বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৮ পি.এম
স্ট্রোকের পর রোগীকে হাসপাতালে নেয়ার সময় এবং পরে পরিবারের মনে অসংখ্য প্রশ্ন তৈরি হয়। রোগী কি আগের মতো কথা বলতে পারবেন? হাঁটতে পারবেন? স্মৃতিশক্তি কি ফিরে আসবে? স্বাভাবিক জীবনে ফেরা কি সম্ভব? এসব প্রশ্নের উত্তর স্ট্রোকের কারণ ও ধরণভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। পূর্ণ সুস্থতায় ফেরা স্ট্রোকের কারণে মস্তিষ্কের কোন অংশে এবং কী মাত্রায় আঘাত হয়েছে, কতো দ্রুত চিকিৎসা শুরু হয়েছে এবং স্ট্রোক পরবর্তী পুনর্বাসন কতটা দক্ষতার সঙ্গে করা হয়েছে—এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
স্ট্রোকের প্রকৃতি বা ধরণ এবং মস্তিষ্কের ক্ষতির মাত্রা সঠিকভাবে নির্ণয় করা জরুরি।
স্ট্রোকের ধরণ জানা কেন জরুরি?
রোগের কারণ এবং আক্রান্ত রক্তনালীর ধরণভেদে স্ট্রোক কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে কমন ইস্কিমিক স্ট্রোকে মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি বন্ধ হয়ে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। অন্যদিকে, হেমোরেজিক স্ট্রোকে মস্তিষ্কের ভেতরে বা সন্নিহিত স্থানে রক্তক্ষরণ ঘটে। এই স্ট্রোকগুলোর চিকিৎসাপদ্ধতি ধরণভেদে একেবারে ভিন্ন। তাই লক্ষণ বা উপসর্গ দেখে চিকিৎসা শুরু না করে দ্রুত চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক উপসর্গ, শুরুর সময়, রোগীর সার্বিক শারীরিক অবস্থাএবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক স্বাস্থ্যসমস্যা মূল্যায়ন করেন। মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান অথবা ক্ষেত্রবিশেষে এমআরআই স্ক্যানের মাধ্যমে স্ট্রোকের ধরণ ও বিস্তৃতি সম্পর্কে জানা যায়। কিছু ক্ষেত্রে রক্তনালীর ইমেজিং, প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা, হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম মূল্যায়নসহ অতিরিক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হয়ে থাকে।
এই পরীক্ষাগুলো রোগ শনাক্ত করার পাশাপাশি উপযুক্ত চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ, জটিলতার ঝুঁকি যাচাই এবং পরবর্তী পরিচর্যার পরিকল্পনায় সহায়তা করে।
দ্রুত চিকিৎসা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ইস্কিমিক স্ট্রোকের কিছু রোগীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট, সংক্ষিপ্ত সময়সীমার মধ্যে ধমনীর জমাট রক্তপিন্ড ভেঙ্গে দেয়ার ওষধ দেয়া সম্ভব। বিশেষায়িত স্ট্রোক ইউনিটে উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে বিশেষ পদ্ধতিতে মস্তিষ্কের রক্তনালি থেকে জমাট রক্তপিন্ড অপসারণের চিকিৎসা করার সুযোগ থাকে। কোন রোগী খুবই বিশেষ এ ধরনের চিকিৎসার উপযুক্ত, তা নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট ‘স্ট্রোক পাথওয়ে’ বা ‘প্রটোকল’ অনুসরণ করা হয়।
অন্যদিকে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে তাৎক্ষণিক রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারসহ ভিন্ন ধরনের চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে বাসায় থেকে ভালো হয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করা কিংবা নিজে নিজে ওষধ নেয়ার মধ্য দিয়ে সময় নষ্ট করা উচিত নয়।
স্ট্রোকের লক্ষণ বুঝতে উন্নত দেশগুলোতে সাধারণ মানুষের জন্য ‘FAST’ অথবা ‘BE FAST’ পেনমোনিকটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়। হঠাৎ মুখের এক পাশ বাঁকা হয়ে যাওয়া বা ঝুলে পড়া, হঠাৎ এক পাশের হাত বা পা অথবা উভয়ই দুর্বল হয়ে পড়া, অকস্মাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা দৃষ্টিশক্তি অথবা ভারসাম্যহীনতার ভাব দেখা দেয়া—এগুলোর যে কোনটি ঘটলে কালক্ষেপণ না করে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে।
সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কেমন?
স্ট্রোকের পর কোন কোন রোগীর শারীরিক দুর্বলতা দ্রুত কমতে পারে, আবার কারো কারো ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। রোগিভেদে প্রয়োজন অনুযায়ী ফিজিক্যাল থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি এবং পুষ্টিবিষয়ক সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
পুনর্বাসন শুরু করার সময় ও পদ্ধতি রোগীর শারীরিক স্থিতিশীলতা এবং চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। দ্রুততার সঙ্গে উপযুক্ত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করা গেলে তা অধিকাংশ রোগীর দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা ফিরে পাওয়ায় সহায়ক হয়। তবে সুস্থতার গতি ও মাত্রা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। তাই অন্য কারো সঙ্গে তুলনা না করে প্রতিজন রোগীকে তার রোগের প্রকৃতি, গতি বিবেচনায় সুস্থতার সম্ভাবনা অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রণীত হয়ে থাকে।
দ্বিতীয় বা পরবর্তী স্ট্রোক প্রতিরোধও চিকিৎসার অংশ।
প্রথম স্ট্রোকের পর ভবিষ্যতে আবার স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি কমাতে কারণ শনাক্ত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে অস্বাভাবিক মাত্রার কোলেস্টেরল এবং হৃদ্যন্ত্রের কিছু সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। ধূমপান সর্বোতভাবে বর্জন করতেই হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সুস্থতা অর্জনে দীর্ঘমেয়াদী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আগে বর্ণিত স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই নিয়মিত চেম্বার বা অফিস অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষায় না থেকে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চলে আসতে হবে।
স্ট্রোক একটি গুরুতর পর্যায়ের রোগ। এই রোগের উপসর্গ ও চিকিৎসার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা রাখা রোগী ও তার পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত রোগ নির্ণয়, উপযুক্ত চিকিৎসালাভ, সময়োচিত পুনর্বাসন এবং দ্বিতীয় বা পরবর্তী স্ট্রোক প্রতিরোধ—এই প্রক্রিয়াগুলোর পরিকল্পিত ও সমন্বিত প্রয়োগ রোগীর সুস্থজীবনে ফেরার সম্ভাবনার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক: চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের অ্যাটেন্ডিং কনসালট্যান্ট ডা. মোহাম্মদ আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন থানায় পরিচালিত কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে পুলিশ ১২ জনকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আবু তৈয়ব মোঃ আরিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলায় ২ জন, কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় ১ জন, হাতিয়া উপজেলায় ৩ জন এবং সুবর্ণচর উপজেলায় ৬ জনসহ মোট ১২ জনকে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে সুবর্ণচর উপজেলার ৪ জনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এবং বাকি ৮ জনকে মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় প্রদান করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যশোরের ৯৩টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌরসভায় সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে চরম দলীয়করণ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। তাঁদের দাবি, প্রকৃত ব্যবসায়ী ও কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোগ্য ব্যক্তিদের বঞ্চিত করে রাজনৈতিক পরিচয় এবং অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে অনেককে সার ডিলারশিপ প্রদান করা হয়েছে। এমনকি একাধিক ফৌজদারি মামলার আসামি, মাদক কারবারে আটকের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীও ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে তাঁরা অভিযোগ করেছেন। এ অবস্থায় বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল, অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত এবং সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে সৎ ও যোগ্য ব্যবসায়ীদের ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন পাঁচ সংসদ সদস্য।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রেসক্লাব যশোরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ সংসদ সদস্যের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রছুল।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য থাকা সত্ত্বেও সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁদের পরামর্শ ও সুপারিশ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। অভিযোগ করা হয়েছে যে, জেলা প্রশাসক সরকারদলীয় ব্যক্তিদের দেওয়া তালিকা চূড়ান্ত করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সততা, দক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং কৃষির সঙ্গে তাঁদের বাস্তব সম্পৃক্ততার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে সংসদ সদস্যরা দাবি করেছেন।
তাঁদের অভিযোগ, সার ডিলার নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কৃষি উপকরণের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রকৃত ব্যবসায়ী এবং কৃষকদের সেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে—এমন ব্যক্তিরা বঞ্চিত হয়েছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের মাধ্যমে অযোগ্য বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক গোলাম রছুল কয়েকজন ডিলারের নাম উল্লেখ করে তাঁদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাঘারপাড়া উপজেলার বাসুয়ারী ইউনিয়নের হাবিবুর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমানকে সার ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, ব্যাংক ডাকাতি ও প্রতারণাসংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এমন অভিযোগ ও মামলার বিষয় থাকা সত্ত্বেও একজন ব্যক্তিকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ ছাড়া মনিরামপুর পৌরসভায় নাফিজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাসুদ পারভেজ রুবেলকে ডিলারশিপ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন অধ্যাপক গোলাম রছুল। তিনি দাবি করেন, মাসুদ পারভেজ রুবেল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির ছেলে। একই সঙ্গে মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সালাউদ্দীনের ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
সংসদ সদস্যের এসব বক্তব্যের মাধ্যমে সার ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক সম্পর্ক এবং প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না, সে প্রশ্ন সামনে এসেছে। তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলার, প্রশাসন কিংবা কৃষি বিভাগের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও নিয়োগপ্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে শুধু ডিলার নিয়োগ নয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি গঠন নিয়েও আপত্তি জানান সংসদ সদস্যরা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এসব কমিটিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কৃষক, ব্যবসায়ী ও সামাজিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের পরামর্শ ও সুপারিশ গ্রহণ না করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
সংসদ সদস্যদের দাবি, কৃষি খাতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিবর্তে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের কমিটিতে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, সার ও বীজের সরবরাহ, বিতরণ, বাজার পরিস্থিতি এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এসব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনার পরিবর্তে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ, অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
তাঁরা আরও বলেন, সার ডিলার নিয়োগ ও মনিটরিং কমিটি গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে কৃষি উপকরণ বিতরণব্যবস্থায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে প্রকৃত কৃষক ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সার কৃষি উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। সময়মতো এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এ কারণে সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, সততা, অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তাঁদের অভিযোগ, নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা ও অনিয়ম প্রাধান্য পেলে কৃষকদের প্রকৃত সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে কৃষি উপকরণের সুষ্ঠু বিতরণব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ, প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি বলে মনে করেন তাঁরা।
বক্তারা বলেন, সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগের কারণে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ সংসদ সদস্যের পক্ষে অধ্যাপক গোলাম রছুল বর্তমান সার ডিলার নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেসব নিয়োগের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারশিপ বাতিল করে সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে হবে।
তাঁরা আরও দাবি করেন, সার ডিলার নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশের পরিবর্তে নির্ধারিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং কৃষক, ব্যবসায়ী ও সামাজিক প্রতিনিধিদের যথাযথ অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সার ডিলার নিয়োগে কথিত দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বক্তারা বলেন, কৃষি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্ব গ্রহণযোগ্য নয়। তাই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রকৃত, সৎ ও যোগ্য ব্যবসায়ীদের ডিলারশিপ নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য আজিজুর রহমান, যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মোসলেম উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোক্তার আলী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর, সহসেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, যশোর জেলা প্রচার সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন বিশ্বাসসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাগুরা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাকের হোসেনকে হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করেন। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। পরে শহরের মধুমিতা সিনেমা হলের সামনে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য মো: কুতুব উদ্দিন, পৌর বিএনপি’র সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল, যুবদলের সভাপতি ওয়াশিকুর রহমান কল্লোল, সিনিয়র সহসভাপতি মো: আমিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদ, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মারুফ হোসেন এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে নেতাকর্মীরা সাকের হোসেন হত্যার বিচার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বক্তারা সমাবেশে বলেন, যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে তারা কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন। বক্তারা প্রশাসনের প্রতি অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে, নিহত যুবদল নেতা সাকের হোসেনের স্ত্রী শারমিন নাহার মাগুরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, বুধবার ভোর ৬টার দিকে মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার থেকে যুবদল নেতা সাকের হোসেনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তার মাথার পেছনে একটি ছিদ্র দেখা যায়। ময়নাতদন্ত শেষে তার মাথা থেকে একটি গুলি বের করা হয়। মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, মামলার তদন্ত চলছে এবং দ্রুতই মূল রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কওমি ঘরানার সাতটি সমমনা ইসলামী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামে অভিন্ন ব্যানারে একসঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নেতারা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন যে, বর্তমানে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা দলগুলোও এই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে একসঙ্গে কাজ করবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে মাখযানুল উলুম মাদরাসায় অনুষ্ঠিত সাত দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এই সিদ্ধান্তগুলো জানানো হয়। বৈঠকে সাত দলের ঐক্যপ্রক্রিয়া, অভিন্ন ব্যানারে কার্যক্রম পরিচালনা এবং পরবর্তী কর্মপন্থাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সাতটি দল পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তারা নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠন না করে ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামটি অভিন্ন ব্যানার হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে দলগুলো নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখবে।
এছাড়া আগামী ৫ ডিসেম্বর পরবর্তী বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বর্তমানে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা দলগুলোও এই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে একসঙ্গে কাজ করবে বলে নেতারা ঐকমত্য প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল আউয়াল, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদির এবং মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসেন রাজীসহ সংশ্লিষ্ট দলগুলোর অন্যান্য নেতারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ