বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:০৪ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় নাবিকদের বহনকারী জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত সরকার।
দেশটির সরকার নির্দেশ দিয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত, দেশটির কোনও নাবিককে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করবে- এমন কোনও বাণিজ্যিক জাহাজে নিয়োগ না দিতে হবে। জাহাজের মালিক ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার গভীর রাতে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং (ডিজিএস) জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করবে- এমন কোনও জাহাজে ভারতীয় নাবিকদের নিয়োগ দেওয়া যাবে না।”
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী এবং এর আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় অন্তত দু’জন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন।
নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার কারণে ভারত সরকার নাবিকদের জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এখনও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় হাজারো ভারতীয় নাবিক অবস্থান করছেন। ভারতের নাবিক সংগঠন ফরওয়ার্ড সিমেনস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ১৫ হাজার ভারতীয় নাবিক বিভিন্ন জাহাজে অবস্থান করছেন। চলমান উত্তেজনার কারণে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সংগঠনটি পরিস্থিতির প্রতি নিবিড় নজর রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনে নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নাবিক সরবরাহকারী দেশ। সরকারি তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ৩ লাখের বেশি ভারতীয় নাবিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত রয়েছেন। সংখ্যার দিক থেকে ভারত বৈশ্বিকভাবে তৃতীয় বৃহত্তম নাবিক সরবরাহকারী দেশ হিসেবে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় নাবিকদের হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজে নিয়োগ স্থগিতের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্পে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিশ্ববাণিজ্যের একটি বড় অংশ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে রফতানি হওয়া তেল ও গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। সূত্র: সিএনএন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাত জেলায় অন্তত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৪০ জন আহত হয়েছেন। বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ জনে পৌঁছেছে। ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায় ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকাল ৩টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বন্যাকবলিত জেলাগুলো হল— খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৭টি উপজেলা এবং ৮টি পৌরসভা বন্যা ও অতিবৃষ্টির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মাহবুবুর রহমান তুহিন জানান, মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। জেলাটিতে ৩২ জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা রয়েছেন। চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে সাত জন, রাঙামাটিতে তিন জন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
আহত ৪০ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ২৫ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে দুই জন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন। কক্সবাজারে এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন, যার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সাত জেলায় মোট ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ৮৪৯ জন আশ্রয় নিয়েছেন। চট্টগ্রামে ১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৯৫ জন, বান্দরবানে ৬৭টি কেন্দ্রে ১৫০ জন, মৌলভীবাজারে ছয়টি কেন্দ্রে ২৪৯ জন এবং রাঙামাটির একটি কেন্দ্রে ৫৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। তবে খাগড়াছড়িতে কোনও আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ অবস্থান করছেন না বলে সরকারি হিসাবে জানানো হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬টি উপজেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
দুর্গত মানুষদের সহায়তার জন্য ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ৮৪৯ জন গৃহহীন মানুষ অবস্থান করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গত সাতটি জেলাসহ সারা দেশে এ পর্যন্ত ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও ৯ হাজার ৫০ মেট্রিক টন চাল এবং ৪ হাজার ২০০ বান্ডিল ঢেউ টিনসহ গৃহ নির্মাণ মঞ্জুরির জন্য ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
একই সাথে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা (প্রতি জেলায় ২০ লাখ টাকা করে) দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার শাজাহানপুরে, কীটনাশক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স কোর্স সাইট এগ্রো-এর বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে আব্দুল আহাদের নামের এক খামারির প্রায় ২ হাজার হাঁস মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিপূরণ এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি নিয়ে অভিযুক্ত খামারি আব্দুল আহাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) এবং পুলিশ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইঞ্জিনিয়ার্স কোর্স সাইট এগ্রো কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত বর্জ্য পাশের কৃষিজমি ও জলাশয়ে মিশে যায়। এরপর ওই জলাশয়ের পানি পান করার পর তার খামারের ৪ হাজার হাঁসের মধ্যে প্রায় ২ হাজার হাঁস মারা যায়। এই কারণে তার কয়েক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি জানান তিনি।
শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো. তাইফুর রহমান জানিয়েছেন, আমি অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, ইঞ্জিনিয়ার এগ্রোর ম্যানেজার মাসুম আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটি অস্বীকার করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল মাছঘাট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড একটি অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট, প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা মূল্যের ট্রলিং জাল এবং ২ হাজার ১০০ কেজি সামুদ্রিক মাছ জব্দ করেছে। এ সময় ১৩ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড কন্টিনজেন্ট বাঁশখালী শেখেরখীল মাছ ঘাটসংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে একটি অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট জব্দ করা হয়। পরে বোটটিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা মূল্যের ৭টি ট্রলিং জাল, ২ হাজার ১০০ কেজি সামুদ্রিক মাছ এবং ১৩ জন জেলেকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, জব্দ করা আর্টিসানাল ট্রলিং বোট, ট্রলিং জাল ও সামুদ্রিক মাছ সহ আটক জেলেদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা বলেন, দেশের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে কোস্ট গার্ড নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ভবিষ্যতের জন্যও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপহরণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত একজন যুবক শিশির আহম্মেদ চঞ্চল (২২) কে র্যাব গ্রেফতার করেছে। এই অভিযানে অপহৃত স্কুলছাত্রীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত শিশির আহম্মেদ চঞ্চল কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার মনতোলা জোড়গাছ এলাকার শহিদুল ইসলামের পুত্র। র্যাব-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি জানানো হয়। বুধবার রাতে নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দুপতারা বাজার এলাকা থেকে শিশির আহম্মেদ চঞ্চলকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অপহৃত স্কুলছাত্রীটি উপজেলার শিবরাম আলহাজ্ব হোসেন স্মৃতি স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। স্কুলে যাওয়ার পথে শিশির আহম্মেদ চঞ্চল তার প্রতি প্রেম নিবেদনসহ নানা ভাবে প্রচণ্ড উত্যক্ত করতো। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শিশিরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তাদের পরিবারকে ঘটনা জানায়। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযুক্তের পিতা-মাতাকে জানালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
গত ১৭ মে, এসএসসি পরীক্ষা শেষে বিদ্যালয়ে ফেরার পথে শিশির অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে অটোরিকশায় কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার মনতোলা জোড়গাছ এলাকার দিকে নিয়ে যায়। ঘটনার এক দিন পর, ১৯ মে, ভুক্তভোগীর পিতা বাদী হয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে র্যাব। এই প্রেক্ষিতে গত বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে সিপিসি-৩ র্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্প ও সিপিএসসি র্যাব-১১ নারায়নগঞ্জ ক্যাম্পের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। ওই অভিযানে নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দুপতারা বাজার এলাকা থেকে শিশির আহম্মেদ চঞ্চলকে গ্রেফতার করা হয় এবং একই সঙ্গে অপহৃত স্কুলছাত্রীটিকে উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য ভুক্তভোগী ও আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ