ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জেনে নিন সুগন্ধি দীর্ঘদিন ভালো রাখার সহজ উপায়


জেনে নিন সুগন্ধি দীর্ঘদিন ভালো রাখার সহজ উপায়

প্রিয় পারফিউমটি কিছুদিন ব্যবহারের পর আগের মতো ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে না, এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। তবে এর জন্য সবসময় সুগন্ধির মান বা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যায় না। ভুলভাবে সংরক্ষণের কারণে পারফিউমের কার্যকারিতা ও সুবাস নষ্ট হতে পারে।

তাপ, আলো, আর্দ্রতা ও বাতাসের সংস্পর্শে পারফিউমের সুগন্ধি উপাদান ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়ে যায়। তবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে দীর্ঘদিন সুগন্ধি ভালো রাখা সম্ভব। পারফিউম রাখার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান হলো ঠান্ডা, অন্ধকার ও শুষ্ক জায়গা। শোবার ঘরের ড্রয়ার বা আলমারির ভেতর এ ক্ষেত্রে উপযোগী। পারফিউম কেনার সময় পাওয়া বাক্সটিও ফেলে না দিয়ে ব্যবহার করা উচিত, কারণ এতে বোতলটি আলো থেকে সুরক্ষিত থাকে।

অনেকে পারফিউম দীর্ঘদিন ভালো রাখার জন্য ফ্রিজে রাখেন। তবে নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত প্রয়োজন হয় না। বরং বাথরুমে পারফিউম রাখা এড়িয়ে চলা উচিত। গোসলের সময় তৈরি হওয়া তাপ ও আর্দ্রতার কারণে বাথরুমের তাপমাত্রা বারবার পরিবর্তিত হয়, যা সুগন্ধির উপাদানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন: পূজার ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ দ্বীপ চর হেয়ার ঘুরে আসুন

এ ছাড়া জানালার পাশে বা সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে এমন স্থানে পারফিউম রাখা ঠিক নয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সুগন্ধি তেলের রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে ধীরে ধীরে এর স্বাভাবিক সুবাস নষ্ট হয়ে যায়।

পারফিউম ব্যবহারের পর বোতলের ঢাকনা ভালোভাবে বন্ধ করে রাখা জরুরি। বোতল খোলা থাকলে বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে দীর্ঘদিনে সুগন্ধির উপাদানে পরিবর্তন ঘটতে পারে। তাই স্প্রে বোতল ব্যবহার করা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক।

অন্যদিকে, পারফিউমের সুবাস শরীরে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। শুষ্ক ত্বকের তুলনায় আর্দ্র ত্বকে সুগন্ধি বেশি সময় স্থায়ী হয়। তাই পারফিউম ব্যবহারের আগে সুগন্ধিহীন ময়েশ্চারাইজার বা বডি লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে।

পারফিউম স্প্রে করার পর কবজি দুটো পরস্পরের সঙ্গে ঘষা উচিত নয়। এতে ঘর্ষণ ও তাপের কারণে সুগন্ধির ওপরের স্তরের ঘ্রাণ দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। স্প্রে করার পর স্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে যেতে দেওয়া ভালো। ঘাড়, কবজি, কানের পেছনে ও কনুইয়ের ভাঁজের মতো পালস পয়েন্টে পারফিউম ব্যবহার করলে শরীরের উষ্ণতায় সুবাস ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সাধু-গুরু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে আজ

পারফিউম নষ্ট হয়ে গেলে সাধারণত কিছু লক্ষণ দেখা যায়। রং অস্বাভাবিকভাবে বাদামি হয়ে যাওয়া, তরল ঘন হয়ে যাওয়া কিংবা ভিনেগারের মতো গন্ধ পাওয়া এসব পরিবর্তন দেখা দিলে বুঝতে হবে সুগন্ধিটির গুণগত মান নষ্ট হয়ে গেছে।

তাহলে প্রিয় পারফিউম দীর্ঘদিন ভালো রাখতে হলে ঠান্ডা ও অন্ধকার স্থানে সংরক্ষণ, আর্দ্রতা ও সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং ব্যবহারের পর বোতলের ঢাকনা ভালোভাবে বন্ধ রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শত বছর পর বলিভিয়ায় নতুন প্রজাতির ক্ষুদ্র বন্য বিড়ালের সন্ধান মিলল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২২ পি.এম


শত বছর পর বলিভিয়ায় নতুন প্রজাতির ক্ষুদ্র বন্য বিড়ালের সন্ধান মিলল

দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়ার মেঘে ঢাকা পাহাড়ি বনাঞ্চলে একটি নতুন প্রজাতির ক্ষুদ্র বন্য বিড়ালের সন্ধান পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের কাছে ‘তিলকায়ো’ নামে পরিচিত এই বিড়ালটি জিনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিজ্ঞানীদের দ্বারা নতুন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পরে জীবিত বিড়ালের নতুন কোনো প্রজাতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নামকরণ ও বর্ণনা করা হলো।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, তিলকায়ো বলিভিয়ার ইয়ুংগাসের ঘন পাহাড়ি বনে বাস করে, যেখানে অঞ্চলটি প্রায়ই মেঘে ঢাকা থাকে এবং আর্দ্রতাও অনেক বেশি। প্রাণীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৬ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ১ দশমিক ৪ কেজি, যা সাধারণ গৃহপালিত বিড়ালের তুলনায় ছোট।

গবেষকেরা নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘লেপারডাস তিলকায়ো’ দিয়েছেন, যা স্থানীয় নামটিও ধারণ করে। প্রাণীটির গায়ের লোম হালকা বাদামি এবং শরীরজুড়ে অনিয়মিত আকৃতির গোলাকার দাগ রয়েছে।

গবেষক পাওলা নোগালেস-আসকারুনস জানিয়েছেন, প্রাণীটির জীবনযাপন ও স্বভাব সম্পর্কে এখনও খুব বেশি তথ্য জানা যায়নি। এর মল পরীক্ষা করে ছোট ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর দেহাবশেষ পাওয়া গেছে, যা ইঙ্গিত করে যে, এ ধরনের প্রাণী এর খাদ্যের অংশ হতে পারে। ক্যামেরায় ধারণ করা ছবিতে দেখা গেছে, এটি রাতে বেশি সক্রিয় হতে পারে।

গবেষকদের মতে, বাঘবিড়াল গোত্রের প্রাণীগুলো দেখতে অনেকটা একই রকম হওয়ায় বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে তাদের আলাদা করা কঠিন। এই কারণেই আগে বাঘবিড়ালকে একটি মাত্র প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে কয়েক দশক আগে জিনগত গবেষণায় একাধিক প্রজাতির অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

নতুন প্রজাতিটি শনাক্ত করতে দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করা ৩৮টি বাঘবিড়ালের জিনগত নমুনা পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে আটটি ছিল জাদুঘরে সংরক্ষিত নমুনা। গবেষণায় দেখা যায়, বাঘবিড়াল আসলে জিনগতভাবে স্বতন্ত্র পাঁচটি প্রজাতির সমষ্টি।

গবেষকদের জিনগত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তিলকায়োর বংশধারা প্রায় ১৪ লাখ বছর আগে অন্য বাঘবিড়াল থেকে আলাদা হয়ে যায়। গবেষকদের মতে, বিড়ালের ক্ষেত্রে এত দীর্ঘ সময় ধরে জিনগত পার্থক্য থাকা সাধারণত আলাদা প্রজাতির বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

গবেষকেরা এখন পর্যন্ত দুটি জীবিত তিলকায়োকে পরীক্ষা করেছেন। এর মধ্যে একটি ১০ বছর বয়সী পুরুষ বিড়াল বর্তমানে সেন্দা ভার্দে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে রয়েছে। এর আগে স্থানীয় একটি পরিবার প্রাণীটিকে নিজেদের বাড়িতে রেখেছিল।

গবেষণায় পেরুর ইয়ুংগাস অঞ্চলে বাঘবিড়ালের আরেকটি নতুন উপপ্রজাতির সন্ধানও পাওয়া গেছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘লেপারডাস তিগ্রিনাস আন্তিসুয়ো’। ওই অঞ্চলের প্রাচীন ইনকা সাম্রাজ্যের একটি এলাকার নাম অনুসারে উপপ্রজাতিটির নামকরণ করা হয়েছে।

গবেষকেরা তাদের নতুন তথ্য আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থার কাছে জানিয়েছেন। সংস্থাটি ভবিষ্যৎ পর্যালোচনায় বাঘবিড়ালের পাঁচটি পৃথক বংশধারার ঝুঁকি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করবে, যা প্রতিটি প্রজাতির প্রকৃত বিপন্নতার মাত্রা আরও স্পষ্ট করতে পারে। এমনকি তিলকায়োকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হলে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।

তিলকায়োর আবাসস্থল ইয়ুংগাস অঞ্চলের পাহাড়ি বন বর্তমানে বড় ধরনের হুমকির মুখে রয়েছে। বন উজাড়, কৃষি সম্প্রসারণ, মানুষের কারণে সৃষ্ট আগুন এবং খনির কার্যক্রমের কারণে এই বনাঞ্চলের ওপর চাপ বাড়ছে। গবেষকেরা মনে করেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বন পুনরুদ্ধার, অবশিষ্ট প্রাকৃতিক বন রক্ষা এবং বিভিন্ন আবাসস্থলের মধ্যে সংযোগ বজায় রাখা জরুরি।

গবেষকদের মতে, বিড়ালের মতো পরিচিত প্রাণীগোষ্ঠীর মধ্যেও নতুন প্রজাতি আবিষ্কৃত হচ্ছে—এটি বিশ্বে আরও অনেক অজানা প্রাণীর অস্তিত্বের ইঙ্গিত দেয়। তবে সেগুলো আবিষ্কারের আগেই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

সূত্র: সিএনএন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝিনাইদহের প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৩ পি.এম


ঝিনাইদহের প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝড়

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, পুকুর ইজারায় নিয়ম না মানা, আয়-ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে তছরুপ, মুভমেন্ট রেজিস্টার না থাকা, অনলাইন ও শ্রেণিভিত্তিক রেজিস্টার খাতায় শিক্ষার্থীর সংখ্যার অমিল, একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীকে একই কক্ষে পাঠদান, নিয়মিত পাঠদান ও শ্রেণি পর্যবেক্ষণ না করা, স্লিপের অর্থ ভুয়া বিল-ভাউচারে উত্তোলন এবং ভারতীয় সনদ ব্যবহার করে চাকরিতে যোগদানের অভিযোগ।

বিদ্যালয়ে প্রকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৪ জন হলেও মাসিক রিটার্নে ৫৯ জন দেখানো হয়েছে। কাগজে-কলমে ভুয়া ১৫ জন শিক্ষার্থী দেখানো হলেও বাস্তবে তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। অর্থাৎ, বিদ্যালয়ে প্রায় ৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে মোট পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন।

জানা গেছে, প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণিতে আটজন শিক্ষার্থী থাকার পরও রিটার্নে ১৪ জন দেখানো হয়েছে। প্রথম শ্রেণিতে ১৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, কিন্তু রিটার্নে ১৩ জনই দেখানো হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাঁচজন শিক্ষার্থী থাকলেও রিটার্নে সাতজন দেখানো হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণিতে রিটার্নে ১০ জন দেখানো হলেও বাস্তবে আছে আটজন। চতুর্থ শ্রেণিতে রিটার্নে নয়জন দেখানো হলেও বাস্তবে সাতজন শিক্ষার্থী রয়েছে। সর্বশেষ পঞ্চম শ্রেণিতে রিটার্নে ছয়জন উল্লেখ আছে, কিন্তু বাস্তবে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছে।

প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণির ইয়ামিন এবং প্রথম শ্রেণির ইয়াসিন ও রমজান নামের দুই শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় ভর্তি হলেও সরকারি বিদ্যালয়ের উপবৃত্তির তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থী কম থাকলেও বেশি দেখিয়ে এবং নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করছেন প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদ। এদিকে, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পিয়ার মোহাম্মদ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯০ সালে যোগদান করেন। চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাশের সনদ ব্যবহার করেছেন বলে জানা গেছে। পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৯৮৮ সালে আলিম এবং ১৯৯০ সালে ফাজিল পরীক্ষার সনদের কপি জমা দিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে তার ব্যবহৃত ভারতীয় সনদের সত্যতা এবং তা যথাযথ নিয়ম অনুসারে ও বৈধভাবে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো বিদেশি ডিগ্রিধারী চাকরিপ্রার্থী যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (ইউজিসি বা শিক্ষা বোর্ড) থেকে সমতা সনদ বা ‘ইকুইভ্যালেন্সি সার্টিফিকেট’ জমা দিতে পারেন, তবে তিনি সরকারি চাকরির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এ ক্ষেত্রে পিয়ার মোহাম্মদ সমতা সনদ জমা দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ২০২৪ সালের পুকুর ইজারা বাবদ পাওয়া অর্থের যথাযথ হিসাব না থাকা এবং ২০২৬ সালে পুকুর ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রেও যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করে পছন্দের ব্যক্তিকে ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইজারা দেওয়ার পর বিষয়টি বৈধতা দেওয়ার জন্য পরবর্তী সময়ে ব্যাকডেটে রেজুলেশন তৈরি করে অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রেজুলেশন, ব্যাংক হিসাব, ইজারা-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও অর্থ জমার সময় যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্লিপের টাকা খরচ দেখিয়ে বিভিন্ন ভুয়া বিল-ভাউচারে প্রধান শিক্ষক নিজের হাতে লিখে টাকা উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ। ওইসব বিল-ভাউচার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কালীগঞ্জে অবস্থিত তুষার ইলেকট্রিক থেকে পেপার ও প্রিন্টার মেশিনের টোনার কেনা হয়েছে। অথচ ওই দোকানে এ ধরনের মালামাল বিক্রি হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি বিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে জড়িয়ে সহকারী শিক্ষক শাহ আলমকে কর্মরত অবস্থায় মারধরের ঘটনায় তিনি সাময়িক বরখাস্ত হন এবং ওই পরিবারের একজন তাঁর নামে থানায় মামলা করেন। উক্ত ঘটনায় শাহ আলম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং জামিনে মুক্ত হয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে দ্রুত সিআর ৫২/২০২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেন। ঝিনাইদহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলাটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে ১৪ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম এবং চাকরিতে যোগদানের সময় ভারতীয় সনদ ব্যবহারের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, "বিদ্যালয় টিকিয়ে রাখতে অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থী বেশি দেখানো হয়েছে। স্লিপের টাকা নিয়ম মেনে খরচ করা হয়েছে। পুকুর ইজারা দেওয়া এবং সেখান থেকে আয় হওয়া অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে আমার শিক্ষাগত যোগ্যতার ভারতীয় সনদ যথাযথ নিয়ম মেনেই ব্যবহার করা হয়েছে। ইতিপূর্বে তা কর্তৃপক্ষ একাধিকবার যাচাই-বাছাই করলেও কোনো ত্রুটি পায়নি। সহকারী শিক্ষক শাহ আলম ও একজন শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রেক্ষিতেই শাহ আলম কোর্টে মামলা করেছেন, যে বিষয়টি ইতিমধ্যে আমি জেনেছি। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যে ওই বিষয়েও সুষ্ঠু মীমাংসা হয়ে যাবে।"

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামানের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে যেসব অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা, রিটার্ন, পুকুর ইজারা, আয়-ব্যয়ের হিসাব, স্লিপের অর্থ ব্যয় এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে দেখা হবে। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্তের বিষয়টিও যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হবে।"

ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, "সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী-সংক্রান্ত তথ্য, আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রধান শিক্ষকের শিক্ষাগত সনদ ও চাকরিতে যোগদানের সময় ব্যবহৃত কাগজপত্র নিয়েও যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে প্রকৃত বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হিলিতে শিয়ালের কামড়ে নারী-শিশুসহ ৮ জন আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৪ পি.এম


হিলিতে শিয়ালের কামড়ে নারী-শিশুসহ ৮ জন আহত

দিনাজপুরের হিলির সাদুরিয়া এলাকায় শিয়ালের কামড়ে নারী ও শিশুসহ আটজন আহত হয়েছেন।

এটি ঘটে সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাদুরিয়া গ্রামের শেফালী বেগম (৩০), শিউলি (২৭), দেবাশী (৪৩), ডলি বেগম (৩০), ইয়াসিন আরাফাত (১১), সুফিয়ান (৩৯), মমতাজ (৫৫) এবং রাহুল আমিন (৯)।

আহতরা জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাদুরিয়া গ্রামের একটি মুদি দোকানের সামনে স্থানীয় কয়েকজন মানুষ বসে সময় কাটাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে একটি শিয়াল ধানখেত থেকে বের হয়ে এসে তাদের ওপর হামলে পড়ে এবং কামড় দেয়। স্থানীয় লোকজন শিয়ালটিকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে শিয়ালটি তাদেরকেও কামড় দেয়। এভাবে বেশ কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশুকে কামড়ে আহত করে শিয়ালটি।

আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা শেষে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. তৌহিদ হোসেন জামান জানান, রাত ১০টা পর্যন্ত নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট আটজন শিয়ালের কামড়ে আহত রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি গ্রামের পাড়া-মহল্লাগুলোতে শিয়ালের উপদ্রব বেড়েছে। এতে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৮০ কর্মকর্তাকে বিশেষ নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৪ পি.এম


প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৮০ কর্মকর্তাকে বিশেষ নির্দেশনা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৮০ কর্মকর্তাকে দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও থানায় পাঠানোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, যা প্রাথমিক শিক্ষার মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন, পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণের জন্য।

এই নির্দেশনা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আগস্ট মাসের মাসিক সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জারি করা হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অফিস আদেশে কর্মকর্তাদের নামের পাশে নির্ধারিত উপজেলা বা থানার তালিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মকর্তাদের আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

এছাড়া, মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, পরিচালকসহ অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দেশের যেকোনো উপজেলা পরিদর্শন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্দিষ্ট উপজেলা ও থানায় পাঠানোর জন্যও তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তালিকায় জয়পুরহাট, বগুড়া, নওগাঁ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন জেলার উপজেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের কর্মস্থল ত্যাগের আগে নিজ নিজ বিভাগের পরিচালকের পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে। পরিচালকরা তাদের আওতাধীন কর্মকর্তাদের পর্যায়ক্রমে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনের জন্য কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি প্রদান করবেন।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, উপবৃত্তি বিভাগের কর্মকর্তারা নির্ধারিত ট্যুর ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের নামের পাশে উল্লেখিত উপজেলা বা থানার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করবেন।

এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে একটি শহর ও দুটি গ্রাম থেকে বিক্ষিপ্ত নমুনায়নের ভিত্তিতে নির্বাচন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরেজমিনে দুই দিন অবস্থান করে পরিদর্শন, পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্ধারিত উপজেলা বা থানার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে হবে।

এর মধ্যে একটি শহর ও একটি গ্রামীণ বিদ্যালয় বিক্ষিপ্ত নমুনায়নের ভিত্তিতে নির্বাচন করে সরেজমিনে এক দিন অবস্থান করে পরিদর্শন, পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে নির্ধারিত ছকে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করে পরিদর্শন সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপবৃত্তি বিভাগে জমা দিতে হবে।

প্রতিবেদন দাখিলের প্রমাণক কপি টিএ/ডিএ বিলের সঙ্গে সংযুক্ত করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা নিজ নিজ বেতন খাত থেকে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী টিএ/ডিএ প্রাপ্য হবেন। অধিদপ্তরে সংযুক্তিতে কর্মরত কর্মকর্তাদের টিএ/ডিএ বিল মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সংগ্রহ করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপবৃত্তি বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. মাসুদ হোসেন সোমবার (৫ অক্টোবর) অফিস আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%