বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৫২ পি.এম
এক বছর আগে ভারতে পাড়ি জমিয়েছিল ১৩ বছরের বাংলাদেশি এক কিশোরী, দালালের মাধ্যমে। ভারতে গিয়ে সে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়।
পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর, এক বছরের কারাবাস শেষে সন্তানসহ দেশে ফিরেছে ওই কিশোরী। তার মতো ভারতে পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের শিকার আরও ১৫ কিশোর–কিশোরীসহ মোট ১৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ১৮ বাংলাদেশি দেশে ফেরে।
ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ‘রাষ্ট্রীয় ট্রাভেল পারমিট’–এর মাধ্যমে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। পুনর্বাসনের জন্য বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’–এর জিম্মায় তাদের হস্তান্তর করেছে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ডেপুটি কান্ট্রি ম্যানেজার এ বি এম মুহিত হোসেন জানান, ‘ভারত থেকে ফেরত আসা নারী ও শিশুদের বেনাপোলে আমাদের সংস্থার একটি নিজস্ব শেল্টার হোমে (নিরাপদ আশ্রয়) রাখা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সুবিধাজনক সময়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
ইমিগ্রেশন পুলিশ ও মানবাধিকার সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ফেরত আসা এক বছরের সন্তানসহ এক কিশোরীর জীবনকাহিনি অত্যন্ত করুণ। মাত্র ১৩ বছর বয়সে খুলনার নিজ এলাকায় এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে সে। পরে সামাজিক লজ্জা ও লোকলজ্জার ভয়ে দালালের মাধ্যমে সীমান্ত পার হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পাড়ি জমাতে বাধ্য হয়।
সেখানে পৌঁছানোর কিছুদিনের মধ্যেই সে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়। তবে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতের পুলিশ তাকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে ভারতের একটি স্থানীয় এনজিওর সহায়তায় সন্তানসহ ওই কিশোরীকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়। দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার পর রাষ্ট্রীয় পারমিটের ভিত্তিতে বুধবার তাকে অন্যদের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ভারতের বন্দিদশা থেকে ফেরত আসা ১৮ জনের মধ্যে মাত্র দুজন প্রাপ্তবয়স্ক। বাকি ১৬ জনই শিশু–কিশোর।
তিনি বলেন, ফেরত আসা শিশুদের অনেকেরই মা–বাবা বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছেন। আবার কারও কারও মা–বাবা আগে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরে এলেও সন্তানেরা ভারতের কলকাতার বিভিন্ন শেল্টার হোমে আটকা পড়েছিল। বুধবার সমন্বিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরানো সম্ভব হয়েছে। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের মাধ্যমে তাদের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শরীরজুড়ে গভীর ক্ষত রয়েছে। মাথায় একাধিক সেলাই রয়েছে। পিঠ ও দুই পায়েও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শুকিয়ে আসা রক্তের দাগ কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে। ১১ বছরের এক শিশুর দুর্বল শরীরের কারণে ঠিকমতো উঠে বসার শক্তি নেই।
কখনো সে চোখ মেলে চারপাশে তাকাচ্ছে, আবার যন্ত্রণায় চোখ বন্ধ করে ফেলছে। ঢাকার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিশুটির বিরুদ্ধে। বর্তমানে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে।
শিশুটির অভিযোগ, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। সামান্য ভুল হলেই তাকে মারধর করা হতো। ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হতো না। দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে টয়লেটে আটকে রাখা হতো। এইভাবে এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিদিনই নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ শিশুটির।
শিশুটির বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায়। তার বাবা দিনমজুর। মা মারা গেছেন। অভাবের সংসারে কিছুটা স্বস্তি আনতে প্রায় দেড় বছর আগে মেয়েকে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় পাঠান বাবা। সে সময় শিশুটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
শিশুটির বাবা জানান, মেয়েকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে বা কার বাসায় রাখা হবে সেই ঠিকানা সম্পর্কে তিনি জানতেন না। প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেনের মাধ্যমে মেয়েকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। ওই ব্যক্তি তাকে বলেছিলেন, মেয়েটি ভালো থাকবে এবং কাজের ফাকে পড়াশোনার সুযোগও পাবে।
শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাকে ফেনী শহরের ট্রাংক রোড বড় মসজিদ-সংলগ্ন একটি বাসায় এক নারীর কাছে রাখা হয়। পরে ওই নারী তাকে ঢাকায় তার বোনের বাসায় পাঠান। ঢাকার মিরপুরের কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার ওই বাসায় যাওয়ার পর থেকেই নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ শিশুটির।
শিশুটি জানায়, বাসার গৃহকর্তা রাসেল ও গৃহকর্ত্রী মোর্শেদা আক্তার ওরফে ছোটনের বাসায় তাকে রাখা হয়েছিল। গৃহকর্ত্রী ও তার মেয়ে রাফাতুল তাকে মারধর করত বলেও অভিযোগ করেছে সে। মারধরের পাশাপাশি গরম খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া এবং দীর্ঘ সময় টয়লেটে আটকে রাখার অভিযোগও করেছে শিশুটি।
শিশুটির বাবা বলেন, মেয়েকে ঢাকায় পাঠানোর পর দীর্ঘ সময় তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। মেয়ের ওপর নির্যাতন চলছে এ বিষয়েও তিনি কিছু জানতেন না। কয়েক দিন আগে মেয়ের মাথা ও থুতনিতে গুরুতর আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাকে ঢাকা থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে গত শুক্রবার ফেনীতে যান শিশুটির বাবা। পরে শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় তিনটার দিকে মেয়েকে নিয়ে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পৌঁছান তিনি। হাসপাতালে শয্যা না পাওয়ায় মেঝেতেই শিশুটির চিকিৎসা চলছে।
খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, শিশুটির শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন অভুক্ত থাকার কারণে তার শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান অনেকে।
এদিকে, শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত দম্পতি মোর্শেদা আক্তার (৩৮) ও তার স্বামী সাইফুদ্দিন রাসেলকে (৪৮) আটক করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার কলাবাগানের গ্রিনরোড এলাকার একটি বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলা হলে অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মঞ্চে ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য রাখার পর মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ব্রিটিশ গায়ক এড শিরান তীব্র বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছেন।
এড শিরান এ বিষয়ে মন্তব্য করে জানিয়েছেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার পক্ষে ছিল না; বরং এই সিদ্ধান্তটি সফরের আয়োজক এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলের মালিকদের দ্বারা নেওয়া হয়েছে। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিরানের অনুসারীর সংখ্যা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২ লাখের বেশি কমেছে বলে জানা গেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে ৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। এড শিরানের সফরের অংশ হিসেবে মঞ্চে ওঠেন ম্যাকলমোর। সেখানে তিনি গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের মানুষের কথা উল্লেখ করে বলেন, "তাদের কথা ভুলে যাওয়া হয়নি।" এরপর তিনি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগান দেন এবং তার প্রতিবাদী গান ‘হিন্দস হল’ পরিবেশন করেন।
পরদিনও মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাকলমোর ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য দেন। তিনি ইসরায়েলের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনকে ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যের পর একটি ইসরায়েলপন্থী মার্কিন সংগঠন তাকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে আবেদন শুরু করে।
এরপর সফরের পরবর্তী অনুষ্ঠানস্থলগুলোর কয়েকটির মালিক কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা ম্যাকলমোরকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠান করতে রাজি নয়। সফরের আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানায়, ম্যাকলমোরকে রাখা হলে কিছু অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ার আশঙ্কা ছিল। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে সফরের বাকি আয়োজনগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়।
ম্যাকলমোর দাবি করেন, এ সিদ্ধান্তের পেছনে অনুষ্ঠানস্থলের মালিকদের চাপ ছিল। নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটের নামও তিনি উল্লেখ করেন। তবে ক্রাফট বলেন, ম্যাকলমোরের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং তার আগের কিছু বক্তব্য ও প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি আঘাতের আশঙ্কা থেকেই তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি শান্তি ও সব মানুষের কষ্টের অবসানের পক্ষে থাকার কথা বলেন।
বিতর্কের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ বিবৃতিতে শিরান বলেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সংঘাতে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত। তার ভাষ্য, "দুই পক্ষের মানুষের কষ্ট বা দুর্ভোগই মানবিক বিপর্যয়।"
শিরান জানান, ম্যাকলমোর গত বছর তার সফরে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং তিনি তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। অন্য সহযোগী শিল্পীদের মতো ম্যাকলমোরকেও নিজের পছন্দের পরিবেশনা করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল।
তবে শিরানের দাবি, ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আয়োজক ও অনুষ্ঠানস্থলের মালিকদের। তিনি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান বের করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি।
শিরান আরও বলেন, তিনি নিজের জনপ্রিয়তা ও মঞ্চকে বিভিন্ন পটভূমি ও সংস্কৃতির মানুষকে একত্র করার জায়গা হিসেবে রাখতে চান। ব্যক্তিগতভাবে এই সংঘাত নিয়ে তাঁর মতামত থাকলেও তিনি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক অবস্থান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর বিষয়টি আরও বড় আকার নেয়। তার প্রতি সংহতি জানিয়ে এড শিরানের সফরের একাধিক সহযোগী শিল্পী পরবর্তী আয়োজনগুলো থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন।
ফিনিয়াস, লুকাস গ্রাহাম, অ্যারন রো এবং আইরিশ দল বেওগা সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। ফলে ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখন শিরানের পুরো সফরকেই বিতর্কের মধ্যে ফেলেছে।
এদিকে ম্যাকলমোরও তার অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তিনি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও গাজাবাসীর অধিকারের পক্ষে কথা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। পরে তিনি সফর থেকে পাওয়া প্রায় ১০ লাখ ডলারের আয় ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তায় দেওয়ার ঘোষণা দেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান , দ্য রয়া নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নাম, ঠিকানা ও জন্মতারিখ ভিন্ন থাকলেও ৯৩টি জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) একই ব্যক্তির ছবি ব্যবহৃত হয়েছে। নেত্রকোনায় রবিউল ইসলাম ওরফে রনি (২১) নামে এক তরুণকে জাল এনআইডি তৈরির অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে শহরের মোক্তারপাড়ার দত্ত মার্কেটের সিদ্দিক কর্নার ভ্যারাইটিজ স্টোরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে সাতটি জাল এনআইডি, ছয়টি এনআইডির পেছনের অংশ এবং মুঠোফোনে থাকা ৮০টি জাল এনআইডির সফট কপি উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি জানায়, উদ্ধারকৃত এনআইডিগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন নাম, বাবার নাম, জন্মতারিখ, পরিচয় নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করা হলেও ছবিটি একই। ছবির শার্টের রং ছাড়া অন্য কোনো পার্থক্য নেই। সফট কপিগুলোতেও ভিন্ন পরিচয় ও ঠিকানা রয়েছে।
রবিউলের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুরে। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। নেত্রকোনায় স্ত্রীর কাছে গিয়ে তিনি জাল এনআইডি প্রিন্ট করার জন্য দোকানে গিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনে করা মামলায় বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন জেলা ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) হায়দার আলী রানা।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন মন্তব্য করেন, একজনের একাধিক এনআইডি করার সুযোগ নেই। এ ধরনের জালিয়াতি নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে শনাক্ত হয়। মামলার ধারায় অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের আস্থা অর্জন এবং নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তৃণমূলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ তৈরি হতে যাচ্ছে।
সরকার গঠন করার পর বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত, গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে যাতে উন্নয়নের সুফল তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করা যায়।
সরকারের ধারণা, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দলীয় পর্যায়ে যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতৃত্ব বাছাইয়ের পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমবে, জনসম্পৃক্ততা বাড়বে এবং এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক সমস্যার প্রতি দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মন্তব্য করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল নেতাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে এবং তাদের মধ্যে দায়বোধ সৃষ্টি হয়েছে। তারা নিজ উদ্যোগে ভোটারদের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখছেন। ফলে ভোটারদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনপ্রিয়তা অর্জন এবং ভোটারদের আস্থা ধরে রাখতে নেতারা এলাকায় সময় দিচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন বিরোধ ও সমস্যা সমাধানে তারা এগিয়ে আসছেন। ফলে নির্বাচনের পূর্বে জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগ ও দায়বদ্ধতার সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবার কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। এই কারণে ভোটাররা প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা এবং এলাকার মানুষের জন্য তার ভূমিকা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। স্থানীয় নেতাদের জনগণের কাছে যেতে হচ্ছে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ও ভোটারদের আস্থা অর্জনের জন্য।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয়ভাবে বিএনপি-সমর্থিত নির্দিষ্ট প্রার্থী থাকতে পারে। তবে এককভাবে কোনো প্রার্থীকে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ নেই। স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীকে সামনে আনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সরকার নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। দলীয় প্রতীক না থাকলেও কোনো প্রার্থী কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত, তা স্থানীয়ভাবে মানুষের কাছে পরিচিত হতে পারে। তবে এ কারণে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতায় কোনো প্রভাব পড়বে না।
স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি অর্থবছরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের সর্বস্তরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে সঙ্গে নিয়ে বেশ কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ভালো ফল করার জন্য যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতাকে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সরকার নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে। স্থানীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রশাসকদের দায়িত্ব শেষ না হলে পরে সমালোচনা সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধি দায়িত্ব গ্রহণ করলে জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কারণে এলাকার মানুষের সমস্যা, উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভোটারদের সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হবে।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে নির্বাচন কমিশন প্রাথমিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপে আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপে ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপে ২৭ মে ভোট গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
দেশে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা সরাসরি জনগণের গোপন ভোটে নির্বাচিত হন। নির্ধারিত এলাকার ভোটাররা সরাসরি তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেন।
অন্যদিকে জেলা পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যানরা সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভোটে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন।
স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন আইনে এসব নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২০ ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত বিধি অনুসারে ইসি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচন আয়োজন, পরিচালনা ও সম্পাদন করবে। ভোট গ্রহণের তারিখ, সময়, স্থান এবং নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে বিধান করার ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। উপজেলা পরিষদ আইনেও একই ধরনের বিধান রয়েছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ