ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাতিসংঘে অস্ত্রের বদলে কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী


জাতিসংঘে অস্ত্রের বদলে কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, "যেকোনো পরিবর্তনে অস্ত্রের বদলে মূল হাতিয়ার হওয়া উচিত যুক্তি, আলোচনা, শিক্ষা ও মানবতা।"

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ব শান্তি, মানবতা এবং বিশ্বায়নের যুগে দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে থাকা প্রধান বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

তিনি উল্লেখ করেন, "প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, তিনি জাতিসংঘকে এমন ভূমিকায় দেখতে চান, যেখানে যেকোনো পরিবর্তন আনার হাতিয়ার হবে যুক্তি, আলোচনা, শিক্ষা ও মানবতা; অস্ত্র নয়।"

প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে দেশের নাগরিকদের ক্ষমতায়নের ওপর বারবার গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, "নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না।" এই একই বার্তা তিনি দেশে এবং জাতিসংঘ- উভয় জায়গাতেই দিয়েছেন।

এম ছালেহ বলেন, "প্রধানমন্ত্রী জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন পরিকল্পিত উদ্যোগের কথা জাতিসংঘে তুলে ধরেন। ভাষণ শেষ করার সময় তিনি এমন এক স্বপ্নের বাংলাদেশের কথা বলেন- যেখানে তরুণেরা নির্দ্বিধায় স্বপ্ন পূরণ করবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করবে এবং প্রতিটি শিশু নিজের পূর্ণ সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে।"

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, "সবার ওপরে মানুষ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা পাবে।"

প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণটি কেবল গতানুগতিক বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। নিউইয়র্কে চার দিনের সফরে তিনি একাধিক দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় ও সাইডলাইন বৈঠকসহ ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি তার সফরসঙ্গীরাও প্রায় ৫০টি অতিরিক্ত কর্মসূচিতে অংশ নেন। ফলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি বক্তব্য বিশ্বমঞ্চে বেশ জোরালোভাবে পৌঁছেছে এবং জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এসব বার্তা পেয়েছেন।

এই সফরে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, এবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি হিসাবে মাত্র ৩৫ জন প্রতিনিধি ছিলেন এবং চার্টার্ড বিমানের বদলে নিয়মিত কমার্শিয়াল ফ্লাইটে তিনি ভ্রমণ করেছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি দেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে এনে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে এক মানবিক সমাজ গড়তে কাজ করছেন।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

আব্দুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, "তিনি এমন একটি প্রাণবন্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চান, যেখানে মানুষ একে অপরকে সম্মান করবে, বড়রা ছোটদের স্নেহ ও যত্ন করবেন এবং ছোটরা বড়দের শ্রদ্ধা করবে।"

প্রেস সচিব বলেন, অন্যের সামনে উদাহরণ তুলে ধরার আগে প্রধানমন্ত্রী নিজের আচরণে সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গিকে সহনশীলতা ও মানবতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।

দেশের রাজনৈতিক অতীতের প্রসঙ্গ টেনে আব্দুল্লাহ ছালেহ বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ দমনপীড়ন ও ভয়ের সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে গেছে। নতুন একটি পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তিনি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতি করতে এবং একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে চান।

প্রেস সচিব বলেন, "একটি সুন্দর রাষ্ট্র ও মানবিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজ গড়ে তোলার যে সুযোগ এসেছে, আমরা যদি তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হই, তাহলে তা আমাদের কারও জন্যই ভালো ফল বয়ে আনবে না।"

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরকে শুধু সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া তাঁর ভাষণ দিয়ে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। সফরকালে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি যেসব বিস্তৃত বিষয় উত্থাপন ও আলোচনা করেছেন, সেগুলোর সামগ্রিক প্রেক্ষাপটেই সফরটিকে দেখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা, সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির ও সহকারী প্রেস সচিব মো. নাজমুল হক খান উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি: মাহদী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ পি.এম


মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন মন্তব্য করেছেন যে, ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনই গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি।

এ মন্তব্যটি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে আটক এক স্কুলশিক্ষককে সসম্মানে মুক্তি দেওয়ার প্রেক্ষাপটে এসেছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে মাহদী আমিন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে এক স্কুলশিক্ষকের কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্যের ফলে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অধিবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাদের বিক্ষোভের পর পুলিশ ওই শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।’

তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানার পর প্রধানমন্ত্রী সংক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেন, শিক্ষককে সসম্মানে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদে তার বাসায় পৌঁছে দিতে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ পরবর্তীতে তাকে নিরাপদে তার বাসায় পৌঁছে দেয়।

মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে; প্রত্যেক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত তার নিজস্ব। কারও মতের সঙ্গে একমত না হলেও তার মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত। ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি এই সম্মানই গণতন্ত্রের শক্তি।’

তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন যে, ইতিবাচক আচরণ, পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি সমাজকে শক্তিশালী করবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ৪৮ শিক্ষার্থীকে শাস্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ পি.এম


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ৪৮ শিক্ষার্থীকে শাস্তি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীকে নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগ দেওয়ার অপরাধে এক বছরের জন্য অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার অথবা অর্থদণ্ডের শাস্তি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছিরের স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠির মাধ্যমে শাস্তির বিষয়টি জানানো হয়। তবে গণমাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ পায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর অপরাধের ভিত্তিতে এই শাস্তি আরোপ করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

৪৮ শিক্ষার্থীকে তিন ক্যাটাগরিতে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে কাউকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, কাউকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাকিদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন-

আইন বিভাগ:

আইন বিভাগে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৫ জুলাই পাঁচ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। জয়শ্রী রাণী বিশ্বাসকে ছয় মাসের জন্য অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রুবাইয়া সুলতানা রাবা, মো. রিদোয়ান চৌধুরী, মো. মানজারুল হক ও রেসবুল হাসান আবিরকে এক বছরের জন্য অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ:

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ২২ জুলাই ১০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। মো. কাজী নাবির, সুমাইয়া আক্তার রিয়া, ইয়ামিন হোসেন, ফারিয়া বিনতে হোসেনইলমা, মো. ওয়েদুজ্জামান রিফাত, মো. আরিফুল ইসলাম, সাদিয়া ইসলাম ও মো. নাইম ইসলামকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মাহি আনোয়ারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা ছয় মাসের জন্য অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার এবং মো. রাকিবুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা এক বছরের জন্য অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার করা হয়েছে।

মার্কেটিং বিভাগ:

মার্কেটিং বিভাগে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৯ আগস্ট ১৯ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সুরাইয়া আক্তার, সৌরভ মালী, মো. মেহেদী হাসান অমি, আজিজুল ইসলাম চয়ন, ঐশী মহন্ত, এসএম সাইফুজ্জামান, মো. খালেদ হোসেন, জান্নাতুল বুশরা জুনি, আলিফ হোসেন নয়ন, নূর নবী, কিশোর কুমার দত্ত, রিফাত হাওলাদার ও হাসিব শেখকে ছয় মাসের জন্য অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মো. সবুজ মিয়াকে এক বছরের জন্য অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া সাদিয়া বেগম, স্নেহা আক্তার, ফারিয়া শিমুল কলি, দিদারুল ইসলাম ও তাশফিক কবির রাফিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের চেয়ারে ৯ আগস্ট র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৪ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মো. মুজাহিদ হাওলাদার, অনিন্দা সাহা অর্ঘ্য, চন্দন মিস্ত্রি, কাউসার হোসেন সৌরভ, সুস্ময় তরুয়া, সাফায়েত ইসলাম শিহাব, অয়ন দাস দ্বীপ ও সিদ্ধার্থ সরকারকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মো. মাসুম বিল্লাহ ও মুবিনুল ইসলাম নোবেলকে এক বছরের জন্য অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মো. রবিউল ইসলাম, মো. মইনুল ইসলাম সাকিব, মো. রেজুয়ান আজাদ ওয়াসি ও মো. মাহফুজুর রহমানকে ছয় মাসের জন্য অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

চিঠিতে জানানো হয়েছে, জরিমানা পরিশোধের সময়সীমা চিঠি ইস্যুর তারিখ থেকে ১ মাস। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে দ্বিগুণ হারে জরিমানা প্রযোজ্য হবে।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, তিনটি ক্যাটাগরিতে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে- বহিষ্কার অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা। শিক্ষার্থীদের ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রথমবার জরিমানার বিকল্প রাখা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের ক্ষেত্রে সরাসরি বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ গণমাধ্যমকে জানান, মোট ৪৮ জন শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের অপরাধে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাগিংয়ের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। প্রাথমিকভাবে চারটি ডিপার্টমেন্ট তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে, ওই চারটি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি ডিপার্টমেন্টের তদন্ত রিপোর্টে শিক্ষার্থীদের নাম উল্লেখ না করায় তাদের পুনরায় তদন্ত করতে বলা হয়েছে। পুনরায় তদন্ত রিপোর্ট নামসহ জমা দিলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় ৪৪৫ পরিবারের মধ্যে মা ও শিশু পুষ্টি খাদ্য বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ পি.এম


খুলনায় ৪৪৫ পরিবারের মধ্যে মা ও শিশু পুষ্টি খাদ্য বিতরণ

খুলনা মহানগরীর ৮টি ওয়ার্ডের ৪৪৫টি পরিবারের মধ্যে মা ও শিশু পুষ্টি খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আলাদা অনুষ্ঠানে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর হাতে এ খাদ্য তুলে দেন।

এই পুষ্টি খাদ্য বিতরণ করা হয় ‘লাইভলিহুড সাপোর্ট ফর আরবান পুওর কমিউনিটিস ইন বাংলাদেশ (এলএসইউপিসিবি)’ প্রকল্পের আওতায়, যা দাতা সংস্থা ইউএনডিপি’র অর্থায়নে এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

বিকেলে নগরীর ৫নং ওয়ার্ড অফিসে মা ও শিশু পুষ্টি খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে কেসিসি প্রশাসক শিশুদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি, শিশুদের হাত ধোয়া এবং নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে বিশেষ করে মায়েদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ডেঙ্গু সংক্রমণ বিস্তার লাভ করছে। মায়েদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের মশাবাহিত রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে নিজ নিজ বাড়ির পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে নগরীর দৌলতপুর থানার ১ থেকে ৬নং ওয়ার্ডের ৩শটি পরিবারের প্রত্যেককে পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে ৩০টি ডিমসহ ডাল ও ভোজ্যতেল বিতরণ করা হয়।

পরে খালিশপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত একই প্রকল্পের অপর অনুষ্ঠানে ১৩ ও ১৫ নং ওয়ার্ডের ১৪৫টি পরিবারের মাঝে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

পৃথক পৃথকভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসি’র ৫নং ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন এবং ১৫নং ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মো. ইমরুল হাসান টিটো।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক এম মুর্শিদ কামাল, শেখ ইমাম হোসেন, আব্দুল জলিল হাওলাদার, অ্যাডভোকেট ফজলে হালিমা লিটন, হাবিবুর রহমান বিশ্বাস ও কাজী একরাম মিন্টু।

অন্যান্যের মধ্যে কমিউনিটি ভলেন্টিয়ার রাজিয়া সুলতানা, কেয়া সুলতানা, রেশমা খাতুন, ফারহানা আক্তার, আফরোজা খাতুন, শুকরিয়া সুলতানা, স্বপ্না আক্তারসহ সিডিসি নেত্রীবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রকল্পের সিনিয়র কমিউনিটি ভলেন্টিয়ার শিউলি মোর্শেদা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের আইনজীবী কার্ট ওলসেন তদন্ত থেকে সরে দাঁড়ালেন, চাকরিতে থাকছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০০ পি.এম


ট্রাম্পের আইনজীবী কার্ট ওলসেন তদন্ত থেকে সরে দাঁড়ালেন, চাকরিতে থাকছেন

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আইনজীবী কার্ট ওলসেন। তবে তিনি বিচার বিভাগ থেকে পদত্যাগ করছেন না। বরং তিনি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে চাকরিতে বহাল থাকবেন বলে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিভাগটির এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

ওলসেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জো বাইডেনের আমলের কর্মকর্তাদের নিয়ে চলমান তথাকথিত ‘বৃহৎ ষড়যন্ত্র’ তদন্তে যুক্ত ছিলেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলার মার্কিন অ্যাটর্নিকে পাঠানো একটি ই-মেইলে তিনি ওই তদন্ত থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

এর আগে, তার ই-মেইলকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে বিচার বিভাগের মিয়ামি ও ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন, ওলসেন পুরো বিচার বিভাগ থেকেই পদত্যাগ করছেন। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হলে, তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, তিনি আইনজীবী হিসেবে বিচার বিভাগে কাজ চালিয়ে যেতে চান।

ওলসেনের ভূমিকা নিয়ে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে, অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঙ্ক বলেন, ওলসেন পদত্যাগ করেননি এবং তিনি আগের জায়গাতেই কাজ করছেন। তবে পরে বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা বিষয়টি পরিষ্কার করে জানান, ওলসেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে চাকরিতে থাকলেও ‘বৃহৎ ষড়যন্ত্র’ তদন্তে আর দায়িত্ব পালন করবেন না।

নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, এরপর তিনি কী দায়িত্ব পালন করবেন। কারণ তদন্ত থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে তার নিরাপত্তা অনুমতিপত্র নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল বলে বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন। ওই অনুমতিপত্র না থাকায় গোপন নথি ও তথ্য পর্যালোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে তার পক্ষে যুক্ত থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।

এই তদন্তে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং সাবেক বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথের মাধ্যমে ট্রাম্পের গোপন নথি সংরক্ষণসংক্রান্ত তদন্তের মতো বিষয়ও রয়েছে।

ওলসেন উত্তর ক্যারোলিনার মধ্যাঞ্চলীয় জেলার মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়ে বদলি হয়ে নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও দুই সূত্র জানিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানে যাবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে, চলতি বছর ‘বৃহৎ ষড়যন্ত্র’ তদন্ত এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত সাবেক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান জন ব্রেনানের বিরুদ্ধে চলা তদন্ত থেকে সরে দাঁড়ানো তৃতীয় কৌঁসুলি হলেন ওলসেন। এর আগে এপ্রিল মাসে মারিয়া মেডেটিস লংকে তদন্ত থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি তদন্তে থাকা প্রমাণের শক্তি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। পরে তার জায়গায় দায়িত্ব নেন জো ডি জেনোভা। তিনিও সেপ্টেম্বর মাসে তদন্ত পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিরোধের মধ্যে পদত্যাগ করেন।

ওলসেন চলতি বছরের বসন্তে ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলার মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের নিয়োগে নির্বাচন নিরাপত্তা ও অখণ্ডতাবিষয়ক পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে।

২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টাতেও ওলসেন যুক্ত ছিলেন। সে সময় তিনি টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের সঙ্গে কাজ করে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল বাতিলের আহ্বান জানিয়েছিলেন। চলতি বছর জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টির নির্বাচনসংক্রান্ত মামলাটি নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থায় সুপারিশ করেছিলেন। পরে তদন্তকারীরা ২০২০ সালের নির্বাচনের ব্যালট ও অন্যান্য সামগ্রীসহ বেশ কয়েকটি বাক্স জব্দ করে।

এছাড়া ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে অ্যারিজোনাসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে তিনি বিচার বিভাগে সুপারিশ করেছিলেন বলেও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%