প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
খুলনার পাইকগাছায় মৎস্য আড়ৎদারি সমিতির নির্বাচিত ক্যাশিয়ার হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে হারুনের পাল্টা অভিযোগ, তাকে সমিতি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ মামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেনের দাবি, হারুনকে কয়েক মাস আগে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।
হারুন অর রশীদ, উপজেলার গোপালপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের পুত্র। তিনি পাইকগাছা মৎস্য আড়ৎদারি সমিতির একাধিকবার নির্বাচিত ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত।
হারুনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অন্যান্য মাছ ব্যবসায়ীদের মতো আড়ৎ থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ক্রয় করেন এবং সেগুলি দেশের বিভিন্ন এলাকায় আড়তে চালানের মাধ্যমে বিক্রি করেন। মাছ বিক্রির পর তিনি পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করার যে কার্যক্রম চালান, সেটাই তার ব্যবসায়িক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি দাবি করেন, গত ১৩, ১৪ ও ১৫ আগস্ট তিন দিনে তিনি বিভিন্ন প্রজাতির মোট ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ৭৮০ টাকার মাছ ক্রয় করেন। পরবর্তীতে এসব মাছ ঢাকা, চট্টগ্রাম, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার আড়তে চালানের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। মাছ বিক্রির টাকার মাধ্যমে পাওনাদারদের পরিশোধ করার কথা ছিল।
হারুন অর রশীদ বলেন যে, গত ১৬ আগস্ট তিনি মাছের টাকার জন্য জরুরিভাবে ঢাকায় যান। এ দুপুরের পরেই তার বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ কিনে আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
পরে এই অভিযোগে পাইকগাছা থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটি সোলাদানা মৎস্য আড়তের একজন স্বত্বাধিকারী বাদী করে দায়ের করেছে। মামলায় সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করেছেন হারুন।
নিজের বিরুদ্ধে করা মামলার ব্যাপারে হারুন অর রশীদ মুঠোফোনে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, এটা জেনে আমি হতবাক হয়েছি। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অভিযোগ তুলে ৪০ লাখ টাকার মামলা দেয়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমি আড়ৎ থেকে টাকা পেলেই সংশ্লিষ্ট পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করে দেব। আমি ব্যবসা করি। আমার মধ্যে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই।"
হারুন আরও অভিযোগ করেন যে, বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে সমিতি থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করার জন্য এ ঘটনা উদ্ভব করেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ মোট নয়জন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর তাকেও স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে।
তবে হারুনের এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাইকগাছা মৎস্য আড়ৎদারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন বলেন, "সমিতির ক্যাশিয়ার হারুন অর রশীদকে কয়েক মাস আগে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।"
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী ও আড়ৎদারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন