প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে বন্দির সংখ্যা ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় চারগুণ বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বন্দিদের রাখা হচ্ছে কারাগারের মালামাল রাখার স্থানসহ ঘরগুলোর বাইরের বারান্দায়। এই পরিস্থিতিতে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে ৩৮২ জন বন্দি রাখার সক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু বর্তমানে সেখানে প্রায় সাড়ে ১২০০ বন্দি অবস্থান করছেন। ফলে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় ৮৫০ জন বেশি বন্দি সেখানে রয়েছেন। কারাগারে জায়গার সংকটের কারণে বন্দিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
এদিকে জেলার ৬টি উপজেলার মাদক মামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ছামারি পাওয়ার কারণে ৩, ৬ ও ১২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার আপিল ও জামিন না হওয়ার ফলে অতিরিক্ত বন্দির চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এছাড়া, বিশেষ অভিযানে জেলার ৬টি উপজেলায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের কারণে জেলা কারাগারে বন্দিদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
অতিরিক্ত বন্দির কারণে আবাসন, খাবার, চিকিৎসা, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কারারক্ষীরাও বিপাকে পড়ছেন।
আবাসিক কক্ষগুলোতে অতিরিক্ত বন্দি থাকার কারণে পর্যাপ্ত জায়গা, ঘুমানোর ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়েছে। টয়লেট, গোসল, পানি সরবরাহ ও অন্যান্য স্যানিটেশন ব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
বন্দিদের পাশাপাশি কারা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বাড়তি চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন। নির্ধারিত জনবলের তুলনায় বন্দির সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করতে তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
কারাগারে বন্দির চাপ বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিচারাধীন বন্দির সংখ্যা বেশি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিচারাধীন বন্দিদের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হলে কারাগারের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন।
এদিকে, অতিরিক্ত বন্দির কারণে কারাগারের চিকিৎসা ব্যবস্থাতেও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিপুলসংখ্যক বন্দির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, অসুস্থদের চিকিৎসা দেওয়া এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কারা কর্তৃপক্ষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. হাবিবুর রহমান ও জেলার স্বপন কুমার ঘোষ জানান, কারাগারের ধারণক্ষমতা ৩৮২ জন। বর্তমানে বন্দির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১২০০। ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দি বেশি থাকায় ব্যবস্থাপনায় চাপ রয়েছে। তবে কারা কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী বন্দিদের খাবার, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, বন্দির সংখ্যা বেশি হলেও কারাগারের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমাতে অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো এবং বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে বন্দিদের মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কারা ব্যবস্থাপনার সার্বিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন