ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গফরগাঁওয়ে গৃহবধূ নাদিয়া আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যু, এলাকাবাসীর হত্যার অভিযোগ


গফরগাঁওয়ে গৃহবধূ নাদিয়া আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যু, এলাকাবাসীর হত্যার অভিযোগ

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার নাদিয়া আক্তার (১৮) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক কলহের কারণে নাদিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যার ঘটনা।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে গফরগাঁও ইউনিয়নের হাতিখলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত নাদিয়া আক্তার ওই গ্রামের কাউসারের (২৬) স্ত্রী। তার মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী কাউসারের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজনরা।

আরও পড়ুন: কুবি শিক্ষকপুত্র অপ্রতিম হত্যা: ৩১ দিনে চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নাদিয়ার স্বামী ও শাশুড়ির সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল। সংসারের নানা বিষয় নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিত। বুধবার রাতেও পারিবারিক কলহের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে নাদিয়াকে তার স্বামী শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। এদিকে তরুণী গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, নাদিয়ার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। তারা সন্দেহ করছেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ও এলাকাবাসীর হত্যার অভিযোগের মধ্যে ভিন্নতা থাকায় নাদিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের দিকেই নজর রয়েছে।

আরও পড়ুন: সৌদির বিমানবন্দরে হামলায় নিহত শাহেদের মরদেহ বগুড়ায় পৌঁছেছে

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশেদ খান: প্রধানমন্ত্রীর হত্যার হুমকির পেছনে বিরোধী দলের উসকানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৬ পি.এম


রাশেদ খান: প্রধানমন্ত্রীর হত্যার হুমকির পেছনে বিরোধী দলের উসকানি

প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরের প্রেক্ষাপটে ফেসবুকে স্নাইপার দ্বারা হত্যার হুমকি সংবলিত যে পোস্ট প্রকাশিত হয়েছিল, তার পেছনে বিরোধী দলের উসকানি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী পক্ষের বিতর্কিত অবস্থান ও প্ররোচনার কারণে ওই যুবক এমন সাহস দেখাতে সক্ষম হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে কালীগঞ্জের চাপরাইল আবুবকর বিশ্বাস মকছেদ আলী কলেজে একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বক্তব্য দেন।

এছাড়া, রাশেদ খান সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর যৌথ ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বলেন, ৮৬ ও ৯৬ সালের মতো তারা আবারো একত্রিত হয়ে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

জামায়াত আমিরের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা মন্তব্য করেন, জামায়াত প্রধান রাজনৈতিক মিথ্যাচার অব্যাহত রেখেছেন। অতীতে জাসদ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরও জামায়াতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর অসত্যের চর্চা বন্ধ হয়নি।

তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের এই অশুভ আঁতাত প্রতিহত করতে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয় রয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ, যুগ্ম সদস্য সচিব ইলিয়াস রহমান মিঠু, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মশিয়ার রহমান এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুরে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা, ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের অংশগ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৭ পি.এম


চাঁদপুরে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা, ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের অংশগ্রহণ

চাঁদপুর, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : ধর্মের দাওয়াত, ঈমানি চেতনার উন্মেষ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে চাঁদপুরে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা শুরু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বাদ ফজর থেকে শহরের পুরানবাজার দোকানঘর এলাকায় মেঘনাপাড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে এই ধর্মীয় আয়োজনের সূচনা হয়েছে।

এতে অংশগ্রহণ করছেন চাঁদপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা।

তাবলীগ জামাতের উদ্যোগে ২২, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে বিভিন্ন স্থানে পাঁচবার জেলা পর্যায়ে ইজতেমা আয়োজন করা হয়েছিল।

মুসল্লিদের অবস্থান ও ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনার জন্য প্যান্ডেলসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করেছেন।

ইজতেমার মুসল্লিদের জন্য অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প ও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, তিন দিনের এই ধর্মীয় আয়োজনে চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন। ইজতেমায় কোরআন-হাদিসের আলোকে দ্বীনি আলোচনা, ঈমান ও আমলের ওপর বয়ান, জিকির-আযকারসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রম আয়োজন করা হবে।

তাবলীগ জামাতের চাঁদপুর জেলার জিম্মাদার মো. আরিফ উল্লাহ বাসসকে জানিয়েছেন, আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া জেলা ইজতেমা আগামী শনিবার (২৪ অক্টোবর) আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে। আখেরি মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সম্প্রীতি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হবে। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে জীবন পরিচালনা, আত্মশুদ্ধি ও দ্বীনের পথে মানুষকে আহ্বান জানানোর উদ্দেশ্যে এই আয়োজন করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে বিএনপির লিফলেট বিতরণ, সরকারের উন্নয়ন প্রচারণা ও গুজবের বিরুদ্ধে সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৮ পি.এম


নোয়াখালীতে বিএনপির লিফলেট বিতরণ, সরকারের উন্নয়ন প্রচারণা ও গুজবের বিরুদ্ধে সতর্কতা

নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে লিফলেট বিতরণ করেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহজাহান। বর্তমান সরকারের গত ৮ মাসের উন্নয়নের চিত্র জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তিনি সবাইকে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে কুচক্রী মহলের অপপ্রচার ও গুজবের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহবান জানান।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে মাইজদী পৌর বাজার এলাকায় জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন শাহজাহান এমপি।

লিফলেট বিতরণ শেষে পৌর বাজারের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান এমপি বলেন, "দেশে বিদ্যুৎ খাতে সংকট শুরু হয়েছিলো আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে। তাদের সেই সময়কার ভুল স্বীদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার খেসারত এখন জনগনকে দিতে হচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, "গত দেড় দশকে হাসিনা সরকার একের পর এক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করলেও জ্বালানি এবং টাকা কোথা থেকে আসবে তার কোনো পরিকল্পনা করেনি। ফলে সক্ষমতা থাকলেও বাড়েনি বিদ্যুৎ উৎপাদন। ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর ড. ইউনুস সরকারও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে কোন কার্যকর ভূমিকা রাখেনি।"

বিএনপির অন্য নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের পর দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ৫গুণ বাড়লেও উৎপাদন বেড়েছে মাত্র ৩গুনের মতো। কিন্তু বিদ্যুৎ ভাড়া ও চার্জ বেড়েছে ১৬ গুণ। ২০১৭ সালে গ্যাস উৎপাদন ছিলো প্রতিদিন ২৭০ কোটি ঘনফুট যা এখন ১৬২ ঘনফুটে নেমেছে। বর্তমান চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুটের বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রতিদিন ২৭০ কোটি ঘনফুট, যার ২১০ কোটি ঘনফুট শুধু বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতেই লাগে।

এ সময় বক্তারা ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত লোডশেডিং এর চিত্র তুলে ধরেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ট্রোকের পর সুস্থতার সম্ভাবনা: রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও পুনরুদ্ধারের গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৮ পি.এম


স্ট্রোকের পর সুস্থতার সম্ভাবনা: রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও পুনরুদ্ধারের গুরুত্ব

স্ট্রোকের পর রোগীকে হাসপাতালে নেয়ার সময় এবং পরে পরিবারের মনে অসংখ্য প্রশ্ন তৈরি হয়। রোগী কি আগের মতো কথা বলতে পারবেন? হাঁটতে পারবেন? স্মৃতিশক্তি কি ফিরে আসবে? স্বাভাবিক জীবনে ফেরা কি সম্ভব? এসব প্রশ্নের উত্তর স্ট্রোকের কারণ ও ধরণভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। পূর্ণ সুস্থতায় ফেরা স্ট্রোকের কারণে মস্তিষ্কের কোন অংশে এবং কী মাত্রায় আঘাত হয়েছে, কতো দ্রুত চিকিৎসা শুরু হয়েছে এবং স্ট্রোক পরবর্তী পুনর্বাসন কতটা দক্ষতার সঙ্গে করা হয়েছে—এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

স্ট্রোকের প্রকৃতি বা ধরণ এবং মস্তিষ্কের ক্ষতির মাত্রা সঠিকভাবে নির্ণয় করা জরুরি।

স্ট্রোকের ধরণ জানা কেন জরুরি?

রোগের কারণ এবং আক্রান্ত রক্তনালীর ধরণভেদে স্ট্রোক কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে কমন ইস্কিমিক স্ট্রোকে মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি বন্ধ হয়ে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। অন্যদিকে, হেমোরেজিক স্ট্রোকে মস্তিষ্কের ভেতরে বা সন্নিহিত স্থানে রক্তক্ষরণ ঘটে। এই স্ট্রোকগুলোর চিকিৎসাপদ্ধতি ধরণভেদে একেবারে ভিন্ন। তাই লক্ষণ বা উপসর্গ দেখে চিকিৎসা শুরু না করে দ্রুত চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক উপসর্গ, শুরুর সময়, রোগীর সার্বিক শারীরিক অবস্থাএবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক স্বাস্থ্যসমস্যা মূল্যায়ন করেন। মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান অথবা ক্ষেত্রবিশেষে এমআরআই স্ক্যানের মাধ্যমে স্ট্রোকের ধরণ ও বিস্তৃতি সম্পর্কে জানা যায়। কিছু ক্ষেত্রে রক্তনালীর ইমেজিং, প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা, হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্রম মূল্যায়নসহ অতিরিক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হয়ে থাকে।

এই পরীক্ষাগুলো রোগ শনাক্ত করার পাশাপাশি উপযুক্ত চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ, জটিলতার ঝুঁকি যাচাই এবং পরবর্তী পরিচর্যার পরিকল্পনায় সহায়তা করে।

দ্রুত চিকিৎসা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ইস্কিমিক স্ট্রোকের কিছু রোগীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট, সংক্ষিপ্ত সময়সীমার মধ্যে ধমনীর জমাট রক্তপিন্ড ভেঙ্গে দেয়ার ওষধ দেয়া সম্ভব। বিশেষায়িত স্ট্রোক ইউনিটে উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে বিশেষ পদ্ধতিতে মস্তিষ্কের রক্তনালি থেকে জমাট রক্তপিন্ড অপসারণের চিকিৎসা করার সুযোগ থাকে। কোন রোগী খুবই বিশেষ এ ধরনের চিকিৎসার উপযুক্ত, তা নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট ‘স্ট্রোক পাথওয়ে’ বা ‘প্রটোকল’ অনুসরণ করা হয়।

অন্যদিকে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে তাৎক্ষণিক রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারসহ ভিন্ন ধরনের চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে বাসায় থেকে ভালো হয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করা কিংবা নিজে নিজে ওষধ নেয়ার মধ্য দিয়ে সময় নষ্ট করা উচিত নয়।

স্ট্রোকের লক্ষণ বুঝতে উন্নত দেশগুলোতে সাধারণ মানুষের জন্য ‘FAST’ অথবা ‘BE FAST’ পেনমোনিকটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়। হঠাৎ মুখের এক পাশ বাঁকা হয়ে যাওয়া বা ঝুলে পড়া, হঠাৎ এক পাশের হাত বা পা অথবা উভয়ই দুর্বল হয়ে পড়া, অকস্মাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা দৃষ্টিশক্তি অথবা ভারসাম্যহীনতার ভাব দেখা দেয়া—এগুলোর যে কোনটি ঘটলে কালক্ষেপণ না করে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে।

সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কেমন?

স্ট্রোকের পর কোন কোন রোগীর শারীরিক দুর্বলতা দ্রুত কমতে পারে, আবার কারো কারো ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। রোগিভেদে প্রয়োজন অনুযায়ী ফিজিক্যাল থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি এবং পুষ্টিবিষয়ক সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।

পুনর্বাসন শুরু করার সময় ও পদ্ধতি রোগীর শারীরিক স্থিতিশীলতা এবং চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। দ্রুততার সঙ্গে উপযুক্ত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করা গেলে তা অধিকাংশ রোগীর দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা ফিরে পাওয়ায় সহায়ক হয়। তবে সুস্থতার গতি ও মাত্রা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। তাই অন্য কারো সঙ্গে তুলনা না করে প্রতিজন রোগীকে তার রোগের প্রকৃতি, গতি বিবেচনায় সুস্থতার সম্ভাবনা অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রণীত হয়ে থাকে।

দ্বিতীয় বা পরবর্তী স্ট্রোক প্রতিরোধও চিকিৎসার অংশ।

প্রথম স্ট্রোকের পর ভবিষ্যতে আবার স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি কমাতে কারণ শনাক্ত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে অস্বাভাবিক মাত্রার কোলেস্টেরল এবং হৃদ্‌যন্ত্রের কিছু সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। ধূমপান সর্বোতভাবে বর্জন করতেই হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সুস্থতা অর্জনে দীর্ঘমেয়াদী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আগে বর্ণিত স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই নিয়মিত চেম্বার বা অফিস অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষায় না থেকে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চলে আসতে হবে।

স্ট্রোক একটি গুরুতর পর্যায়ের রোগ। এই রোগের উপসর্গ ও চিকিৎসার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা রাখা রোগী ও তার পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত রোগ নির্ণয়, উপযুক্ত চিকিৎসালাভ, সময়োচিত পুনর্বাসন এবং দ্বিতীয় বা পরবর্তী স্ট্রোক প্রতিরোধ—এই প্রক্রিয়াগুলোর পরিকল্পিত ও সমন্বিত প্রয়োগ রোগীর সুস্থজীবনে ফেরার সম্ভাবনার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক: চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের অ্যাটেন্ডিং কনসালট্যান্ট ডা. মোহাম্মদ আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%