১১:৫৭ এম
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর মেজর মোজাফফর হোসেন ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ছদ্মনামে পাসপোর্ট তৈরি করে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন। পরে যখন ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেন, তখন তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তবে তখনও তিনি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করতেন। এদিকে, ১৯৮১ সালে সেনা বিদ্রোহের বিচার কিছুটা হলেও হয়েছিল, কিন্তু জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পৃথক বিচার এখনো হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, যদি নতুন করে হত্যা মামলা হয়, তবে অজানা অনেক তথ্য সামনে আসা সম্ভব।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হত্যার শিকার হন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পেরিয়ে গেছে। সেনা আইনে অভিযুক্তদের কয়েকজনের বিচার হলেও দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন মেজর মোজাফফর হোসেন। চার দশক পর তিনি ঢাকায় গ্রেফতার হন।
গ্রেফতারের পর আবারও উঠেছে নানা প্রশ্ন। এতদিন তিনি কোথায় ছিলেন, হত্যাকাণ্ডে তার ভূমিকা কী ছিল এবং এর পেছনে আরও কারা ছিলেন; এসব নিয়ে উঠছে কৌতূহল। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রূশদ বলেন, জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর মেজর মোজাফফর ভারতে পালিয়ে যান এবং সেখানে তিনি ‘বিপ্লব সরকার’ ও ‘জয় ব্যানার্জী’ নামে পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন কাগজপত্র ও পাসপোর্ট তৈরি করেন। এই পাসপোর্ট ব্যবহার করে তিনি কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সফর করেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
আবু রূশদ আরও বলেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও বীর বিক্রম জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন, থাইল্যান্ডে রাষ্ট্রদূত থাকার সময় মেজর মোজাফফর ও মেজর খালেদ তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।
তার দাবি, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে মেজর মোজাফফর বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং এরপরেও তিনি বিভিন্ন নামে পরিচয় ব্যবহার করতেন। পরে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে তিনি আবার দেশ ছেড়ে চলে যান। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসলে তিনি পুনরায় দেশে ফিরে বসবাস শুরু করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৮১ সালে বিচার হওয়া বিষয়টি মূলত ছিল সেনা বিদ্রোহের বিচার। সামরিক আদালতে হওয়ার কারণে সেই বিচারপ্রক্রিয়া থেকে অনেক তথ্য জনসম্মুখে আসেনি। তাই জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে বেসামরিক আদালতে নতুন করে হত্যা মামলা করার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রূশদ বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের জন্য কোনো পৃথক বিচার হয়নি। বিচার হয়েছে কেবল সেনা বিদ্রোহের, ফলে বিষয়টি সামরিক আইনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু যদি হত্যা মামলা হয়, তবে ঘটনাটি আরও বিস্তৃতভাবে তদন্তের সুযোগ তৈরি হবে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার হোসেন বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড ও সেনা বিদ্রোহ দুটি ভিন্ন বিষয়। হত্যাকাণ্ডের বিচার বেসামরিক আদালত কিংবা সামরিক আদালত; উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে। কিভাবে বিচার হবে, সেটির সিদ্ধান্ত সরকারের।
বিশ্লেষকদের মতে, মেজর মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এসব তথ্য ইতিহাসের অংশ হিসেবে গ্রহণের আগে অন্যান্য দলিল-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তবের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন