বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৭:৫৫ পি.এম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি নৌ-অবরোধ চলমান থাকার মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে একটি বিশেষ ও গোপন নৌপথ চালু করেছে। ওমানের উপকূলঘেঁষা নতুন এই পথ ব্যবহার করে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তার।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দ্য জেরুজালেম পোস্ট তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই গোপন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এর আওতায় প্রতি রাতে ১৫ থেকে ২০টি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশের ওই বিকল্প পথ দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করছে।
কর্মকর্তারা জানান, গোপন এই পথটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রবেশ করছে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির শুরু হওয়ার আগে এই প্রণালি দিয়ে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন হতো, বর্তমানে সরবরাহ তার প্রায় অর্ধেক বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সাম্প্রতিক একটি সামরিক অভিযানে ইরানের রাডার ও সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার পরেই এই নৌপথটি কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে বলে কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, নজরদারি ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরানি বাহিনী এখন নির্দিষ্ট গতিপথ দেখতে পাচ্ছে না। ফলে, জাহাজ চলাচলের সাধারণ এলাকাগুলো লক্ষ্য করে নির্বিচারে ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী শুধুমাত্র তেলভর্তি ট্যাংকারকে প্রণালি পার করতে সাহায্য করছে না, বরং খালি জাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ ও তেল সংগ্রহের পর তা নিরাপদে বাইরে আনতেও সুরক্ষা প্রদান করছে। এই জাহাজের বহরকে আকাশপথে নিরাপত্তা দিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে, যা সম্ভাব্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধে কাজ করছে।
বিষয়টিতে সরাসরি যুক্ত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রায় দুই মাস ধরে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশের পথ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মূল নিয়ন্ত্রণ এখন মার্কিন বাহিনীর হাতে রয়েছে।
তবে, ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোও গোপন এই নৌপথের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি। শিপ ট্র্যাকিং সাইট ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৯ আগস্ট) হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ৯টি জাহাজ পার হতে দেখা গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনার পাইকগাছায় মৎস্য আড়ৎদারি সমিতির নির্বাচিত ক্যাশিয়ার হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে হারুনের পাল্টা অভিযোগ, তাকে সমিতি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ মামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেনের দাবি, হারুনকে কয়েক মাস আগে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।
হারুন অর রশীদ, উপজেলার গোপালপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের পুত্র। তিনি পাইকগাছা মৎস্য আড়ৎদারি সমিতির একাধিকবার নির্বাচিত ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত।
হারুনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অন্যান্য মাছ ব্যবসায়ীদের মতো আড়ৎ থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ক্রয় করেন এবং সেগুলি দেশের বিভিন্ন এলাকায় আড়তে চালানের মাধ্যমে বিক্রি করেন। মাছ বিক্রির পর তিনি পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করার যে কার্যক্রম চালান, সেটাই তার ব্যবসায়িক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি দাবি করেন, গত ১৩, ১৪ ও ১৫ আগস্ট তিন দিনে তিনি বিভিন্ন প্রজাতির মোট ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ৭৮০ টাকার মাছ ক্রয় করেন। পরবর্তীতে এসব মাছ ঢাকা, চট্টগ্রাম, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার আড়তে চালানের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। মাছ বিক্রির টাকার মাধ্যমে পাওনাদারদের পরিশোধ করার কথা ছিল।
হারুন অর রশীদ বলেন যে, গত ১৬ আগস্ট তিনি মাছের টাকার জন্য জরুরিভাবে ঢাকায় যান। এ দুপুরের পরেই তার বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ কিনে আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
পরে এই অভিযোগে পাইকগাছা থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটি সোলাদানা মৎস্য আড়তের একজন স্বত্বাধিকারী বাদী করে দায়ের করেছে। মামলায় সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করেছেন হারুন।
নিজের বিরুদ্ধে করা মামলার ব্যাপারে হারুন অর রশীদ মুঠোফোনে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, এটা জেনে আমি হতবাক হয়েছি। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অভিযোগ তুলে ৪০ লাখ টাকার মামলা দেয়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমি আড়ৎ থেকে টাকা পেলেই সংশ্লিষ্ট পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করে দেব। আমি ব্যবসা করি। আমার মধ্যে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই।"
হারুন আরও অভিযোগ করেন যে, বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে সমিতি থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করার জন্য এ ঘটনা উদ্ভব করেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ মোট নয়জন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর তাকেও স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে।
তবে হারুনের এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাইকগাছা মৎস্য আড়ৎদারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন বলেন, "সমিতির ক্যাশিয়ার হারুন অর রশীদকে কয়েক মাস আগে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।"
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী ও আড়ৎদারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
উত্তর কোরিয়া শুক্রবার (২০ আগস্ট) প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র একযোগে জাপান সাগরের দিকে উৎক্ষেপণ করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র থকে পিয়ংইয়ংয়ের উপকূলীয় এলাকা থেকে ছোঁড়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের (জেসিএস) তথ্য মতে, স্থানীয় সংবাদ সংস্থা নিউজ ওয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মোট পাল্লা ও উড্ডয়ন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, উত্তর কোরিয়া থেকে নতুন করে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও সর্বোচ্চ নজরদারি ও সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান একসাথে উত্তর কোরিয়ার এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সম্পর্কিত তথ্য নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করছে। পিয়ংইয়ং এর আগে সর্বশেষ ১২ আগস্ট ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ও সিউলের যৌথ ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ সামরিক মহড়ার পরিসর এবং সময়সীমা কমিয়ে ২১ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের ওই পরামর্শ এবং সিদ্ধান্তের একদিন পর পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান জানানো হয়।
উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার দিন বা পরিধি কমানোর সিদ্ধান্তকে পিয়ংইয়ং কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। তিনি মন্তব্য করেন, মহড়ার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হলেও এর মূল আগ্রাসী ও উসকানিমূলক চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয় না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরব নিজেদের স্কুলের পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে, যাতে ইসরায়েল ও ইহুদি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা যায়। ইসরায়েলকে ‘খুশি করতে’ এবং পশ্চিমা কূটনৈতিক চাপ সামলানোর উদ্দেশ্যে রিয়াদ পাঠ্যবই থেকে ইসরায়েলবিরোধী বার্তা ও অনুচ্ছেদ ছেঁটে ফেলেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইমপ্যাক্ট-এসই।
নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, আগের পাঠ্যবইয়ের মধ্যে থাকা ‘মুসলিমরা কখনোই জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্যটি সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি ওই সংস্থার মতে, পূর্ববর্তী বাক্যে জেরুজালেমে মুসলিমদের উপস্থিতি হুমকির মুখে রয়েছে বলে ফুটিয়ে তোলা হতো, যা ইসরায়েলের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের বৈরিতা বাড়াত।
এই পরিবর্তনগুলো এমন সময় এসেছে, যখন ইসরায়েলি রাজনীতিকেরা উন্মুক্তভাবে আল-আকসা মসজিদ ধ্বংস করে ‘ইহুদি মন্দির’ নির্মাণের দাবি তুলছেন। এমনকি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি স্থাপন ও জেরুজালেমের জনমিতি পরিবর্তনের জন্য ইসরায়েলের আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে।
ইমপ্যাক্ট-এসইর দাবি অনুযায়ী, সৌদি পাঠ্যবই থেকে তথাকথিত ‘ইহুদি-বিদ্বেষী’ সকল বিষয় বাদ দেওয়াকে তারা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। পাঠ্যবই থেকে কিছু পবিত্র কোরআনের আয়াত, হাদিস এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষণীয় ঘটনাও বাদ দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, অসুস্থ এক ইহুদি বালককে মহানবী (সা.) দেখতে গেলে বালকটি ইসলাম গ্রহণ করেছিল—এই ঘটনাটি ২০২৫ সালের সংস্করণে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা অমুসলিমদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে সংস্থাটি।
পাঠ্যবইয়ের মানচিত্রে আগে পুরো এলাকাকে ‘ফিলিস্তিন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। নতুন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে সেই ফিলিস্তিন নামটি মুছে ফেলা হয়েছে। যদিও মানচিত্রে এখনও ইসরায়েল নামটি লেখা হয়নি, তবে পুরো এলাকাকে ‘ফিলিস্তিন’ হিসেবে চিহ্নিত করার নীতি থেকে সরে এসেছে সৌদি আরব। একাদশ শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে ‘ইহুদি শত্রু’ শব্দের বদলে ‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’ শব্দগুচ্ছ উল্লেখ করা হয়েছে।
বাস্তবে, সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজকে ইসরায়েলের প্রথম প্রেসিডেন্ট চাইম ওয়াইজম্যান ফিলিস্তিন ইস্যু থেকে সরে আসতে বিপুল অর্থ ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ঐতিহাসিক নথিতে এর সত্যতা থাকলেও, এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি বইয়ে রাখার সমালোচনা করে একে ইহুদিদের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রমূলক বর্ণনা’ বলে আখ্যা দিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের প্রভাব বিস্তার ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইসরায়েলি গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে আরব দেশগুলোর ওপর মনস্তাত্ত্বিক এবং প্রশাসনিক চাপ দিয়ে আসছে। সৌদি পাঠ্যবইয়ের এই পরিবর্তনকে সেই কূটনৈতিক কৌশলের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে ইসরায়েল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি সুযোগ পায় তাহলে দলের নেতারা আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হয়ে যাবে, এ কথা বলেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এই মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবিরের সাথে গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষের সময় গুরুতর আহত হন সোহান।
নুর বলেন, চলতি ছয় মাস যেতে না যেতেই জামায়াতে ইসলামী সরকারের দিকে যাওয়ার বাসনা পোষণ করছে। বর্তমান সরকারকে নিয়ে দলটির নেতারা বিভিন্ন বিরক্তিকর বক্তব্য রাখতে শুরু করেছেন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত ইসলাম থেকে ইসলাম নামটি বাদ দিতে হবে এবং জামায়াতের সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চাইতে বড় ফ্যাসিস্ট হয়ে যাবে। জামায়াত ইসলাম লেবাস পরিধান করে ইসলামকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে বলেও মন্তব্য করেন। জামায়াতের নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় ঘটেছে, এর বড় উদাহরণ হলো কুষ্টিয়ার এমপি জামায়াত নেতা আমির হামজা এবং গাজী নজরুল।
আমির হামজা সম্পর্কে নুর বলেন, এই উন্মাদ সংসদ সদস্য বিভিন্ন সময় আমাদের নারী সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে থাকেন। এই সঙ্গে তিনি আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়েও অত্যন্ত নোংরা মন্তব্য করেছেন। জামায়াত এসব নোংরা কথা সমর্থন করে আসছে।
প্রতিমন্ত্রী যোগ করেন, আমির হামজা এবং সাতক্ষীরার এমপি গাজী নজরুল ইসলামের মতো নেতাদের এসব কর্মকাণ্ডের পরেও জামায়াত যদি নিজেদের ইসলামী দল হিসেবে দাবি করে, তাহলে সেটি ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই আমি জামায়াতে ইসলাম থেকে ইসলামী নামটি বাদ দিতে বলবো, কারণ তারা ‘ইসলামী’ নাম ব্যবহার করে ইসলামের লেবাস ধারণ করে ইসলামেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ