০৩:৩৫ পি.এম
পাবনার সাঁথিয়ায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কোনো কাজ না করে বরাদ্দকৃত চার লাখ টাকা তুলে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে উঠেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম অনিয়ম ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, পুরো কাজ পরিদর্শন করে বিল প্রদান করা হয়েছে।
প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (টিআর-কাবিখা) প্রকল্পের অধীনে উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামের জয়নালের বাড়ি থেকে রিপনের বাড়ির দিকে রাস্তা এইচবিবি (হেরিং বোন বন্ড) করার জন্য ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
তবে অভিযোগ রয়েছে যে, উক্ত সড়কে কোনো কাজ না করেই বরাদ্দের পুরো অর্থ তুলে নিয়েছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি বেলাল হোসেন। এই অর্থ আত্মসাতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মুলতান হোসেন, ইউনিয়ন পরিষদের সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে রসুলপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পভুক্ত সড়কে বর্তমানে যে এইচবিবি রাস্তাটি রয়েছে, তা প্রায় ৪-৫ বছর আগে বিগত সরকারের আমলে সাবেক চেয়ারম্যান পিঞ্চুর মেয়াদে তৈরি করা হয়েছিল। নতুন করে সেখানে কোনো কাজের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
যাদের বাড়ির নাম উল্লেখ করে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, সেই বাসিন্দারাও দীর্ঘ সময় ধরে কোনো কাজ না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল হোসেন বলেন, "আমার বাড়ি থেকে রিপনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার কাজ পাঁচ বছর আগে হয়েছিল। এরপর আর নতুন করে কোনো কাজ করা হয়নি।"
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
একই এলাকার বাসিন্দা রিপনের স্ত্রী সরস্বতী রায় বলেন, "জয়নালের বাড়ি থেকে আমাদের রায়বাড়ির সামনে দিয়ে শ্মশানঘাট পর্যন্ত রাস্তার কাজ ৫-৬ বছর আগে করা হয়েছে। তারপর আর কোনো কাজ হয়নি।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মুলতান হোসেন বলেন, "কাজটি সরেজমিনে গিয়ে দেখতে হবে। দেখার পরেই বলতে পারব কাজ হয়েছে কিনা।"
বিষয়টি নিয়ে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদ জানান, "আমি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আগে সরেজমিনে রাস্তাটি পরিদর্শন করি, তারপর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুলতান হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন