিন অন্তত এক কাপ চা পানকারী ব্যক্তিদের হৃদস্বাস্থ্যে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যেতে পারে। একটি নতুন গবেষণার ফলাফল নির্দেশ করে, যারা প্রতিদিন অন্তত এক কাপ চা পান করেন, তাদের হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা চা না পানকারীদের তুলনায় কম দেখা গেছে।

তবে এই গবেষণাটি চা পান করলেই হৃদরোগ প্রতিরোধ হয়—এমন কোনো প্রমাণ প্রদান করেনি। চা পানকারীদের অন্যান্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাসও এই ফলাফলের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণায় যা পাওয়া গেছে

গবেষণাটিতে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক ৬ হাজার ৫০৮ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণা শুরু হওয়ার সময় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কেউই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন না।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ১৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা প্রতিদিন অন্তত এক কাপ চা পান করেন। অপরদিকে, প্রায় ৫১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী দিনে এক কাপ বা তার বেশি কফি পান করার কথা জানিয়েছেন।

প্রায় ১১ বছর ধরে তাদের স্বাস্থ্যগত তথ্য পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

ধমনিতে চর্বির আস্তরণ কম গতিতে জমেছে

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন অন্তত এক কাপ চা পান করেন, তাদের হৃদযন্ত্রের ধমনিতে চর্বি ও অন্যান্য উপাদান জমে আস্তরণ তৈরি হওয়ার গতি তুলনামূলকভাবে ধীর ছিল।

চা না পানকারীদের সঙ্গে তুলনা করে গবেষকেরা লক্ষ্য করেছেন, নিয়মিত চা পানকারীদের হৃদরোগজনিত বিভিন্ন ঘটনার হারও কম ছিল।

হৃদরোগ, স্ট্রোক ও মৃত্যুঝুঁকি ২৯ শতাংশ কম

গবেষণায় প্রতিদিন অন্তত এক কাপ চা পানকারীদের মধ্যে হৃদযন্ত্রে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া, মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে সমস্যা এবং হৃদরোগে মৃত্যুর ঘটনা ২৯ শতাংশ কম দেখা গেছে।

তবে একই ধরনের উপকার কফি পানকারীদের মধ্যে দেখা যায়নি।

শুধু চাকেই কৃতিত্ব দেওয়া যাচ্ছে না

গবেষকেরা বয়স, শরীরের ওজন ও ধূমপানের অভ্যাসসহ ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে এমন বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়েছেন। তবুও গবেষণার ফলাফল থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে চা পান করাই হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়েছে।

কারণ নিয়মিত চা পানকারী ব্যক্তিদের জীবনযাপন বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাসও এই ফলাফলের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

সুতরাং, গবেষণাটি চা পান ও তুলনামূলক ভালো হৃদস্বাস্থ্যের মধ্যে একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত দিলেও, চা হৃদরোগ প্রতিরোধ করে—এমন সরাসরি প্রমাণ দেয় না।

সূত্র: হার্ভার্ড

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়েতে ৪১৫ জনের নাগরিকত্ব বাতিল, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


কুয়েতে ৪১৫ জনের নাগরিকত্ব বাতিল, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ

কুয়েতের সরকারি গেজেট কুয়েত আল ইয়ৌমে প্রকাশিত ছয়টি অধ্যাদেশের মাধ্যমে ৪১৫ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) গেজেটে প্রকাশিত এসব অধ্যাদেশের আওতায় নির্ভরশীল সূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিরাও পড়েছেন।

গেজেটে কোন ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নাগরিকত্ব হারানোদের মধ্যে রয়েছেন কুয়েতের আবাসন খাতের পরিচিত ধনকুবের ব্যবসায়ী মাহমুদ হায়দার। তিনি জুমুরুদ হোল্ডিংয়ের চেয়ারম্যান এবং কয়েকটি স্থানীয় ব্যাংকে তার বিপুল পরিমাণ শেয়ার রয়েছে।

অধ্যাদেশ নং ১৫৫ এ ছয়জন, ১৫৬ এ ২৮৬ জন, ১৫৭ এ ১৪ জন নারী, ১৫৮ এ ২৫ জন, ১৫৯ এ ৪১ জন এবং ১৬০ এ ৪৩ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় তালিকা ১৫৬ নম্বর অধ্যাদেশের। নাগরিকত্ব হারানো ব্যক্তিদের ওপর নির্ভরশীলদের অন্তর্ভূক্ত করলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

আমিরের নামে জারি করা এই অধ্যাদেশগুলো গত সেপ্টেম্বরে আল সাইফ প্রাসাদে স্বাক্ষরিত হয়। এগুলো কার্যকর করার দায়িত্বে রয়েছেন প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

১৯৫৯ সালের নাগরিকত্ব আইনের ২১ ধারার (ক) অনুচ্ছেদে জালিয়াতি, মিথ্যা বিবৃতি বা ভুল সাক্ষ্যের মাধ্যমে পাওয়া নাগরিকত্ব সনদ প্রত্যাহারের সুযোগ আছে। কুয়েতের আইনে দ্বৈত নাগরিকত্বও নিষিদ্ধ।

এটি দেশটির জাতীয় নাগরিকত্ব পর্যালোচনার ধারাবাহিক অভিযানের অংশ। ২০২৫ সালে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নাগরিকত্ব হারিয়েছেন। চলতি বছরের জুনে আটটি অধ্যাদেশে আরও দুই হাজারের বেশি মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, এই পর্যালোচনায় কেউ ছাড় পাচ্ছেন না।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, এই অভিযানে কিছু মানুষ রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকে বিয়ের সূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া নারী।

কুয়েতের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৪৯ লাখ, যার বড় অংশই প্রবাসী। দেশটির এই কঠোর অবস্থানের পেছনে জাতীয় পরিচয় রক্ষার যুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%