ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বন্যার পানিতে ডুবে দেড় বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু


বন্যার পানিতে ডুবে দেড় বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার একটি এলাকায় বন্যার পানির স্রোতে ভেসে মুশফিকুর রহিম নামে দেড় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু ঘটে।

শনিবার (১১ জুলাই) রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলিরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শিশুটির পিতা নাছির উদ্দিন, যিনি ওই এলাকার একজন প্রবাসী।

এটি জানা গেছে যে, বন্যার কারণে নাছিরের ঘরের মধ্যে প্রায় হাঁটুপানি উঠে গিয়েছিল। উঠানেও কোমরপানি ছিল। এই অবস্থায়, নাছিরের স্ত্রী ঘরে শিশুটিকে রেখে বাইরে কোনও কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এক পর্যায়ে, মায়ের অগোচরে শিশুটি বন্যার পানিতে পড়ে ডুবে যায় এবং স্রোতের সঙ্গে ভেসে যায়।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

অনেক খোঁজাখুঁজির পর শিশুটিকে প্রায় ১২০ ফুট দূরে পাওয়া যায়। তারপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ, যেভাবে দেখবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ পি.এম


প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ, যেভাবে দেখবেন

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করা হলো। সেই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।

এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ৭৮,৮১০টি বিদ্যালয়ের মোট ৬,৪৫,০৪১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত হয়েছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৪,১৯,৯৮২ জন। পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে বৃত্তি পেয়েছে ৭৯,২৪৬ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর তুলনায় পাসের হার ৩৮.৮৭ শতাংশ। বৃত্তি পাওয়ার মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা বেশি - ৪৩,৩৫৪ জন ছাত্রী (৫৪.৭১%) এবং ৩৫,৮৯২ জন ছাত্র (৪৫.২৯%) বৃত্তি পেয়েছে।

মোট বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৩২,৯৬৫ জন পেয়েছে ট্যালেন্টপুল (মেধাবৃত্তি) এবং ৪৬,২৮১ জন পেয়েছে সাধারণ বৃত্তি। বিদ্যালয়ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সর্বাধিক ৫৭,৯৬২ জন এবং কিন্ডারগার্টেন থেকে ৯,৯৯৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। দেশের মধ্যে সব ক্যাটাগরি মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪,৬৮২টি বৃত্তি পেয়েছে ঢাকা জেলার শিক্ষার্থীরা, সবচেয়ে কম ১৮৮টি বৃত্তি পেয়েছে বান্দরবান জেলায় এবং সবচেয়ে বেশি ৮,৮৯৮ জন অকৃতকার্য হয়েছে দিনাজপুর জেলায়।

বর্তমানে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ৩০০ টাকা ও বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ২২৫ টাকা ও বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা করে পাচ্ছে। তবে ২০২৬ সালের জন্য প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো অনুমোদিত হলে এই হার বৃদ্ধি পেয়ে ট্যালেন্টপুলে মাসিক ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিতে মাসিক ৪৫০ টাকা হওয়ার কথা রয়েছে।

ফলাফল জানা যাবে যেভাবে:

শিক্ষার্থীরা এখন অনলাইন এবং মোবাইল এসএমএসের (SMS) মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারছে। অনলাইনে ফল দেখার অফিসিয়াল মাধ্যম হলো ‘আইপিইএমআইএস’ (IPEMIS) পোর্টাল।

এ ছাড়া মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে ফল জানতে হলে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে DPE লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। (উদাহরণ: DPE 123456)।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি: উত্তরে বন্যার ঝুঁকি, দক্ষিণে পরিস্থিতি উন্নতির আশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫১ পি.এম


নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি: উত্তরে বন্যার ঝুঁকি, দক্ষিণে পরিস্থিতি উন্নতির আশা

টানা কয়েক দিনের মুষলধারে বৃষ্টির ফলে দেশের নদ-নদীগুলো এখন ফুঁসে উঠেছে। এরই মধ্যে দেশের অন্তত সর্বাধিক পাঁচটি স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া ও বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আজকের (১২ জুলাই) পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্তত এক ডজন জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি বা অবনতি হতে পারে।

অথচ দক্ষিণের পার্বত্য এবং উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি কিছুটা কমায়, সেখানকার পানি নামতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আশা দেখা গেলেও নতুন করে বন্যার শঙ্কায় কাঁপছে উত্তর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চল।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের ৫টি পয়েন্টে নদী এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এর মধ্যে রয়েছে বান্দরবান ও চট্টগ্রামের দোহাজারী স্টেশনে সাঙ্গু নদী, সুনামগঞ্জের মারকুলি এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে কুশিয়ারা নদী, নেত্রকোনার কলমাকান্দা স্টেশনে সোমেশ্বরী নদী।

উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানির পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধির ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর এবং ময়মনসিংহ জেলার নিম্নাঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতির কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি অবনতি হতে পারে।

একই সময়ে উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলোও এ সময় সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ফেনী, চট্টগ্রাম এবং খাগড়াছড়ি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলেও আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

উদ্বেগের মাঝেও স্বস্তির খবর আসছে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল থেকে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে। ফলে এসব নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

সারা দেশের এই বন্যা পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ। শুধু মফস্বল নয়, গতকাল শনিবার গভীর রাত থেকে আজ রোববার সকাল পর্যন্ত হওয়া মাত্র ৬ ঘণ্টার মুষলধারে বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকা তলিয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি জুলাই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। রাজধানীর এই জলজট নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তা নদ-নদীর পানি বাড়িয়ে বন্যা পরিস্থিতির আকার নিচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এরই মধ্যে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ পি.এম


জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১২ জুলাই) এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ৫২’র ভাষা আন্দোলনের সৈনিক, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। মহান আল্লাহর দরবারে তার মাগফিরাত কামনা করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। সুদীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন।

তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত করা, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি আজীবন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আদর্শে অবিচল ছিলেন। দলের দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও দুঃসময়ের কোনো পর্যায়েই কখনো কোনো পরিস্থিতিতেই তিনি আদর্শচ্যুত হননি। রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, নিপীড়ন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দলীয় জাতীয়তাবাদী আদর্শকে সমুন্নত রেখেছেন।

‘বিশেষ করে বিগত দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সাহসিকতা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ় প্রত্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদান বিএনপির ইতিহাসে যেমন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তেমনি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রারও এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, দক্ষ সংসদীয় ব্যক্তিত্ব, বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক এবং সত্যিকারের দেশপ্রেমিককে হারাল। তার আদর্শ, প্রজ্ঞা, সততা ও কর্মময় জীবন আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান আরও বলেন, আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে মরহুমের গফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমি একই সঙ্গে মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

এদিন ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। প্রবীণ এই রাজনীতিকের বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত ও বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণে বেশ কিছু দিন ধরে তিনি বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার (১১ জুলাই) রাতেই জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছিলেন।

জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেতুঁলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন এবং ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগ দেন। তিনি বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যার পানিতে তলিয়ে বসতঘর, খাদ্যসংকটে কক্সবাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০০ পি.এম


বন্যার পানিতে তলিয়ে বসতঘর, খাদ্যসংকটে কক্সবাজার

কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটলেও, লাখো মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। ঘরে খাবার নেই এবং উনুনেও আগুন জ্বলছে না। আসলে ঘরে ঘরে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই চলছে। বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ ও মাছের ঘের ভেসে গেছে। বানভাসি মানুষের জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার কথা পরিকল্পনা করা হয়েছে।

চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের শাকের মোহাম্মদচর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোছাইন রয়েছেন। তার বসতঘর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি ঢোকার পর থেকেই রান্নার চুলা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। গত চার দিন ধরে তার উনুনে আগুন জ্বলেনি। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে তার মতো অনেক বানভাসি পরিবারের অনাহারে ও অর্ধাহারে দিন কাটছে।

মোহাম্মদ হোছাইন বলেন, ‘এখানে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। কিছুই খেতে পারছি না। চারদিকে এত পানি যে এখনো চুলায় আগুন জ্বালিয়ে রান্না করাও সম্ভব হচ্ছে না। সবাই অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে, আর অনেকের ঘরবাড়িও ভেঙে গেছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের মতোই পেকুয়া, মাতামুহুরি, রামু ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাও বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় ৬০ শতাংশ জনপদ এখনও পানির নিচে। হাজারো ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। পানিবন্দি মানুষ এখন দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন এবং তাদের বেঁচে থাকার লড়াই চলছে।

কাকারা এলাকার বাসিন্দা আব্দু রশিদ বলেন, ‘আমরা প্রতিবছরই এই জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হই। আমাদের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যায়, আর আমরা উঁচু মাচার ওপর আশ্রয় নিয়ে থাকতে বাধ্য হই। প্রতিনিয়ত আমাদের অনেক কষ্ট হয়, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ওঠানামা করতে হচ্ছে। এত কষ্টের মধ্যেও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা থাকে না। প্রতিটি দিন আমাদের জন্য এক কঠিন সংগ্রাম হয়ে দাঁড়ায়।’

রফিক উদ্দিন বলেন, ‘এই গ্রামে অন্তত ৬০০ থেকে ৭০০ মানুষের বসবাস। বর্তমানে গ্রামের সবাই পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। শুধু মানুষ নয়, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগিসহ সবকিছু নিয়েই আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। কোথায় নিয়ে নিরাপদে রাখব, সেটাও বুঝতে পারছি না। চারদিকে পানি, তাই আমরা সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছি।’

ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিশুদ্ধ পানি ও পর্যাপ্ত শুকনো খাবার। কারণ প্রায় প্রতিটি বাড়ির মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং রান্নাবান্না করার কোনো সুযোগ নেই। তাই জরুরি ভিত্তিতে তাদের কাছে খাবার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।’

ইয়াছিন আরাফাত বলেন, ‘চকরিয়া উপজেলাকে অবিলম্বে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা উচিত। একই সঙ্গে সরকারের সব পর্যায় থেকে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণসহায়তা পৌঁছে দেয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শুকনো খাবার, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছানো উচিত। কাকারা, লক্ষ্যারচর, কুয়ারবিলসহ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ইউনিয়নে সরকারের বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।’

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষও দেশের অন্যান্য বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের মতোই ভয়াবহ দুর্ভোগের মধ্যে আছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের পরিস্থিতি সেভাবে সবার নজরে আসছে না। তাই আমি মনে করি, পুরো বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়, তাদের এই বন্যার পরিস্থিতির দিকে নজর দেয়া উচিত। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের দুর্ভোগ সবার সামনে তুলে ধরতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।’

কক্সবাজারে জুলাই মাসের স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাত ৯২৪ মিলিমিটার। অথচ গত এক সপ্তাহেই ঝরেছে ৭০০ মিলিমিটার বৃষ্টি। অতিবর্ষণের কারণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তবে নদী দখল, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং সময়মতো স্লুইসগেট খুলে না দেয়ায় দুর্ভোগ বাড়ছে বলে দাবি বানভাসি মানুষের।

এদিকে সব স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসক। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘বিগত বছরের গড় বৃষ্টিপাতের রেকর্ড অনুযায়ী, জুলাই মাসে কক্সবাজারে গড়ে ৯২৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, গত সাত দিনেই জেলায় প্রায় ৭০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। অর্থাৎ, পুরো জুলাই মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার কথা, তার প্রায় ৮০ শতাংশই মাত্র সাত দিনের মধ্যে হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না।’

তিনি আরও জানান, অতিবৃষ্টির পাশাপাশি বান্দরবানে ভারী বৃষ্টির কারণে মাতামুহুরী নদী দিয়ে নেমে আসা পানির ঢল চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী ও রামু এলাকাকে প্লাবিত করেছে। কক্সবাজার জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ৬৯টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গতকাল থেকে বৃষ্টিপাত অনেকটাই কমে এসেছে এবং পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ৩০ লাখ টাকা এবং ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, পাহাড়ধসে কক্সবাজার জেলায় মোট ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৩ জন, কক্সবাজার সদরে ২ জন এবং চকরিয়ায় ২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও পানিতে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু এবং মাটির দেয়াল ধসে আরও দুইজন নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে জেলায় মোট ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় কক্সবাজার জেলায় ৪৬০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ২২টি আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ অবস্থান করছে। সেখানে শুকনো খাবার, যেমন চিড়া, গুড়, বিস্কুটসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হচ্ছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ও বিশেষ চাহিদার বিষয়েও আলাদা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মো. আ. মান্নান আরও বলেন, ‘প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবাই মিলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় একযোগে কাজ করছে। স্লুইস গেট নিয়ে যে বিভ্রান্তি রয়েছে, তা সঠিক নয়। গত দুই দিন ধরে সব স্লুইস গেট খোলা রয়েছে। শুধু জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানি যাতে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য সাময়িকভাবে গেট বন্ধ করা হয়। ভাটার সময় আবার সেগুলো খুলে দেয়া হয়। বর্তমানে কোথাও কোনো স্লুইস গেট বন্ধ নেই।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%