বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৫৭ পি.এম
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার ফয়লা গ্রামে স্ত্রীকে অচেতন করে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগে মনজুর হোসেন অপুকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনার পর পুলিশ তাকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ফয়লা গ্রামে তার নিজ বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মনজুর হোসেন অপু, যিনি ফয়লা গ্রামের মৃত পল্লী চিকিৎসক আজিজুলের ছেলে, স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন। তার বাবা ‘হ্যারিকেন ডাক্তার’ নামে পরিচিত ছিলেন।
প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের বেলায় ওই নারীর চিৎকার শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তারা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। পরে যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী এই বিষয়ে বলেন, "মনজুর হোসেন অপু নামে একজনকে ফয়লা গ্রাম থেকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে কী কারণে এবং কীভাবে ওই নারী অচেতন হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পুলিশি তদন্তের পর জানা যাবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় একটি বিরল ঘটনা ঘটান ক্রিস্টা গেইল পাইক। তাকে দুই ডোজ বিষাক্ত ওষুধ দেওয়ার পরও তিনি মারা যাননি। বরং কারাগারে জোরে নাক ডাকতে শোনা যায় তাকে। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কারাগার থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
৫০ বছর বয়সী পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নির্ধারিত ছিল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায়। ১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী সহপাঠী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। পাইক ওই হত্যাকাণ্ডে ১৮ বছর বয়সে জড়িত হন।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রায় এক ঘণ্টা আগে একটি আপিল আদালত তা স্থগিত করে। তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত সেই স্থগিতাদেশ বাতিল করে দেয়। এরপর রাতে কারা কর্তৃপক্ষ পাইককে দুই ডোজ পেন্টোবারবিটাল দেয় বলে তার আইনজীবীরা আদালতে জানান।
প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদকর্মীরা জানান, রাত ৭টা ২৭ মিনিটে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কক্ষের পর্দা সরানো হলে পাইককে একটি শয্যায় বেঁধে রাখা অবস্থায় দেখা যায়। তিনি তখনও জেগে ছিলেন। একপর্যায়ে নিজের মাথা তুলে কারা কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান, তার হাতের এমন অনুভূতি হওয়ার কথা কি না।
রাত ৮টা ২৬ মিনিটে দ্বিতীয় ডোজ ওষুধ দেওয়ার কথা জানা যায়। এরপরও বন্ধ পর্দার আড়াল থেকে পাইকের নাক ডাকার শব্দ শোনা যায়। রাত ৮টা ৫৩ মিনিটে মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সংবাদকর্মীদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়।
পাইকের আইনজীবীরা জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও তিনি জীবিত ছিলেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ বা আইনজীবীরা পরে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক বিশেষজ্ঞ রবিন মাহের এই ঘটনাটিকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে সাতজন বন্দি শিরায় ওষুধ প্রবেশ করাতে ব্যর্থতার কারণে মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। তবে মৃত্যুদণ্ডের ওষুধ দেওয়ার পরও কেউ জীবিত থাকার ঘটনা আগে ঘটেনি।
পাইক ও তার প্রেমিক ১৯৯৫ সালে টেনেসির নক্সভিলে তাদের সহপাঠী কলিন স্লেমারকে হত্যা করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, পাইক স্লেমারকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত ও পাথরের বড় টুকরা দিয়ে মারধর করা হয়। পরে পাইকের প্রেমিক তার শরীরে শয়তান উপাসনার সঙ্গে যুক্ত একটি তারকাচিহ্ন খোদাই করেছিলেন বলে স্বীকার করেন। ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অন্যদিকে, পাইকের আইনজীবীরা তার বয়স, মানসিক অসুস্থতা এবং শৈশবে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এনে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, মৃত্যুদণ্ডের সময় এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। পাইকের আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানান এবং বিষয়টি নিয়ে আদালতে জরুরি আবেদন করেন।
এ বছর টেনেসিতে এটি দ্বিতীয় ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। এর আগে মে মাসে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এক ঘণ্টারও বেশি সময় চেষ্টা করেও তার শরীরে শিরার মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়নি।
টেনেসিতে ২০২৪ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়। আগে তিন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হলেও পরে এক ধরনের ওষুধ পেন্টোবারবিটাল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে ওষুধ যথাযথভাবে পরীক্ষা না করার কারণে আরেকটি মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল।
সূত্র: এপি, সিএনএন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে বন্দির সংখ্যা ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় চারগুণ বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বন্দিদের রাখা হচ্ছে কারাগারের মালামাল রাখার স্থানসহ ঘরগুলোর বাইরের বারান্দায়। এই পরিস্থিতিতে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে ৩৮২ জন বন্দি রাখার সক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু বর্তমানে সেখানে প্রায় সাড়ে ১২০০ বন্দি অবস্থান করছেন। ফলে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় ৮৫০ জন বেশি বন্দি সেখানে রয়েছেন। কারাগারে জায়গার সংকটের কারণে বন্দিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
এদিকে জেলার ৬টি উপজেলার মাদক মামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ছামারি পাওয়ার কারণে ৩, ৬ ও ১২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার আপিল ও জামিন না হওয়ার ফলে অতিরিক্ত বন্দির চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এছাড়া, বিশেষ অভিযানে জেলার ৬টি উপজেলায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের কারণে জেলা কারাগারে বন্দিদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
অতিরিক্ত বন্দির কারণে আবাসন, খাবার, চিকিৎসা, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কারারক্ষীরাও বিপাকে পড়ছেন।
আবাসিক কক্ষগুলোতে অতিরিক্ত বন্দি থাকার কারণে পর্যাপ্ত জায়গা, ঘুমানোর ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়েছে। টয়লেট, গোসল, পানি সরবরাহ ও অন্যান্য স্যানিটেশন ব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
বন্দিদের পাশাপাশি কারা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বাড়তি চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন। নির্ধারিত জনবলের তুলনায় বন্দির সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করতে তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
কারাগারে বন্দির চাপ বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিচারাধীন বন্দির সংখ্যা বেশি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিচারাধীন বন্দিদের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হলে কারাগারের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন।
এদিকে, অতিরিক্ত বন্দির কারণে কারাগারের চিকিৎসা ব্যবস্থাতেও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিপুলসংখ্যক বন্দির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, অসুস্থদের চিকিৎসা দেওয়া এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কারা কর্তৃপক্ষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. হাবিবুর রহমান ও জেলার স্বপন কুমার ঘোষ জানান, কারাগারের ধারণক্ষমতা ৩৮২ জন। বর্তমানে বন্দির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১২০০। ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দি বেশি থাকায় ব্যবস্থাপনায় চাপ রয়েছে। তবে কারা কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী বন্দিদের খাবার, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, বন্দির সংখ্যা বেশি হলেও কারাগারের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমাতে অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো এবং বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে বন্দিদের মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কারা ব্যবস্থাপনার সার্বিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি জনবল নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদনকারীরা আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
পদের নাম: সার্ভিস এক্সপার্ট
বিভাগ: আইটি প্রোডাক্ট
লোকবল নিয়োগ: ২৫ জন
শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএসসি বা ডিপ্লোমা
অন্যান্য যোগ্যতা: প্রার্থীদের আইটি পণ্য যেমন ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, অল-ইন-ওয়ান, প্রিন্টার, স্পিকার ইত্যাদি সার্ভিসিং বা মেরামতের ক্ষেত্রে দক্ষতা থাকতে হবে। মাদারবোর্ড, টাচ এলসিডি (LCD) এবং ডিসপ্লে মেরামতের বিষয়ে প্রার্থীদের জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১ থেকে ৫ বছর
চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: উল্লেখ নেই
কর্মস্থল: গাজীপুর (কালিয়াকৈর)
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: প্রভিডেন্ট ফান্ড, মোবাইল বিল, লভ্যাংশ, দুপুরের খাবার সুবিধা, প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট, বছরে ২টি উৎসব বোনাস প্রদান করা হবে।
আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, "যেকোনো পরিবর্তনে অস্ত্রের বদলে মূল হাতিয়ার হওয়া উচিত যুক্তি, আলোচনা, শিক্ষা ও মানবতা।"
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ব শান্তি, মানবতা এবং বিশ্বায়নের যুগে দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে থাকা প্রধান বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, তিনি জাতিসংঘকে এমন ভূমিকায় দেখতে চান, যেখানে যেকোনো পরিবর্তন আনার হাতিয়ার হবে যুক্তি, আলোচনা, শিক্ষা ও মানবতা; অস্ত্র নয়।"
প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে দেশের নাগরিকদের ক্ষমতায়নের ওপর বারবার গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, "নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না।" এই একই বার্তা তিনি দেশে এবং জাতিসংঘ- উভয় জায়গাতেই দিয়েছেন।
এম ছালেহ বলেন, "প্রধানমন্ত্রী জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন পরিকল্পিত উদ্যোগের কথা জাতিসংঘে তুলে ধরেন। ভাষণ শেষ করার সময় তিনি এমন এক স্বপ্নের বাংলাদেশের কথা বলেন- যেখানে তরুণেরা নির্দ্বিধায় স্বপ্ন পূরণ করবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করবে এবং প্রতিটি শিশু নিজের পূর্ণ সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে।"
প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, "সবার ওপরে মানুষ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা পাবে।"
প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণটি কেবল গতানুগতিক বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। নিউইয়র্কে চার দিনের সফরে তিনি একাধিক দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় ও সাইডলাইন বৈঠকসহ ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি তার সফরসঙ্গীরাও প্রায় ৫০টি অতিরিক্ত কর্মসূচিতে অংশ নেন। ফলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি বক্তব্য বিশ্বমঞ্চে বেশ জোরালোভাবে পৌঁছেছে এবং জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এসব বার্তা পেয়েছেন।
এই সফরে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, এবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি হিসাবে মাত্র ৩৫ জন প্রতিনিধি ছিলেন এবং চার্টার্ড বিমানের বদলে নিয়মিত কমার্শিয়াল ফ্লাইটে তিনি ভ্রমণ করেছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি দেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে এনে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে এক মানবিক সমাজ গড়তে কাজ করছেন।
আব্দুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, "তিনি এমন একটি প্রাণবন্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চান, যেখানে মানুষ একে অপরকে সম্মান করবে, বড়রা ছোটদের স্নেহ ও যত্ন করবেন এবং ছোটরা বড়দের শ্রদ্ধা করবে।"
প্রেস সচিব বলেন, অন্যের সামনে উদাহরণ তুলে ধরার আগে প্রধানমন্ত্রী নিজের আচরণে সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছেন।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গিকে সহনশীলতা ও মানবতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।
দেশের রাজনৈতিক অতীতের প্রসঙ্গ টেনে আব্দুল্লাহ ছালেহ বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ দমনপীড়ন ও ভয়ের সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে গেছে। নতুন একটি পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তিনি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতি করতে এবং একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে চান।
প্রেস সচিব বলেন, "একটি সুন্দর রাষ্ট্র ও মানবিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজ গড়ে তোলার যে সুযোগ এসেছে, আমরা যদি তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হই, তাহলে তা আমাদের কারও জন্যই ভালো ফল বয়ে আনবে না।"
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরকে শুধু সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া তাঁর ভাষণ দিয়ে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। সফরকালে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি যেসব বিস্তৃত বিষয় উত্থাপন ও আলোচনা করেছেন, সেগুলোর সামগ্রিক প্রেক্ষাপটেই সফরটিকে দেখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা, সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির ও সহকারী প্রেস সচিব মো. নাজমুল হক খান উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ