প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি নৌ-অবরোধ চলমান থাকার মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে একটি বিশেষ ও গোপন নৌপথ চালু করেছে। ওমানের উপকূলঘেঁষা নতুন এই পথ ব্যবহার করে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তার।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দ্য জেরুজালেম পোস্ট তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই গোপন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এর আওতায় প্রতি রাতে ১৫ থেকে ২০টি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশের ওই বিকল্প পথ দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করছে।
কর্মকর্তারা জানান, গোপন এই পথটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রবেশ করছে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির শুরু হওয়ার আগে এই প্রণালি দিয়ে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন হতো, বর্তমানে সরবরাহ তার প্রায় অর্ধেক বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সাম্প্রতিক একটি সামরিক অভিযানে ইরানের রাডার ও সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার পরেই এই নৌপথটি কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে বলে কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, নজরদারি ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরানি বাহিনী এখন নির্দিষ্ট গতিপথ দেখতে পাচ্ছে না। ফলে, জাহাজ চলাচলের সাধারণ এলাকাগুলো লক্ষ্য করে নির্বিচারে ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী শুধুমাত্র তেলভর্তি ট্যাংকারকে প্রণালি পার করতে সাহায্য করছে না, বরং খালি জাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ ও তেল সংগ্রহের পর তা নিরাপদে বাইরে আনতেও সুরক্ষা প্রদান করছে। এই জাহাজের বহরকে আকাশপথে নিরাপত্তা দিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে, যা সম্ভাব্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধে কাজ করছে।
বিষয়টিতে সরাসরি যুক্ত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রায় দুই মাস ধরে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশের পথ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মূল নিয়ন্ত্রণ এখন মার্কিন বাহিনীর হাতে রয়েছে।
তবে, ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোও গোপন এই নৌপথের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি। শিপ ট্র্যাকিং সাইট ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৯ আগস্ট) হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ৯টি জাহাজ পার হতে দেখা গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন