বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:৫২ পি.এম
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, জুলাই মাসের অভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক এবং আন্দোলনকে সফল করার ক্ষেত্রে এটি রূপান্তরের একটি পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আয়োজিত ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান 'জুলাই-২০২৪'-এ তিনি উল্লেখ করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গৌরবোজ্জ্বল অবদান এবং সকল শহীদ ও আহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভায় এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, আন্দোলনের সময় কিছু অংশের সরকার চেয়েছিল আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করতে, কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং অত্যাচার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে নিজেরাই রাজপথে নেমে আসেন।
তিনি আরও বলেন, ১৮ জুলাই রামপুরা এলাকায় ছয়জন শিক্ষার্থীর শহীদ হওয়া ঘটনা আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যুক্ত হয়ে, ঐক্যবদ্ধভাবে দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটাতে সক্ষম হন।
তিনি বলেন, আমরা কোনো দিনই অন্য কোনো দেশের দাস হয়ে থাকব না। আমাদের আত্মমর্যাদা নিয়ে, বাংলাদেশি পরিচয় নিয়ে, আগামী দিনে রাষ্ট্র গড়ে তুলব এবং সামরিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক-ทุก দিক থেকে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো গড়ে তুলতে চাই।
ইশরাক হোসেন বলেন, জুলাইয়ের পুরো সময় আমি কারাগারে বন্দি ছিলাম। বাইরে থেকে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে জানতে পারি, ১৬ ও ১৭ জুলাই আন্দোলন দমনে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস দখলে নিয়েছিল। ঠিক সেই সময়ে, ১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
কারাবন্দি জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, ২০ জুলাইয়ের পর বহু শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেওয়া হয় এবং তাদের অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়েছিল। একটি ছোট কক্ষে পাঁচ-ছয়জনকে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে, কয়েক দিন পর্যন্ত পরিবারের সাথে যোগাযোগের সুযোগ কিংবা প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড় নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা মনোবল হারাননি।
তিনি বলেন, উত্তরা, রামপুরা, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্র-জনতার ভূমিকা জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। যতবার জুলাই আসবে, ততবারই তাদের আত্মত্যাগ ও অবদান স্মরণ করা হবে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই চেতনায় যেকোনো আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সব সময় রুখে দাঁড়াবে। আয়তনে ছোট হলেও জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ, এটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কখনো অন্য কোনো দেশের দাস হয়ে থাকবে না।
ইশরাক হোসেন উল্লেখ করেন, তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং জানান, তার নিজের রাজনৈতিক উত্থানের পেছনেও তারেক রহমানের অবদান রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে তারেক রহমানের নির্দেশনা ও নেতৃত্বে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে অংশ নেন এবং আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে ভূমিকা পালন করেন। ভবিষ্যতেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে তরুণদের সঙ্গে নিয়ে দেশের জন্য কাজ করে যাওয়া হবে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবু হোরায়রার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিবুল ইসলাম তালুকদারের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন– বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং জুলাই যোদ্ধা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ জুলাই, ২০২৬ : ইউক্রেনের পাভলোগ্রাদ শহরে বৃহস্পতিবার রাশিয়ার হামলায় তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, রাশিয়া ও রাশিয়ার অধীনে থাকা ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি তিন বছর বয়সী শিশু সন্তানের নামও রয়েছে।
কিয়েভ থেকে এএফপি সংবাদ সংস্থা এই তথ্য জানায়।
চার বছরেরও অধিক সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে চলতি গ্রীষ্মে বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘ জানায়, ২০২২ সালে রাশিয়ার হামলার প্রথম বছরের পর গত মাসটি ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী।
এদিকে, যুদ্ধ বন্ধের জন্য কূটনৈতিক আলোচনা এখনও অবরুদ্ধ হয়ে আছে।
ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর গানঝা বলেন, ‘তিনজন নিহত হয়েছেন।’
পরে তিনি জানান, এর পাশাপাশি ‘১৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একটি দুই বছর বয়সী মেয়েশিশুও রয়েছে।’ তিনি জানান, সকল আহতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পাভলোগ্রাদের যুদ্ধ শুরু আগে জনসংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ। যুদ্ধ চলাকালীন শহরটি রাশিয়ার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে।
রাশিয়ায় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোরোনেজ শহরের উপকণ্ঠে ইউক্রেনের একটি ড্রোন একটি বাড়িতে আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায় এবং আহত হয়ে তিন বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়।
মস্কো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ভোরোনেজে ইউক্রেন নিয়মিত ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে কিয়েভ রাশিয়ার অভ্যন্তরে আরও গভীরে আঘাত হানছে।
আঞ্চলিক গভর্নর আলেক্সান্ডার গুসেভ জানান, শিশুটির বাবা-মা ‘বিভিন্ন ধরণের আঘাত’ পেয়েছেন।
এদিকে, ক্রেমলিন-নিযুক্ত কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ায় রাতে ইউক্রেনের হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, অপরদিকে রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেন সীমান্তের এই অঞ্চলে প্রায়ই হামলার ঘটনা ঘটে।
ক্রেমলিন পূর্ব ইউক্রেনের পুরো অঞ্চল দখলের সর্বোচ্চ দাবির অবস্থান থেকে সরে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সংঘাত নিরসনের আলোচনা স্থবির হয়ে রয়েছে।
জাতিসংঘ বুধবার জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ৩৭ শতাংশ বেড়ে গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ জুলাই, ২০২৬ : উল্টো রথ টানার মধ্য দিয়ে আগামীকাল শুক্রবার শেষ হতে চলেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় পর্ব শ্রী-শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব। এর পূর্বে গত ১৬ জুলাই ৯ দিনব্যাপী রথযাত্রা উৎসবের সূচনা হয়েছিল।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে যে, জগন্নাথ দেব হলেন জগতের নাথ বা অধীশ্বর। জগতের অর্থ হচ্ছে বিশ্ব এবং নাথ হচ্ছেন ঈশ্বর। তাই জগন্নাথ হচ্ছেন জগতের ঈশ্বর। তার অশেষ অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তিলাভ সম্ভব হয়। জীব রূপে তাকেও আর জন্ম নিতে হয় না। এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা রথের ওপর জগন্নাথ দেবের প্রতিমা রেখে রথযাত্রা পালন করেন।
উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এবং মন্দিরে একাধিক মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে নানা মাঙ্গলিক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে অনুষ্ঠানমালা শুরু হবে। অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্রী যজ্ঞ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, ভাগবত আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ।
রাজধানী ঢাকায় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষ্যে আগামীকাল শুক্রবার বিকেলে একটি বিশাল শোভাযাত্রা বের করতে যাচ্ছে। উল্টো রথযাত্রার উদ্বোধনী উপলক্ষ্যে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের মেলা প্রাঙ্গণে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আলোচনা সভা শেষে উল্টো রথযাত্রার উদ্বোধন করবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন স্বামীবাগ আশ্রমের অধ্যক্ষ ও ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী মহারাজ।
পরে এখান থেকে দৃষ্টিনন্দন সাজে তিনটি বিশাল রথে জগন্নাথ দেব, শুভদ্রা ও বলরামের প্রতিকৃতিসহ শোভাযাত্রা বের হবে। শোভাযাত্রা বিভিন্ন স্থান অতিক্রম করে যেমন পলাশীমোড়, জগন্নাথ হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, জাতীয় প্রেসক্লাব, মতিঝিল, শাপলা চত্বর, ইত্তেফাক মোড়, টিকাটুলি, রাজধানী সুপার মার্কেট এবং জয়কালী মন্দির হয়ে স্বামীবাগ ইসকন মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে।
সনাতনী রীতিতে প্রতিটি বছরে চন্দ্র আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার সূচনা হয়। এটি পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দির থেকে শুরু হয়। বাংলাদেশেও রথযাত্রা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি পবিত্র উৎসব হিসেবে পরিচিত। সাভারের ধামরাইয়ে এটি যশোমাধবের রথযাত্রা নামে পরিচিত। ভারতের ঊড়িষ্যা রাজ্যের যশোমাধবের রথযাত্রা এবং মহেশের জগন্নাথ দেবের রথযাত্রাও উপমহাদেশে বিখ্যাত। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে রথযাত্রার প্রচলন ব্যাপকভাবে বিদ্যমান।
এছাড়া বাংলাদেশের পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারের জগন্নাথ জিউ ঠাকুর মন্দির, জয়কালী রোডের রামসীতা মন্দির এবং শাঁখারীবাজার কমিটিসহ রাজধানীর অন্যান্য মন্দির ও দেশের বিভিন্ন মন্দিরে উল্টো রথ টানার উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুর, ২৩ জুলাই, ২০২৬ : জেলার কাউখালী উপজেলার কৃষক কার্ড হালনাগাদের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার পিরোজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার দিনব্যাপী উপজেলার আমরাজুরী ইউনিয়নের আমরাজুরী, গন্তব্য ও রোঙ্গাকাঠি এই তিনটি ওয়ার্ডে চলমান তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ওই তিনটি ওয়ার্ডে মোট ৯৪৩টি কৃষক পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের তথ্যভান্ডার হালনাগাদ করা হবে। যাতে সরকারি কৃষি প্রণোদনা, ভর্তুকি, বীজ, সার ও অন্যান্য সেবা আরও সহজে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।
উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা ও মাঠ পর্যায়ের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করছেন।
এ কার্যক্রমে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার হালদার, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাইনুল হুদা রোমান, উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি মো. ফারুক হোসেন ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিলসহ কৃষি অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে আমরাজুরী গ্রামের কৃষক নারায়ণ মণ্ডল বলেন, আগে অনেক সময় তথ্যের অসঙ্গতির কারণে বিভিন্ন সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে হতো। এবার বাড়িতে এসে তথ্য নেওয়ায় আমরা আশাবাদী। প্রকৃত কৃষকরাই সরকারি সুবিধা পাবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস বলেন, কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে কৃষকদের একটি নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকারি কৃষি সহায়তা ও প্রণোদনা বিতরণ আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।
কৃষি অধিদপ্তর, পিরোজপুরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ যেন নির্ভুল ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়, সেবা বিষয়টি আমরা নিবিড়ভাবে তদারকি করছি। সরকারের কৃষিবান্ধব কর্মসূচির সুফল প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ জুলাই, ২০২৬ : একের পর এক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাসমূহের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ বৃহস্পতিবারও অব্যাহত রয়েছে।
নয়াদিল্লি থেকে এএফপি জানায়, রাজধানী নয়াদিল্লির প্রধান বিক্ষোভস্থলে অবস্থানরত জেন-জি প্রজন্মের পাঁচজন আন্দোলনকারী এএফপিকে জানিয়েছেন, কী কারণে তারা অনলাইনভিত্তিক ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’র উদ্যোগে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।
২০২৪ সালে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে মোদি সরকারের জন্য এ আন্দোলন অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
‘দমিয়ে রাখা ক্ষোভ’
২১ বছর বয়সী মধু বলেছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞান ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, যার ফলে ২০ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে হয়, সেটিই আন্দোলনের সূচনা ঘটায়।
তিনি বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস ছিল স্ফুলিঙ্গ, আর সিজেপি মানুষকে প্রতিবাদের একটি প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে।’
তার ভাষায়, ‘কিন্তু এখন এটি শুধু শিক্ষা নয়, বেকারত্ব থেকে শুরু করে এই সরকারের আমলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকটসহ নানা সমস্যা নিয়ে কথা বলার একটি মঞ্চে পরিণত হয়েছে।’
মধু মনে করেন, দীর্ঘদিনের দমিয়ে রাখা ক্ষোভই মানুষকে আন্দোলনে নামতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
তিনি বলেন, ‘অনেক দিন হলো সরকার আন্তরিকভাবে আমাদের সঙ্গে কথা বলেনি।’
প্রতিবাদস্থল পরিষ্কার করতে করতে তিনি বলেন, তার বাবা-মা তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই তিনি মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক পরে শুধু নিজের প্রথম নাম ব্যবহার করছেন।
‘কখনও কখনও নিজের ভয়কে জয় করতেই হয়,’ বলেন তিনি।
‘মন্ত্রীকে বরখাস্ত করুন’
২৩ বছর বয়সী আরোহি সিং উত্তরাঞ্চলের লখনউ থেকে রাতভর ট্রেনে চেপে দিল্লিতে এসেছেন। তার সঙ্গে একটি ব্যাগ রয়েছে, তবে ফেরার কোনো টিকিট নেই।
তিনি বলেন, ‘আমার বাবা-মা বলেছেন, গিয়ে আমাদের উপস্থিতি জানান দাও।’
একটি বিউটি সেলুন পরিচালনাকারী আরোহি বলেন, ‘থাকার জায়গা নেই, কিন্তু সমস্যা নেই। অন্তত হাজারো মানুষের সঙ্গে আছি।’
তার পরিবারের জন্য এই আন্দোলন ব্যক্তিগতও বটে। তার ছোট বোন প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পুনরায় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা দিলেও এবার আর উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
তিনি বলেন, ‘ওর প্রস্তুতির জন্য বাবা-মা কত টাকা খরচ করেছেন, আমি জানি। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর সে ভেঙে পড়েছিল।’
সরকার শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণে অনীহা দেখানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘একদিকে দেশের মানুষ, অন্যদিকে একজন মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী কেন তাকে বরখাস্ত করতে পারছেন না?’
‘জবাবদিহি চাই’
২৮ বছর বয়সী করপোরেট কর্মী সাহিল সোমবার থেকে প্রতিদিনই কর্মস্থলে অসুস্থতার কথা বলে বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুভানুধ্যায়ীদের পাঠানো শত শত খাবার বিতরণের সমন্বয় করছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই আমি এখানে এসেছি।’
শুধু প্রথম নাম প্রকাশ করতে ইচ্ছুক সাহিল বলেন, ‘আমি জবাবদিহি দাবি করতে এসেছি।’
তার মতে, আন্দোলনটি এখন শিক্ষার্থীদের দাবির গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘শুরুটা ছিল শিক্ষা নিয়ে। এখন মানুষ নিজেদের বিভিন্ন সমস্যাও তুলে ধরছে।’
‘আশা’
মধ্যপ্রদেশের একটি ছোট শহর থেকে আসা ১৭ বছর বয়সী প্রকৌশল শিক্ষার্থী কুনাল সূর্যবংশী বলেন, এই আন্দোলন তাকে এমন মানুষের সঙ্গে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস দেখাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বৈষম্যপূর্ণ দেশে বাস করি, যেখানে প্রায় প্রতিটি প্রতিবাদই কঠোরভাবে দমন করা হয়।’
তার ভাষায়, ‘আমি এমন কিছুর অংশ হতে এসেছি, যা হয়তো পরিবর্তন আনবে।’
তিনি আপাতত দিল্লিতেই থাকার পরিকল্পনা করেছেন। দিনে বিক্ষোভস্থলে থাকবেন, আর রাতে কাছের একটি শিখ মন্দিরে আশ্রয় নেবেন।
তিনি বলেন, ‘সেখানে জায়গা না পেলে ফুটপাতেও ঘুমাতে আমার সমস্যা নেই।’
মুখের অর্ধেক অংশ রুমাল দিয়ে ঢেকে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে শুধু একটাই জিনিস আছে- আশা।’
‘ভেঙে পড়া’ ব্যবস্থা
পাঞ্জাবের আইন শিক্ষার্থী ২৪ বছর বয়সী যুবরাজ স্পাইডারম্যানের মুখোশ পরে এলেও নিজের ক্ষোভ লুকাতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘আমরা নজরদারিনির্ভর একটি রাষ্ট্রে বাস হচ্ছি। রাষ্ট্র আমাদের দেখছে, তাই ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ নেই।’
শুধু প্রথম নাম প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু এখানে না এলে সেটাই হতো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আফসোস।’
তার ভাষায়, ‘আমাদের প্রতিবাদ করতেই হবে। কারণ পুরো ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে, আর কিছু বিষয় ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়েও বড়।’
যুবরাজ জানান, গত বছর তিনি যে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, সেটির প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেন, তারপর প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। এরপর বলা হয়, পরের বার আবার চেষ্টা করুন।’
‘এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এখানে অবশ্যই জবাবদিহি থাকতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ