প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন তেল রফতানি করিডোর তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইরাক।
দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা থেকে উত্তরাঞ্চলের কিরকুক হয়ে তুরস্কের সিহান (জেইহান) বন্দর এবং সেখান থেকে সিরিয়ার বানিয়াস পর্যন্ত একটি কৌশলগত তেল পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে বাগদাদ।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন থেকে ইরাকি সংবাদ সংস্থা (আইএনএ)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ খুদাইর।
তিনি বলেন, ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট লক্ষ্য হলো তেল রফতানির পথ বৈচিত্র্যময় করা এবং কেবল হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল না থাকা।
খুদাইরের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান শেভরন ও টিই ক্যাপিটাল এবং কাতারের ইউসিসি-কে নিয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ইতোমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে ইরাক।
তেলমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বসরা থেকে কিরকুক পর্যন্ত একটি কৌশলগত পাইপলাইন নির্মাণের উপায় ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা চলছে। পরিকল্পনার অনুযায়ী, কিরকুক থেকে পাইপলাইনটি তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর সিহান পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি সিরিয়ার উপকূলীয় শহর বানিয়াস পর্যন্ত একটি শাখা পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বানিয়াস কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ভূমধ্যসাগর উপকূলে অবস্থিত বানিয়াস দেশটির অন্যতম প্রধান তেল শোধনাগার এবং তেল রফতানি টার্মিনালের কেন্দ্রস্থল। অতীতে কিরকুক থেকে স্থলপথে ইরাকি অপরিশোধিত তেল এই শহরে পৌঁছানোর জন্য একটি পাইপলাইন ব্যবহার করা হতো।
তবে কয়েক দশকের যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে সেই পাইপলাইন বর্তমানে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
হরমুজের বিকল্প খুঁজছে বাগদাদ
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ এবং ওপেকের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদক ইরাক দীর্ঘকাল ধরে অপরিশোধিত তেল রফতানির জন্য হরমুজ প্রণালীর ওপর বৃহৎভাবে নির্ভরশীল।
কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ইরাককে বিকল্প রফতানি পথ খুঁজতে উৎসাহিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বসরা-কিরকুক-সিহান-বানিয়াস পাইপলাইন বাস্তবায়িত হলে ইরাক শুধু হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারবে না, একই সঙ্গে ভূমধ্যসাগরের মাধ্যমে ইউরোপসহ আন্তর্জাতিক বাজারে আরও নিরাপদ ও স্থিতিশীলভাবে তেল রফতানির সুযোগ উন্মোচিত হবে। এছাড়া এ প্রকল্প আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন কৌশলগত ভারসাম্য তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন