ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বন্যার পানিতে তলিয়ে বসতঘর, খাদ্যসংকটে কক্সবাজার


বন্যার পানিতে তলিয়ে বসতঘর, খাদ্যসংকটে কক্সবাজার

কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটলেও, লাখো মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। ঘরে খাবার নেই এবং উনুনেও আগুন জ্বলছে না। আসলে ঘরে ঘরে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই চলছে। বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ ও মাছের ঘের ভেসে গেছে। বানভাসি মানুষের জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার কথা পরিকল্পনা করা হয়েছে।

চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের শাকের মোহাম্মদচর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোছাইন রয়েছেন। তার বসতঘর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি ঢোকার পর থেকেই রান্নার চুলা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। গত চার দিন ধরে তার উনুনে আগুন জ্বলেনি। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে তার মতো অনেক বানভাসি পরিবারের অনাহারে ও অর্ধাহারে দিন কাটছে।

মোহাম্মদ হোছাইন বলেন, ‘এখানে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। কিছুই খেতে পারছি না। চারদিকে এত পানি যে এখনো চুলায় আগুন জ্বালিয়ে রান্না করাও সম্ভব হচ্ছে না। সবাই অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে, আর অনেকের ঘরবাড়িও ভেঙে গেছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের মতোই পেকুয়া, মাতামুহুরি, রামু ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাও বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় ৬০ শতাংশ জনপদ এখনও পানির নিচে। হাজারো ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। পানিবন্দি মানুষ এখন দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন এবং তাদের বেঁচে থাকার লড়াই চলছে।

কাকারা এলাকার বাসিন্দা আব্দু রশিদ বলেন, ‘আমরা প্রতিবছরই এই জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হই। আমাদের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যায়, আর আমরা উঁচু মাচার ওপর আশ্রয় নিয়ে থাকতে বাধ্য হই। প্রতিনিয়ত আমাদের অনেক কষ্ট হয়, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ওঠানামা করতে হচ্ছে। এত কষ্টের মধ্যেও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা থাকে না। প্রতিটি দিন আমাদের জন্য এক কঠিন সংগ্রাম হয়ে দাঁড়ায়।’

রফিক উদ্দিন বলেন, ‘এই গ্রামে অন্তত ৬০০ থেকে ৭০০ মানুষের বসবাস। বর্তমানে গ্রামের সবাই পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। শুধু মানুষ নয়, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগিসহ সবকিছু নিয়েই আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। কোথায় নিয়ে নিরাপদে রাখব, সেটাও বুঝতে পারছি না। চারদিকে পানি, তাই আমরা সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছি।’

ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিশুদ্ধ পানি ও পর্যাপ্ত শুকনো খাবার। কারণ প্রায় প্রতিটি বাড়ির মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং রান্নাবান্না করার কোনো সুযোগ নেই। তাই জরুরি ভিত্তিতে তাদের কাছে খাবার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।’

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ইয়াছিন আরাফাত বলেন, ‘চকরিয়া উপজেলাকে অবিলম্বে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা উচিত। একই সঙ্গে সরকারের সব পর্যায় থেকে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণসহায়তা পৌঁছে দেয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শুকনো খাবার, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছানো উচিত। কাকারা, লক্ষ্যারচর, কুয়ারবিলসহ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ইউনিয়নে সরকারের বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।’

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষও দেশের অন্যান্য বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের মতোই ভয়াবহ দুর্ভোগের মধ্যে আছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের পরিস্থিতি সেভাবে সবার নজরে আসছে না। তাই আমি মনে করি, পুরো বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়, তাদের এই বন্যার পরিস্থিতির দিকে নজর দেয়া উচিত। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের দুর্ভোগ সবার সামনে তুলে ধরতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।’

কক্সবাজারে জুলাই মাসের স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাত ৯২৪ মিলিমিটার। অথচ গত এক সপ্তাহেই ঝরেছে ৭০০ মিলিমিটার বৃষ্টি। অতিবর্ষণের কারণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তবে নদী দখল, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং সময়মতো স্লুইসগেট খুলে না দেয়ায় দুর্ভোগ বাড়ছে বলে দাবি বানভাসি মানুষের।

এদিকে সব স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসক। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘বিগত বছরের গড় বৃষ্টিপাতের রেকর্ড অনুযায়ী, জুলাই মাসে কক্সবাজারে গড়ে ৯২৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, গত সাত দিনেই জেলায় প্রায় ৭০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। অর্থাৎ, পুরো জুলাই মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার কথা, তার প্রায় ৮০ শতাংশই মাত্র সাত দিনের মধ্যে হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না।’

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

তিনি আরও জানান, অতিবৃষ্টির পাশাপাশি বান্দরবানে ভারী বৃষ্টির কারণে মাতামুহুরী নদী দিয়ে নেমে আসা পানির ঢল চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী ও রামু এলাকাকে প্লাবিত করেছে। কক্সবাজার জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ৬৯টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গতকাল থেকে বৃষ্টিপাত অনেকটাই কমে এসেছে এবং পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ৩০ লাখ টাকা এবং ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, পাহাড়ধসে কক্সবাজার জেলায় মোট ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৩ জন, কক্সবাজার সদরে ২ জন এবং চকরিয়ায় ২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও পানিতে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু এবং মাটির দেয়াল ধসে আরও দুইজন নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে জেলায় মোট ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় কক্সবাজার জেলায় ৪৬০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ২২টি আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ অবস্থান করছে। সেখানে শুকনো খাবার, যেমন চিড়া, গুড়, বিস্কুটসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হচ্ছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ও বিশেষ চাহিদার বিষয়েও আলাদা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মো. আ. মান্নান আরও বলেন, ‘প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবাই মিলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় একযোগে কাজ করছে। স্লুইস গেট নিয়ে যে বিভ্রান্তি রয়েছে, তা সঠিক নয়। গত দুই দিন ধরে সব স্লুইস গেট খোলা রয়েছে। শুধু জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানি যাতে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য সাময়িকভাবে গেট বন্ধ করা হয়। ভাটার সময় আবার সেগুলো খুলে দেয়া হয়। বর্তমানে কোথাও কোনো স্লুইস গেট বন্ধ নেই।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ত্রিশালে কাজ না করেই বিল তুলে গায়েব ঠিকাদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৪ পি.এম


ত্রিশালে কাজ না করেই বিল তুলে গায়েব ঠিকাদার

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ, যা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকে এক ছাদের নিচে আনতে সজ্জিত হওয়ার কথা ছিল, শেষ হওয়ার সময়সীমা ছিল দুটি বছর। কিন্তু প্রকল্পের কাজ মাঝপথে রেখেই সোয়া তিন কোটি টাকা বিল তুলে নিয়ে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি গায়েব হয়ে যায়। ফলস্বরূপ, চার বছর অতিবাহিত হলেও এই নির্মাণকাজ শেষ হয়নি।

এর ফলে কোটি টাকার নির্মাণসামগ্রী খোলা আকাশের নিচে পড়ে নষ্ট হচ্ছে এবং ভবনের স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে। বারবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েও কাজ ফেরাতে না পারায় এলজিইডি কার্যাদেশ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন শিগগিরই নতুন প্রক্রিয়ায় অবশিষ্ট কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে।

পুরানো ভবনে জায়গার সংকট দূর করা এবং জরাজীর্ণ ভবনে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকে এক ছাদের নিচে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ চত্বরে চার তলাবিশিষ্ট আধুনিক প্রশাসনিক ভবন ও একতলা হলরুম নির্মাণকাজ শুরু হয় প্রায় চার বছর আগে।

ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের নির্মাণ ব্যয় ৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হবার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি পুরো ভিন্ন। খুলনার 'মেসার্স এমআই ট্রেডিং অ্যান্ড কোং' নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালের ৫ মার্চ পর্যন্ত কাগজে-কলমে ৫২ শতাংশ কাজ দেখিয়ে ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা তুলে নিয়ে যায়। ঠিকাদারের লোকজন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সাথে সাথে কাজ ফেলে পালিয়ে যায়। ফলে চার বছর পেরিয়ে যায়, কিন্তু উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স আলোর মুখ দেখেনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, চারতলা ভবনে কেবল দোতলার ছাদ ঢালাই হয়েছে। তৃতীয় তলার জন্য কিছু পিলার দাঁড়িয়ে আছে। নির্মাণাধীন হলরুমের ছাদে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা রডগুলোতে মরিচা ধরেছে। বৃষ্টি ও রোদে ভবনের স্থায়িত্ব ও কার্যক্ষমতা কমছে। একই সঙ্গে সরকারের কোটি টাকার নির্মাণসামগ্রী দফায় দফায় চুরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় ও সেবাপ্রার্থী মানুষের ক্ষোভ ও হতাশা বেড়েছে।

উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ এলজিইডি বাস্তবায়ন করছে। উপজেলা প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার চিঠি দিয়েও কাজে ফিরিয়ে আনতে পারেননি। পরে কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে শিগগিরই নতুন প্রক্রিয়ায় অবশিষ্ট কাজ শেষ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসাইন বলেছেন, আমরা বারবার চিঠি দিয়েও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছি। তাই কার্যাদেশ বাতিল করে যৌথ মেজারমেন্টের জন্য ঠিকাদারের প্রতিনিধি দিতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাড়া না মেলায় বিধি অনুযায়ী একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেখে যৌথ মেজারমেন্ট করা হবে। কতটুকু কাজ করা হয়েছে এবং কতটুকু বাকি রয়েছে তা নির্ধারণ করা হবে এবং পরে নতুন করে টেন্ডার দিয়ে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের আধুনিক ভবনটি না হওয়াতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন। এটি এক ধরনের ভুক্তভোগী বলতেই পারেন। দোতলা পর্যন্ত ভবনটি হওয়ার পর আর কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। যেখানে যে ঠিকাদার কাজ করতেন তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন করে কাজে আসেননি। এই কারণেই কাজটি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে নতুন করে টেন্ডার দিয়ে বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১০ পি.এম


দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি: অর্থমন্ত্রী

পুরোনো ঋণ কর্মসূচি বাদ দিয়ে নতুন কর্মসূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করেছে ঢাকা সফররত সংস্থাটির ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, "ফ্যাসিস্ট আমলে নেয়া ঋণ কর্মসূচি জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেনি। তাই সেটি বাদ দিয়ে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে।"

ডলার সংকট মোকাবিলা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ২০২৩ সালে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয় বাংলাদেশ।

পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এর আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়।

এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলার।

তবে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় নিয়ে প্রায় এক বছর আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত তা ছাড় হয়নি।

এরই মধ্যে উভয় পক্ষ নতুন ঋণ কর্মসূচির দিকে এগোচ্ছে।

এর অংশ হিসেবে রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে বসে আইএমএফের মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল।

বৈঠকের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, "দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে সরকার।" একই সঙ্গে তিনি আগের ঋণ কর্মসূচির সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, 'আইএমএফের আগের ঋণ কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে এসেছে বর্তমান সরকার। জনগণের স্বার্থে নতুন করে ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছি। কিস্তির টাকা পাওয়া নিয়ে চিন্তা করছি না। আগের সরকার যে ঋণ কর্মসূচি নিয়েছিল, তাতে জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত করা হয়নি।'

এ সময় অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আগের ঋণ কর্মসূচির আওতায় ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় নিয়ে সরকারের কোনো উদ্বেগ নেই।

পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের সুবিধার জন্য ভিসা নীতিতেও পরিবর্তন আনা হবে।

ঢাকা সফর শেষে আইএমএফের প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে সংস্থাটির সদর দফতরে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে আগামী অক্টোবরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পর নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে আরেকটি মিশন ঢাকায় আসতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইএমএফের শর্ত মেনে মুদ্রানীতি, ঋণ সহায়তায় আশার আলো দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৬ পি.এম


আইএমএফের শর্ত মেনে মুদ্রানীতি, ঋণ সহায়তায় আশার আলো দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক

নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিভিন্ন শর্তের প্রতিফলন হওয়ায় ঋণ সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আশা প্রকাশ করেছে।

রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই কথা জানান।

তিনি বলেন, গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে এসেছে আইএমএফের মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল।

নতুন মুদ্রানীতিতে আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ফলে আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আশাবাদী।

এর আগে ডলার সংকট মোকাবিলা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ২০২৩ সালে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এর আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়েছিল।

এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলার। তবে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় নিয়ে প্রায় এক বছর আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত তা ছাড় হয়নি। এরই মধ্যে উভয় পক্ষ নতুন ঋণ কর্মসূচির দিকে যাচ্ছে।

এর অংশ হিসেবে রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে বসে আইএমএফের মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল।

বৈঠকের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে সরকার। পাশাপাশি তিনি আগের ঋণ কর্মসূচির সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘আইএমএফের আগের ঋণ কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে এসেছে বর্তমান সরকার। জনগণের স্বার্থে নতুন করে ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে। কিস্তির টাকা পাওয়া নিয়ে চিন্তা করছি না। আগের সরকার যে ঋণ কর্মসূচি নিয়েছিল, তাতে জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত করা হয়নি।’

এ সময় অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আগের ঋণ কর্মসূচির আওতায় ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় নিয়ে সরকারের কোনো উদ্বেগ নেই। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের সুবিধার জন্য ভিসা নীতিতেও পরিবর্তন আনা হবে।

ঢাকা সফর শেষে আইএমএফের প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে সংস্থাটির সদর দফতরে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে আগামী অক্টোবরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পর নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে আরেকটি মিশন ঢাকায় আসতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পানি কমলেও রাঙ্গামাটির মানুষের দু'র্ভোগ রয়েই গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


পানি কমলেও রাঙ্গামাটির মানুষের দু

বৃষ্টি কমে যাওয়ার ফলে রাঙ্গামাটিতে বন্যা পরিস্থিতি উন্নত হতে শুরু করেছে। যদিও জনভোগান্তি কমেনি।

রোববার সকালবেলা বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিশেষভাবে, জেলার বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে। এর ফলে ধীরে ধীরে মানুষ আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে চলে যেতে শুরু করেছে।

বাঘাইছড়ির এক বাসিন্দা জমির জানান, ‘চলমান বন্যায় আমার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় সব মাছ চলে গেছে। আমি দুই বছর ধরে এই মাছগুলোকে লালন-পালন করেছি। প্রতিটি মাছের ওজন ছিল ৩ থেকে ৪ কেজি। আমি আশা করেছিলাম কিছু দিনের মধ্যে মাছগুলো বিক্রয় করবো। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি কিভাবে কাটিয়ে উঠবো জানি না।’

একই উপজেলার সাধন চাকমা বলেন, ‘আমার জমির প্রায় কয়েক লাখ টাকার সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। সাথে ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। পানি নামার পর কীভাবে ধানের চাষ করবো জানি না। ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

অন্যদিকে বানভাসি মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

বন্যাকবলিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কমতে থাকায় উপজেলা বন্যা পরিস্থিতি এখন উন্নতি হচ্ছে। যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে দুই এক দিনের মধ্যে সব মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে পারবেন।

তারা আরও বলেছেন, যতদিন এ অবস্থা থাকবে, ততদিন ত্রাণ কার্যক্রম চলবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%